বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
করোনাকালে নিত্য ব্যবহার করা জিনিসের সাথে আমার কথা।
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)
X
আসসালামু আলাইকুম
গল্পের ধরন:- মজার+জীবনের
করোনার এই সময় অনেক লোকজন তো বেকার হয়েছেই পাশাপাশি অনেক নিত্যব্যবহারকারি জিনিসও বেকার হয়েছে। এই যেমন একদিন অমি দুপুরে খাওয়ার পর ভাত ঘুম দিতে যাবো তখনই চোখ গেলো আমার স্কুল ব্যাগের দিকে। ওটা আমার খাটের পাশের দেয়ালের পেরেকে ঝুলছে। আহারে অনেক ধুলা পড়েছে। ওটাকে যখনই মুছতে যাবো তখনই ব্যাগটা বলে উঠলো
- কি আমাকে মনে পড়েছে। সেই ১৭ মার্চের পরেতো ধরেও দেখনি। তিনমাস পর মনে পড়লো।
- কি করবো বলো স্কুল নাই,প্রাইভেট নাই,কোচিং নাই কোন কাজেই বা ইউস করবো তোমাকে?
- হুম তাও এই করোনা যে কবে শেষ হবে? কবে যে তোমার কাধে চড়ে ঘুরবো। সেই আমাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া,আমাকে অস্ত্র বানিয়ে মারামারি খেলা ওগুলো খুব মিস করি
- করোনা যেতে হয়তোবা দেরি আছে। আর বাংলাদেশের মানুষগুলা যেমন সচেতন তাতে কত দিন ঘরে থাকতে হয় ঠিক নাই?
- হুমম তা ঠিক। এখন চটপট আমাকে মোছোতো। গা টা চুলকাচ্ছে খুব।
আমি ব্যাগটা ভালো করে মুছলাম।
পরের দিন সকাল। আমি শোকেস থেকে কাপ নামাতে যাচ্ছিলাম। শোকেস খুলতেই শুনলাম কে যেন কাদছে? ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম আমার পরীক্ষার সময় ব্যবহার করা ফাইলটা কাদছে?
- কি ফাইল কাদছো কেন?
- কাদি কি আর সাধে। কতদিন হয়ে গেলো আমাকে বেরও করছো না। সেই জেএসসি পরিক্ষার শেষে আমাকে ঢোকালে শোকেসে তো আর বেরও করলে না।
- কি করবো বলো পরিক্ষা নাই। শুধুশুধু বের করে কি করবো? ভাবেছিলাম অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা দিয়ে যাচাই করবো আমি বিজ্ঞানে কতটুক ভালো? উচ্চতর গনীত কতটুক পারি কিন্তু করোনা সব কিছুকে উল্টাপাল্টা কইরা দিলো
- হুম তা ঠিক। এদিকে আমার গার্লফ্রেন্ডকেও সরাই রাখছেন আমার কাছ থেকে
- তোমার গার্লফ্রেন্ড কেডা?
- কেন পেনসিল বক্স। ওর সাথেই তো থাকি। কতদিনের বন্ধন।
- আচ্ছা ওকে আনলে আর কাদবে না তো?
- না তাহলে আর কাদবো না।
- আচ্ছা আনছি ওকে।
পেনসিল বক্সের কাছে গেলাম। আমাকে দেখেই বলল
- ভাই আমাকে এখান থেকে নিয়া যান। প্রতিদিন টিকটিকি আমার উপর ইয়ে করে
- সত্যিই তো তাই দেখছি। আর তোমাকে নিয়ে যেতেই আসছি। ফাইল তোমাকে মিস করে খুব
- আমিও মিস করি ফাইলরে। তাড়াতাড়ি দিয়ে আসেন আমাকে।
আমি বক্সটাকে ফাইলের কাছে দিয়ে আসলাম। এখন ওরা দুজনে মিলে আশিকি ছবি করুক।
এরপর এসে পড়তে বসলাম। দেখি কলমটা আমার দিকে রাগি লুকে তাকাই আছে
- কি গো এরকম রেগে আছো কেন কলম?
- রাগি কি সাধে। পুরা একমাস হইলো আমার পেটের ভিতর কালি পড়ে আছে। আগেতো ১০ দিনেই শেষ হয়ে যেতো। এখন কালিগুলা রাসায়নিক বিক্রিয়া করছে আর পেটে ব্যাথা আমার। এত কম লেখো কেন?
- এখন এই সময় স্কুল নাই, কোচিং নাই হোমওয়ার্ক না করলে স্যারদের পিটানো নাই। তাই আর কি লেখা হয় না।
- অলসের ডিব্বা একটা। আচ্ছা জিজেতে যে যাও ওখানে এমন কেউ আছে যে অনেক লেখে?
- হ্যা অনেকেই আছে। কেউকেউ তো গল্প লেখার আগে খাতাতে লিখে নেয়
- ওদের কাছেই যাবো। আচ্ছা ওরা ছেলে না মেয়ে?
- মিক্সড আছে। কেন?
- আমি মেয়েদের কাছে যাবো।
- ওরে ফাযিল। আচ্ছা কথা বলবো ওদের সাথে। এখন একটু কালি ঢালোতো সারাংশ লিখি
শুক্রবার। আমি গোসল করে রেডি হয়ে মসজিদে যাবো। আজ সাইকেল নেবো। কারন রাস্তায় কাদা। সাইকেলটার কাছে গেলাম। আহারে এটাতেও ধুলা জমছে। ত্যানা এনে মুছবো তখনই বলে উঠলো
- কি আমাকে তিনমাস পর মনে পড়লো তাহলে? ভুলেই তো গেছিলা।
- কি করবো বলো কোথাও যাওয়ার দরকার হয় না। যেতে দেয়ও না। তাই আর কি
- হুম সেই ঝাক্কা ঝাক্কি , প্রতিযোগিতা অনেক মিস করছি। তুমি যখন কোচিংয়ে থাকতে তখন আমরা সাইকেলরা কত আলাপ করতাম। ওই সাইকেলগুলা কেমন আছে কে জানে?
- মন খারাপ করো না। একদিন ঠিক হবে সব
- হুম। এখন কোথায় যাবে?
- মসজিদে। তাছাড়া কোথায় বা যাবো।
- তাহলে উঠে পড়ো আমিও আমার গোল পা চালানোর চেষ্টা করি।
এরপর মসজিদে চলে গেলাম।
করোনা কালে এই অবস্থা নিত্য ব্যবহারকারি জিনিসের।
^356
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now