বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব।

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম আরাফাত (০ পয়েন্ট)

X ----আসসালামু আলাইকুম---- গল্প::মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব। ট্যাগ::নাস্তিক্যবাদ বিরুধী। উৎসর্গঃ সেইসব মহামানবদের যারা ইসলামের জন্য শহিদ হয়েছেন। লেখক:: সাইম আরাফাত [এটা আমার আরেকটা আইডি।এই থেকে শুধু ধর্মীয় লেখা দিব আর "সাইম আরাফাত" আইডি থেকে অন্যান্য গল্প দিব।আর এই লেখাগুলো লিখতে প্রচুর পড়তে হয়,পরিশ্রম করতে হয় তাই কপি করা হতে বিরত থাকুন।যদিও একান্তভাবে কপি করতে চান তবে প্রাপ্ত ক্রেডিট দিয়ে নাম ম্যানশন করে দিবেন।ধন্যবাদ।] ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ আমি এখন বসে আছি বিজয় এক্সপ্রেস এর শোভন কামরায়।আমি যাচ্ছি রাজশাহী।আমার নানা বাড়িতে।আমি বসে বসে জুনায়েদ জামশেদের গজল শুনছি।এমন সময় একজন লোক আমার কামরায় ঢুকল,তার মুখ হাসি হাসি,দেখে মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশুযুদ্ধে ব্যাটা পাজি ট্রাম্পকে হারিয়ে এসেছে।লোকটি আমার সামনের সিটটায় এসে বসল। তার হাতে একটা বই।বইটা সম্ভবত ইংরেজীতে লেখা।বইটা উল্টো করে ধরা তাই নামটা দেখতে পারছি না। লোকটা এবার হাত ঠিক করে ধরলেন।এখন তো দেখছি লোকটার হাতে দুইটা বই,দুটাই ইংরেজীতে লেখা-স্টিফেন হকিং এর "A breif history of time" এবং অন্যকোনো একজন লেখকের বই-"The expanding universe". লোকটা বই দুটা সামনে রেখে ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলেন।আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে তার কাজ দেখছি।আমার মনে হয় এই কাজে আমি মজা পাচ্ছি।এবার লোকটি আমার দিকে তাকালেন।আমার হাতে সিরাত গ্রন্থ দেখে লোকটি ভ্রু কুঞ্চিত করল।আমি সেটা লক্ষ্য করলাম না। লোকটি মুচকি হেসে বলল,"তুমি মুসলিম,তাই না"? --হ্যাঁ। লোকটি হালকা মাথা দুলাতে দুলাতে বলল,"তোমরা ধর্মে বিশ্বাসীরা যে কিভাবে কতটা অবৈজ্ঞানিক হতে পার,তা যদি নিজের চোখে না দেখতাম তবে বিশ্বাস করতাম না,এই বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়েও তোমরা ধর্মের মতো একটা অবৈজ্ঞানিক বিষয়কে কিভাবে বিশ্বাস কর?? --ধর্ম অবৈজ্ঞানিক নয়,আর পৃথিবীতে ধর্ম কখনো পরিবর্তন হয় না,কিন্তু বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে জানি না,তবে ইসলাম একটা বৈজ্ঞানিক ধর্ম।যদিও আমি বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামকে জাস্টিফাই করি না।আল-কোরআনে প্রায় ক'য়েক হাজারেরও বেশি বৈজ্ঞানিক আয়াত আছে।যা বর্তমান বিজ্ঞান ধাপে ধাপে প্রমাণ করছে। --তাই বুঝি? আমার মনে হয় স্বপ্নে আকাশে উড়া আর কোরআনে বিজ্ঞান খোঁজা দুটাই হাস্যকর। --ভাই,আপনার হাতে যে বইটি কোরআন ১৪০০ আগেই এটা সম্পর্কে বলেছে। লোকটার হাসি নিমেষে মিলিয়ে গেল।তিনি আমার দিকে কেমন করে তাকালেন।আমার মনে হয় ওনি এটা জানেন না যে,কোরআন ১৪০০ বছর আগেই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের কথা ঘোষনা করেছে। লোকটা আমাকে বলল,"বলেছে"? --হ্যা,কোরআন ১৪০০ বছর আগে এটা নিয়ে কথা বলেছে।শুনতে চান? লোকটি নড়েচড়ে বসলেন।বললেন,"বল"। আমি শুরু করলাম,"সর্বপ্রথম সম্প্রসারনশীল মহাবিশ্বের কথা বলেন বিজ্ঞানী এডুইন হাবল(Edwin Huble,ওরফে বিজ্ঞানী হাবলু ভাই)।তিনি এটা সর্প্রথম বলেন ১৯২৯ সালে।তিনি এটা প্রমান করতে চেয়েছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইনের(আইন দাদুর) "থিওরি অফ রিলেটিভিটির" একটা সূত্র দিয়ে(কিন্তু আইনস্টাইন নিজেও তখন এ টা বিশ্বাস করতেন না যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারনশীল)।কিন্তু হাবলু ভাই যখন আইনস্টাইনের কাছে এটা নিয়ে গেলেন,তখন আইনস্টাইন মুখ কুঁচকে বলল,"তোমার গণিতটা ভালোই আছে,তবে তোমার ফিজিক্সটা এত জঘন্য কেন বাপু!" দেখুন আইনস্টাইন সরাসরি এটাকে না করে দিল।কিন্তু হাবলু ভাই চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।অবশেষে তিনি ১৯৫২ সালে বিজ্ঞান মহলে এক হইচই ফেলে দেন।