বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল ৮:৩১।করবী এখনো ঘুমিয়ে আছে।অরবী প্রায় পলকহীন ভাবে করবীর দিকে তাকিয়ে আছে।মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও তার মন পড়া যায় কিনা সেই চেষ্টা চলছে।অরবীর দাবি সে নাকি মানুষের মন পড়তে পারে।যদিও তেমন কেও বিশ্বাস করে না।কিন্তু এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
মানুষের মন পড়া অতো সহজ না।প্রথমে নিজের ব্রেইনের কিছু লেভেল ক্রস করতে হয়।সবার আগে দরকার ব্রেনকে জিরো থট(zero thought) এ নিয়ে যাওয়া।পুরোপুরি বাস্তবে আসা।Conscious mind এ থাকা।বেশি বেশি meditation করা।এরপর মানুষ ভিতরে যে এনার্জি টা ফিল করবে সেটার মাধ্যমে সে Collective Conscious mind এ যেতে পারলে অন্যের মন পড়তে পারবে।
অরবী মেয়েটা ইন্ট্রোভার্ট ধরনের। এ ধরনের মানুষদের জন্য ব্রেনের লেভেল ক্রস করা বেশি সহজ।কারন তাদের বাইরের জগৎ নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা থাকে না।তারা নিজের মনের ভিতর বেশি বাস করে।অরবীর কোনোকিছুর উপর তেমন interest নেই।শুধুমাত্র মানুষের ব্রেইন ছাড়া।এই সাংঘাতিক মেয়েটার মানুষের ব্রেইন নিয়ে এসে শন আর কেচি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দেখার ইচ্ছা ছিল।এখানকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোজও নিয়ে ছিল।লাভ হয়নি।ডোমের সাথে গোপনে সাক্ষাৎও করেছিল।ডোম তাকে পাবনার মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।বলেছে,আগে নিজের ব্রেইন ঠিক করান।
নবনি,অরবী আর করবীকে ডাকতে রুমে এসেছে।এই মেয়েটা সবার ছোট।কিন্তু পরিবারের সব কাজ নিজে করে।রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সবকিছু।ক্লাস 7 এ পড়ে।ও ফাইজুর একমাত্র শত্রু। পড়াশোনার ব্যাপারে ওর তেমন মাথাব্যাথা নেই।সে ফালতু কাজে সময় নষ্ট করেনা।বেশিরভাগ বড় বড় মানুষরা স্কুল লাইফে তেমন ভাল ছিল না।তারব ধারনা তার ভিতর সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে।হঠাৎ একদিন সামনে আসবে।যদিও ওর একমাত্র হবি হচ্ছে বিয়ে করা।আর এইম হচ্ছে বরকে ঘরজামাই রেখে তার উপর পুরুষ নির্যাতন করা।সে তার লক্ষের দিকে ভালমতোই এগিয়ে যাচ্ছে। রান্নাবান্না প্রায় শিখে ফেলেছে।এখন আরেকটা জিনিস বাকি।সেটা হচ্ছে বাচ্চা সামলানো। বড় বোনদের কারো বিয়ে হলে সেটা শেখা যেতো।কিন্তু এইমুহুর্তে এটা সম্ভব হচ্ছেনা।কারণ একজন তার একতরফা ভালবাসা নিয়ে পড়ে আছে।আরেকজন মানুষের ব্রেইন নিয়ে খামচাখামচি করছে।
নবনী অরবীকে দেখে থমকে গেলো। কি অদ্ভুত ভাবে করবীর দিকে তাকিয়ে আছে!
নবনী অরবীকে বলল,
-কি হয়েছে?
আপু!!!
আপু কি দেখছো ওভাবে?
নবনীর কথায় অরবীর পুরো মনযোগ টা নষ্ট হয়ে গেল।অরবী সহজে রাগ হয় না।আজও হলো না।সে শুধু নবনীর দিকে ভাবলেশহীন চোখে তাকালো।নবনী বলল,
-আজ কলেজে যাবে না?
-না।
-ক্লাস নেই?
-আছে।
-তাহলে যাবে না কেনো?
