বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক দিন ঘুড়ি উড়াই না একে তো ধান কাটার মৌসুমে প্রায় ঘুড়ি উড়াইতাম আজ খুব ইচ্ছে করছে ঘুড়ি উড়াবার যেমন কথা তেমন কাজ নিয়ে গেলাম ঘুড়ি বানিয়ে দেখি আমার আগে শ্যামলী ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে আবালের মতো তাকিয়ে রইছে ঘুড়ির বিচলনের দিকে আমি কিছু না বলে ও থেকে একটু দুরে গিয়ে ঘুড়ি আকাশে তাক করে দিলাম কিন্তু ঘুড়ি তো ওরে না আমি বললাম ওই শ্যামলী দেখতো ঘুড়ি কেন উড়ছে না তখন সে ফিক করে হাসি দিয়ে বলল বাতাস না আসলে ঘুড়ি কোনো দিন উড়ে তুই কি দেখেছিস কোনো দিন বাতাস বিহীন ঘুড়ি উড়তে আমি বলল তবে তোরটা কেমন করে উড়ছে তাহলে আরে আমারটা তো বাতাসপুভ ঐ ঘুড়ি কোনো দিন বাতাস পুভ হয় মশকরা করার জায়গা পাশ না যা আজ ঘুড়ি উড়াবো না ভাঙ্গমু এতো কষ্ট করে ঘুড়ি বানিয়ে ভাঙচুর করবি এটা কেমন কথা?? আরে শ্যামলী আমি কি বলছি আমি নিজেরটা ভাঙচুর করবো আমি তো তোরটা ভাঙবো রে এই কথা বলতে বলতে পায়ের নিচে থাকা বড় মাটির দলা পাকিয়ে ঘুড়ী সুজা এমন সজোরে ঢিল দিলাম এমনি তাক করে লেগে ধাক করে পড়লো মাটিতে আমি কি আর থাকি ওখানে ভো ধৌড় দিলাম পিছন থেকে শব্দ এলো কত্তা বিড়াল আমি চাচিকে বলে দিবো তুই আমার ঘুড়ি ছিড়ছিস আমি সোজা চলে আসলাম বাড়িতে দেখি মা উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে আমি মার হাত থেকে ঝাড়ু কেরে নিয়ে নিজে ঝাড়ু দিচ্ছি ওমনি মা বলল একি করছিস হমমম?? আমি ঝাড়ু দিতে দিতে বললাম মা আমি ঘুড়ি উড়াতে গেছি ঠিকমত উড়াচছিলাম ওমনি শ্যামলী ঘুড়ির দিকে ঢীল দিয়ে ভেঙে দিছে তাই রাগে দুঃখে আমি ঝাড়ু দেই মাকে মিথ্যা কথা বলে পটিয়ে নিলাম কিন্তু ঝাড়ু পুরো উঠান দিয়ে হাত ব্যাথ্যা হয়ে গেছে তাই মতি কাকার দোকানে গিয়ে বলল কাকা তোমার মিয়ার জন্যে আমার হাতে ব্যাথা পাইছি মলম দাও মতি কাকা বলল কিরে শ্যামলী কি করছে ?? আমি মলম হাতে ডলতে ডলতে বললাম শ্যামলী কিছু করে নাই ও তো ভালো মেয়ে তোমার ও কি কিছু করতে পারে বলে আমার জানা নাই এই সাকোতে পড়ে গেছি মতি কাকা আমার দিকে তাকিয়ে বলল এই পাগল সেই ছোট্ট বেলা থেকে দেখে আসছি শ্যামলীকে বাচাবার জন্য তুই কোনো মিথ্যা কথা বলতি এখনো বলিস তাই বলি কি হয়েছে তাই আগে বল? আমি আর কিছু না বলে রুম্মনদের কাঁঠাল বাগানে গিয়ে কাঁঠাল চুরি করে খাচ্ছি ওমনি শ্যামলী দেখি ড্যাব ড্যাব করে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে আমি একটা রুয়া এগিয়ে দেওয়ার মতো করে বললাম কিরে শ্যামলী খাবি নাকি ওমনি শ্যামলী পাশে থাকা লাঠি নিয়ে এমন তাড়া করলো যে আমি কাঁঠাল নিয়ে এমন দৌড় দিলাম যে শ্যামলী কেন ওর বুড়ো বাপ মতিওওও ধরতে পারতো না এক দৌড়ে আমি রুম্মনের সামনে গিয়ে পড়লাম রুম্মন বলল কিরে এতো হাঁপিয়ে কোথায় থেকে আসলি আমি বলল আর বলিস না শ্যামলী শ্যামলী শ্যামলী আরে ধুর বাদ দে আগে চল কাঁঠাল খাই আমি রুম্মনকে বললাম খা ভালো করে খা রুম্মন একটু খেয়ে বলল এই কাঁঠাল তো আমাদের গাছে তাই না??