বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আল্লাহ কী আসলেই ক্ষমাশীল নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ?আল্লাহ কী এখানে বিতর্কিত?
X
------আসসালামু আলাইকুম------
প্রশ্নঃ আল্লাহ কী আসলেই ক্ষমাশীল নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ? আল্লাহ কী এখানে বিতর্কিত?
ট্যাগঃ নাস্তিক্যবাদ বিরুধী।
উৎসর্গঃ নিহান ও নাফিকে।আমার কলিজার টুকরা দুই ভাগ্নে।দোয়া করি বড় হয়ে তোমরা ইসলামের খেদমতের নিজেদের বিলিয়ে দিবে।
লেখকঃ সাইম আরাফাত।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
এই লেখাগুলো লিখতে প্রচুর পড়তে ও পরিশ্রম করতে হয়।তাই দয়া করে কপি করবেন না।আর যদিও একান্তভাবে কপি করতে চান তাহলে প্রাপ্ত ক্রেডিট দিয়ে নাম ম্যানশন করে দিবেন।ধন্যবাদ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি লাইব্রেরি ঢুকতে যাব এমন সময় সুনীল দার সঙ্গে দেখা। সুনীল দা আমাকে দেখে বলল,আরে সাইম! তুমি এখানে?আমি আজকে তোমার কাছেই যেতাম।তোমার সাথে একটা জরুরী বিষয় নিয়ে আলাপ করতে।
আমি একটা গোল হাসি দিয়ে বললাম,আরে দাদা! আমি তো বিখ্যাত হয়ে গেছি।তুমি আমাকে খুঁজছ?আমার সাথে দেখা করার জন্যে? এই খুশি আমি রাখি কোথায়!
—মজা করা বন্ধ কর।একটা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলব।
—আচ্ছা মজা করা বন্ধ করলাম।বল কী সিরিয়াস কথা?
—এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলা যাবে না।চল ক্যান্টিনে বসে কফি খেতে খেতে কথা বলি।
—চলো।
আমরা ক্যান্টিনে গিয়ে দুটো চেয়ারে বসলাম।সুনীল দা দুকাপ ব্ল্যাক কফির অর্ডার দিল।ব্ল্যাক কফি সুনীল দার ফেবারিট।
কফি এসে গেল।
আমি কফিতে চুমুক দিয়ে একটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললাম,বলো দাদা! কী বলবে? এখন বলো।
সুনীল দা একটু কেশে বলল,কথাটা কোরআন নিয়ে।
আমি হেসে বললাম,বলো।
—আচ্ছা,তোমাদের কোরআনের কোনো একটা সূরায় আল্লাহ বলেছেন যে,আল্লাহ মহাক্ষমাশীল।
—অবশ্যই,এটা কোরানে বিভিন্ন জায়গায় বলা আছে।তাতে সমস্যা কী?
—আমাকে পুরো কথা শেষ করতে দাও।
—শেষ করো।
—পরবর্তীতে কোরআনের আরেক জায়গায় বলা হয়েছে যে,অমান্যকারীদের জন্য খুব কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে।এখন আমি কী আল্লাহকে একজন প্রতিহিংসা পরায়ন বলতে পারি না?
আমি আরেক চুমুকে কফিটা শেষ করে বললাম,না,তুমি তাকে পতিহিংসাপরায়ণ বলতে পার না।
—কেন পারব না? তিনিই নিজেই তো এক জায়গায় মহাক্ষমাশীল আরেক জায়গায় প্রতিহিংসার কথা বলেছেন।তাহলে কেন আমি তাকে প্রতিহিংসা পরায়ন বলতে পারব না?
আমি বললাম,দাদা আরেক কাপ কফির অর্ডার দাও,তারপর কফি খেতে খেতে বলছি।
দাদা আরেক কাপ কফির অর্ডার দিল।একজন এসে কফি দিয়ে গেল।
আমি কফিতে চুমুক দিতে দিতে বললাম,দাদা,আমি তোমার প্রশ্নটা বুঝতে পারছি।তুমি যে প্রশ্নটা করেছ তা হলো পবিত্র কোরআন বলছে আল্লাহ পরম করুণাময়,অসীম দয়ালু,এছাড়া তিনি কেন শাস্তির বিধান রেখেছেন?এজন্য তুমি তাকে প্রতিহিংসাপরায়ন বলছ।তাই তো?
