বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তোমার অপেক্ষা/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md:Subanur haque (০ পয়েন্ট)

X কপালে কালো টিপ, কানে বড় বড় দুল,পরনে নীল শাড়ী, লাল টুকটুকে ঠোঁট দুটোর মাঝখানে মুক্তার মতো দাঁত, মাথার চুলগুলো এলোমেলো, পায়ে হালকা উচু জুতা। একা একা এমন একটি মেয়ে নদীর পারে হাটছে।এমন সুন্দরী মেয়ে দেখে মাথা করো ঠিক থাকে? আমার ও মাথা ঠিক নেই। অনেক সময় মেয়েটি দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ওটা আমাদের গ্রাম ছিল না। ওটা ধামরাই থেকে একটু দূরে, রুপসা নদীর পারে, গ্রামের নাম বান্নাখোলা ।আমার সাথে ছিল আমার খালাতো ভাই মাহাবুব।নদীর ধারে ছিল ঘন কাশবন, সাদা কাশফুলের সমারহ ছিল, নদীর দুপাশেই। অমাইক সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে রাজকন্যা সিনডেলা মনে হচ্ছিলো।মেয়েটি সাথে কথা বলতে মনটা আমার ছটপট করছিল। খুব দূত হেটে,কাছাকাছি যাই।ভেবে পাচ্ছিলাম না, প্রথমে কী দিয়ে কথা শুরূ করবো। থমকে দাড়াই, মেয়েটি হেটেই যাচ্ছে।'গরিবের জীবন, সিনেমাতে প্রসেনজিৎ যেভাবে রিতুবন্যার সাথে কথা বলে, আমিও সে রকম ভাবে শুরু করে ছিলাম। এই মেয়ে,বলতে পার,এখানে তুলিদের বাড়ী কোনটা? কী বললেন,আপনি তুলিদের বাড়ি খুজছেন? "হ্যা"। ওদিকে যাবেন, বামের বাড়িটাই তুলিদের। ভয়ে নদীর স্রোতের মতো ঘাম বেরচ্ছে, শরীর থেকে। যে কথা বলার জন্য তুলিদের বাড়ি খুজ করলাম তা হলো না। আপনি দাড়িয়ে আছেন কেন? সোজা ওদিকে চলে যান। কী আর করার ঐদিন চলে আসলাম। পরের দিন আবার দেখা, আমি পেছন পেছন হাটছি,কী আপনি? ভাল আছেন, তুলিদের বাড়ি পেয়েছিলেন? দুঃখিত, আমাকে মাফ করবেন,কাল আমি আপনাকে মিথ্যা বলেছি। আসলে তুলি কে, আমি তাকে চিনি না।মনে মনে হাসি,এখন কথা বলার সুযোগ হলো।তোমার নাম কি, তুমি কোথায় থাক? আমার নাম আফরোজা আক্তার মিম, বাড়ি মৌচাক,এখানে আমার নানা বাড়ি, মির হোসেন আলী আমার নানা, আপনি কালকের ঘটনা নানাকে বলবেন না প্লিজ।ওকে,,ঠিক আছে বলবো না।তবে একটা শর্ত আছে।আমার সাথে গ্রাম ঘুরে দেখতে হবে।এ গ্রাম তো আমি চিনি না।সমস্যা নে, একসাথে থাকলে হারাবো না। চলো হাটি আর কথা বলি। সেই থেকে শুরু হয়েছিল দুজনের একসাথে চলার স্বপ্ন।এস এস সি পরিক্ষার পর ছুটি কাটাতে মিমের নানা বাড়ি আসা।আমি খালা বাড়ি গিয়েছিল, খালাতো ভাই মটরসাইকেল এক্সিডেন করে ছিল, তাকে ছাপট দিতে।আমাদের লাভ হিস্টোরি সেই গ্রাম থেকেই শুরু।প্রতিদিনই আমাদের সাথে দেখা হতো।ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা হতো।আমি ও মিম, আমাদের দুই দেহ এক দেহ।দুই মন এক মন।দুই প্রান এক প্রান। আমাদের মধ্যে ছিল অসাধারণ মিল। মিম চলে যাই মৌচাক,আমি চলে আসি কালিয়াকৈর আদাবহ, আমাদের ভালবাসা মোবাইলে ডুকে যাই।রাত দিন মিলিয়ে ৩-৪ ঘন্টা কথা তো হতোই। মাসে ৮-১০ বার দেখা করতাম। মিম আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না। আমিও মিম এর জন্য পাগল ছিলাম।একবার কি হলো,মোবাইলে টাকা নেই ইমারজেন্সি ও শেষ।এ দিকে রাতে মিমের সাথে কথা না হলে, ঘুম হবে না।বাধ্য হয়ে বাবা পকেট সাফাই করে ছিলাম।আমাদের রিলেশন ফেবিকল গামের মতো ছিলো।আমাদের রিলেশন সম্পর্কে, আমার মাও জানতেন। মা তো মিমের সাথে একাধিক বার কথাও বলেছিলেন। মার ও মিমকে পছন্দ ছিলো। আমাদের রিলেশন ৩ বছর, মিম তখন এইচ এস সি শেষ করে UCC কোচিং করছিলো । আমি UCC তে কোচিং করে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারি নাই, আসা ছিল মিম টিকতে পারবে। হঠাৎ একদিন,মিম বলে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ভাল হয় নি। রেজাল্ট দেওয়ার আগে আমাকে তুমি পালিয়ে নিয়ে চলো, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, আমি আজ রাতে পালিয়ে তোমাদের বাড়িতে চলে আসি। মিম সেদিন ফোনে খুব কান্নাকাটি করে ছিলো। আমি বলে ছিলাম, তোমার হঠাৎ কি হলো, পাগলামি করে না লক্ষি। তুমি পালিয়ে আসলে বাবা-মা ও আমাদের সমাজের লোক জন কি ভাববে।তুমি আমাকে আর কিছু দিন সময় দাও, আমি মাকে দিয়ে বাবাকে জানাবো।সেদিন তুলির শেষ কথা ছিলো,তুমি যা করবে পরিক্ষার রেজাল্ট এর আগে করবে। তার পরের দিন থেকে মিমের ফোন বন্ধ।অনেক ভাবে চেষ্টা করে ছিলাম মিমের সাথে কথা বলার। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। যে মেয়ে, আমার সাথে কথা বলার জন্য কলেজ পালাতো,যাকে রাতে গান শুনিয়ে ঘুম পারাতে হতো , সে হঠাৎ কোথায় হারালো? বাবা-মা মোবাইল নিয়ে নিলেও তো আমার মোবাইল নাম্বার মিমের মুখস্ত। অন্য কোন নাম্বার দিয়েও তো ফোন করা যায়। তাহলে মিম কি ইচ্ছে করে যোগাযোগ করছে না। মিমের খবর নেওয়ার জন্য মৌচাক যাই।লোক মারফত জানতে পারছিলাম মিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে । মিম কি এজন্যই আমার সাথে যোগাযোগ করছে না। দিন - রাত মিম মিম করে মাথা পুরা নষ্ট হয়ে গেছে। ৬ মাস চলে মিমের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নাই। মিম তুমি কোথায়? যেখানে থাক ভাল থাক,তোমাকে কখনো ঘৃণা করতে পারবো না, কারন তোমাকে আমি পাগলের মতো এখনো ভালবাসি । তোমার অপেক্ষায় আজ ও আমি,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now