বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঐ রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম।অনেকক্ষণ মনে মনে কাদলাম।হঠাৎ মনে হল আমি রিয়াকে চকলেট দেয়নি।রিয়ার সাথে যখনই দেখা হত আমি একটা হলেও চকলেট দিতাম।এবার দেয়া হলো না।দিয়েই বা কী লাভ রিয়া তো এখন আমার না অন্য কারোর।মনে বার বার অরিজিৎ সিংয়ের "khabi jo badal barse" গানের একটা লাইন মনে পড়ছে"pehle kabhi na tune mojhe gham diya, fhir mujhe kie tanha kar diya,ghujare the jo lamhe payer ke hamesha tuje apna man ke tu fhir tune badli kiu ada,ai tune kya kiya
.
.
অরিজিৎ সিং মনে হয় আমার মতো অবস্থা।আমি তো একবার।তার মনে হয় ১০০টারও বেশি।এজন্যই মনে হয় একটার পর একটা হিট sad song release করছে।ভাবনার ইতি ঘটল দরজার ধাক্কায়।কে যেন অনবরত দরজা ধাক্কাচ্ছে
-কে?
-আমি।তুই ভিতরে দরজা বন্ধ করে কী করচ্ছ?(আম্মু)
-ও তুমি!কিছু না শুয়ে আছি।
-তারাতাড়ি বের হো।
-কেন?
-তুই বের হো আগে।
-আচ্ছা ঠিক আছে বের হচ্ছি।
মুখটা মুছে বের হলাম।
-বলো কী হইছে?
-রিয়ার গায়ের হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে তুই আসছ না কেন?তারাতাড়ি ছাদে আস।
-আমার এখন ভালো লাগছে না। পরে যাব।
-তোর ভালো লাগছে না অভ্যাসটা কবে যাবে।কথায় কথায় খালি ভালো লাগছে না।
-আম্মু তুমি আমার সাথে এমন করছ কেন?
-আচ্ছা ঠিক আছে।তুই হলুদ পাঞ্জাবিটা পরে তারপর আসবি।
-আচ্ছা আমি আসবো তুমি এখন যাও।
আম্মু চলে যাওয়ায় দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে আবার বসে পড়লাম।কিছুক্ষণ পর আবার কে যেন দরজা ধাক্কাচ্ছে।ধুর ভালো লাগছে না কে আবার আসল।দরজা খুলে দেখি সাদিয়া দাঁড়িয়ে আছে।সাদিয়া রিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমার আর রিয়া সম্পর্কে শুধু সাদিয়া জানে।
-ভাইয়া ভালো আছেন?
-সাদিয়া তুমি এখানে কী করছ?
-আসলে ভাইয়া আপনাকে ছাদে না দেখতে পেয়ে আমি এখানে এসেছি।
-এখানে আসছ কেন আগে এটা বল?
-রিয়ার এই কাজের জন্য আমি রিয়ার পক্ষ থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
-তোমাকে নিশ্চয়ই রিয়া পাঠিয়েছে।
-না রিয়া পঠায় নি। আমি নিজ থেকে এসেছি। আপনার বুকে এবাভে ছুরিকাঘাত করা রিয়ার ঠিক হয়নি।আপনি পারলে রিয়াকে ক্ষমা করে দিয়েন।
-আমি এসব কিছুই শুনতে চাই না।তুমি এখান থেকে যাও।
-ঠিক আছে ভাইয়া,আমি যাচ্ছি। আপনি রিয়াকে ক্ষমা করে দিয়েন।
সাদিয়া চলে গেল।মনটা কীরকম খালি খালি লাগছে।কিছুক্ষন পর রিফাত আমার কাছে আসল।কিছুক্ষন আমার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে বলল-মামা তুমি কাদছ কেন?তোমাকে কে কষ্ট দিয়েছে আমাকে বল আমি তাকে আচ্ছা করে বকা দিয়ে দিব।
আমি রিফাতকে কোলে নিয়ে বললাম-কেউ নারে।
-(আমার হাতে একটা চকলেট দিয়ে)এই নাও।খালামণি বলছে কেউ কাদলে তাকে চকলেট দিতে।আর তোমার শরীর এত গরম কেন,মামা?
-এই চকলেটটা তোমাকে কে দিয়েছে রিফাত?
-খালামণি দিয়েছিল আমাকে খেতে।তেমার মন খারাপ তুমি খাও।
-আমি খাব না তুমি খাও।
-মামা তুমি অনেক ভালো।যে তোমাকে কাঁদিয়েছে সে অনেক খারা।
-যাও এখন গিয়ে খেল।
-মামা তুমি ছাদে যাবা না।সবাই ছাদে তুমিও চল।
-না আমি এখানেই থাকব।তুমি যাও।
-তুমি এখানে একা থাকবে কী করে ভয় পাবে না।
-আমি ভয় পাব না তুমি যাও।
.
.
সবাই আমাকে যেতে বলছে।কিন্তু আমি তো ঐখানে যেতে পারব ন।গেলে চোখের পানি আটকে রাখতে পারব না।অনেকক্ষন একা বসে ছিলাম আর ভালো লাগছে না।শরীরটাও কেমন খারাপ লাগছে।দুইদিন ধরে ঘুমাইনি।তবুও ঘুম আসছে না।আজ যে করেই হোক ঘুমাতে হবে।কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।হঠাৎ আম্মু এসে বলল-তুই তো আর অনুষ্ঠানে আসলি না। তোর কী হয়েছে বলতো।শরীর খারাপ নাকি।কিছু খাইচছ?
-আমার কিছু হয় নায়।আর আমি খেয়ে ফেলছি।
-কখন খাইলি?
-তোমরা যখন ছাদে ছিলা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।আমি যাই।
আম্মুকে মিথ্যা বলতে কষ্ট লাগছে।আসলে আমি কিছু খাইনি।খিদে ছিল না।রাতে একটুও ঘুম হয়নি।(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now