—হ্যাঁ।
—দাদা, পৃথিবীতে ধর্ষনের শাস্তি হিসেবে আর্থিক শাস্তির নিয়ম আছে আবার কোরআনেও কিছু শাস্তির কথায় বলা হয়েছে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
দাদা তোমাকে একটা বিষয় অনুভব করতে হবে,আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু কিন্তু তার সাথে সাথে তিনি একজন ন্যায়বিচারকও।পবিত্র আল-কোরআনে তার ৯৯ নামের কথা বলা হয়েছে।যার মধ্যে ক্ষমাশীল ও ন্যায়বিচারক রয়েছে।একটা উদাহরণ দিলে হয়ত বুঝতে পারবে।
—কী উদাহরণ?
—দাদা,যদি কেউ যিনা করে,কোরআনের ভাষা অনুযায়ী তুমি তখন বলতে পার যে,আল্লাহ ক্ষমাশীল।সুতরাং আল্লাহ ধর্ষণকারীকে ছেড়ে দিবেন।তাহলে এখানে আল্লাহ ক্ষমাশীল নন তিনি অবিচারক হয়ে যান।যদি তুমি ধর্ষককে ছেড়ে দাও তাহলে যে ধর্ষনের শিকার হয়েছে তাকে কি উত্তর দিবে? বর্তমান বিজ্ঞান বলছে,যে ব্যাক্তি একবার যিনা করে এবং আবার সমাজে ফিরে আসে তাহলে তার মধ্যে যিনা করার ৯৫ ভাগ সম্ভাবনা থাকে।সমাজ বলছে প্রথমত,তাকে ৫ বছরের কারাদন্ড দাও এবং যদি সে আবারও করে তবে তাকে মৃত্যুদন্ড দাও।
বর্তমান সময়ের স্ট্যাটিসটিক্সে আমােরিকা সম্পর্কে বলছে যখন কোন ব্যাক্তি ধর্ষণ করে এবং আবারও সোসাইটিতে ফিরে আসে তাহলে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সে আবার ধর্ষণ করতে পারে।আল্লাহ তায়ালা একই সাথে মহাক্ষমাশীল এবং ন্যায় বিচারক।যে মহিলা ধর্ষণের শিকার হয় আল্লাহ তার কাছে ন্যায় বিচারক।আল্লাহ ক্ষমাশীল সেই ব্যাক্তির কাছে যে আবারও ধর্ষণ করছে।যে ধর্ষণ করা তার জন্য জঘন্যতম অপরাধ।একই রকমভাবে যদি তুমি চুরি কর;পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে তার হাত কেটে দাও।তুমি এটাকে খুব নৃশংস আইন বলতে পার এবং বলতে পার ইসলাম খুবই নৃশংস, হাতকাটার জন্য।প্রথমত ইসলাম বলছে যাকাত প্রথার কথা।যেমনঃ ইসলাম প্রত্যেক ধনী ব্যাক্তির সম্পদের শতকরা ২.৫ ভাগ গরিবকে প্রদানের বিধানের কথা বলছে।এটা দেওয়ার পরও যদি কেউ চুরি করে তখন তার হাত কেটে দেওয়ার বিধান আছে।
আমি কথা থামিয়ে দিয়ে বললাম,দাদা, প্লিজ আরেক কাপ কফির অর্ডার দাও।
দাদা আরও এক কাপ কফির অর্ডার দিল।
কফি চলে এল।
আমি কফি খেতে খেতে বলছি,দাদা,পবিত্র কোরআনে সূরা-মায়িদা- এ বর্ণিত আছে—
"যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও।তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসাবে এবং আল্লাহর পক্ষ হতে দন্ড হিসাবে।(সূরা মায়িদা; আয়াতঃ ৩৮)
দাদা,তুমি যদি সৌদি আরবে যাও তবে দেখবে প্রত্যেক দুইজন ব্যাক্তির মধ্যে একজনের হাত কাটা থাকবে।
—তুমি সৌদি আরব গিয়েছ?
—না, আমার মামা বলেছেন এবং আমি বিভিন্ন বই ও ইন্টারনেটেও পড়েছি।সেখানে একজন মানুষকেও দেখবে না; যাদের হাত কাটা।সেখানে কতিপয় লোক এরকম থাকতে পারে কিন্তু তাদের ভিতর দিয়ে আসলে এটা খুব সাধারণভাবে দৃষ্টিগোচর হবে না। দাদা,তুমি যদি বর্তমানে আমেরিকাতে শরিয়াহ্ প্রচলন করতে চাও যে,প্রত্যেক ধনী ব্যাক্তিকে যাকাত আদায় করতে হবে বা দান করতে হবে এবং তারপর যদি কেউ চুরি করে তাহলে তার হাত কেটে দেওয়া হবে।তাহলে এটা কি আমেরিকার খারাপ কাজকে বৃদ্ধি করবে? একই রকম রাখবে? না কমাবে? এটা অভিয়াসলি খারাপ কাজকে হ্রাস করবে।সুতরাং আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং ন্যায়বিচারকের পাশাপাশি এ দুটি কাজ করতে তিনি খুবই সতর্ক।এই তিনটা বিষয় একই সাথে তখন করা সম্ভব যখন কেউ সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য কিছু করতে চায়।সকল মানব গোষ্ঠির জন্য তিনি ক্ষমাশীল।সুতরাং তিনি যিনা বন্ধ করতে চান না।এটা কি ক্ষমাশীলতা নাকি অক্ষমাশীলতা,তুমিই বল?
