বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বড্ড বেশি অবাক লাগে...

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মিস্টার.বইপোকা(ফেলুদা)(guest) (৪৪১ পয়েন্ট)



X আমার বড্ড বেশি অবাক লাগে যখন আহমদ ছফার কথা কাউকে বলি আর তারা তাঁকে চিনতেও পারেননা।এমন একজন ব্যক্তিত্বকে তাদের চোখে পরেনি?আশ্চর্য! একবার বাংলা একাডেমির পুরস্কারের কমিটিতে ছিল হুমায়ুন আহমেদ আর আহমদ ছফা।হুমায়ুন অবাক হলেন মাত্র ৩২/৩৪ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি থেকে পুরস্কার পেয়েছে তিনি, কিন্তু আহমদ ছফা পায়নি! তারপর হুমায়ুন আহমেদ বাংলা একাডেমির পুরস্কার কমিটিতে আসার পর,আহমদ ছফাকে একাডেমি থেকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য সুপারিশ করছিল। আর এই কথা আহমদ ছফা শুনতে পেয়ে হুমায়ুন আহমেদকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তা হুমায়ুন আহমেদ স্বীকার করলেন। ছফা রেগে বলেন "তোমার এত বড় স্পর্ধা যে তুমি আমার জন্য সুপারিশ করো!" এই কথা বলে ছফা তাকে দাড়াতে বললো "আমি না বলা পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকবে।" হুমায়ুন আহমেদ জবাব দিল, "জ্বী আচ্ছা" তারপর ছফা বললেন আর "কোনও দিন আমার চোখের সামনে আসবে না!" হুমায়ুন আহমেদ আবারও শুধু বলল "জ্বী আচ্ছা " আর কোনও দিন আহমদ ছফার সাথে হুমায়ুন আহমেদ দেখা করে নাই, শেষ আরেকবার দেখা করছিল হুমায়ুন আহমেদ এর বন্ধু আনিস সাবেত ক্যান্সারে মারা যাওয়ার সময়।হুমায়ুন আহমেদ ছফাকে এসে বলল, "ছফা ভাই আমার বন্ধু সাবেত মারা গেছে"এটাই ছিল হুমায়ুন আর ছফা স্যারের শেষ দেখা। অথচ হুমায়ুন আহমেদ নিজেই আহমদ ছফাকে মেন্টর ভাবতো এমনকি একজন অবিভাবক পর্যন্ত মনে করতো আহমদ ছফাকে। হুমায়ুন আহমেদ নিজেই তার 'বলপয়েন্ট' বইয়ে এমন কথা বলেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই এক সাক্ষাতকারে ব্রাত্য রাইসু হোমোসেক্সুয়ালিটির কথা জিজ্ঞেস করলে আহমদ ছফা চমৎকারভাবে এর উত্তর দেন। ব্রাত্য রাইসু তাকে মাস্টারবেশান নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি বলেন "অনেকদিন করেছি। মাস্টারবেশান করতে গিয়ে একটা সময় ফিল করলাম, মাস্টারবেশান যদি আমি করি, আমার ভার্জিনিটি আমি নষ্ট করবো, অর্থাৎ আমি লেখক হতে পারবো না। আমি একটা প্রাকৃতিক এনটিটি। কিছুদিন বাদেই আমি নিরস্তিত্ব হয়ে পড়বো।" শিল্পের জন্য পবিত্রতাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। সলিমুল্লাহ খান নিজেও আহমদ ছফাকে একজন টিচার ভাবতো সবসময়ই আর আহমদ ছফা আব্দুর রাজ্জাক স্যারকে সবসময়ই গুরু মানতেন আর গুরুর কাছ থেকেই গুরুর মতোই একজন হয়ে ওঠেন। বাঙালিদের অন্যতম একটি স্বভাব হচ্ছে অনেক কিছু ধামাচাপা দিয়ে রাখা, সিঁড়ির ক্ষয় না দেখাতে যেমন মাদুর পেতে রাখে।তেমনি তাদের নগ্ন সত্যটাও ধামাচাপাই থাকে।এজন্যই কিছু লোকের জন্য আহমদ ছফা, ছিলেন একজন অস্বস্তিকর ব্যাক্তিত্ব।যেসব সত্য প্রকাশ করতে তার সমকালীন অনেকের হিমশিম খেতে হতো,তিনি সেসব কথা তার অস্বস্তিকর কলমের মাধ্যমে সহজেই প্রকাশ্যে ফুটিয়ে তুলতেন।তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, বিড়ালের গলায় এই ঘণ্টা বাঁধার জন্য আর কাউকে প্রয়োজন হয়নি। “কাউকে জ্ঞান বিতরণের আগে জেনে নিও যে তার মধ্যে সেই জ্ঞানের পিপাসা আছে কি-না। অন্যথায় এ ধরণের জ্ঞান বিতরণ করা হবে এক ধরণের জবরদস্তি। জন্তুর সাথে জবরদস্তি করা যায়, মানুষের সাথে নয়। হিউম্যান উইল রিভল্ট।”-আহমদ ছফা আজ ৩০ শে জুন শুভ জন্মদিন আহমদ ছফা স্যার! লেখাঃ মামরিহা খান মিশু। [আহমদ ছফা স্যার আমারও একজন প্রিয় ব্যাক্তি।তার ব্যাক্তিত্ব নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার নাই।আমার খুব কষ্ট লাগে যখন একজন বইপিপাসুকে প্রশ্ন করি তুমি আহমদ ছফাকে চিন? যখন সে বলে চিনি না খুব কষ্ট হয় এবং এইসব বইপিসাসুদের জন্য মায়া হয়।তখন আবার তাদের জিজ্ঞেস করি,"তোমরা ইমদাদুল হক মিলনকেই চিনো?" তখন তারা বলে হ্যাঁ।তখন তাদের জন্য আরও বেশি মায়া হয় এই ভেবে যে তারা ইমদাদুল হক মিলনের মতো বস্তাপচা প্রেমের লেখককে চিনে অথচ আহমদ ছফার মতো একজন গুণী ব্যাক্তিত্বকে চিনে না।আর একটা কথা, জিজেতেও দেখেছি ইমদাদুল হক মিলনের মতো লেখকরা লিস্টে আছে অথচ আহমদ ছফার নাম লিস্টে নেই।জিজের এডমিন দের প্রতি অনুরোধ গুরু আহমদ ছফার এই জন্মদিন উপলক্ষে তার নামটাও জিজের বিখ্যাত লেখক/চরিত্র লিস্টে যুক্ত করবেন। ---- সাইম আরাফাত।] [দয়া করে কেউ এই গল্পে আড্ডা দিবেন না।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...