বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশাপ (part-1)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান AFRA (০ পয়েন্ট)

X "গায়ে হাত দিয়ে ঘুমাবা না। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।" বলেই আমার স্ত্রী 'নীলা' আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল। আমি বললাম, "গায়ে হাত দিলে নিঃশ্বাস বন্ধ হবে কেন?" সে আমার কথার কোনো উত্তর দিল না। ইদানীং সে কেমন জানি হয়ে গেছে। এই কেমনটা যে কেমন আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। অকারনে সে আমার উপর রাগ করে। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে ভুরু কুঁচকে তাকায় যেন প্রশ্ন করা খুব অন্যায় হয়ে গেছে। আগে এমনটা সে ছিল না। একসময় সে আমাকে ভালোবাসতো। খুব ভালোবাসতো। এখনও হয়ত বাসে। শুধু আমারই মনে হয় বাসে না। আমাদের প্রেমের বিয়ে হয়নি। হয়েছিল দেখাদেখি টাইপের বিয়ে। সভ্য ভাষায় যাকে বলে এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। চার বছর আগের কথা। আমার মা ছালমা বানুর সাথে গিয়েছিলাম মামার বাড়িতে বেড়াতে। গ্রামের বাড়ি। বৃষ্টির দিন। গ্রামের পথঘাট কাঁদা মাখামাখি হয়ে আছে। বাড়িতে পৌঁছাতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমার প্যান্ট আর মায়ের শাড়ির কুঁচি কাঁদাপানি মেখে একাকার হয়ে গেল। কাঁদা ধোয়ার জন্য যে আমাদের টিউবয়েল থেকে পানি এনে দিল সে মেয়েটি ছিল নীলা। সে আমার মায়ের চাচাতো বোনের মেয়ে। তাদের গ্রাম মামার বাড়ির পাশের গ্রাম। তার মা মারা যাওয়ার পর মেয়েটির মনটন অনেক খারাপ থাকত বলে মামা তাকে তাদের ওখানে এনে রেখেছেন। যাইহোক, আসল কথা হল মেয়েটিকে আমার কোনোদিক থেকেই মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করার জন্য মনে ধরেনি। কিন্তু তার কার্যকলাপে মা অভিভূত হলেন। আমার মায়ের অনেক আগে থেকেই ইচ্ছে ছিল গ্রামের এক সাংসারিক মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিবেন। সে নীলার মতই এক মেয়েকেই যে খুঁজছেন তা আমার জানা ছিল না। আমি তখন আমার শহরের একজন বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত প্রেমিকা এলিসার কাছ থেকে বড় ধরনের ছ্যাকা খেয়ে দুর্বিসহ জীবন পার করছি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলাম, পরিবার থেকে এখন আমার জন্য যে মেয়েটির সাথে বিয়ে ঠিক করা হবে আমি তাকেই বিয়ে করব। এই প্রতিজ্ঞা ঝোঁকের মাথায় করেছিলাম। সেই ঝোঁকের মধ্যে থাকাকালীন ঘরোয়া পরিবেশে মা আমার সাথে নীলার বিয়ে পড়িয়ে দিলেন। বিয়ে করে শহরে ফেরার পর মনে হল, "হায় হায় এ আমি কী করলাম? কাকে কোথাথেকে বিয়ে করে নিয়ে এলাম?" আমার বড় বোন পায়েল আপু নীলাকে দেখেই চোখ কপালে তুলে বললেন, "এ তুমি কী করলে মা? কাউকে কিছু না জানিয়ে কোথাথেকে একটা মেয়ে সিয়ামের বউ করে আনলে? আর সিয়াম তোর কী