বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল ৭টা ছুঁই ছুঁই!
চারদিকে পাখির কিচির মিচির শব্দ !
সুর্যি মামা তখন ও প্রকৃতির মাঝে নিজের সোনালি রোদের আভা বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন!
আর প্রকৃতিও যেন নিজেকে সানন্দে সেই সোনালি রঙে রাঙিয়ে নিচ্ছে!
ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলাম!
আবিষ্কার করলাম,কোন এক কারনে মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে!
যাক ফ্রেশ হয়ে বাইরে এলাম! নিজেকে প্রকৃতির আলতো রোদে সমর্পণ করলাম!
ভালোই লাগে এই সময়টা!মুগ্ধ পানে তাকিয়ে আছি প্রকৃতির মাঝে!কতোটা নিখুঁত প্রকৃতির নির্মানশৈলী!
আমার কাছে মনে হয়,নতুন নতুন দিনে প্রকৃতি নিজেকে নতুন আঙিকে সাজায়!কী অপরূপ সেই দৃশ্য!
সুবহানাল্লাহ!
পেটের ভিতর একটা সিগন্যাল পড়তেই বুঝলাম!নাস্তার সময় হয়েছে!
মাকে নাস্তার কথা বলে বসে রইলাম!কিন্তু আম্মুর কোন সাড়া পাওয়া গেলো নাহ!
বুঝলাম হয়তো ঘুমিয়েছে!
মা আবার নাস্তা বানিয়ে ছোট একটা ঘুম দেন!
অগত্যা আমাকে নাস্তা খুজে বের করতে হলো!কাল বিলম্ব না করে নাস্তা করতে বসলাম!
নাস্তা খাওয়ার সময় আমার একটা অভ্যাস অনলাইনে নিউজ দেখা!
নিউজ না দেখলে আমার যেন পেটের ভাত হজম ই হয় নাহ!
স্ক্রল করতে করতে যাচ্ছিলাম আর খবরের শিরোনাম গুলোতে চোখ বুলাচ্ছিম!
হঠাৎ একটা শিরোনামে আমার চোখ আটকে যায়!শিরোনামটা দেখেই আমার মাথা থেকে একটা ঠান্ডা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নেমে যায়!
শিরোনামটা ছিলো এমন!
'উদ্বৃত করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন না মানা ও মাস্ক না পরায় ৩ জন বৃদ্ধাকে কান ধরিয়ে দাড় করালেন এসি ল্যান্ড!
নিউজ দেখে আমার চক্ষু যুগল বিস্ফোরণ হবার যোগাড়!
নিউজ টা বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য ভিতরে পড়তে শুরু করলাম!
ঘটনাটা সম্ভবত খুলনা বিভাগের কোন এক জেলায়!
ঘটনাটি এমন ছিলো যে,লকডাউন না মানা ও মাস্ক না পড়ায় তাদেরকে কান ধরিয়ে দাড় করান এবং শপথ করান!
যাদেরকে কান ধরানো হয়েছিলো তাদের ৩ জনেরই ৭০/৭২ এর কোঠায় বয়স!
তাদের ৩ জনের মধ্যে ২ জন ভ্যানচালক ও ১ জন ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতা!
তাদের অপরাধ ছিলো,তারা লকডাউন না মেনে ভ্যান নিয়ে যাত্রীসেবা দিচ্ছিলেন ও সবজি বিক্রি করেছিলেন!
এবং তাদের ৩ জনকে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে, তাদের ছবি তোলেন এসি ল্যান্ড সায়মা (ছদ্মনাম)!
এসি ল্যান্ড এএই ছবি তোলার দৃশ্যকে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ফ্রেম বন্দী করে সেটা অনলাইনে পাবলিশ করেন!
বিষয়টা নিয়ে অনেক বিতর্কের ঝড় বইতে শুরু করে সুশীল সমাজে!
কেউ কেউ এই এসি ল্যান্ড কে বেয়াদব আ্যাখ্যা দিয়ে বসেন!
কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার হচ্ছে,সেই প্রত্যক্ষদর্শীর ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, এসিল্যান্ড নিজেই অত সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহন করেন নি!।তার সুরক্ষা ব্যাবস্থা ছিলো নড়বড়ে!