আমি দৌড়ের প্রস্তুতি নিয়ে বললাম যার তার গাছের কাঠালকেই খালি তোমাদের কাঁঠাল মনে হয়??বলেই আমি দৌড়ে চলে এলাম কুলসুমদের আম বাগানে যেই আম বাগানে আইছি দেখলাম কুলসুম আম গাছে উঠে আম খাচ্ছে আমি বললাম কুলসুম একটা আম দে কুলসুম আম দিলো না আমি রেগে গিয়ে গোলে চাচিকে বললাম চাচি তোমার মেয়ে সব আম হাপুসহুপুস করে খাচ্ছে আমি চাইলাম একটাও দিলো না চাচি বললো ওদের গাছের আম তোকে দিবে কেন??আমি হকচকিয়ে গেলাম আর বললাম চাচি কি যে বলেন আজ রাতের পরে দেখবেন আপনার আম গাছ আর গাছ নাই তা জাম গাছে পরিণত হয়েছে বলেই আমি পিছনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম চাচি কি যেন বলছিলো শুনি নাই বাড়িতে গেলাম দেখি শ্যামলী দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায় মতি কাকা চেয়ারে বসা পাশে দাঁড়িয়ে আছে রুম্মন আর মা ঝাটা হাতে নিয়ে বসে ছিলো আমাকে আশা দেখেই ঝাটা সহকারে দাঁড়িয়ে আমার কাছে এসে মারতে শুরু করলো মা মারছো কেন? আমি কি করছি? মা মারছে তো মারছেই আর বলছে তোর জন্য আজ দু দন্ড বাঁচতে পারি না মানুষের কথা শুনতে হয় তোর জন্য মারার এক পর্যায়ে দেখলাম শ্যামলী হাত তালি দিয়ে দিয়ে হাসছে আর লাফাচ্ছে আমার দুঃখে তুই হাসিস দাড়া দেখাচ্ছি মজা মতি কাকা শ্যামলী দেখলাম ঐ গায়ের লতিফের সাথে কথা বলছিলো স্কুল থেকে আসার সময় মতি মিয়া আমার মাকে উদ্দেশ্য করে বলল ওকে আরো মারো আজকে স্কুল ছুটি ছিলো ওকি আর জানে না??ও হ্যা তাই তো মা মারো আরো জোরে মারো একটাই ছেলে মারতে মারতে মেরে ফেলো এই কথা বলাতে মারা বন্ধ করে দিয়ে কাঁদতে লাগলো আর শ্যামলীওও হাসি বন্ধ করে দিলো আমার মা বলল মতি কাকারে আপনার মেয়ে শ্যামলীকে আমার ঘরে বৌমা বানাতে চাই মতি কাকা বলল আরে রহমান ভাই বেঁচে থাকার সময় শ্যামলীর সাথে ওর বিয়ে ঠিক করেই গেছীলো আমি রাজী আমি তো শয়তানি বুদ্ধি মাথায় নিয়ে এলাম এই তো ভাগে পেয়েছি শ্যামলীকে আচ্ছা ভাবে ঠিক করার বিয়ের কথা উঠতেই শ্যামলী বলল ঐ বিড়ালটাকে বিয়ে করতে পারবো না মতি কাকা বলল তুই না কালই বললি যে বিয়ে করলে ওকেই করবি তে লেও সব সমাধান হয়ে গেলো বিয়েওও হয়ে গেলো বাসর রাতে আমি ঘরে ঢুকতেই আমাকে লাঠি দিয়ে মারছে আর বলছে বিড়াল মারছি কোনো কথা বলবি না এভাবে চলছে আমাদের বেড়াল বেড়ালির কর্ম কান্ড দোয়া করবেন আমাদের জন্য
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now