বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কেন জানি এই কয়েকদিন আমার ঘুম আসছে না। শরীরটাও কেমন খারাপ লাগছে।মাথাটাও ঝিমঝিম করছে।কিছুই ভালো লাগছে না।সারারাত বসে বসে আগের কথা গুলো ভাবছিলাম।মনে হয় আমার কপালে এটাই লেখা ছিল।রিয়া মনে হয় আমাকে কখনও ভালোবাসেনি।তাহলে আগে কথা না হলে দেখা না হলে রাগ করত কেন?সারাদিন বসে বসে কাদতো কেন?আরে আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে এটা তার ভালোবাসা না।কেবলমাত্র আবেগ।আমিও না কত বোকা। কোনটা আবেগ আর কোনটা ভালোবাসা আমি তা বুঝতে পারিনি।
.
.
এখনও সূর্য ঠিকমত উঠেনি।তবুও বাড়িতে অনেক হট্টগোল। আমি এই বদ্ধ ঘরে আর থাকতে পারছি না।রুম থেকে বের হলাম। ঘরে অনেক মেহমান।কালকেও তো এতজন ছিল না।মনে হয় কাল রাতে তারা আসছে।আমিতো রুম থেকেই বের হয়নি।তাই মনে হয় আর কারও সাথে দেখা হয়নি।মুক্ত বাতাসের জন্য উঠানে গেলাম।কাল রাতে অনেক বৃষ্টি হওয়ায় একখন ঠান্ডা হাওয়া বইছে।পুকুর পাড়ে গিয়ে বসলাম।কিছুক্ষণ পর আমার খালতো বোন সামিয়া আসে।সামিয়া আমার সমবয়সী।-কীরে বিয়ের দিন কী এভাবে কেউ মন খারাপ করে বসে থাকে???
কথাটা শেষ হতে না হতেই রিপা আপু দৌড়ে এসে সামিয়াকে একটা হেচকা টান দিয়ে কানে কানে কী যেন একটা বলে নিয়ে যায়।আমি ঐই দিকে আর মন দেই নাই।বসে আছি আর পুকুরের ঘুলাটে পানি দেখছি।আর ভালো লাগছে না।রিয়ার সাথে আর একবার কথা বলা দরকার। হয়তো রিয়া আমাকে মিথ্যা বলেছিল।রিয়ার সাথে আর একবার কথা বলার জন্য ঘরে আসলাম।কিন্তু কিছুতেই রিয়ার রুমে ঢুকতে পারছি না।রিয়ার রুমের সামনে কেউ না কেউ একজন থাকে।এখন কেউ নেই।এখন রিয়ার রুমে যওয়া যাবে।আমি এক দৌড়ে রিয়ার রুমে ঢুকে পরলাম।রুমে কেউ নেই।আমকে দেখে রিয়া কিছুটা ভয় পেলো।আমি যতই কাছে যাচ্ছি রিয়া তত দূরে সরে যাচ্ছে। -রা...রায়হান তু...তুমি এখানে কী করছ আমার কাছে আসবানা বলছি।
-আমার সাথে ৫ বছর থেকেও আমার সম্পর্কে কিছু জানতে পারলে না।আমি তোমাকে কিছু করব না।
-তা...তাহলে এখানে এসেছ কেন?
-একবার বল তুমি যা বলেছ সব মিথ্যা। শুধু একটাবার বল ভালো বাসি।
-না না না। তুমি এখান থেকে যাও না হলে আমি ফুফুকে ডাক দিতে বাধ্য হব।
-তার মানি তুমি আমাকে আর ভালোবাসো না?
-তোমাকে এককথা কততবার বলব।
-আমার একটা শখ ছিল তোমাকে বউয়ের সাজে দেখার।
-যখন আমার বিয়ে হবে তখন আমাকে দেখে নিও।
-তখন দেখতে পারব না।এখন যদি তুমি বিয়ের শাড়িটা একটু পরো আমি তোমাকে মন ভরে একবার দেখে চলে যাব।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
রিয়া কোনো মতে বিয়ের শাড়িটা পড়লো।ঠিক করে পড়তে পারেনি।ইচ্ছে করছিল নিজে গিয়ে শাড়ীটা ঠিক করে দেই।কিন্তু এই অধিকারটা এখন আমার আর নেই।
-দেখা হইছে এখন যাও।
-তোমাকে লাস্ট একবার জরিয়ে ধরতে পারি?
-না পারো না।
-ঠিক আছে।
আমি রুম থেকে বের হয়ে যাব এমন সময় রিয়া আমাকে বলে-আচ্ছা ধর।
আমি দৌড়ে গিয়ে রিয়াকে জড়িয়ে ধরলাম।এভাবে অনেকক্ষণ ধরে রাখতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু পারলাম না।সাথে সাথে ছেড়ে দিলাম।রিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরেনি।
-তোমার শরীর এত গরম কেন? তোমার শরীর কী খারাপ?জ্বর উঠেছে মনে হয়।
-এত কেয়ারিং কেন দেখাচ্ছো।আমার উপর কোনো অধিকার দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই।তোমার বৈবাহিক জীবন সুখী হোক।
এটা বলেই বের হয়ে গেলাম।বের হওয়ার সময় আম্মু আমাকে দেখে ফেলেছে।দেখলে দেখুক আমার কিছু যায় আসে না।আমি সাথে সাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম।রাস্তায় আনমনে হাটছি। (চলব)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now