বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
ক্রিকেট নিউজ ⚾ (STD version)
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)
X
আসসালামু আলাইকুম
আমি কিছুদিন হলো মঙ্গলগ্রহের রনি ভাইয়ের নিউজ চ্যানেলে যোগ দিছি। রনি ভাইয়ের অফিসে এখন তিনজন সদস্য আমি, রনি ভাই, আর আমাদের দুইজনের বস। রনি ভাই কিছুদিন হলো বিয়ে করছে। এখন রনি ভাই তার বউ অর্থাৎ আকিতা ভাবির সাথে মঙ্গলগ্রহে আছে। আ্যামাজন থেকে আসার পরপরই বিয়েটা হয়ে যায়। যাইহোক কাল আমাকে নিউজ সংগ্রহ করতে যেতে হবে পৃথিবীতে। রনি ভাই যাবেনা কারন সে আজ ভাবির সাথে হানিমুনের জন্য সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে ।
রনি ভাই যাওয়ার আগে বললো আমি তোর ভাবির লগে ঘুরমু। একদম ফোন দিবি না।
আমি বললাম ভাই কি নিউজ আনতে যাবো তা তো বলে যান?
রনি ভাই বললো ও হ্যা তুই ইংল্যান্ড না হয় ইন্ডিয়ায় যাবি কিছু খেলোয়ারের আর্থিক অবস্থার খবর নিতে। বেচারারা খেলা বন্ধ হওয়ায় আয় করতে পারে নাই। আর দেখবি কোন আ্যাম্পায়ারের সাক্ষাতকার নিতে পারিস কি না।
ওকে ভাই
এরপর রনি ভাই আকিতা ভাবির হাত ধরে স্পেসশিপে উঠলো। কিছু সময় পর রনি ভাই আমাকে বাই বাই বলে চলে গেলো
তারপর আমি টুবা আপুর মুরগির ফার্মে গেলাম। ফার্ম অনেক বড়। টুবা আপুকে দেখলাম পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে
এদিকে সাবিরা মুরগির ইয়ে(বুঝে নিন) পরিষ্কার করছে। আর সুস্মিতা মুরগিদের খাবার দিচ্ছে
টুবা আপু আপনার মুরগির ভিতর থেকে একটা মুরগি দেবেন। কেনো সিয়াম? খাবো কালকে আমার চাকরির প্রথম দিন তাই ইচ্ছা করলো যে একটু রোস্ট খাবো
ও তাই, ঠিকাছে দিচ্ছি। দাড়াও!
এই বলে টুবা আপু চলে গেলো। যখন আসলো তখন হাতে একটা সুন্দর দেশি মুরগি। এই নেও। হাতে নিলাম। কিন্তু রান্না করবো কিভাবে☹? তুমি রান্না করতে জানো না। না জানিনা। নো সমস্যা পুষ্পিতা ও পুষ্পিতা।
পুষি আসলো বললো কি হলো আপু ডাকো কেন? ডাকি কি আর সাধে, এই মুরগিটা নেও আর রোস্ট করে তোমার সিয়াম ভাইকে খাওয়াও। সত্যিই । মোআ ভাই দেখো আমার রান্না কত্ত ভালো হয়। ভালো হলেই ভালো
রাতের বেলায় পুসির বানানো রোস্ট খেলাম। বাহ অসাধারন হয়েছে। খাওয়াদাওয়ার পর ঘুম দিলাম ।
পরের দিন সকালে আমার প্রথম চাকরির দিন✊। এখন পৃথিবীতে যাবো নিউজ সংগ্রহ করতে যে কোন ক্রিকেটার কেমন আছে।তাই দেরি না করে স্পেসশিপে উঠলাম। কিছুক্ষন পর রওনা দিলাম পৃথিবীর উদ্দেশ্যে।✌
তখন ইন্ডিয়ার আকাশ দিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ দেখলাম স্পেসশিপের তেল শেষ। এখন কি করবো। সব রনি ভাইয়ের দোষ। আমাদের অফিসে তিনটা স্পেসশিপ। একটায় বসের আর দুইটা আমাদের। এর ভিতর এইটা আবার পুরোনো আর নষ্ট☹। রনি ভাইরে কত করে বলেছিলাম। রনি ভাই আমারে ভালোটা দেন। কিন্তু রনি ভাই দিলোই না। বললো দিবো না ।বোঝিস তো নতুন বউ আবার প্রথম বউ পুরোনো জিনিসে করে বেড়াতে নিয়ে গেলে হয়?
