বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মধ্যরাতের অশরিরীরী

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)

X মধ্যরাত । ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিকে । আর সেই অন্ধকার দূর করার জন্য চাঁদটা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । চাঁদের কিঞ্চিৎ আলো জানালা দিয়ে আমার রুমে ঢুকছে । হ্যারিকেনটা মিট মিট করে জ্বলছে টেবিলে । ডায়েরীতে লিখছি আমি । ইদানিং হরর গল্প লেখার খুব ঝোঁক এসেছে মাথায় । অর্ধেক লিখেছি গল্পটা । শেষের দিকটা কিভাবে লিখবো সেটা ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় একটা প্রশ্ন আসলো অশরীরী বলতে আসলেই কি কিছু আছে ? প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খেলেও সঠিক উত্তর আমার জানা নেই । মানুষ বলে মধ্যরাতে নাকি শ্মশানে ভূত, প্রেত, অশরীরীরা হেঁটে বেড়ায় । কথাটা কি আদৌ সত্য ? আমার বাড়ি থেকে একটু দূরেই নদীর পাড়ে একটা শ্মশান আছে । ধীর পায়ে শ্মশানের দিকে হাঁটতে লাগলাম । একটু শীত শীত অনুভূত হচ্ছে বলে একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিলাম । সম্পূর্ণ জনমানবহীন রাস্তা । নদীর পাড় ঘেঁষে ছোট একটা শ্মশান । কোনোরকমে বেড়া দিয়ে বুঝানো হয়েছে এতটুকু শ্মশানের জায়গা । দু’একটা শিয়ালের হাঁক শোনা যাচ্ছে । মানুষ পোড়ার আঁশটে গন্ধ পুরো শ্মশান জুড়ে । দশ মিনিট ধরে হাঁটছি শ্মশানে । "নাহ্ , কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না । তাহলে কি অশরীরী বলে কিছুই নাই?" বাড়ি ফিরে গেলাম । পরদিন দুপুরে কবিরাজ দাদুর সাথে দেখা হল পথে । - দাদু , অশরীরী বলতে কি কিছু আছে ? - আছেই তো । - কাল তো মধ্যরাতে আমি শ্মশানে গেলাম । কিছুই তো দেখতে পেলাম না । - ওদের কি সবসময় দেখা যায় ? তবে পূর্বপাড়ার পুরাতন ঐ বাড়িটাতে গিয়ে দেখতে পারো । দাদু চলে গেলেন । সেদিন মধ্যরাত । চারিদিক নিশ্চুপ । কালকের মতো আজও চাদর গায়ে জড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম । পুরাতন বাড়িটার আশেপাশে আর কোন বাড়ি ঘর নেই । ঝোঁপ জঙ্গলে ভরা চারপাশ । আমি ঝোঁপ জঙ্গল পেরিয়ে বাড়িটাতে ঢুকলাম । বাড়িটার বেড়া, জানালা আর দরজা ভাঙ্গা । বাড়ির ভিতরে কিছুই নেই । শুধু ভাঙ্গা একটা চেয়ার পড়ে আছে । চেয়ারটাতে গিয়ে বসলাম । সম্পূর্ণ নীরব জায়গা । একটা পাখির ডাকও শোনা যাচ্ছে না । দিনের বেলাতেই এই বাড়ির চারপাশ দিয়ে কেউ হাটেঁ না ভয়ে, আর আমি এত রাতে বাড়ির ভিতর ঢুকে বসে আছি । মানুষ শুনলে নির্ঘাৎ আমাকে পাগল বলবে । "নাহ্ , বিশ মিনিট তো হয়ে গেল । অদ্ভুত বা ভয়ংকর কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না ।" অগত্যা বাড়ি ফিরে আসলাম । অশরীরী দেখার চিন্তা বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ গল্পের দিকে মন দিলাম । কিন্তু অনেক ভেবেও গল্পের শেষ অংশটা মিলাতে পারলাম না । কোন একজন সাহিত্যিক বলেছিলেন,"অনেক সময় লেখার মন মানসিকতা নাকি পরিবেশের উপর নির্ভর করে ।" কথাটা মনে পড়তেই ভাবলাম যাই নদীর পাড়ের ঐ বট তলাতে যাই । জায়গাটা অনেক নির্জন । তার উপর বটতলা । সম্পূর্ণ ভৌতিক একটা পরিবেশ । ওখানে গেলে হয়তো গল্পের শেষ অংশটা মাথায় আসতে পারে । হ্যারিকেন আর ডায়েরী হাতে গায়ে চাদর জড়িয়ে বটতলার উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলাম । বটতলাতে গিয়ে দেখি চাদর গায়ে দিয়ে বসে কে যেন ডায়েরীতে লিখছে । অবাক হলাম খুব । এত রাতে উনি বটতলায় কী লিখছেন ? জোর গলায় জিজ্ঞাসা করলাম,"এই যে, আপনি কে ভাই ? এত রাতে এখানে কী করছেন ?" লোকটা কিছু না বলে সোজা হাঁটতে লাগলো । আমিও লোকটার পিছনে হাঁটতে লাগলাম । হাঁটতে হাঁটতে শ্মশানে চলে আসলাম । কিন্তু লোকটাকে আর দেখতে পেলাম না । হঠাৎ-ই গায়েব হয়ে গেছে যেন । এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলাম শ্মশানে নতুন একটা চিতা বানানো হয়েছে । আরে আজ আবার কে মরলো ? কারও মৃত্যু সংবাদ তো শুনি নি !! কিন্তু আমার লেখা অসম্পূর্ণ গল্পটা নতুন এই চিতা নিয়েই । চিতাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকাতেই গল্পটার শেষ অংশ মাথায় আসতে লাগলো । হঠাৎ আমার মনে হল আমার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে । তার নিঃশ্বাসের শব্দ আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি । কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য তার অনুভূতিগুলো কেন যেন আমার অনুভূতিগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে । এই প্রথম ভয়ে আমার শরীর কেঁপে উঠলো । ধীরে ধীরে পিছনে ফিরে তাকালাম । তাকিয়ে দেখি আমার সামনে আমিই ডায়েরী হাতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছি । দৃশ্যটা দেখে কাপঁতে কাপঁতে আমার হাত থেকে হ্যারিকেন আর ডায়েরীটা পড়ে গেল । আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম । জ্ঞান ফিরলে চোখ খুলে দেখি আমি আমার ঘরে । আজ চাঁদ উঠে নি । মেঘে ঢেকে আছে আকাশ । ঝিঁ ঝিঁ পোকারা অনবরত ডেকে যাচ্ছে । বাতাস হুঁ হুঁ করে বইছে । আমি হ্যারিকেনের মৃদু আলোতে লিখছি অসম্পূর্ণ সেই গল্পের শেষ অংশ ; লিখছি মধ্যরাতের অশরীরী গল্পের শেষ অংশ যা আমার চোখের সামনেই ঘটেছে । সমাপ্ত........ কাল্পনিক_হরর মধ্যরাতের অশরীরী - তুর্জয় শাকিল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now