বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কবির তুই একা যেতে পাবি তো? না হলে থেকে যা। রাস্তাটা কিন্তু ভালো না।"
" না চাচা চলে যামু। বাইত দুইডা হার গরু আছে।আমারে ছাড়া কাউরে মানে না।"
বিদায় নিলো কবির। ঘড়ির কাটা ১২ টা ছুঁই ছুঁই হবে।কালীর বাজারের কলী মন্দিরের পাশের দিয়ে রাস্তা দিয়ে গিয়ে নৌকায় উঠতে হয়।মন্দিরটা পার হয়ে মিনিট দশ হাঁটলেই ঘাট। বিকেলে তার নৌকা নিয়ে ঘাটে বেঁধে রেখে, যায় চাচা হাকিমের বাসায়। রাতের বেলা রাস্তাটায় যেতে অনেকেই ভয় পায়। ১০ টার পরে নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যায় মানুষের চলাচল থাকেনা বলে, মাঝখানের শ্মশান ঘাটের জন্যে। লোকের মুখে শুনা যায়। কয়েকশ বছরের পুরোনো শ্মশান। আমাবস্যায় নাকি কান্নার শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায়।
গত তিন বছর আগে, কার কান্নার আওয়াজ এটা শুনেতে গিয়েছিল বিজ্ঞান বিভাগের তিন ছাত্র। এগুলা নাকি শেয়াল আর বিড়ালের ডাকের সমন্বিত শব্দ। আমাবস্যায় নাকি চাঁদের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থাকে না বলে, ওই শব্দটাকে কান্নার আওয়াজ মনে হয়। তারা পেত্মির রহস্যের কথা, ফসজিন গ্যাসের ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে বলে কান্নার আওয়াজ টার সুষ্ঠু সমাধান করবে।
তারা তিনজন মিলে বের হয় এক আমাবস্যায়। অনেকে বারন করেছিলো। তবুও তারা মানেনি। সকালে কে যেন খোজ করে তাদের মৃত দেহের। দিনে বেলায় তাদের দেহের সমাধান মিলাতে পারেনি কেউ। মুখটাকে খুব বাজে ভাবে আচড়ে রেখেছে। বুকটার ভেতর কলিজা পাওয়া যায়নি কারোর।
এরপর থেকেই শ্মশান যেন এলাকায় তার আসল রূপ পায়। কিন্তু কবির এসবে ভয় পায় না। নিজের কপালের উপড় বিশ্বাস রেখেই স্বাভাবিক ভাবেই শ্মশানটা পার করলো। ঘাটে গিয়ে নিজের নৌকার দিকে যেতেই খেয়াল করলো আসে পাশে কোন মানুষ নেই। গুটগুটে অন্ধকার হয়ে গেছে। নদীর বাসাতটাও ঘোমট বেধে গেছে। তার মনে এটু ভয় কাজ করলো তবুও নিজের নৌকাটা ঠিক করে উঠে বসলো।
" কিরে কবির,আমারে নিবি না?আমারে নদীটা পার করে দে "
ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে উঠলে একটা মহিলা কন্ঠ।তার দাদীর কন্ঠ চিনতে ভুল করেনি ।
" আরে তুমি কই গেছিলা। আর অত রাইতে এইহানে কেন? টুনি ফুফুর বাড়ি গেছিলা?
" হ রে। নৌকা পাইনা। কি করুম "
" আইচ্ছা চলো। "
দাদী আর ও নৌকায় উঠে চললো। নৌকা মাঝ নদীতে যাওয়ার পরে কবির দাদীর দিকে তাকায়,
" কি রে কবির? তোর কি খুদা লাগছে?"
" নাহ্ চাচার বাইত খাইয়া আইছি "
" নাহ্ ওই খুদা না। কলিজার খুদা লাগছে।"
" মানে? মজা করো বুড়ি?"
" নাহ্ তোর কলিজাটা দে আমার অনেক খুদা লাগছে। "
এই বলে এক লাফে কবিরের বুকের উপরে পরে। কবিরের হাত পায়ে শক্তি পাচ্ছে না। ভয়ে শরীর থেকে ঘাম পড়ছে। চিৎকার করছে আকাশ ফাটা কোন শব্দ হচ্ছে না। তার গলটা চেপে ধরেছে।ছটফট করে করে একটা চিৎকার দিয়ে শরীরটা থেমে গেল।যেন আর কোন ব্যথ্যা পাচ্ছে না। শরীরে যেন সে আর নেই। শুধু সে দেখছে।
এটা তো তার দাদি না। কে যেন, রক্তাক্ত চোখ,নখ যেন তারাকাটার মতো।
কলিজাটা বের করে ফেলেছে।রক্তে শরীরে এটু ভেজা গরম অনুভব হলো। একটা হাসি দিয়ে মুখে তুলে বললো,
" চিনস নাই আমারে? আমি তোর মরা চাচার বউরে। যারে তুই সম্পত্তির লাইগ্গা ফাসে ঝুলাইছিলি?"
#লোভ
# লেখায় হাসান তাওয়াফ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now