এখন ইচ্ছা করছে রনি ভাইকে পেলে তুলসি গাছ থেকে ফেলে দেই। কিন্তু তাহলে তো আকিতা ভাবি আমারে ইউরেনাস গ্রহে পাঠাই দেবে পিটাইয়া।
যাইহোক স্পেষশিপটা এখন ক্রাশ করছে ইন্ডিয়ার সলে ধুর মাটিতে।বেচে থাকলে দেখা হবে। বিদায় পৃথবী
সকাল বেলা চোখ খুললাম। মরে গেছি না বেচে আছি বোঝার চেষ্টা করলাম । হ্যা বেচে আছি
স্পেশশিপ প্রায় ভেঙে গেছে। বের
হলাম দেখলাম এটা একটা মাঠে ক্রাশ করছে। এটা দিল্লি না মুম্বাই, না চেন্নাই কিছু বুঝতে পারছি না। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম পূর্ব দিকে একটা বস্তি মতন এলাকা। আমি খুশি হয়ে ওদিকে হাটা দিলাম। বস্তিতে ঢোকার পর হাটতে হাটতে একটা ছোট বাসার সামনে থেমে গেলাম। বাসার ভিতর কারা যেনো ফিসফিস করে কথা বলছে। উকি দিতেই দেখলাম সেই বিখ্যাত জিব বের করা ক্রিকেটার ক্ষুদ্র কলি আর সেই বিখ্যাত চিটিংবাজ আ্যাম্পায়ার টাকার খালু। আমি দরজায় নক করলাম। ক্ষুদ্র মিয়া দরজা খুইল্লা দিলো। আমারে দেখতেই বললো আপনে কেডা? আমি সাংবাদিক মঙ্গল গ্রহেরতা আসছি আমার নাম STD। আমি সাংবাদিক শুইনাই আমারে ঘরের ভিতর ঢুকাইয়া দরজা বন্ধ কইরা দিয়া বললো। ভাই আমি এহেনে প্লিজ কাউরে কইয়েন। বোঝেনতো ঘুষ দিয়া জেততে জেততে ফকির হইয়া গেছি। আহারে তা প্রতি ম্যাচে কত কইরা দেন ক্ষুদ্র কোলি। ভাই প্রতি ম্যাচে অনেক দিতে হয়। আমি বললাম তা এইসময় কি করতেছেন টাকার খালুর সাথে?। আরে ভাই মনে নাই এশিয়া কাপ ফাইনালে লিটনরে কেমন আউট কইরা দিছিলাম মুই তাতো আর এমনি এমনি করি নাই পুরা ৪০০০০ টাকা ঠিক কইরা করছিলাম। দুইবছর হয়ে গেলো এহনও টাকাটা দেয় নাই। ⬅টাকার খালু বললো। ক্ষুদ্র কোলি বললো➡ আরে হালা! মুইতো ওই এশিয়া কাপে ছিলামই না। ভয়ে কইছিলাম বিশ্রামে থাকমু। কারন রুবেল যা বল করে তাতে আমার পা আর থাকতো না। আপনে শরম ভাইয়ের কাছে যান। হেই তো কইছিলো আপনেরে ঘুষের কথা।
টাকার খালু➡ হ ঠিক কইছেন। আমি গেলাম শরমের কাছে(রোহিত শর্মার)
আমি এতক্ষন সবার কথা রেকর্ড করলাম।
আচ্ছা কোলি তোরা কয়টা ম্যাচ ঘুষ না দিয়া জিতছোস। একঠটাও জিততে পারি নাই ভাই। বাংলাদেশের লগে যেকয়টায় ঘুষ দেই নাই। ওই কয়টাই হারছি।
আচ্ছা এহন কি করতাছেন?
কি করমু ভাই কন কাম। নাই চিটারি নাই এহন বেশি কইরা দাড়ি গোফ লাগাইয়া ভ্যান চালাইতাছি। ওই দেহেন বাইরে রাহা আছে। এদিকে আনুষ্কার পার্লারের খরচ মিডাইতে মিডাইতে যা আয় করি হেও শেষ☹। কোন দুঃখে যে ওই বেডীরে বিয়া করছিলাম। অর চেয়ে সখিনাই ভালো ছিলো।
ও তাই। মনে মনে বলছি মফিজ তোর বউয়ের উপর একজনের নজর পড়ছে।
আচ্ছা থাকেন দোয়া করি যেনো এরকম ভ্যান চালাইয়াই খাবেন।
কি কইলেন?
কিছু না আমি যাই
ঘরের তা বের হয়ে যাচ্ছি তখন দেখলাম বাজারের দিকে কে যানি ডাকছে সবজি নেবেন সবজি। টাটকা সবজি আমি কাছে যেয়ে দেখলাম এ আর কেউ না এহলো সেই বিখ্যাত ক্রিকেটার মোটু শরম ভাই। আমি কাছে গেলাম আমাকে দেখেই শরম ভাই বললো ভাই সবজি নিবেন সবজি ভালো ভালো সবজি। আমি কানের কাছে এসে বললাম আপনারে চিনছি আমি আপনি হচ্ছে শরম ভাই(রোহিত শর্মা)। ভাই প্লিজ কাউরে কইয়েন না। এমনিতে খেলা নাই। হেরপর আবার টাকার হালায় আমার বাড়িতে আইয়া বাসি ঘুষ ৪০০০০ টাহা লইয়া গেছে। তাই বাধ্য হইয়া সবজি ব্যবসায় নামছি বোঝেনইতো ঘরে মাইয়া বউ আছে।
বুঝলাম আচ্ছা আপনের মতো আর কেউ এই লাইনে নামছে?
