বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অচেনা অতিথি

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:ভৌতিক হৃদয়[MH2] [১] গ্রামটা খুব পছন্দ হয়েছে আকাশের।গ্রামের নীল আকাশ, বিশাল মাঠ,গাছগাছালি,পাখির কিচিরমিচির শব্দ,আর বিশুদ্ধ নির্মল হাওয়া,একটা ছোট নদী,সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর এ গ্রামটা।যদিও তার একটা দিক দিয়ে চিন্তা আছে,তা হলো ছোট থেকেই শহরে মানুষ সে,গ্রামে খাপ খাইয়ে নিতে প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে,পরে সে মানিয়ে নিবে,সে জানে সে অবশ্যই মানিয়ে নিতে পারবে।তবে এসব নিয়ে সে ভাবে না।সবার আগে যা করার তা হলো তাকে মতিন মেম্বারের সাথে দেখা করতে হবে।গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে সে হাটছে,একটা লোককে সে জিজ্ঞেস করতেই বাড়ির পথটা দেখিয়ে দিল।বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো আকাশ,ডাক দিল।মাঝারি উচ্চতার টাক মাথার একটা লোক বেরিয়ে আসল। আকাশ:আসসালামু আলাইকুম , চাচা,আমি এ গ্রামের মেম্বার মতিন চাচার সাথে দেখা করতে আসছি। লোকটি: আমিই মেম্বার মতিন।আপনি নিশ্চয়ই আকাশ। আকাশ: হ্যা,চাচা আমিই আকাশ।গ্রাম উন্নয়নের উপর পর্যবেক্ষণ করতে আসছি।চেয়ারম্যান চাচা বলেছিল আপনি নাকি আমার থাকার মতো বাড়ি দেখিয়ে দিবেন??? মতিন: হ্যা,বাড়ি ঠিক করাই আছে।আগে ঘরে আসুন,বসুন আর কিছু খাওয়া দাওয়া করে যান। আকাশ: না,চাচা,অন্যদিন না হয় খাব। মতিন: আরে গ্রামের মেহমান আর না খেয়ে চলে যাবেন এটা হয়।আমাদের পুুকুরের মাছ খেয়ে দেখুন,গরিবের বাড়িতে যতটুকু করতে পারি করব,আসুন না। আকাশ:না চাচা,এখন ওইসব খাব না।একটু চা করে দিতে পারলে চা খেয়েই চলে যাই। মতিন মেম্বার আরও জোর জবরদস্তি করল,কিন্তু শেষমেশ আকাশের কথা মেনে ওনার বউকে বলল চা বানাতে।আকাশ আর মতিন মেম্বার ঘরের সমানে চেয়ারে বসল।চা খেতে খেতে ওরা কথা বলছে, মতিন: এই গ্রামে তো মানুষ বাড়ি ভাড়া দেয় না,কারণ নেওয়ার মতো মানুষ নাই।আর শহরের মতো সুবিধা তো গ্রামে পাবেন না।যে বাড়ি ঠিক করেছি কিছুটা পুরনো।তবে বেশ বড়।আলো বাতাসও যথেষ্ট আছে।তবে নির্জন জায়গায়। আকাশ: মানিয়ে নিতে পারব চাচা।আমার তো নির্জন জায়গাই দরকার যেখানে নিরিবিলি মুক্ত ভাবে নিজের কাজ করা যায়। মতিন: তাহলে তো ভালোই। চা খাওয়া শেষ হয়ে গেছে।তাই ওরা চলল বাড়িটার উদ্দেশ্যে। [২] বাড়িটায় নিজের জিনিস পত্র তোলল আকাশ।বাড়িটায় দুটো রূম আছে।ওর থাকার ঘরে ও আসল।আকাশ আসবে তাই একটা ফ্যানও লাগিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান সাহেব।