হয়েছে? তোর গ্রামে যেয়ে মাথার তার ছিড়ল কী করে?" কথাগুলো আপু নীলার সামনেই বললেন। তাহলে ভাবুন আমার আপু কেমন টাইপের মেয়ে? যখন যা মনে আসবে স্পষ্টভাবে সামনের মানুষটাকে বলবে। তাতে সেই মানুষটা মনে কী করল? তাতে তার কিছু আসে যায় না। এই কারনে তার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে বনিবনা হয়নি। স্বামীকে ছেড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে ঝিনুককে নিয়ে চলে এসেছেন এই এক বছর হল। আমি তার শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তবে জহির দুলাভাই তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বলে এখনও কোনোমতে তালাক ঠেকিয়ে রেখেছেন। সপ্তাহে একবার নিয়ম করে তাকে নিয়ে যেতে আসেন। আর আপু তখন কঠিনমুখে বলেন, "ঝিনুককে আদর করে, নাশতা খেয়ে চলে যাও। আমি যাব না। খবরদার একই কথা বারবার কানের কাছে প্যানপ্যান করবা না।" দুলাভাই তখন আহত কন্ঠে বলেন, "আমি আমার বাবা-মা কে ছেড়ে আলাদা কীভাবে থাকব বলো?" আপু তখন অবাক ভঙ্গিতে বলেন, "আশ্চর্য তো! কে বলেছেন তোমার বাবা-মা ছেড়ে আলাদা থাকতে? তুমি তোমার বাবা-মায়ের সাথে থাকবে। আমি আমার মায়ের সাথে থাকব।" আপু যেহেতু শুধু মায়ের সাথে থাকার কথা বলেছেন পাঠক কী বুঝতে পারছেন? আমার যে বাবা নেই? হ্যাঁ আমার বাবা বেঁচে নেই। তিনি যখন মারা গেলেন আমার বয়স তখন ছ'বছর। তার মৃত্যুর একটা রহস্য আছে। রহস্যটা হল তার মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। বিষয়টা মা এবং পায়েল আপু জানেন না। গল্পটা খুবই সাধারণ কিন্তু অসম্ভব বেদনাদায়ক। সেদিন ছিল ছুটির দিন। আমি, বাবা-মা, পায়েল আপু বাইরে ঘুরতে বের হয়েছি। ছুটির দিনে আমরা এমন বাইরে বের হতাম। একসাথে খাবার খেতাম, পার্কে যেতাম, শপিং টপিং করতাম। সেদিন অন্য ছুটির দিনের মতই একটি দিন ছিল। আমি তখন আইসক্রিম এর জন্য খুব কাঁদতাম। চকলেট দেয়া বিদেশি একটা আইসক্রিম ছিল "লেনুভেনু" - যা আমার অত্যাধিক পছন্দ ছিল। বিশেষ বিশেষ দোকান বা ফেরিওয়ালা ছাড়া সেই আইসক্রিম পাওয়া যেত না। তো সেদিন মা এবং আপুর শপিং এর মাঝেই আমি আইসক্রিম খেতে না পেরে কাঁদতে লাগলাম। মা দু'বার ধমক দিলেন। কিন্তু বাবা চেষ্টার ত্রুটি রাখলেন না। আমাকে লেনুভেনু আইসক্রিম খাওয়ানোর জন্য তিনি এ-দোকান ও-দোকান ছুটতে লাগলেন। মা এবং আপু তখনও শপিং-এ ব্যস্ত। আমরা মার্কেট থেকে বের হওয়ার পর বাবা হতাশ গলায় বললেন, "লেনুভেনু আইসক্রিম কোথাও পেলাম না।" আমার মন খারাপ হয়ে গেল। আবার কান্না জড়িয়ে আসলো। মা এবং আপু শপিং ব্যাগ নিয়ে সামনে সামনে হাঁটছেন। আমি আর বাবা হাঁটছি তার পিছু পিছু। বাবা রাস্তার অপর প্রান্তে তাকিয়ে বললেন, "হায় হায়, আরও একটা দোকান দেখা তো বাদ রয়ে গেল। আমি এখুনি দেখে আসছি"- বলে তিনি ছুটে যেতে লাগলেন। রাস্তার মাঝপথে একটা ট্রাক বাবাকে পিষে চলে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে অনেক সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম। মা আর আপুর সাথে বহু মানুষকে ছুটে যেতে দেখলাম। কিন্তু আমি গেলাম না। তার অবশ্য একটা কারন আছে। সেই কারনটা কেউ বিশ্বাস করবেন না। লোকজনের ভীড় ঠেলে বাবা লেনুভেনু আইসক্রিম নিয়ে এগিয়ে এসে বললেন, "নাও বাবা তোমার পছন্দের লেনুভেনু আইসক্রিম।" এরপর থেকে আমার মৃত বাবাকে আমি প্রায়ই দেখতাম। মা যখন কাঁদতে কাঁদতে সেদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "তোর বাবা তোর জন্য আইসক্রিম আনতে ছুটে গিয়েছিলেন। তাই না?" তখন বাবাই পাশ থেকে আমাকে 'না' বলতে বললেন। মা বললেন, "তাহলে? আমরা সবাই হাঁটছি তোর বাবা হুট করে ছুটে গেলেন কেন?" আমি বাবার শিখিয়ে দেওয়া কথার মতই বললাম, "রাস্তার অপর প্রান্তে একজন পরিচিত লোক বাবাকে দেখে হাত নাড়ছিলেন। তাকে দেখেই তিনি ছুটে গেলেন।" সত্যি কথাটা বললে মা সবসময় আমাকে বাবার মৃত্যুর কারন ভাববেন তাই আর বলা হয়নি। তবে বাবাকে যেহেতু প্রায়ই আমি কাছে পেতাম তাই আমার মন খারাপ হত না। এখন আসল কথাটা বলি। নীলাকে বিয়ে করার জন্যও বাবা মত দিয়েছিলেন বলে আমি সহজে বিয়েতে রাজি হয়েছি। আমার জন্য কেমন স্ত্রী ভালো হবে মৃত মানুষ হিসেবে বাবা ভালো বুঝেছেন বলেই আমার ধারণা। তিনি যেহেতু ভূত, তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা থাকতে পারাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আজকাল বাবার ধারণা ভুল হতে শুরু করেছে। নীলার সাথে আমার সম্পর্কের ফাটল ধরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিয়ের এক বছর পর আমাদের মেয়ে নুহা জন্মের পর থেকেই এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইদানীং যা হচ্ছে তা তো বললামই। নীলা আমাকে সহ্য করতে পারছে না। আমার হাত তার শরীরে লাগলেও নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কী ভয়াবহ কাণ্ড! আমার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটি হয়েছে দু'সপ্তাহের মত বাবাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমি কিছুক্ষণ এক জায়গায় ঝিম মেরে বসে থাকলেই তাকে পেয়ে যেতাম। কিন্তু এখন তাতেও কাজ হচ্ছে না। তিনি এভাবে হুট করে কোথায় চলে গেলেন? এভাবে চলে যাওয়ার আগে অবশ্যই আমাকে তার সতর্ক করা উচিৎ ছিল। আমি প্রায় প্রতিটি কাজে তার উপর নির্ভরশীল। নীলার সাথে আমার সম্পর্ক যে কী পরিমান খারাপ যাচ্ছে একমাত্র তিনি ছাড়া কারোর সাথে সেটা শেয়ার করাও সম্ভব না। আমি বারান্দার বেতের চেয়ারে ঝিম মেরে বসে সিগারেট ধরালাম। বাবা এলে এতক্ষণে একটা ঝাড়ি মেরে বলতেন, "আবার সিগারেট ধরিয়েছিস?" তিনি এলেন না। নিশ্চয়ই এমন কোনো জরুরি কাজে আটকা পড়েছেন কিছুতেই আসতে পারছেন না। পায়েল আপু পিছন থেকে বলে উঠল, "তুই ঘুমাসনি?" আমি চমকে উঠলাম। যদিও চমকাবার মত কিছু হয়নি। তিনি বাসার মানুষ। যখন তখন বারান্দায় আসতেই পারেন। "আজ তোর দুলাভাই