বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
------আসসালামু আলাইকুম------
গল্পঃ নবী(স.)কে গালি দেয়া অধিকার নাকি স্বেচ্ছাচারিতা?
ট্যাগঃ নাস্তিক্যবাদ বিরুধী।
উৎসর্গঃ গাযওয়াতুল হিন্দ যুদ্ধে মুসলমানদের হয়ে যারা অংশগ্রহণ করবেন সেইসব মহাবীরদের আমার অগ্রীম শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।
লেখকঃ সাইম আরাফাত।
[এই লেখাগুলো লিখতে প্রচুর পড়তে ও পরিশ্রম করতে হয় তাই দয়া করে কপি করবেন না।আর যদি একান্তভাবে কপি করেন তাহলে প্রাপ্ত ক্রেডিট দিয়ে নাম ম্যানশন করে দিবেন।ধন্যবাদ।]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি লঞ্চে করে বরিশাল থেকে বাড়ি ফিরছি।পদ্মার উপর দিয়ে লঞ্চ ছুটে যাচ্ছে।রাতের পদ্মার সাথে কোনোকিছুর তুলনাই হয় না।এরকম অপরূপ সৌন্দর্য আমি খুব কমই দেখেছি।
আমি গিয়ে আমার কেবিনে ঢুকলাম।কেবিনটা ডাবল।আরও একজন লোক কেবিনে বসে আছেন।আমি লঞ্চে উঠা থেকে দেখছি যে লোকটা হয় মুখের উপর বই নিয়ে বসে আছে নয়ত খবরের কাগজ।
আমি গিয়ে আমার সিটে বসলাম।ব্যাগ থেকে সিরাত ইবনে হিশাম বের করে পড়তে শুরু করলাম।ভদ্রলোক আড় চোখে আমাকে দেখছে।হঠাৎ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,'কি পড়ছ তুমি?'
—সীরাত গ্রন্থ।
—সিরাত?মানে হয়রত মুহম্মদের (সাঃ)এর জীবনী।
আমি মুচকি হেসে বললাম,জ্বী।
তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,তুমি কি জান যে কিছুদিন আগে অস্ট্রিয়ার এক নারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে গালি দেওয়ায় তাকে জেলে নেওয়া হয় এবং ৫৩৫ ডলার জরিমানা করা হয়।
আমি হাসি মুখে বললাম,জ্বী,নিউজটা আমি পড়েছি।আমি মনে করি ঐ মহিলাটাকে শুধু জেল নয় ফাঁসি দেওয়া উচিত ছিল।
লোকটা হঠাৎ ভীষণ গম্ভীর হয়ে গেলেন।আমাকে বললেন,আচ্ছা তুমি তো শিক্ষিত?
—হুম,আমি শিক্ষিত।
লোকটা আরও গম্ভীর গলায় বললেন,তুমি কি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করো?
আমি আমার চশমাটা ঠিক করলাম।বুঝতে পারছি আলোচনা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।আমি নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম।লোকটা আবারও গম্ভীর গলায় বলল,প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ না কেন?তুমি কি বাক্ স্বাধীনতায় বিশ্বাস কর?
আমি হাসি হাসি মুখে বললাম,অবশ্যই আমি বাক্ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী,এটা আমাদের অধিকার,আমাদের মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
—তাহলে তুমি কি করে বললে যে,মহিলাটিকে ফাঁসি দেয়া উচিত ছিল?
—অবশ্যই ফাঁসি দেওয়া উচিত।
—কেন তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে?সে তো তার বাক স্বাধীনতা প্রয়োগ করেছে,এটা তার অধিকার।সে গালি দিতেই পারে এতে তাকে ফাঁসি দেয়া হবে কেন?
আমি আমার হাতে থাকা বইটা ব্যাগে রাখলাম।আমি নড়েচড়ে বসলাম।আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে বললাম,না,মহিলাটি চাইলেই যে কাউকে গালি দিতে পারে না,এটা তার অধিকারের মধ্যে পড়ে না।অধিকারের একটা সীমা আছে, যখন সেই সীমা অতিক্রম করা হয় তখন সেটাকে বলে স্বেচাছাচারিতা।আর স্বেচ্ছাচারিতা অধিকারের পুরো উল্টো।
—এটা স্বেচ্ছাচারিতা না।তার মুখ আছে সে কথা বলবেই।এটা তার অধিকার।
লোকটা কথা শেষ করার আগেই আমি তার গালে কষিয়ে দিলাম একটা থাপ্পর।থাপ্পর খেয়ে ওনি মাটিয়ে গড়িয়ে পড়লেন।লোকটা পড়ে থাকা অবস্থাতেই বলল,বেয়াদব!আমি তোকে পুলিশে দেব,আমার গায়ে হাত তুলেছিস,আমি তোর কি ক্ষতি করেছি?