শত হোক নিজের এলাকার যেন কোনো বদনাম বা খারাপ রিপোর্ট না তৈরী হয় তাই এসব করেছে।যাতে আকাশ খুশি হয় আর কোনো খারাপ কিছু না লিখে রিপোর্টে।আকাশের এতোকিছুর দরকার ছিল না,গ্রামের মানুষগুলোর সরল আতিথেয়তায় সে এমনিতেই মুগ্ধ। মতিন সাহেব অনেকক্ষণ ছিল তার কাছে।তাকে বাড়ির সব কিছু দেখিয়ে গেছে,কোথায় কী আছে সব।জিনিস পত্র রাখা এবং খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিয়ে গেছেন ওনি।ওনার দরকারি কাজ পরে যাওয়ায় চলে গেলেন।তবে যাওয়ার আগে বলে গেলেন ওনি,,, মতিন: রাতে যদি ঘরের দরজায় কেউ নক করে তাকে ঢুকতে দিয়েন না।আর দরজাও খোলবেন না,এটা মনে রাখবেন। আকাশ: কেন চোর ডাকাতের উপদ্রব বেশি নাকি??? মতিন: এ গ্রামে কেন আশেপাশের কোনো গ্রামেও কোনো চোর নাই।তবে সেটা অন্যকিছু।সন্ধ্যার সময় তাদের নাম নিতে নাই। আকাশ:বুঝেছি ভূত প্রেত নাকি?? আমি এসবে বিশ্বাস করি না। মতিন: বিশ্বাস না করলেও সাবধানে থাকবেন।আমার কাজ আছে তাই চলে যাচ্ছি।কথাগুলো মনে রাখবেন। বলে মতিন মেম্বার চলে গেল।এদিকে সন্ধ্যা হতে চলল,আকাশও পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে এসে ঘরে ঢুকল।ঘরটা দেখতে লাগল।মনে হয় আজ সকালে কাওকে দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।তবে যতই পরিষ্কার করুক না কেন,দেখলেই বোঝা যায়,অনেকদিন ধরে এই বাড়িতে কেউ থাকে না।তিনটা জানালা আছে,আর মাঠের মাঝখানে এই বাড়ি,ফলে প্রচুর আলো বাতাস আসছে।যার দরুন তার খুব একটা গরমও লাগছে না।সে তার ল্যাপটপ নিয়ে বসল।কিন্তু কিছুক্ষণের মাঝেই কারেন্ট চলে গেল।কী আর করা,আকাশও আর কাজ করল না।ঘর থেকে বেরিয়ে এল।বাইরে চাঁদনি রাত।আকাশ খানিকটা মেঘলা,তবে চাঁদের আলো ঠিকই আছে।চাঁদের আলোয় বিশাল মাঠটাকে সে দেখছে।এই সিজনে সব ফসল কাটা হয়ে গেছে,তাই পুরো মাঠ খালি, অন্যসময় হলে মাঠে ফসল থাকত।সে বারান্দায় বসে পড়ল।পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফেসবুকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর একজন লোক তাকে ডাকতে আসল,মেম্বার সাহেব নাকি আকাশকে নিয়ে যেতে বলেছে,ওনার বাড়িতেই যেন আকাশ রাতের খাবারটা খায়।আকাশ ঘরে তালা লাগিয়ে গেল খেতে।প্রায় ১০ মিনিট হাটার পর মেম্বার সাহেবের বাড়িতে পৌছুল ও।খাওয়াদাওয়ার ভালোই আয়োজন করেছে,পুকুরের বড় রুই মাছ,ছোট মাছ,গরুর দুধ আরও কয়েকজাতের তরকারি।রান্না ভালো হয়েছে তাই আকাশও খেয়ে নিল ভালো করে।খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাড়ি আসতে না আসতেই বৃষ্টি নামল।তবে ততক্ষণে বাড়িটাতে চলে এসেছে ও। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল ও।জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখছে আপনমনে,চাঁদের আলো এখন হালকা হয়ে গেছে,টিনের চালে বৃষ্টির পানি পড়ার শব্দ হচ্ছে, অন্যরকম সুন্দর লাগছে তার কাছে।শহরে ছাদের নিচে বাস করে এমন শব্দ তো পাওয়া যায় না।তবে আপনমনে বৃষ্টি দেখার সুযোগ বেশিক্ষণ থাকল না,কারণ দরজায় ঠকঠক কর শব্দ হচ্ছে।মেম্বার সাহেবের কথা ওর মনে পরল,দরজা খোলতে মানা করেছেন ওনি।কিন্তু আকাশ তো ওইসবে বিশ্বাস করে না।তাহলে কেন ভয় পাবে???দরজায় ঠকঠক শব্দ হয়েই চলছে,কী করবে ও??? দরজা খোলা কি ঠিক হবে??? [৩] সকল চিন্তা ভাবনা সংসয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে দরজার কাছে গেল ও,বাইরে কে আছে জানা দরকার। আকাশ: বাইরে কে??? কে দরজায় ঠকঠক করছ??? আগন্তক: দরজা খুলুন,আমি এ গায়ের লোক। আকাশ ভাবল হয়তো বৃষ্টিতে বিপদে পরেছে লোকটা,দেখা দরকার,তাই দরজা খোলল,হুট করেই ঘরে ঢুকে পরল লোকটা।লোকটা সত্যিই ভিজে গেছে,শরীর থেকে পানি ঝাড়ছে লোকটা। আকাশ: এতো রাতে আপনি??? আগন্তক: আসলে পাশের গ্রামে গিয়েছিলাম,জরুরি কাজে।আসার পথে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আকাশ: ওহ,আচ্ছা বসুন,গামছা দিচ্ছি শরীর মুছুন। লোকটা নিজের শরীর মুছতে মুছতে বলল, আগন্তক: আপনাকে তো আগে দেখি নি,এ গ্রামে নতুন নাকি??? আকাশ: হ্যা,আজই আসলাম।আপনার বাড়ি কত দূরে??? আগন্তক: আমার বাড়ি অনেকটা দূরে এখান থেকে।বাইরে তো প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টি থামলে না হয় চলে যাব। আকাশ: আচ্ছা। লোকটার সাথে ও গল্প করতে লাগল ।বাইরে বৃষ্টি থামার নামই নাই।মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।রাত ১১ টার সময়ও যখন বৃষ্টি থামল না তখন লোকটাকে থেকে যেতেই বলল ও। পাশের রূমে থাকতে দিল। আকাশ সবসময় রাত ২ টায় ঘুমায়। কিন্তু আজ সারাদিনের জার্নির কারণে ওর শরীরটা কাহিল হয়ে গেছে।পাশের রূমে লোকটা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে,সে ও শুয়ে পড়ল। [৪] বুকে কীসের যেন ধাক্কা লাগছে, চোখটাও খুলতে পারছে না ও।প্রচন্ড ঘুমে ওর চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু কীসের কারণে ওর বুকে ধাক্কা লাগছে দেখা দরকার।তাই কৌতুহল এর কাছে ঘুম হার মানল।আকাশ ধীরে ধীরে চোখ খুলল,ওর চশমাটা বালিশের পাশে আছে,শুয়ে শুয়ে চোখে চশমা দিল,মোবাইল নিয়ে মোবাইলে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাল।উপরের দিকে তাকাতেই ওর বুকটা ধরফর করে উঠল,তার বিছানার উপরের ফ্যানটাতে ওই আগন্তক লোকটা ফাসি নিয়েছে।ওই লোকটার পা তার বুকে লাগছে।তাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে নামল ও।লোকটার লাশের চোখ গোল হয়ে বেরিয়ে আছে,জিভটা অর্ধেকটা বেরিয়ে গেছে,আর লাশটা তার দিকে তাকিয়ে আছে।আকাশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল,নড়ার বা কথা বলার শক্তিটাও তার নেই এ মূহূর্তে।তার মাথায় চিন্তা হচ্ছে লোকটা কখন এসে ফাসি নিল,তার তো সজাগ হওয়ার কথা ছিল।তবে কী এটা??? না, সে এসব বিশ্বাস করে না, ভাবতেও চায় না। কিন্তু তার এই অবিশ্বাসের মাঝে বিশ্বাস ফোটানোর জন্যই মনে হয় লাশটা তার দিকে ঘুরে তাকাল,আর একটা ভয়ঙ্কর হাসি দিল।আকাশের যেটুকু শক্তি বাকি ছিল তাও চলে গেল,কারণ লোকটার শরীর ধীরে ধীরে ওর চোখের সামনে পঁচে যাচ্চে, লাশ পঁচা গন্ধে আকাশের বমি চলে আসার মতো অবস্থা।ওর এখন নিজেকে বকতে ইচ্ছা করছে কেন সে মেম্বারের কথা শুনে নি।কিন্তু গন্ধ তো আর সহ্য করা যায় না,তাই ওর শরীরে যেন হঠাৎ করে বল চলে আসল।অধিক ভয় পেলে যেমন মানুষের পা চলতে চায় না,হাত পা নড়ে না,এতোক্ষণ ওই অবস্থায় ছিল ও।কিন্তু সজ্ঞানে আাসার সাথে সাথেই ও দরজার দিকে দৌড় দিল।বাইরে এখনও বৃষ্টি হচ্ছে,ভিজলে ভিজে যাব,কিন্তু এ ঘরে আর এক মূহূর্ত নয়,এটাই চলছে আকাশের মাথায়।দরজা খোলতেই কিছু একটার সাথে তার পা ধাক্কা খেল,ও পড়ে গেল,সাথে সাথে ওর চশমাটাও দূরে পড়ে গেল।আকাশ এখন সব ঝাপসা দেখছে।কিন্তু কীসের সাথে ও ধাক্কা খেয়েছে দেখার জন্য যখনই ওই বস্তুটার দিকে তাকাল,তার শরীর আবার শক্ত হয়ে গেল,শরীরের প্রতিটা লোম দাড়িয়ে গেল,কারণ জিনিসটা আর কিছু না ওই লোকটার লাশ।এখানে আসল কী করে???তাহলে কি লোকটা মানুষ নয়,অন্যকিছু।কিন্তু তার আর ভাবার মতো সময়ও নেই।তার দিকে তাকিয়ে লোকটা হাসছে,আর বলছে," ঘরে লোক ঢুকতে দিতে মানা করেছিল না মেম্বার,তবুও আমায় জায়গা দিয়েছিলে,এখন তো তার প্রতিদান পাবে"।লোকটা হাসছে,কী শীতল তার দৃষ্টি,মরা মাছের মতো তাকিয়ে আছে।মুখে নিস্ঠুর হাসি।আকাশকে আর কিছু ভাবতে দিল না লোকটা, গত ৫ বছর আগে তার সাথে এখানে যা হয়েছিল তার বদলা সে সবার উপর নিয়েছে,আকাশ যদিও কিছু করে নি,কিন্তু এ বাড়িতে যারা থাকে তারাই তার শত্রু।তাই ওকেও ছাড়বে না। আকাশ কিছু করার আগেই তার গলা চেপে ধরল দুইটা হাত।সে হাত ছাড়াতে পারছে না।সব কিছু অন্ধকার হয়ে আসছে তার চোখের সামনে। সমাপ্ত --------------০------------- [কেমন লাগল??? গুছিয়ে লিখতে পারি নি তার জন্য দুঃখিত।কোনো ভূল নজরে এলে বলবেন] বি.দ্র.: যথেস্ট সময় এবং মেধা ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না। আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now