বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লজ্জা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RJ Raj (০ পয়েন্ট)



X লজ্জার মাথা খেয়ে যখন ছাত্রীর মায়ের কাছ থেকে মাসের অগ্রিম বেতনের টাকা টা চাইলাম। ছাত্রীর মা আমার দিকে কিছুসময় তাকিয়ে কি যেনো ভাবলেন। তারপর রুমের ভেতরে গিয়ে কিছুসময় পরে চকচকা ১৫০০ টাকা নিয়ে এসে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে, এতে কি হবে??(তন্নীর মা) বেতন ২০০০ টাকা। তার মধ্যে ৫০০ টাকা কম দিয়ে এই কথা বলা মানে, পানির মধ্যে অর্ধেক খানি চুবাইয়া রেখে শাস্তি দেউয়া একি কথা। কিন্তু তবুও আন্টির সামনে হাসি মুখ করে, জি আন্টি চলে যাবে। (আমি) আন্টি কিছু না বলে কিচেনের দিকে চলে গেলো। আমি তন্নীকে পড়ানো শুরু করলাম। আমি আনিকা। এবার বিবিএ ২য় বর্ষ তে উঠেছি। একাউন্টিং নিয়ে পড়ছি। ছোট থেকে স্যার রা বলতো তোমার মাথা অনেক ভালো মা, তুমি চেষ্টা করো, ভবিষ্যত এ কোন ভালো জায়গায় চান্স পাইতে পারবা। আমি তখন স্যারদের কথাতে হাসিমাখা মন নিয়ে বাড়িতে ফিরে আম্মুকেও স্যারদের করা প্রশংসামুলক কথাগুলো শোনাতাম। আম্মা আমায় অনেক আশা দিলেও বাবা বলতো, মাইয়া মানুষ। ওতো পড়োন লেহোনের দরকার নাই। (বাবা) আমি তখন মন খারাপ করে ঘর থেকে বের হয়ে আসতাম। পুকুর তলায় বসে বসে কিছু সময় কান্না করতাম। তারপর স্যারদের কথা মনে করে মনে জোর পেতাম। তখন ভাবতাম বাবা যা বলার বলুক। আমি পড়বোই, আর যেভাবেই হোক ভালো জায়গাতেই পড়বো। ছোট থেকেই জেদে টইটুম্বুর হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম। আম্মু মাঝে মাঝে বলতো, মা, মাইয়া মাইনষের অতো রাগ, মেজাজ, জেদ ভালো না। তারপর আমরা গরিব মানুষ(আম্মা) আমি তখন আম্মুর দিকে তাকায়ে, বই এর কোন জায়গায় লেহা আছে, রাগ, জেদ, মেজাজ খালি বড় লোকদের থাকন লাগবো??(আমি) আমার প্রশ্ন শুনে আম্মা চুপ কইরা থাকতো। এক এক করে সবগুলো লেভেল ভালো ভাবেই পাড় করলাম। এসএসসি তে A+ আসলেও ইন্টারে গিয়ে মাত্র ৫ পয়েন্টের জন্য A+ আসলো না। মনটা খারাপ ছিলো কিন্তু তারপরও আলহামদুলিল্লাহ বলেছিলাম। এরপর নামলাম আসল যুদ্ধে, মানে ভর্তিযুদ্ধ। আমার ফ্রেন্ডস সকলে ভালো জায়গায় কোচিং শুরু করলেও আমি করতে পারলাম না টাকার অভাবে। রাত্রে ঘুম আসতো না আমার। নিঃশব্দে কান্না করতাম। এত অভাবের মধ্যে কেনো পাঠাইলা আল্লাহ। শুধু ভাগ্যকে দোষ দিতাম। পুরাতন লাইব্রেরি থেকে একটা পুরাতন বই কিনে পড়তে শুরু করলাম। কিন্তু পড়েও কোন লাভ হলো না। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফরম উঠানোর লাষ্ট ডেট টা শেষ হয়ে গেলেও আমি টাকা জোগার করতে পারিনি। জহাঙ্গিরনগরের টা তুলতে পারলেও গাড়িভাড়া না থাকাই এক্সাম দিতে যাইতে পারলাম না। ওইদিনে এতটা রাগ হয়েছিলো যে বাবাকে সরাসরি বলেছিলাম, এক মাইয়ার জন্য কয়টা টাকা জোগাতে পারো না তে জন্মায় ছিলা কে?? বাবা আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় ছিলো। কিছু বলতে পারেনি। আম্মা আমায় টেনে বাহিরে নিয়ে এসেছিলো। রাত্রে বাবার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম। বাবা, আমায় ক্ষমা করো। আমার ভুল হয়ে গিছে। আমায় ক্ষমা.... বলার আগেই, বাবা আমার লুঙ্গির গিট থেকে ১০, টাকা ৫ টাকার অনেকগুলো নোট বাইর কইরা গুনতে কইলো। আমি গুনে দেখি ৩৪০ টাকা হইছে। বাবাকে বললাম, বাবা ৩৪০ টাকা হইছে। বাবা আমার দিকে তাকায়, আমার কাছে এর চাইতে বেশি আর নাই রে মা। আমি তখন অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকায় দেখি বাবার চোখে পানি। হাতের মধ্যে টাকাগুলো ফেরত দেউয়ার সময় বাবার হাত টা কেঁপে উঠলো, আমি বাবার হাত টা উল্টায়ে দেখি হাতে কড়া পড়ে গিছে। অজান্তেই চোখে পানি চলে এলো। আমার বাবা একজন দিনমজুর। আর মা বাসাতেই, চট বুনে সংসারের জন্য অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা করে। ওই রাত টা ছিলো আমার স্বপ্ন গুলোকে জীবন্ত কবর দেউয়ার রাত। বাইরে অমাবস্যার কালো অন্ধকারে নিজের চোখের জল দেখার মতো কেউ ছিলো না। এত বছরের আশা কে ভেতরে মেরে ফেলা যে কতটা কষ্টের সেটা শুধু সেই মানুষ টাই বুঝতে পারে যেই মানুষ টা এই অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। এরপরে, পয়েন্টের মাধ্যমে জাতীয় ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়। বাবা জোর করে ভর্তি করায়ে দেয়। আমার ত পড়াশোনার ইচ্ছা /শখ সব শেষ হয়ে গেছিলো। কিন্তু বাবাই আমাকে গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে এসে ভর্তি করায়ে দেয়। বাসা থেকে প্রায় ৪৫ কি.মি. দূরে কলেজ জন্য ইউনিভার্সিটির পাশেই একটা মেসে এসে উঠলাম। মাসে বাবা টেনেটুনে ১০০০ টাকা দিতে পারতো। আমি অনেক কষ্টে প্রাইভেট, টিউশনি জোগার করে পড়ানোর চেষ্টা করলেও। টিকে থাকতে পারতাম না। কারন বাচ্চাদের মা গুলো সবসময় বিরক্ত করতো। মনে হতো সে আমার টিচার। আমাকে বলে দিতো,এই টা পড়াও ওইটা পড়াও। এইটা পড়াবা না ওইটা পড়াবা না। একদিন বিরক্ত আর রাগে, ছাত্রে মাকে বললাম, আন্টি, আপনি এত জানেন, এত পারেন ত আমাকে রাখছেন কেন?? তারপর আর ও বাড়িতে যায়নি। বর্তমানে যেই বাসায় টিউশনি করায় এখানে সব ফ্যাসিলিটি পাইলেও মাস শেষে বেতন দিতে তালবাহানা করে। আর ২০০০ টাকার কিছুটা কম দিয়ে বলবে, চলবে এটা?? আসলে এবার তোমার আংকেলের একটু হাতের অবস্থা খারাপ আরকি। হাতের অবস্হা শুধু বেতন দেউয়ার সময়েই কি খারাপ হই নাকি?? গত কালকেও ৩০০০ টাকা দিয়ে শাড়ি কিনে এনে আমায় দেখায়ে বলে যে দেখতো কেমন হয়েছে?? এগুলো কিন্তু আমি মনে মনে বলতাম। বুঝি না। নিজে কষ্ট করে টিউশনি করায়।