পিপিই,হ্যান্ড গ্লাভস,বা অন্যান্য সুরক্ষা কবচ তিনি নেন নি!!
কিছুদিন পর.....
এক টিভি জার্নালিস্ট এর সাথে সাক্ষাতে সেখানে নিজেদের অব্যাক্ত কথা ব্যাক্ত করেন সেই তিনজন বয়োবৃদ্ধ!
সেখানের একজন বলেন, আমি দিনমুজুরি করে খাই বাজান,দিন আনি দিন খাই!পরিবারে আমার সদস্য ৬ জন,কাজ কাম না পাইলে খামু কি তাই সেই দিন ভ্যান নিয়ে বাজারে আইছিলাম,কিন্তু এসি ম্যাডাম আইসা আমাগোরে বকাবাদ্য করে,মাস্ক কেন পড়ি নাই, এসব নিয়ে বকা দেন এবং আমাদের কে কান ধরতে বলে, আমরা কান ধরতে অপারগতা প্রকাশ করায়,আমগো নামে মামলা হইবো বলে জানান!
আমরা লোকলজ্জার ভয়ে মেডামের কথামতো কান ধরি,আর ওই মেডাম আমাদের ছবি তুলে!!
বাকি দুই জন এই বয়োবৃদ্ধ এর সুরে সুর মেলান!!!
এক প্রশ্নের জবাবে বয়োবৃদ্ধরা বলেন!
করোনা দিয়ে কি হইবো বাজান,এমনি হুঞ্চহি দ্যাসেহ একটা রোগ আইছে!
তাতে আমগো কি বাজান!আমরা গরিব মানুষ, কোন রকম দিন আনি দিন খাই!এমন অবস্থায় আমগো কাজ কাম বন্ধ থাকলে খামু কি!আমগো পেট শান্তি তো আমগো দুনিয়া শান্তি!করোনা দিয়া কী করুম!!
কোন রকম দুইডা খেতে পারলেই হয়!!
আরেক বৃদ্ধা বলেন,এসি ল্যান্ড আমার নাতনীর বয়সী,সেই আমাদের কে কান ধরতে বলে,নিরুপায় হয়ে কান ধরি!
আমার বাজান ১মেয়ের বিয়া দিছি বাকি ২ছাওয়াল ১ মাইয়া আছে!
তাই,লোক লজ্জার ভয়ে কান ধরি!
আমগো মান ইজ্জত বলে কথা আছে নাকি!!
হ্যা,এভাবে কান্নাজড়িতে কন্ঠে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন বয়োবৃদ্ধরা!
আসলে আমরা মানুষরা এমনই!
এসি ল্যান্ড নিজেই অতোটা সুরক্ষা সামগ্রী নেয় নি!
তার উপর অন্যদের মাস্ক না পরায় ফানিশমেন্ট দিচ্ছেন!!
ঠিক তাই!
আমরা অন্যদের সংশোধনে যতোটা তৎপর,নিজেদের সংশোধনে ঠিক ততোটাই উদাসীন!!
কি দরকার ছিলো,বয়োবৃদ্ধ দের কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে ছবি তোলা!
কি দরকার ছিলো পত্রিকার শিরোনাম হওয়া!
উনি কি পারতেন না,উনাদের মত গরিব মানুষকে মাস্ক কিনে বা অন্য কোন সুরক্ষা সামগ্রী কিনে দিয়ে বুঝিয়ে বলা উচিত ছিলো,যে চাচা এখন্তো এই ভাইরাস এসেছে,নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন বা অন্য কোন মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে বলা উচিত ছিলো! তাহলেই তো তারা সানন্দে সেটাকে গুরুত্ব দিতো!
হ্যা,এসি ল্যান্ডের এটা দায়িত্ব!!যে অভিযান পরিচালনা করা,ঠিক আছে! সেটা এতো অতিরিক্ত আওতায় যেন না যায়!
অতিরিক্ত লোক দেখানো দায়িত্বশীলতা পালন করতে গিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হলেন!
আর হ্যা, মুরুব্বিরা প্রায়শই বলে থাকেন। শত চেষ্টা করেও কোন ব্যাক্তি নিজের পাছা নিজে কখনো দেখে নাহ ,। কিন্তু অন্যর পাছা ঠিকই দেখে!