আমি তাকে উঠাতে উঠাতে বললাম, কিছু মনে করবেন না, স্যার।আমি আপনাকে একটা বিষয় বুঝানোর জন্য থাপ্পরটা দিলাম।
লোকটা ভীষণ রাগি গলায় বলল,কী বিষয়?
—আচ্ছা দেখুন,আপনি বলছেন মহিলাটির মুখ আছে বলেই সে গালি দিয়েছে।সে মুহাম্মদ (সাঃ) কে গালি দিয়ে কোনো অন্যায় করে নি।তাই না?
লোকটা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,হুম,অবশ্যই।
—যদি মহিলাটির মুখ আছে বলে সে যা ইচ্ছা বলতে পারে তাহলে আমার হাত আছে তাই আমিও যা ইচ্ছা করতে পারি।আমার হাত আছে বলেই আমি আপনাকে মেরেছি।এতে আমি কোনো অন্যায় করিনি।আবার কেউ যদি ধর্ষণ করে তাহলে সেও ঠিক করেছে কারন তার ক্ষমতা আছে বলে সে ধর্ষণ করেছে।এটাও অন্যায় না।
—বেয়াদব!আমাকে চড় দিয়ে বলিস আমি কোনো অন্যায় করিনি।আবার বলছিস ধর্ষণ করাও কোন অন্যায় না।ফাজলামি করিস?
আমি হাসতে হাসতে বললাম,ফাজলামি করব কেন স্যার?আপনিই তো বললেন মুখ আছে বলে যে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারে।তাই তো আপনার কথাটাকে সত্যি করার জন্য আপনাকে
থাপ্পর দিলাম।আচ্ছা স্যার,কেউ যদি বঙ্গবন্ধুকে গালি দেয় তবে কি তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে?
—কেন ছেড়ে দিবে?তিনি আমাদের বাঙালির জাতির পিতা,তাকে কেউ গালি দেবে আর সরকার কি বসে বসে আঙুল চুষবে?
—ঠিক বলেছেন স্যার,সরকার বসে বসে আঙুল চুষবে না।যদি বঙ্গবন্ধুকে গালি দেওয়ায় কারও ফাঁসি হয় তাহলে নবি (সাঃ) কে গালি দেওয়ায় ফাঁসি হবে না কেন? বঙ্গবন্ধু তো মাত্র এই বাঙলার স্থপতি আর আমার নবি(সাঃ)হলেন বিশ্বের স্থপতি,ইসলামের স্থপতি,বিশ্বের রহমত,রহমাতুল্লিল আল-আমিন।তাকে কেউ গালি দিবে আর আমরা মুসলিমরা হাতে চুড়ি পড়ে ঘরে বসে থাকব? যে গালি দিবে তাকে শুধু ফাঁসি না তার চেয়েও চরম শাস্তি থাকলে সেটা দেয়ার বিধান থাকতে হবে।আমাদের রাসূল (সাঃ)কে কেউ গালি দিবে আর আমরা কিছু করব না,এটা কি করে ভাবলেন?যে গালি দিবে তার কন্ঠনালি ছিঁড়ে ফেলব। আর আপনি কি জানেন না যে আন্তর্জাতিক আদালত এই আইন করেছে,যে নবি (সাঃ) কে গালি দিবে তাকে নিয়ে কটূক্তি করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।তাই আপনি এরকম প্রশ্ন করে নিজেকে আর গাধা প্রমাণ করবেন না।
লোকটা কিছু না বলে উঠে বাইরে চলে গেল।যেতে যেতে বলতে লাগল,কি হলো আমাদের এই যুব সমাজের,হায় একি হলো!ধর্মের মতো এক কুসংস্কারে তারা এত আচ্ছন্ন।
আমি লোকটার কথা শুনে মনে মনে হাসতে লাগলাম।আমি ব্যাগ থেকে সীরাত বইখানা বের করে আবার পড়তে লাগলাম।
======The End======
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now