বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরবাস

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rahat zaman khan (০ পয়েন্ট)



X পরবাস "জলদি খানা খতম করো,মেলা কাম বাকি",মোতালেব ভাই তাড়া দেয় শফিক কে। "হ,যাইতাছি" হাত ধুয়ে উঠে পড়ে সে। দুপুরের খাবার খাচ্ছিল তারা। শফিক,মোতালেব ভাই,নূর আর পাকিস্তানী দুই ভাই,জামাল-জালাল। দুবাই এ প্রবাসী শ্রমিক তারা। খাওয়া শেষে যে যার মতো কাজে লেগে পড়ে। শফিক ওয়ালে গ্লাস ফিটিং করছে। জামাল ভাই প্লায়ার হাতে পাশে এসে দাড়ায়। কাজ করতে করতে জিজ্ঞেস করে,"বিবি সে বাত কিয়া?"মাথা নাড়ায় শফিক। "কাম কি বাদ "। দেশে থাকতে হিন্দি চ্যানেল দেখে দেখে একটু-আধটু হিন্দি শিখেছে সে। সেটারই ব্যাবহার করে জামাল ভাই এর সাথে। পাকিস্তানিদের সাথে বাঙালিদের ভাব জমে না সাধারনত। কিন্তু উনার সাথে ভালোই খাতির হয়েছে। কারন টা সম্ভবত জামাল ভাই এর ভালো আচরন। "দেখো না মিয়া।,আভি ইদ কা দিন মে ভি ইস তাড়া কা কাম।" হতাশা ফুটে উঠেছে উনার কথায়। আমাদের জীবনে আবার ইদ কি? মনে মনে হাসে শফিক। পরিবার পরিজন রেখে এতদুরে এসেছে শুধু টাকা উপার্জনের জন্য। হঠাৎ নিচতলা থেকে চিৎকার শোনা যায়। দৌড়ে যায় সবাই। আবারও হাত কেটে ফেলেছে নুর। বাচ্চা ছেলে,বয়স ১৫...কাজে অদক্ষ হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রায়ই এক্সিডেন্ট করে ছেলেটা। কখনো হাত কেটে ফেলে,কখনও বা থেতলে যায়। মায়াই হয় শফিকের। রাতে মাঝে মাঝে ওর সাথে গল্প করে সে। বাড়ির জন্য ওর মন কেমন করে বুঝতে পারে শফিক। কিন্তু কোম্পানির কন্ট্রাক্ট,আগামি এক বছরের মধ্যে কোনো ছুটি নেই। "পোলাডা আজকে পুরা টেকা ডাও পাইব না" আফসোস করে রমজান আলী। এরই মাঝে ম্যানেজার এসে চিল্লাচিল্লি আর দৌড়ঝাপ শুরু করে। কি সব বলে আরবিতে বুঝে না কেউ। শুধু এতুটুক বুঝে বকা দিচ্ছে তাদের। সন্ধায় কাজ শেষ করে রুমে ফিরে তারা। রান্নার দায়িত্ব আজকে শফিকের। তাই বাড়িতে ফোন দিয়ে কথা বলে নিতে হবে আগেই। পাশের বড় হাই-ফাই বিল্ডিং টাতে চলে যায় সে। টেকনিক টা ভালোই। নাহলে ভিডিও কলে বাড়ির লোকেরা বুঝে যাবে কি অবস্থায় আছে সে। "হ্যালো,কেমন অাছো,"... ভালো", উত্তর দেয় শফিক। একে একে মা,ভাবী আর স্ত্রীর সাথে কথা বলে সে। সকালে বিরিয়ানী খেয়েছে, বিকেলে মলে শপিং করতে গিয়েছিল...এরকম আরও নানান গল্প শোনায় তাদের। বলতে বলতে এক সময় নিজের কাছেই মনে হয় সে যেন সারাদিন ৫০ তলায় বসে গ্লাস ফিটিং করে নি। বরং গাড়িতে করে সারা দুবাই ঘুড়ে বেরিয়েছে। রাতে সবাই মিলে খেতে খেতে টিভি দেখছে...বাংলাদেশের নিউজ। দেশে আইন শৃঙ্খলা ভালো না,রাজনৈতিক কোন্দল বেড়েছে। অর্থনীতির খবরে দেখাচ্ছে বাংলাদেশ নাকি এখন মধ্যম আয়ের দেশ। মাথাপিছু আয় ২৩০৫ ডলার। মনে মনে খুশি হয় সে।এরকম একটা খবরের জন্যই তো পরিবার ফেলে এখানে পড়ে আছে সে। কাজ করেছে ইদের দিনেও। তার ও তার মতো এরকম লক্ষ শ্রমিকের আত্নত্যাগেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। টিভি বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই। আগামীকাল পাইপ লাইনের কাজ করতে হবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...