বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছয়
কৃষ্ণপক্ষের গভীর রাত,পারুলের স্বামী
গোফরান পায়চারী করছে উঠোনে । হাতে
একটা সিগারেট ধরে রেখেছে প্রায় ঘণ্টা
খানেক, ধরাবার কথা মনে নেই । পারুলের প্রসব
ব্যাথা উঠেছে প্রায় দুই ঘণ্টা । তীব্র মাথা ব্যাথা
ছিল বউটার । ঘরে পারুলের মা আর একজন গ্রাম্য
ধাত্রী আছে । ভাগ্য ভাল গত কয়েক রাত ধরে
ধাত্রী মহিলাটা প্রতিরাতে এখানেই থাকে, এত
রাতে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হত না । পারুলের
ছোট বোনটা ঘুম। পাড়াপড়শিদেরও কোন সাড়া
শব্দ নেই । ঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ
কয়েকজন মহিলার ভয়াল চিৎকারের শব্দ শুনতে পায়
সে । দৌড়ে পৌছাতেই দেখে দরজা খোলা,
মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্ত । একটা অদ্ভুত
দর্শন কিলবিলে শুঁড়ওয়ালা ছোট প্রাণী ঘষটে
ঘষটে বের হয়ে যাচ্ছে । স্বচ্ছ প্রাণীটার
পেটের মাঝখানে মানুষের দুটো খুবলে নেওয়া
রক্তাক্ত চোখ।
গোফরান আতঙ্কিত হয়ে একটা লাঠি হাতে নিয়ে
ঘরে ঢোকে, এককোনায় পড়ে আছে
পারুলের মায়ের ক্ষত বিক্ষত লাশ, চোখের
আশেপাশে কিছু জায়গা খুবলে খেয়ে নিয়েছে
জন্তুটা । ধাত্রীটা অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে
শুয়ে আছে । গোফরান পারুলের কাছে গিয়ে
দাঁড়ায় । ঠিক প্রতিদিনের মত খোলা চোখ, শীতল
দেহ, বুকে জীবনের কোন স্পন্দন নেই ।
তবে আজ দাঁত কামড়ে,জীভ বের করে
রেখেছে ।
গোঁফরান ঘর থেকে বের হয়ে আসে ।
শিরশিরে ঠাণ্ডা হাওয়া । পুকুরে তীব্র ঢেউ
উঠেছে, পানি ছলাৎ ছল করে পাড়ে বাড়ি খাচ্ছে ।
কিলবিলে ছোট জন্তুটাকে স্বাগতম জানানোর
জন্য,একই ধরনের অগনিত জন্তু পাড়ে উঠে
এসেছে ।
গোঁফরান আর সহ্য করতে পারল না । মানুষের
মস্তিষ্কের সীমার অতিরিক্ত চাপ গ্রহন করার
ক্ষমতা নেই । সে
চিৎকার দিয়ে উদভ্রান্তের মত দৌড় দিল ।
এরপর তাকে রাস্তাঘাটে উলঙ্গ অবস্থায় দেখা
যেত।মানুষ জন খুব বেশী বিরক্ত করলে সে
ক্ষেপে গিয়ে বলত,‘চোখ খুবলে নেব,
চোখ!’
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now