তিনি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে পর্যবেক্ষণমূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন যে,সকল ছায়াপথ একে অপর থেকে অপসৃত হচ্ছে বা দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ বিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।তখন কিন্তু আইনস্টাইনও স্বীকার করলেন যে,মহাবিশ্ব সম্প্রসারনশীল।এবং হাবলু ভাইকে ভুল ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন,"This is the biggest mistake in my caree." কিন্তু আপনি কি জানেন কুরআন এটা ১৪০০ বছর আগে ঘোষনা করেছে।আল কোরআন বলেছে-- "আমি নিজ হাত দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সম্প্রসারণকারী।"(সূরাঃ যারিয়াত-৪৭)। আমি লোকটিকে কোরআন খুলে আয়াতটা দেখালাম। লোকটা মাথা নাড়ছে। আমি বলতে লাগলাম,"আরবী শব্দ মূছিয়ূন-এর সঠিক অনুবাদ করা হয় "সম্প্রসারনকারী" হিসাবে এবং এটি মহাবিশ্বের সম্প্রসারনশীল বিশালতার দিকেই ইঙ্গিত করে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা জ্যেতির্বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আপনার হাতের বইটায় "A breif history of time" বলেছেন যে,"মহাবিশ্ব সম্প্রসারীত হচ্ছে"। আমি তার হাত থেকে বইটা নিয়ে তার দ্বিতীয় অধ্যায় নাম"The expanding universe" থেকে তাকে এটা দেখালাম। আমি বলতে লাগলাম,"কিন্তু আল-কোরআন এটা এমন সময় ঘোষনা করেছে যখন মানুষ সামান্য টেলিস্কোপও আবিষ্কার করে নি। আপনি হয়ত বলতে পারেন,কুরআনে জ্যেতির্বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্তিতি অবাক হবার মতো কিছু না।কারণ আরব জাতিরা জ্যেতির্বিজ্ঞানে এগিয়ে ছিল।জ্যেতির্বিদ্যায় আরবরা এগিয়ে ছিল এটা স্বীকার করার ক্ষেত্রে আপনি সঠিক।তবুও আপনি এটা উপলদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, আরবজাতী জ্যেতির্বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কয়েক শতাব্দী পূর্বেই আল-কোরআন নাযিল হয়।তদুপরি আরবরা তাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রসরতায় স্বর্ণ শিখরে অবস্থানকালে- বিগ ব্যাঙ -এর জন্য মহাবিশ্বের উৎপত্তি ছাড়াও উপরে উল্লিখিত অনেক সত্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। আল-কোরআনে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক সত্যগুলো তাই আরবদের জ্যেতির্বিজ্ঞানে অগ্রগতির ফল নয়।বরং বিপরীত মতটায় গ্রহণযোগ্য যে,আল-কোরআনে জ্যেতির্বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞানালোচনা বিদ্যমান বলেই তারা জ্যেতির্বিজ্ঞানে এতটা এগিয়ে। আর ভাই আপনি বলছেন যে,স্বপ্নে আকাশে উড়া আর কোরআনে বিজ্ঞান খোঁজা দুটোই হাস্যকর।না ভাই,এটা সত্য নয় ২০০০ সালে(২০০২ ও হতে পারে)আপনাদের নাস্তিকদের ভাবগুরু ইসলাম গ্রহণ করেছিল।কেন জানেন? কারন তিনি কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে এমন একটা আয়াত পেলেন যা তাকে আস্তিক হতে বাধ্য করে।এমনিভাবে ড.মরিস বুকাইলি,ড.কিথ মুর,ড.এডাম পিয়ার্সন এরাও মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে এমনসব বৈজ্ঞানিক আয়াত পেলেন যার জন্য তারা সাথে সাথে মুসলিম হয়। তাহলে আপনি কিভাবে বললেন যে,কোরআনে বিজ্ঞান খোজা হাস্যকর।আর একটা কথা মনে রাখবেন কোরঅান কোনো বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ নয়,এটা মানবজাতির পথপ্রদর্শক"। লোকটা কিছু বলতে গিয়েও বললেন না।আমি তার দিকে আমার ব্যাগ থেকে বের করে ড.মরিস বুকাইলির "The QURAN,The BIBLE and the modern science"বইটা বাড়িয়ে দিলাম।লোকটা হতভম্ব ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।তিনি বইটা না নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।বললেন," ভাই,এখন যদি আমি ইসলামে ফিরে আসি তবে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন"। আমি বললাম,"অবশ্যই করবেন কারন আল্লাহ ক্ষমাশীল"। আমার কথা শুনে লোকটা মুচকি হাসলেন।আমিও তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম।মনে মনে বললাম,"হে পরম করুনাময় আল্লাহ আপনি এই ভাইয়ের মতো সবাইকে হেদায়েত দান করুন"(আমীন)। ========The End========


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now