বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে খাড়া দুপুর বেলায় কমলাপুর রেল স্টেশনে বসে আছি।আমার মামা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আমার বাসায় বেড়াতে আসবে তাই আমাকে স্টেশনে আসতে বলছে।মামাকে নিতে আসছি স্টেশনে।মামার দুপুরে আসার কথা কিন্তু দুপুর তো অনেকক্ষণ হলোই হইছে তাই এখনো যে কেন আসছে না বুঝতে পারছি না।এদিকে গরমে আমার শরীর ঘেমে যা তা অবস্থা।চারিদিকে মানুষের ভিড়ে গরম যেন আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।যাই হোক আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি শিমুল।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ি।আর উপরে তো বলেই দিছি যে আমি এখন স্টেশনে বসে আছি মামার অপেক্ষায়।গরমে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ ট্রেন আসার আওয়াজ পেলাম।এই ট্রেনেই মনে হয় মামা আসছে তাহলে।যাই হোক ট্রেন স্টেশনে এসে থামতেই আমি উঠে দাড়িয়ে মামাকে খুজে পেতে ট্রেনের চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম।হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে চোঁখ যেন আটকে গেলো আমার।মেয়েটি ট্রেন থেকে নামছিল।মেয়েটি হলুদ রং এর একটা শাড়ি পড়ে আছে,চুল খুলে রাখা,চুল অনেক লম্বা যেন মাজা পর্যন্ত চলে আসছে,মুখটা ফর্সা,চোঁখগুলো যেন মায়ায় ভরা।মেয়েটির দিকে আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।আসলে এই মেয়েটিকে দেখলে যে কারই ভাল লাগবে।মেয়েটির চোঁখের মায়ায় পরে গেছি যেন আমি।আর আমি যে এতক্ষণ গরমে ঘামছিলাম কিন্তু মেয়েটিকে দেখে যেন আমার গায়ে এক শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।মেয়েটির দিকে যেন অনন্ত কাল তাকিয়ে থাকলেও ক্লান্ত হবো না আমি।কতক্ষণ যে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম জানি না হঠাৎ করে অনেক মানুষের ভিরে মেয়েটি আমার চোঁখের আড়াল হয়ে গেলো।মেয়েটি কই চলে গেলো আমার সামনে থেকে বুঝতে পারলাম না।তারপর মেয়েটিকে খুজতে লাগলাম।খুজতে খুজতে এখন একটাই কথা আমার মাথায় আসছে যে মেয়েটিকে হারানো যাবে না।যেই করে হোক মেয়েটিকে খুজে পেতে হবে।হয়তো এটাই ভালোলাগা।কিন্তু মেয়েটিকে খুজে পেলাম না।ট্রেনের ভিতরেও তাকালাম কিন্তু মেয়েটিকে দেখলাম না।হঠাৎ পিছন থেকে কেউ আমার ঘারে হাত দিল।আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি মামা দাড়িয়ে আছে।
মামা:-কিরে শিমুল কাকে খুজছিস?
আমি:-কই কাকে খুজবো আবার।তোমাকেই খুজছিলাম।চলো এখন বাসায় যাই।
মামা:-হুম চল যাই।এই রোদের মধ্যে দাড়ানোই যাচ্ছে না খুব গরম চল যাই এখন।
তারপর আমি আর মামা বাসার দিকে রওনা দিলাম।বাসায় এসেও যেন আমার কিছু ভাল লাগছে না।চোঁখের সামনে শুধু মেয়েটির চেহারা ভাসছে।এবার আমি মনে মনে প্রতিঙ্গা করলাম যে যেই করে হোক মেয়েটিকে খুজতে হবে।পরেরদিন আবার গেলাম স্টেশনে এই ভেবে যে যদি আবার দেখা হয়ে যায় মেয়েটির সাথে।কিন্তু না খুজে পেলাম না।এভাবে অনেকদিন খুজলাম স্টেশনে কিন্তু না মেয়েটিকে আর খুজে পেলাম না।এতে আমার মনের মধ্যে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছিল।একটা অচেনা মেয়ে যাকে আমি চিনি না আর তাকে খুজে না পেয়ে আমার কিছু ভাল লাগছে না।রাতে ঘুমাতে গেলেও যেন স্বপ্নে মেয়েটাকেই শুধু দেখি।চোঁখ বুজলেই যেন মেয়েটির ওই দুই চোঁখ আমার সামনে ভেসে উঠে।তাহলে আমি কি মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেললাম।যদি তাই হয় তাহলে এটা কেমন ভালোবাসা? যাকে কিছুক্ষণের জন্য দেখতে পেলাম আর একটু পরেই সে হারিয়ে গেল।এসব কথা ভাবতে ভাবতেই যেন দিন যাচ্ছিল আমার।সবসময় আমার মন খারাপ থাকতো।বাসাতে এবং আমার বন্ধুরা আমার মন খারাপ এর কারণ জিজ্ঞেশ করলে এটা ওটা বলে কাটিয়ে দিতাম তাদের।তারপর এভাবেই চলে গেল পাঁচটা বছর কিন্তু মেয়েটিকে আর কখনো দেখি নি।
পাঁচ বছর পর..............
