বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব
~~~~~~~~~~~~~~
[যারা পূর্বের পর্ব পড়েন নাই তারা কিছু বুঝবেন না তাই দয়া করে পূর্বের পর্ব পড়ে আসেন।ধন্যবাদ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
কিন্তু আমার খুব ভয় করছিল।এত রাতে একা একা আমরা কীভাবে যাব?আমাদের সাথে যারা
এসেছিল তারা সবাই চলে গেছে।এই গ্রামের মুষ্টিকতক লোক বাদ দিয়ে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছে।তাই এমন কাউকেও পেলাম না যে তাদের বাড়তে আজকের রাত টা খাটিয়ে দিব।
আমার ভাইয়ের এত সাহস থাকা সও্বেও যেন থাকে কেমন ভীতু মনে হচ্ছে। এখন এখানে বসে থাকলে আরো বেশি রাত হবে আর আব্বু আম্মুও চিন্তা করবে তাই মনে প্রবল সাহস নিয়ে আমরা বাড়ির দিকে রওনা হয়।রাস্তা একেবারে নীরব কোনো শব্দ নেই। মনে হচ্ছে যেন এই গ্রামেে একটা মানুষ ও নেই।এই নীরিবিলি রাস্তা দিয়ে আমরা ছোট ছোট দুইজন ছেলে হেঁটে যাচ্ছি।আমার খুব ভয় করছিল কিন্তু আমার ভাই আমাকে মনে সাহস রাখার কথা বলে।গ্রামের রাস্তা তাই রাস্তার চারদিকে কোন বাতি নেই মনে হচ্ছিল যেন কবর ভিতর দিয়ে যাচ্ছি।কোন দিক দিয়ে যাচ্ছি তাও বুঝতে পারলাম না রাস্তা হারিয়ে ফেলছি নাকি সঠিক রাস্তা দিয়েই যাচ্ছি কিছুই বুঝে উঠতে পারলামনা।কতদূর যেতেই হঠাৎ আমার মনে হচ্ছিল যেন আমার পিছু পিছু কেউ আসছে।আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম।আবার পিছনে থাকাতেই দেখি কিছু নাই।আবার সামনে তাকাতেই মনে হচ্ছিল যেন আমার পিছনে কেউ আছে।
"সাগর ভাই আমার মনে হচ্ছে আমাদের পিছু পিছু কেউ আসছে।"
সাগর ভাই পিছনে থাকিয়ে দেখে কিছু নেই।
"কয়?কিছুই তো নেই? এসব তোর মনের সন্দেহ।"
"না,,মনের সন্দেহ না আমাদের পিছু পিছু কেউ আসছে মনে হয়।"
এবার আমার ভাইও ভয় পেয়ে গেল।ফিস ফিস করে বলল-
"আয়াতুল কুরসি পড়।"
আগেই বলেছি তখন আমি ছোট। আয়াতুল কুরসি পারতামনা।
"আয়াতুল কুরসি তো পারি না।"
"তাহলে কুরআন হতে যা পারছ তাই পড়তে শুরু কর।আমি আয়াতুল কুরসি পড়তেছি।"
তখন আমি কুরআন হতে যা পারতাম তাই পড়া শুরু করি।কতক্ষণ পড়ার পর মনে হচ্ছিল যেন আমাদের পিছনে কেউ নেই।তাই আমি পড়া বন্ধ করে দিলাম আমার সাথে সাথে আমার ভাইও পড়া বন্ধ করে দিয়ে সামনে এগুতে থাকে।কতক্ষণ যাওয়ার পর আমাদের সামনে সাদা কাপড় পরা,এলোমেলো চুল,চোখ মুখ দিয়ে রক্ত টপ টপ পড়ছে এমন একটি মেয়ে হাজির হল।আমরা তো এটা দেখেয় আয়াতুল কুরসি পড়তে পড়তে একজন আরেকজনের হাত ধরে পূর্ব দিকে মুখ করে দৌড় দিই।কতদূর যাওয়ার পর আমারা একটু সাঁকো পেলাম।আসার সময় কোন সাঁকো ছিল না।কাজেই আমাদের বুঝার বাকি ছিল না যে আমরা রাস্তা হারিয়ে ফেলছি।কিন্তু এখানে আসার পর সামনে পিছনে আর কাউকে দেখতে পেলাম না।আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁ। কিন্তু এই শান্তি বেশিক্ষণ টিকে থাকল না সাঁকোর সামনে আমরা একটি বট গাছ দেখতে পেলাম।
কিন্তু এদিকে না যাওয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায় ছিল না।তাই আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের দিকে হাটা শুরু করি।যেই বট গাছটির মাঝ বরাবর আসলাম তখনই আমাদের চারদিকে (সাদা কাপড় পরা,মুখ ঢাকা, আর মুখটা যতখানি দেখতে পেলাম মনে হচ্ছিল যেন মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে) চারজন মহিলা বেড় দেয়।সাথে সাথেই আমরা আয়াতুল কুরসি পড়া শুরু করলাম যেই আমাদের কাছাকাছি এল তখন আমরা দুইজন চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ি।এরপর আর কিছু মনে নেই.......
যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন আমি নিজেকে একটি ঘরের ভিতর আবিষ্কার করলাম।চোখ খুলে চারদিকে তাকিয়ে দেখি আম্মু-আব্বু কান্না করতেছে,আমার মাথার কাছে একজন হুজুর বসে আছে। তাড়াহুড়ো করে আমি আমার ভাইকে খুজতে লাগলাম পাশেই দেখি সে শুয়ে আছে তার জ্ঞান আরো আগে ফিরে।তখন আমার চারদিকে হিসাব করলে ৩০-৪০ জনের কম হবে না।কেউ বসে আছে,কেউ দাড়িয়ে আছে।আমি হুজুরকে জিজ্ঞেস করি-
"আমি এখানে কীভাবে আসলাম?"
তারপর তিনি কয়েকজন লোকের দিকে ইশারা করে বলেন-
"এরা সকালে মাছ মারার জন্য বিলের দিকে রওনা হন।তারপর পথিমধ্যে একটি বট গাছের নিচে তোমাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান।পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন তোমরা এই বাড়ির।পরে তোমাদেরকে এখানে নিয়ে আসে।"
"আমরা বিলের দিকে চলে গিয়েছিলা?"
"হ্যা এই বট গাছের নিচে রাএিবেলা গেলে কেউ আর জীবিত ফিরে আসে না।সবাই লাশ হয়ে আসে।"
"কিন্তু আমরা কীভাবে জীবিত ফিরে আসলাম?"
"তোমরা জীবনে কোন ভাল করেছ আর আয়াতুল কুরসি পড়ায় আল্লাহ তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত ফিরিয়ে এনেছে।তোমাদের ভাগ্য খুবই ভাল খুবই ভাল।"
[সমাপ্ত]
[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্পটা কেমন হয়েছে তা কমেন্টে জানিয়ে দিবেন।পড়ার জন্য ধন্যবাদ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now