বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:ভৌতিক হৃদয় [MH2]
নতুন বাসায় উঠলাম আজ,ঢাকা থেকে বদলি হয়েছি চট্টগ্রামে।নতুন বাসাটাও মন্দ না,চমৎকার হাওয়া আসে পূর্বদিকের বারান্দা দিয়ে।আলো বাতাসেরও কমতি নাই।আমাদের ফ্ল্যাটটাও অনেক বড়, তার তুলনায় ভাড়া কম।যা অনেক লোভনীয় সুযোগ।আজই এসে উঠলাম বাসাটায়।কোন রূমে কী রাখব সবই ঠিক করছে আমার বউ রূপা।আমি আর আমার ছয় বছরের মেয়ে স্বর্ণা শুধু শুনছি।স্বর্ণা আমাদের একমাত্র সন্তান,ছোট থেকেই অনেক প্রতিভাধর,ছবি আঁকতে পারে অনেক সুন্দর করে,গানও গাইতে পারে।
রূপার কথা একমনে শুনেই যাচ্ছি,অবশেষে তার সব বলা শেষ হলো।ঠিক হলো মাঝখানের রূমটায় ডায়েনিং টেবিল,টিভি,ফ্রিজ এসব থাকবে।আমরা থাকব পূর্বদিকের রূমটায়।আলো বাতাসের সুবিধাও বেশি ওই রূমে।আর অন্য দুইটা রূমটার আমাদের আাসবাব থাকবে।
এভাবেই সব সাজালাম।
বেশ শান্তিতেই যাচ্ছিল সময়,স্বর্ণাকে একটা স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করিয়েছি।দিনকাল ভালোই কাটছে।কিন্তু একদিন ঘটল বিপত্তি।রাতে আমি আর রুপা ঘুমিয়ে আছি,আমাদের মেয়েটা আমাদের মাঝখানে শোয়া।মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙ্গল রূপার ডাকে,ও আমায় ডাকছে।আমিও ধরফর করে উঠলাম,
আমি: কী হয়েছে??? মাঝরাতে কেউ এভাবে ডেকে তোলে নাকি???
রূপা: ডেকে তোলেছি কী আর স্বাদে,স্বর্ণা আমাদের মাঝে নাই।ও কোথায় গেল???
আমি: টয়লেটে যায় নি তো???
রূপা: না,টয়লেটে যায় নি।কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।
আমি: বেলকনিতে দেখেছ???
রূপা: না,ওইদিকে কবরস্থান দেখা যায়,ভয় করে আমার, তাই ওইদিকে যাই নি।
ওহ বলাই তো হয় নি,আমাদের এই নতুন বাসার বেলকনি থেকে পুরনো একটা কবরস্থান দেখা যায়।আর রূপা খুবই ভয় পায় কবরস্থান,কারণ ওর বিশ্বাস কবরস্থানে জ্বীন আছে।ও এসবে খুব ভয় পায়।আমি অভয় দিয়ে বললাম,,,
আমি: চল তো ওইখানেই ও আছে হয়তো।
আমি আর রূপা বেলকনিতে গেলাম।গিয়ে দেখলাম সত্যিই স্বর্ণা ওইখানে শুয়ে আছে,আর বিরবির করে কী যেন বলছে।আমরা ওকে ডাকলাম।কিন্তু ও কোনো সাড়া দিচ্ছে না।শেষে ওর মুখে পানির ছিটা দিলাম,কারণ আমার মনে হলো ও বেহুশ হয়ে আছে।মেয়ের মুখে পানি দেওয়ার পর সজাগ হলো ও।তখন ওকে জিজ্ঞেস করলাম ও এখানে কী করে আসল।ও বলল ও নাকি জানে না।আমি ভাবলাম হয়তো স্লীপ ওয়াকের রোগ ধরছে ওকে।আর কিছু না ভেবে মেয়েকে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
কয়েকদিন পর,,,
অফিস করছি,রূপা আমায় ফোন করল।ফোন রিসিভ করতেই ওইপাশ থেকে রূপার ভয়ার্ত গলা শুনলাম।
আমি: কী হয়েছে তোমার রূপা???