তার এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল আমাকে রিকুয়েষ্ট করতে।" "এ আর নতুন কী?" "এখন বন্ধু বান্ধব নিয়ে আসা শুরু করেছে ভাবা যায়?" "তুমি চলে গেলেই পারো।" "চলে যাব মানে? আমার শ্বাশুড়িকে তুই চিনিস না। কী অসভ্য ধরনের মহিলা।" "শ্বাশুড়ি সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা ঠিক না আপু। ভালো হোক মন্দ হোক উনি জহির ভাইয়ের মা। আমাদের মা সম্পর্কে কেউ এমন ধরনের কথা বললে কী তোমার ভালো লাগতো?" "আমাদের মা আর ওর মা এক হলো? আকাশ পাতাল ব্যাবধান।" আমি বিড়বিড় করে বললাম, "মা তো মা হয়। অনেক মেয়েই খারাপ হতে পারে কিন্তু কোনো মা'ই খারাপ হতে পারেন না।" আমার এই কথাটা খুব সম্ভবত আপু শুনলেন না। সে আমার কাছে এসে পাশের চেয়ারটিতে বসে বললেন, "আমারও ঘুম আসছে নারে। কত চিন্তা মাথায় ঘুরে।" "তোমার আবার কীসের চিন্তা?" "এলিসা আমাকে ফোন করেছিল। তোর কথা জানতে চাইল। আমি তো প্রথম তাকে চিনতেই পারিনি।" আমি বারান্দা থেকে সিগারেট ফেলে বললাম, "এলিসা কে?" আপু অবাক হয়ে বললেন, "এলিসার কথা তোর মনে নেই?" "নামটা পরিচিত লাগছে।" "চার বছর আগে তোর আর এলিসার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গেঁয়ো নীলা ফিলাকে বিয়ে করে তুই তাকে ভুলে গেলি। এলিসা এখনও বিয়ে করেনি। কি সাংঘাতিক! তোকে এখনও ভালোবাসে। আর তোর মেয়ের বয়সও তিন বছর হয়ে গেছে।" নীলা কখন আমাদের পিছনে এসে দাড়িয়েছে আমরা কেউই টের পাইনি। সে শান্ত গলায় বলল, "একবার এইদিকে আসবে সিয়াম?" আপু বলল, "ওমা! তুমিও দেখছি ঘুম থেকে উঠে এলে। আমরা ভাইবোনরা কী বলি চুপিচুপি শুনছিলে বুঝি?" নীলা তীক্ষ্ণ গলায় বলল, "হ্যাঁ।" নীলা আমাকে ঘরের ভিতর নিয়ে বলল, "নুহা খুব কান্নাকাটি করছে। ওকে একটু কোলে নাও। হাঁটাহাঁটি করো। আমি একটু শান্তিতে ঘুমাই।" আমি নুহাকে কোলে নিয়ে আবার বারান্দায় এসে দেখি আপু এখনও বেতের চেয়ারটায় বসে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বললেন, "নীলা আমার বিরুদ্ধে ঘরে ডেকে নালিশ করল? তাই না?" "না।" নুহা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে। কী যে বিরক্ত লাগছে। ছেলেমেয়ে ঘুম পাড়ানোর মত এমন কঠিন কাজ আর একটাও কী এই পৃথিবীতে আছে? আপু বললেন, "তুই না বললেও আমি বুঝি সিয়াম। নীলা তোকে অনেক কথা শুনিয়েছে। আমি কষ্ট পাবো ভেবে তুই বলছিস না।" আমি নুহা'র মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললাম, "তুমি অনেক বেশী বুঝো আপু। এটাই তোমার সমস্যা।" সকাল সকাল নীলা ব্যাগ গুছিয়ে ফেলল। আমি জানতে চাইলাম "কই যাচ্ছ?" সে হাসল। তার হাসির অর্থ আমি বুঝলাম না। বেশীরভাগ সময়ই আমি তার হাসির অর্থ বুঝি না। আজও বুঝলাম না। হাসিমাখা মুখেই সে মা'য়ের পায়ে হাত দিয়ে ছালাম করল। মা অবাক হয়ে বললেন, "তোমার কী হয়েছে বউমা?" ★★ সংগৃহীত ★★


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now