বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেয়ের ভালোবাসা।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান LUCKY (০ পয়েন্ট)

X আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরিস তো। কেন মা, আজ আবার কি? এতো প্রশ্ন কিসের তোর আসতে বলছি আসবি। আসতে পারব কি না জানি না। আজ অফিসে অনেক কাজ। ওসব আমি জানি না। সন্ধ্যা সাত টার মধ্যে চলে আসবি। আচ্ছা মা আমি আসছি দেরি হয়ে যাচ্ছে। আসিস কিন্তু তাড়াতাড়ি সাবধানে চলাফেরা করিস। যাক ঠিক সময় মতো অফিসে পৌছাতে পেরেছি না হলে বসের লেকচার শুনতে হতো। আজ অনেক কাজ চল নাফি লেগে পর। কাজ শুরু না করতেই বস সামনে এসে হাজির। নাফি(মনে মনে) কি ভুল যে করছি ।স্যার কি হয়েছে। বস ফাইলটা ছুড়ে টেবিলের উপর ফেলল। একটা কাজও ঠিক মতো করতে পার না। এরপর থেকে তোমার কাজে ভুল পায় তাহলে বহিষ্কার করে দেব। সরি স্যার আর হবে না এরকম ভুল। ইনি আমাকে কি বহিষ্কার করবে অনেকগুলো চাকরির ইনটারভিউ দিয়েছি একটা না একটাতে ঠিক পেয়ে যাব। তখন নিজেই এই চাকরিটা ছেড়ে দেব উঠতে বসতে কথা শুনায় বিরক্তিকর। নাফির ফোনটা বেজে উঠল রিং রিং রিং রিং । হ্যাঁ মা বলো কিছু আনতে হবে। অফিস থেকে বের হইছিস। না মা। মানে টা কি এখন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা বেজে গেল তুই এখনো অফিস থেকে বের হসনি। আজ আমার অনেক কাজ আর কাজ শেষ না করে বাড়ি ফিরলে চাকরি টা আর থাকবে না। তোর বস একদিনের জন্য তোকে একটু আগে ছুটি দিতে পারবে। তুমি জানো আমার বস কেমন। আজ বস এমনিতে আমার উপর রেগে আছে তার উপর যদি ছুটির কথা বলি। আমি পারব না। আচ্ছা মা রাখি। আরে শুন যা ফোনটা কেটে দিল। এদিক পাত্রপক্ষ আসতে তো বেশি দেরি নেই। নাফির মা বার বার দরজার দিকে তাকাচ্ছে কখন যে আসবে নাফি। হঠাৎ করে কলিংবেলের আওয়াজ শুনে ভাবল যাক নাফি চলে আসছে। দরজা খুলে দেখে পাত্রপক্ষ। তাদের আপ্যায়নের কাজে লেগে পড়ল। আজ কি কিছু আছে মা বার বার বাড়ি ফেরার কথা বলছে।আজকের দিনে কিছু হয়েছিল বলে আমার তো কিছু মনে নেই। মায়ের যে মাঝে মাঝে কি হয় বাচ্ছাদের মতো জেদ করে। চা নাস্তা খেতে খেতে ছেলের মা বলল কোথায় আপনার মেয়ে নিয়ে আসুন। আসলে ও একটু এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল। সাথে সাথে দরজা খুলে দেখে নাফি। আজ কি কিছু আছে মা? ঢুকেই দেখে অচেনা কিছু মুখ। নাফি সবকিছু বুঝে যায় কি চলছে এখানে। যা তো মা ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়। আসলে অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গেছে। নাফির মা নাফিকে নিয়ে নিচে আসে। সব কিছু দেখা শুনার কথা বার্তার পর ছেলের মা বলল আমাদের মেয়ে পছন্দ। এখন আপনাদের যদি ছেলে পছন্দ হয় তাহলে বিয়ের ডেট ঠিক করা যেতে পারে। আমারও ছেলে খুব পছন্দ। হঠাৎ নাফি, আমার কিছু বলার আছে। কি কথা? যদি আপনার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেন তাহলে আমার সাথে আমার মা ও যাবে আর ওই বাড়ি থাকবে। আমি ছাড়া আমার মাকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। তুই এসব কি বলছিস। মা তুমি চুপ থাক যদি আপনারা এই শর্তে রাজি থাকেন তাহলে বিয়ে হবে আর না হলে আমি এই বিয়ে করতে পারব না ছেলের মা, এটা কি ধরনের কথা মা থাকবে মেয়ের শশুর বাড়িতে। এই বিয়ে কখনই হবে না। সবাই চলে গেলে, তুই এটা কি করলি বলতো। আমি যা করছি ঠিক করছি। বাবা তো চলে গেছে। তোমাকে দূরে যেতে দেব না। আমি যদি বিয়ে করে চলে যাই তোমাকে কে দেকবে। আমার কথা তোকে ভাবতে হবে না আমি নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারব। শোন মা তুমি যাই বলো। আমি তোমাকে একা রেখে কোথাও যাব না। তার মানে তুই বিয়ে করবি না। যদি কোনো দিন এমন কাউ কে পাই যে আমার সাথে তোমাকেও আপন করে নেবে তাইলে বিয়ে করব না হলে না। আমি তোমাকে একা রেখে কখনোই শান্তি পাব না। যতদিন বেঁচে আছি তোমার সেবা করতে চাই। আমি আমার মাকে অনেক অনেক অনেক ভালবাসি। নাফির কথা শুনে মায়ের চোখে পানি চলে আসল। মা তুমি কাদছো কেন। তুমি কাদলে কিন্তু আমিও কাদব। আরে পাগলি এটা আনন্দের কান্না। তুই আমার কথা এতো ভাবিস। আমি চিন্তা করব না তো কে করবে শুনি। আমার গর্ব হয় তুই আমার মেয়ে। তখন নাফি বলল দেকতে হবে না কার মেয়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now