রূপা: আমার কিছু হয় নি,হয়েছে তোমার মেয়ের।তোমার মেয়ে কার সাথে যেন গল্প করছে,আর খেলা করছে।কিন্তু আমি তো কাওকে দেখছি না,ও বলল ও নাকি আরেকটা মেয়ের সাথে খেলা করে।ওই মেয়ের ছবিও ও এঁকেছে।কী বিভৎস চেহারা ওইটার কী বলব।তুমি তারাতারি বাড়িতে আস।
আমি: আচ্ছা,আসব।কিন্তু ও হয়তো দেখ কাল্পনিক কোনো সঙ্গী বানিয়ে খেলছে,সব বাচ্চারাই এমন করে।
রূপা: আমি ওর মা,মেয়ে কী করছে তোমার চেয়ে ভালো বুঝি আমি।তুমি প্লিজ বাড়িতে আস।
আমি: আচ্ছা আসছি।
আমিও আর সেদিন অফিস করলাম না,ছুটি নিয়ে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে দেখলাম স্বর্ণা ওই বেলকনিতে কার সাথে যেন কথা বলছে,স্বর্ণা ওকে বারবার থামাতে চাইছে,কিন্তু ও থামছে না।আমি যেয়ে মেয়েকে ডাক দিলাম।তখনও মেয়ে আমার দিকে ফিরল না।অন্যদিন আমি যখন অফিস থেকে ফিরে আসি তখন মেয়ে আমার কোলে উঠার জন্য দৌড়ে আসে।আজ ওর কী হলো,আমি জোর করে ওকে নিয়ে আসলাম রূমে।স্বর্ণা মেয়ের আঁকা ছবিটা আমায় দেখাল,দেখলাম একটা মেয়ের ছবি ও একেছে,তবে দেখতে অনেক কুৎসিত ওই মেয়েটা।
আমি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম এই মেয়েটা কে???ও বলল ও নাকি জানে না।অথচ কিছুক্ষণ আগেও ও বলছিল এটা নাকি ওর বান্ধবী।
পরের দিন,,,
পরের দিন মানে শুক্রবারে অফিস বন্ধ,তাই দুপুরে নামাজ পড়ে ভাত ঘুম দিচ্ছি,এমন সময় দরজায় কলিং বেল বাজার শব্দে ঘুম ভাঙ্গল।গিয়ে দরজা খুললাম,দেখলাম বাড়িওয়ালা আঙ্কেল আমার মেয়েকে কোলে করে নিয়ে এসেছে,মেয়ে অজ্ঞান হয়ে আছে।আমি আঙ্কেলকে জিজ্ঞেস করলাম,,,
আমি: কী হলো ওর আঙ্কেল??? আমাদের মেয়ে তো আমাদের সাথে ঘুমাচ্ছিল ও বাইরে গেল কী করে??? আর কোথায় পেলেন ওকে???
আঙ্কেল: তোমার মেয়ে ছাদের কর্নারে গিয়ে বসে ছিল ওয়ালের উপর,কার সাথে যেন কথা বলছিল।আমও ডাকলাম ও শুনল না।ভাবলাম মেয়েটা পড়ে যাবে,তাই ধরতে গেলাম,কিন্তু ধরার সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেল।তাই নিয়ে এলাম।বাইরে কী করে গেল বলব কী করে???
আমি: দরজাও তো ভিতর দিয়ে লক করা।আচ্ছা মেয়েকে দিন,জ্ঞান ফিরাতে তো হবে।
মেয়েকে পানির ছিটা দিলাম,ওর জ্ঞান আসল।আগের বারের মতো ও কিছু বলতে পারল না।আমার চিন্তা আরও বেড়ে গেল।
এক সপ্তাহ পর,,,
ধীরে ধীরে মেয়ে খাওয়া দাওয়া কমিয়ে ফেলছে,খেতে চায় না।আবার মাঝরাতে এখন প্রতিদিন ওকে বেলকনিতে পাওয়া যায়,কী যেন বিরবির করে।আমরা কাছে গেলে সেন্সলেস হয়ে যায়,আর কিভাবে ও গেছে কিছু বলতে পারে না।আমি ভাবলাম মেয়েটার হয়তো শারিরিক কোনো সমস্যা হচ্ছে।তাই শুক্রবারে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম মেয়েকে।ডাক্তার খানিকক্ষণ পরীক্ষা করলেন মেয়েকে,তারপর বললেন,
ডাক্তার: আপনার মেয়ে তো একদম সুস্থ,ও কী করে সেন্সলেস হবে।হয়তো আপনারা ভুল করছেন।আর ওর কোনো মানষিক সমস্যাও আছে বলে তো মনে হয় না।
আমি: কিন্তু ওকে যে রাতে আমাদের বিছানায় পাওয়া যায় না,কী করে যায় জানি না, সেটার বিষয়ে কী বলবেন???