-আমার এত প্রশ্ন ভাল লাগে না।তুই আমার সামনে থেকে যা।
নবনী চলে গেলো। অরবী কিন্তু কথাটা মোটেও রাগি কন্ঠে বলেনি।স্বাভাবিক ভাবে বলেছে।করবী ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে গেলো। এই মেয়েটা যে খুব সুন্দরী সেটা বলা যাবে না।তিনবোনের ভিতর সবথেকে সুন্দর হচ্ছে অরবী।কবি-সাহিত্যিকদের ভাষায় করবী হচ্ছে মায়াবতী।
সকালের ব্রেকফাস্ট শেষে অরবী তার বাবাকে নিয়ে বসলো। তার সবথেকে পছন্দের মানুষের তালিকায় তার বাবা দ্বিতীয়।প্রথম হচ্ছে করবী।আর বিরক্তিকর মানুষদের তালিকায় প্রথম নবনী। আর দ্বিতীয় হচ্ছে ওর স্কুল লাইফের গনিতের শিক্ষক।সহজ কথায় লোকটি হচ্ছেন ফাহাদের বাবা।আমির হোসেন খান ওরফে অরবীর বাবার এখন মেজোমেয়ের কোনো ব্রেইন থিওরির কথা শোনার ইচ্ছা ছিল না।কিন্তু তিনি খুব ধৈর্যশীল বাবা।যে তার ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের তিন মেয়ের সব কথা খুব মনযোগ দিয়ে শোনেন।তার ইচ্ছা না থাকলেও শোনেন।অরবী এখন তার বাবাকে বোঝাচ্ছে,
-শোনো বাবা।মানুষের ব্রেনের অনেকগুলা ভাগ আছে।সবথেকে বেশি পরিচিত হচ্ছে,Subconscious Mind আর Conscious Mind.আরও আছে।তার ভিতর একটা হচ্ছে Unconscious Mind.কোনো মানুষের কোনো ধারনা unconscious mind এ যাওয়া মানে সে কোনো বিষয় পুরোপুরি বিশ্বাস করা শুরু করেছে।কাওকে হিপনোটাইজ করতে হলে তার conscious mind কে ঘুম পাড়িয়ে কথাটা সম্পুর্ন সরাসরি unconscious mind এ নিয়ে যাওয়া।তখন সে আর বাস্তবতায় থাকবে না।কিন্তু hypnotize করা হলেও তার conscious mind ২০% এর মতো এক্টিভ থাকে।Unconscious Mind এ সরাসরি কথা ঢোকানোর প্রক্রিয়াটাকে বলে The State of Altered Awareness.
বুঝছ কিছু?
-বুঝলাম।কিন্তু তোর interest তো মানুষের মন পড়া নিয়ে ছিল।তুই আবার কাওকে সম্মোহন করার ধান্ধা করছিস নাকি?
-ওহ না।কিন্তু একজনকে দেখে বুঝলাম তার মাথায় হিপনোটাইজের চিন্তাভাবনা চলছে।
-ও।তো লোকটা কে?
-এখন বলবো না।আচ্ছা তুমি এখন যাও।
-কেনো?নিজেই তো ডেকে আনলি।এখন আবার কি হলো?
-এখন তোমাকে দেখতে ভাল লাগছে না।তুমি যাও।আমাকে অন্য কথা ভাবতে হবে।
আমির হোসেন খান বেলকনিতে রাখা ইজি চেয়ারটাতে বসলেন।তার কাছে তিন মেয়ের এসব অস্বাভাবিক আচরণগুলো খুবই স্বাভাবিক।কারন তিনি এগুলোর সাথে পরিচিত। সে এখন ইজি চেয়ার এ বসে তার ভার্সিটি লাইফের কথা ভাবছেন।যখন তার নামটা আমির খান থেকে আমির হোসেন খান হয়ে গেলো।সে যদিও চিত্রনায়ক আমির খানের আগেই জন্মেছে,কিন্তু সে যখন ভার্সিটির ছাত্র তখন আমির খান অনেক পপুলার হয়ে যায়। ভার্সিটির সবাই তখন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত।চিত্রনায়কের সাথে ভার্সিটির ওই বোকা বোকা ছেলেটার অহেতুক তুলনা করত।তাই সে তার মার কাছে গিয়ে যখন সব বলল তার মা তার নাম দুটোর মাঝখানে হোসেন বসিয়ে দিল।এই নাম জন্ম নিবন্ধন এ পরিবর্তন করা গেলেও অন্যান্য সার্টিফিকেটে পরিবর্তন করা সম্ভব ছিলনা।সে তারপর থেকে তার বার্থ সার্টিফিকেট সাথে নিয়ে ঘুরতো।কেও ব্যাঙ্গ করে ডাকলে সার্টিফিকেট দেখিয়ে দিত।যদিও তেমন লাভ হতো না।তবুও সে আলাদা ধরনের শান্তি পেতো।
নিলয় পার্কের সেই বেঞ্চটাতে বসে আছে।সে এই প্রথম ফাহাদের প্রমাণিত সূত্রকে ভুল প্রমাণিত করে সবার আগে বেঞ্চে এসে বসেছে।
চলবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now