এর গভীরতম ব্যাখ্যা হল , নিজের দোষ কখন ও কেউ দেখে নাহ, অন্যর দোষ সে অনায়সে চোখে দেখে!
আমরা সমাজের কিছু মানুষ মানুষের দোষ ত্রুটি খুজে বের করার জন্য এমনভাবে ওৎপেতে থাকি!যেন আমাদেরকে দোষ খোজার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে!
অন্যর দোষ খুজে পেলে, সেটা নিয়ে টক শো করি বা দাঙা হাঙামা করি!
কিন্তু, আমাদের নিজের দোষ কখনোই আপন চোখে ধরা পড়ে নাহ,যদিও ধরা পড়ে,সেটাকে ভূল বলে চালিয়ে দেওয়ার কপটতা তো আছেইই!
আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা দুবেলা পেটপুরে খেতে পারে নাহ!
তাদের কাছে করোনা ভাইরাস বা মাস্ক পড়তে হবে, এসবের কোন বালাই নাই!
আমরা যদি চাই, তাহলে তাদের পাশে দাড়াতে পারি!
কোন একসময় পড়েছিলাম,সময়ের এক ফোড়,অসময়ের দশ ফোড়!
আপনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে,তাদের সুসময়ে ২০০০ টাকা নিয়ে পাশে দাড়ালেও, তারা অতটা গ্রাহ্য করবে নাহ!
কিন্তু, আপনি যদি তাদের দুঃসময়ে ২০ টাকা দিয়ে পাশে দাড়ান, তাহলে তারা আপনাকে আজীবন মনে রাখবে!!!
আমরা চাইলেই, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি!
ফিরে আসি,এসি ল্যান্ডের কথায়!
উনি সাধারণ মানুষদেরকে কান ধরিয়ে শাস্তি দিয়েছেন!
উনি যদি এটা না করে উনাদের মাস্ক, গ্লাভস উপহার দিতেন!
তাহলে, সেই বয়োবৃদ্ধরা তাকে আজীবন মাথায় তুলে রাখতো!
আপনি ও আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাড়ান!
তাদের অব্যাক্ত কথা গুলো শুনুন!
তাদের কাধে কাধ মিলান!
তাদের সুখে আপনিও সুখি হোন,তাদের দুঃখে আপনিও দুঃখিত হোন , তাদের মুখে হাসি ফোটান তাদের ছোট্ট ছোট্ট উপকার করে,
একদিন দেখবেন , আপনি ১৮ কোটি মানুষের হ্নদয়ে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছেন!
সেইদিন আপনাকে নিয়ে গর্বের হাসি হাসবে ১৮ কোটি হ্নদয়,আপনাকে গর্বে বুক ফুলে উঠবে বাংলাদেশ!হ্যা,আমাদের ভালোবাসার বাংলাদেশ!!
আপনি হবেন,বাংলার গর্বের প্রতীক!
তাই, এখনি সময় এসেছে, হাসি ফোটানোর!
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হ্নদয়ে হাসি ফোটানোর সুবর্ন সুযোগ!
ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবার মাঝে বিলিয়ে দিন ভালো বাসা!!!
ভালোবাসার হাসিতে আন্দোলিত হোক,ভালোবাসার বাংলাদেশ!
৫৫ হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে যাক ভালোবাসার পরশবুলি!
ব্যাপ্ত হোক মানবতা,থাকুক বিরাজমান!
হাসি ফোটুক সুবিধাবঞ্চিত দের ঠোটের কোণে!
হাসুক বাংলার মানুষ,মানবতার আলিঙ্গন পেয়ে!
হাসুক ভালোবাসার বাংলাদেশ!!
আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি , দেখা হবে নতুন কোন গল্পে,
ততক্ষন পর্যন্ত ভাল থাকুন,নিরাপদ থাকুন,নিজে সুরক্ষিত থাকুন ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন!
আল্লাহ হাফেজ!
লেখনীর কোথাও মতামতের অমিল থাকতে পারে,বাক্যার অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হতে পারে!, সেটাকে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now