ডাক্তার: সারাদিন অফিস করার পর আপনি ক্লান্তিতে ঘুমান,আপনার বউও সারাদিনের কাজের পর ঘুমায়,তাই গাঢ় ঘুমের কারণে মেয়ে কখন উঠে চলে গেছে তা আপনারা বুঝতেই পারেন না।
আমি: হুমমম,হতে পারে।
ডাক্তারের কথা থেকে বোঝা গেল মেয়ের তাহলে কোনো শারিরীক বা মানষিক সমস্যা নাই।তবুও পরীক্ষার জন্য রূপাকে বললাম ও যেন মেয়েকে ওর সাথে বেধে রাখে উড়না দিয়ে।আমার চোখের সামনে রূপা স্বর্ণাকে নিজের সাথে বাধল।কিন্তু আজ রাতেও স্বর্ণা আমাদের মাঝে নাই।রূপার বাধা উড়না ওর কাছেই আছে।গেড়ো খুলা হয় নি,তবুও মেয়ে কী করে গেল???
এসব নিয়ে প্রচন্ড চিন্তায় আছি।বাড়ির কেয়ারটেকার চাচাকে এই কথা বললাম।ওনাকে প্রথমে ইতস্তত করতে দেখলাম।
আমি: কিছু বলবেন চাচা???
চাচা: আসলে ফ্ল্যাটটা সম্পর্কে তোমাকে কিছু বলা হয় নি।
আমি: কী বলেন নি???
চাচা: তোমাদের ফ্ল্যাটটায় জ্বীনদের আনাগোনা প্রচুর।কবর স্থানের কারণেই এমন হয় বলে আমার মনে হয়।তোমার সাথে যেমন ঘটেছে এর আগেও এমন ঘটেছিল,অনেক বাচ্চাই মারা গেছে ওই ফ্ল্যাটে।
আমি: তা আগে বলেন নি কেন???বাসা বন্ধ করেছেন???
চাচা: আগে বললে তোমরা বাসাটা ভাড়া নিতে চাইতে না,তাই বলি নি।আর বাড়ির মালিক বাসা বন্ধ করেন নি,এসবে বিশ্বাসও করেন না।
আমি বুঝলাম কিছু একটা পদক্ষেপ তো নিতেই হবে।আমার এক মামা একজন অনেক বড় আলেম।অনেক ভেবেচিন্তে ওনাকে ডেকে আনব বলে ঠিক করলাম।মামাও আসবেন বলে কথা দিলেন।
যথাসময়ে মামা আসল,এসেই বলল এই বাড়িতে জ্বীনের আসর আছে।অনেক শক্তিশালী জ্বীন এরা।মামা কী করে জানল জানি না।তবে তখন মামাকে সব খোলে বললাম।মেয়েকে ডাকতে বললেন ওনি।স্বর্ণাকে ওনার সামনে নিয়ে আসলাম।মেয়েকে কেমন যেন রাগী রাগী দেখাচ্ছিল ।মামা সব দেখে শুনে বললেন," তোমার মেয়ের উপর একটা বাচ্চা জ্বীন আসর করেছে।আপাতত ও মেয়ের কোনো ক্ষতি করবে না।কিন্তু ভবিষ্যতে মেয়ের শারিরিক আর মানষিক সমস্যা হতে পারে।আর রাতে জ্বীনই তোমার মেয়েকে বেলকনিতে নিয়ে যায়,সেজন্য তোমরা বুঝ না।এর একটা বিহিত করতে হবে।"
আমি: মামা যা করার তা আপনি করুন।আমি রাজি।
মামা তারপর কয়েকটা তাবিজ বেধে দিলেন ঘরের চার কোণায়,আর স্বর্ণার গলায় একটা তাবিজ ঝুলিয়ে দিলেন।আর এক গ্লাস পানিতে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে সে পানি তাকে খাইয়ে দিলেন।আর আমাদের সতর্ক করে গেলেন যেন তাবিজ না খোলা হয়।
তখন থেকে এখনও পর্যন্ত আর কোনো ঝামেলা হয় নি।
[কেমন লাগল???কোনো ভুল নজরে এলে বলবেন।আর গুছিয়ে লিখতে পারি নি তার জন্য দুঃখিত]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় এবং শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now