আছে অনেকেই এই বাজারে ঢোকেন অনেকেই ছদ্দবেশে ব্যবসা করতাছে।
আচ্ছা যাই আমার জন্য একটা ভালো গাজর রাখবেন ঠিকাছে?
আচ্ছা
বাজারে ঢুকে খুজছি এই সময় রনি ভাই ফোন দিলো। রিসিভ করলাম।
হ্যালো রনি ভাই কি খবর আপনে ফোন দিলেন যে।
ফোন কি আর এমনে দিছি । তোর ভাবিরে লইয়া কোথায় উঠবো বুঝতে পারছি না।
ও এই কথা ওখানে আমার একজন পরিচিত আছে✊। ওই টেনিস খেলে। কি যেন নাম ,,,,,,,,,,,,, ও হ্যা রজার ফেদেরার ওরফে ফেদার। ওনার বাসায় যেয়ে আমার নাম বলেন থাকতে দেবে আপনাদের।
ধন্যবাদ ভাই। বাচাইলি আমাদের। ।
ফোন রাইখা হাটছি তহন দেহি একজন মাছ বেচতাছে? আরে এইটা তো বদ বুদ্ধির গোডাউন গরিব ভাই(ধনি) । ডাক দিলাম ও গরিব ভাই
গরিব ভাই কেডা?
কেন আপনে?
আমি কেউ না আমি গরীব হমু কেন?
দেহেন ভাই আপনে মাঠে বাটপারি করতে পারেন কিন্তু এহন না। দিমু বইল্লা যে আপনি হইলেন বদ বুদ্ধির গোডাউন গরিব সিং।
ভাই কইয়েন না প্লিজ। খুব কষ্টে
একটা মাছের ব্যবসা করতাছি। যা টাহা ছিলো সব বাসি ঘুষ দিতে দিতে শেষ। এহন এই দিয়াই সংসার চালাইতেছি।
বুঝলাম ব্যাপারটা । তাহলে থাকেন আশা করি এই ব্যবসাই করবেন।
এবার ঢুকলাম চালের বাজারে। দেখলাম একটা লোক হাকতেছে চাল নেবেন চাল ভালো চাল বাসমতি চাল, আতপ চাল, মিনিকেট চাল। আমি কাছে গেলাম। দেখে বুঝলাম এ হইছে বিশিষ্ঠ পাঠকাঠি চেহারার ক্রিকেটার চাহাল। কিন্তু এহন করতেছে চালের ব্যবসা ।
চাল আছে?
হ্যা ভাই। কি চাল নেবেন কন? সব আছে।
দেহান একটা?
এইটা দেহেন
ভালো কইরা দেখে বুঝলাম এরা মাঠে যেমন ব্যবসায়ও সেইরকম চালের লগে কতগুলা অন্য কমদামি চাল মিশাইছে।
এই চাহালের বাচ্চা চালে এত ভেজাল কেন
কে চাহাল?
কে আবার তুই
ভাই মাফ কইরা দেন বোঝেনই তো ঘরে অভাব। আমাগো তো প্রতিটা উইকেটের জন্য ঘুষ দিতে হয়।
প্রতিটা উইকেটের জন্য।
হ নয়তো একটাও পাই না। কানের ধারে আহেন
কি বলবি বল?
বোঝলেন মোরা যে কয়টা LBW উইকেট নেই সবই ভুয়া কোনটা আসলে আউট হয় না।
ও তাইনাকি।
ভাই একটা কথা কমু?
বল
আমরা এত টাকা ইনকাম কইরা আজ গরিব হইছি কেন? কিন্তু আপনেগো দেশের সবগুলা খেলোয়ার দান করতে পারছে অল্প ইনকামে কেন?
আমি বললাম ওরা কি তোদের মতো ঘুষ খায় নাকি? তাদের প্রতিটা আউট করার পিছনে পরিশ্রম সাধনা থাকে। তোদের মত যে ঘুষ দিয়া উইকেট নেবে।
এটা বলে বের হয়ে আসলাম। এখন স্পেসশিপের জন্য কিছু পার্টস কিনে রওনা দিবো মঙ্গল গ্রহের জন্য।
পাঠকরা ভাবতে পারেন আমার ক্যামেরাম্যান কোথায়? আসলে ক্যামেরা আমার বোটামে।
বিঃদ্র➡ লেখাটায় গুরুচন্ডালি দোষ হয়েছে। তাই ওটার দিকে খেয়াল না করে গল্প পড়ে কমেন্ট করে আইসক্রিম খেতে খেতে চলে যাবেন।
^499
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now