আজ আমি পড়াশুনা শেষ করে ভালো একটা চাকরি করছি।কাজের চাপে পাঁচ বছর আগের সেই অচেনা মেয়ের কথা এখন ভুলেই গেছি।আর তেমন মনে পরে না।আসলে বলতে গেলে অনেক আগেই ভুলছি কারণ যে হারিয়ে গেছে তাকে খুজে আর কি হবে।মেয়েটি তো জানেও না যে তাকে কোনো ছেলে এতটা মিস করছে।এখনও যখন একটু একা থাকি বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে আমার অতীত এর কথা মনে পরে।মেয়েটির কথা মনে পরে।এখন যেইটুকু মনে পড়ে সেটাও আর মনে করতে চাই না কারণ আর সাত দিন পর আমার বিয়ে।মেয়েটির নাম স্নেহা এবং সে অনেক সুন্দর দেখতে।বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই ঠিক হয়েছে আমাদের।গত দুই মাস আগেই বিয়ে ঠিক হয়েছে।এই দুই মাস আমরা ফোনে কথা বলেছি দেখা করেছি।আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা অনেক গভির হয়েছে।একে ওপরকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি আমরা।পাঁচ বছর আগে স্টেশনে আমার দেখা সেই মেয়েটির কথা আমি কখনো কাউকে বলি নি কিন্তু প্রথম আমি স্নেহাকে সব কথা খুলে বলি।কারণ ও আমার জীবনসঙ্গিনী হবে তাই আমার বিষয়ে ওর সব জানা দরকার।স্নেহাকে সব খুলে বলতে ওহ শুধু একটা কথাই আমায় বলেছে যে পাঁচ বছর আগে তুমি কাকে দেখেছিলে বা কাকে পছন্দ করেছিলে সেগুলো নিয়ে আমার এখন কোনো আগ্রহ নেই।এখন আমি শুধু এটা জানি যে আমি তোমায় ভালোবাসি এবং আমাদের বিয়ে হবে।তাই এখন যেন আমাদের মাঝে অন্য কেউ না আসে আর যদি আসে তাইলে একটা ঘুসি মেরে তোমার নাক ফাটিয়ে দিবো বলে রাখলাম।স্নেহার কথা শুনে আমি শুধু হাসছি।আসলে মেয়েটা আমায় অনেক ভালোবাসে।সেই জন্যই এখন আমি অতীত এ কি হইছে আর সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না।পাঁচ বছর আগে দেখা সেই মেয়েটিকে তো আর খুজে পাই নি।মেয়েটির ও হয়তো বিয়ে হয়ে গেছে।তাই আমি কেনো আর ভাববো মেয়েটিকে নিয়ে।বরং আমি এখন শুধু ভাববো স্নেহা কে নিয়ে এবং আমাদের সুন্দর একটা বিবাহিত জীবন কে নিয়ে।
যদিও আমার জীবনে একটাই আফসোস থেকে গেলো যে অচেনা মেয়েটি তুই আমায় দেখা দিলি কিছুটা সময়ের জন্য কিন্তু এত দ্রুতই হারিয়ে গেলি যে আর ফিরে আসলি না শুধু তুই আমার জীবনে একটা কষ্টকর অতীত হয়ে রইলি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now