বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কনে দেখা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী (০ পয়েন্ট)

X কনে দেখা বইয়ের দোকানে গেলে নিজেকে মোটামুটি এলোমেলো লাগে আমার। ইচ্ছে করে সব বই তুলে কিনে নিয়ে যাই... সেদিন,গাদাখানিক বই কিনে আরো কিছু কিনে ফেলব কিনা ভাবছি... খানিকক্ষন ধরেই পেছন থেকে কেউ কিছু বলে যাচ্ছে ! হয়তো আমাকে না, তাই ডাক কানে তুললাম না। ‘আপনি কি মিথিলা?’ ডাকটা ঠিক আমার পেছন থেকেই আসছে! যথেষ্ট বিরক্ত বোধ করলাম। বই বাছাইয়ের মত গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা কাজ করছি, এর মাঝে ঝামেলা। আমি তবু ফিরলাম না, আসলেই আমাকে ডাকছে কিনা এটা বোঝার জন্যে কান খানিকটা খাড়া করার চেষ্টা করলাম। ‘মাফ করবেন, আপনি কি মিথিলা?’ কে আমাকে মাফ করতে বলছে এটা দেখতেই পিছনে ফিরে তাকালাম। লাল টাই পড়া ঝকমকে চেহারার এক তরুন! তৃতীয়বারের মত প্রশ্ন শুরু করার আগে আমিই আমার মুখ খুললাম। ‘এতক্ষন কি আমাকেই ডাকছিলেন?’ ছেলেটি মাথা ঝাঁকাল। ‘জ্বিনা,আমি মিথিলা নই’। তার চেহারায় কালো ছাপ পড়ল। ‘তার সবুজ শাড়ি পড়ে থাকার কথা, মিথিলার কথা বলছি।’ আমি মাথা নাড়লাম, ‘বুঝতে পারছি’। ছেলেটি আবার বলল, ‘হাতে লাল চুড়ি’। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে হতাশ হলাম, আজই লাল চুড়ি পড়তে হয়েছে আমার! সে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি শান্ত গলায় বললাম, ‘আমার পরনে সবুজ শাড়ি, হাতের লাল চুড়ি সবই ঠিক আছে কিন্তু আমি মিথিলা নই’। লাল টাই পড়া ছেলেটার চোখেমুখে গাঢ় হতাশার ছাপ। আহা বেচারা! আমি কথা বাড়ালাম না। দোকানের অন্যপাশে বই দেখতে শুরু করলাম। ‘শুনুন’। তাকালাম, ছেলেটি এখানেও চলে এসেছে! ‘আমারই ভুল হয়েছে,মিথিলা বলেছে লাল-সবুজ চুড়ি পড়বে, শুধু লাল নয়।আপনাকে বিরক্ত করলাম’। আমি ইতস্তত করে বলে ফেললাম, ‘আপনি যদি তাকে ফোন করেন তাহলে হয়ত জানতে পারবেন সে কোথায় আছে’। ‘উঁহু, ফোন করবনা, মিথিলা যখন আসবে বলেছে, ও নিশ্চয়ই আসবে। আমি অপেক্ষা করব...আপনাকে বিরক্ত করার জন্যে সত্যি লজ্জিত’।হাসিমুখে বলল ছেলেটি। আমি তার মুখের দিকে তাকালাম। কি প্রচন্ড বিশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছে সে। কতটা ভালবাসলে এমন করে মানুষ বিশ্বাসী হয়ে ওঠে! দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে পড়লাম। আচ্ছা ফিরে গেলে কেমন হয়? বিয়ে করতে চাইনি তবু মামী...কথা শুনলেন না। মামীর ওপর রাগ করে এতক্ষন করা উলটাপালটা কাজগুলো যদি শুধরে নেই? ফিরে গিয়ে লাল টাই পড়া মানুষটাকে যদি চমকে দেই? তাকে লাল টাই পড়তে বলে নিজেই লাল-সবুজ চুড়ি পরার কথা রাখিনি... রেগে ছিলাম বলে। কিছুদিন জোর করে কথা বলার পরে মামী ঠেলে পাঠালেন দেখা করতে। এতদিন নিজেকে দেখতে দেইনি আর তাকেও দেখিনি। ফিরে যাবো। যদি ফিটবাবু অনিক সাহেবকে চমকে দি? যদি সে এখনো মিথিলা নামের মেয়েটির জন্যে অপেক্ষা করে থাকে...তবে? দোকানে ঢুকে একটা ধাক্কা খেলাম।কেউ নেই!কোথায় গেল সে?প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে আমার।কি ভুল করলাম আমি! দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলাম,রাস্তাটা পার করা দরকার।কিছু ইচ্ছে করছেনা।কিচ্ছু ভালো লাগছেনা আমার। রাস্তার ওপাড়ে তাকিয়ে চমকে গেলাম,সে চলে যায়নি। দাঁড়িয়ে আছে,অপেক্ষা করছে তার মিথিলার জন্য! ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির অভাব নেই,সাবধানে পার হতে হ্য।আমি পরোয়া করলাম না কিছুর।আমাকে পৌঁছোতে হবে তার কাছে। আমি তার পাশে দাঁড়ালাম। ‘এখানে একটা দোকানে খুব ভালো চা পাওয়া যায়। খাবেন অনিক সাহেব?’ আমি ব্যাগে রেখে দেওয়া সবুজ চুড়ি বের করে হাতে গলালাম। এমনই কথা ছিল...বাংলাদেশের পতাকা সেজে আসার আমার। ও হ্যাঁ, দোলনচাপার মালাটাও খোপায় লাগালাম...ওর প্রিয়ফুল! হাসলাম ওর দিকে তাকিয়ে। অনিক অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে...আর তার চোখে গভীর মায়া।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কনে দেখা এবং……
→ কনে দেখা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now