—অক্ষমাশীলতা।
—ঠিক আছে এটা ক্ষমাশীলতা।সুতরাং তুমি বলছ যে,মানুষ আনন্দ করুক।আর আজ তুমি ১০০ ধর্ষণ করলে আগামীকাল থেকে তাহলে তুমি প্রতিদিন ১০০০ ধর্ষণ করবে এবং তা ডে বাই ডে বাড়বে বয় কমবে না।
সুতরাং আল্লাহর এই আইন সমগ্র মানুষের জন্য ক্ষমাশীলতাম্বরূপ।কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়,সমগ্র মানব জাতির জন্য।কেবল সৌদি আরবের জন্য নয়,সমগ্র পৃথিবীর জন্য।তিনি ক্ষমাশীল সমস্ত মানুষের জাতির জন্য।এইজন্য এই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।যার ফলে অন্যায়কারীরা নিজেদেরকে উন্নত করতে সক্ষম হবে এবং সুবিধাটা সকল মানবজাতি উপভোগ করতে পারে।
সুনীল দা কিছু একটা চিন্তা করে বলল, কিন্তু আল্লাহ তো চাইলেই ধর্ষণকারীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন কারন তিনি তো মহাক্ষমাশীল।
আমি হেসে বললাম,দাদা,বললাম তো আল্লাহ ক্ষমাশীল বটে তবে তিনি একজন ন্যায় বিচারকও।যদি তিনি ধর্ষককে শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেয় তাহলে তো ধর্ষণের শিকার মহিলাটার সাথে অন্যায় করা হবে।আর তাই ধর্ষককে শাস্তি পেতে হবে।
আচ্ছা একটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝাই।এটা শুধুমাত্র যুক্তির খাতিরে বলছি,কিছু মনে করবে না কিন্তু।
—ঠিক আছে কিছু মনে করব না।
আমি বললাম,আচ্ছা দাদা,আমরা সবাই জানি যে তুমি একজন দয়ালু এবং ক্ষমাশীল লোক।সবাই জানে তুমি খুব ভালো মনের মানুষ।
—হুম।তাতে কি হয়েছে?
—বলছি।ধর,এখন যদি তোমার ছোট বোনকে কেউ একজন ধর্ষণ করে তাহলে তুমি তাকে কি করবে?
সুনীর দা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, ঐ কুকুরের বাচ্ছাকে আমি শুলে চড়াব।
আমি হাসতে হাসতে বললাম,কেন? কেন?তাকে কেন শুলে চড়াবে? তুমি তো দয়ালু।চাইলেই তাকে ক্ষমা করে দিতে পার।
সুনীল দা রাগি কন্ঠে বলল,তাহলে তো আমার বোনের সাথে অন্যায় করা হবে। তার সাথে যে অন্যায় হয়ছে তার বিচার সে পাবে না।
আমি হেসে বললাম,ঠিক বলেছ দাদা।যদি তুমি ধর্ষককে ছেড়ে দাও তবে তোমার বোনের সাথে
অন্যায় হবে।যদি তুমি একজন মানুষ হয়ে এতটা ন্যায়বিচারক হতে পার তবে একবার ভাব যে তিনি আল্লাহ হয়ে কতটুকু ন্যায়বিচারক হবেন? তিনি চাইলেই ধর্ষককে ছেড়ে দিতে পারেন কিন্তু তাতে তার বান্দীর সাথে হওয়া অন্যায়ের ন্যায় বিচার হবে না।
সুনীল দা মাথা নিচু করে কিছু চিন্তা করছে।
আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম।সর্বনাশ! পাঁচটা বেজে গেছে।
আমি সুনীল দাকে বললাম,দাদা,আমি যাই,আমার সময় কম।লাইব্রেরিতে একটু কাজ আছে।
সুনীল দা বলল,আচ্ছা যাও।
আমি লাইব্রেরির দিকে হাঁটা ধরলাম।আজকে হুমায়ূন আহমেদের অনেক গুলো বই নিতে হবে।
======সমাপ্ত======
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now