নিজের মানসিক শ্রমের টাকাটা দিতেও ওনাদের এত বাহানা। ভিক্ষা ত আর নিচ্ছি না। একটা কথা ঠিকি বলতো আম্মু, বড়লোক রা সার্থপর হয়। নিজের বেলায় ১৬ আনা বুঝে আর অন্যের বেলায় সিকি আনাও বুঝে না। আজকে যেই অগ্রিম টাকা নিলাম এটার কারন আছে। গত দিন বিকেলে আম্মা ফোন করে বললো, বাবার শরীর খারাপ, ঔষধ কিনার টাকা নাই, কি করবো আমি?? এই জন্য আজ লজ্যশরমের মাথা খেয়ে তন্নীর মায়ের থেকে টাকা টা অগ্রিম নিয়ে নিলাম। তন্নীকে পড়ানো শেষ করে, মেসের পাশের দোকানে গিয়ে বিকাশে ৫০০ টাকা সেন্ড করলাম। আম্মুকে আগেই বলে রেখেছিলাম, জলিল কাকার থেকে বিকাশ নাম্বার টা নিয়ে আমায় দিতে। আম্মু নাম্বার টা নিয়ে জলিল কাকার কাছেই ফোন ধরাইয়া দিয়েছিলো। আমার কাছে বিকাশ নাম্বার টা জলিল কাকায় দিছিলো। ফোন করে আম্মা কে বলেছিলাম, আম্মা, বাবার কেমন অবস্থা হই আমায় কিন্তু জানাবা। আম্মা কইছিলো আচ্ছা। ১৫০০ থেকে ৫০০ ত শেষ হয়ে গেলো। এখন বাচে ১০০০ টাকা। মেস ভাড়াই ৮৫০ টাকা, যদি ভাড়া টা দেয় ত মাস টা চলবো কি করে?? ৩ বেড শিটের বিছানায় আমি থাকতাম মাঝ বেডে। আমার রুমমেট ২ জন আধারাত অবধি ফোনে কথা বলে ঘুমাইয়া পড়লে আমি আমার পড়া শুরু করতাম। তবে নিঃশব্দে। চোখ বুলিয়ে। মোমবাতির আলোতে অনেকটা কষ্ট করেই আমাকে পড়তে হতো। কারন বড় লাইট জালায়লে রুমমেট ২ জন মিলে অনেক কথা শোনাতো। আমি কিছু বলতে পারতাম না জুনিয়র জন্য। সেজন্য প্রতিরাতে আমার একটা করে মোমবাতি মানে প্রতিরাতে আমার ৫ টাকা যেতো। আজ রাত্রে কেমন যেনো লাগছে। মনটাতে কেমন যেনো অস্থির লাগছে। বাবার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। কেমন আছে জানিও না। ফোন দিবো?? কিন্তু আমার ত ফোন নাই। আর জলিল চাচা যদি ঘুমে থাকে?? সব চিন্তা বাদ দিয়ে পড়ার দিকে মনোযোগ দিলাম। উফফ, না। ভাল্লাগছে না। কেমন যেনো চোখে না চাইতেও জল চলে আসছে। বাবার কথা এত মনে পড়ছে কেন?? আর না পেরে রুমমেট কে জাগিয়ে, তার ফোনটা থেকে কল দিতে বললে সে বললো, আমার ফোনে ব্যালেন্স নাই। অন্যজনকে জাগাই তুললে বলে, আমার ফোনতো বন্ধ। চার্জ নাই। আমার তখন রাগ হয়ে যায়। কি কারনে রাগ হই নিজেও জানি না। শুধু এটুকু জানি রাগ করে ওদের ২ জন কে বলেছিলাম, সারারাত জানোয়ার দের সাথে কথা বলো যাও। তখন টাকাও থাকবে, সাথে ফোনে চার্জ ও। ২ জন চুপ করে আমার দিকে তাকায় ছিলো। আমি রুম থেকে বেরোইয়ে পাশের রুমে থাকা আমার ফ্রেন্ড তিসারে ডেকে তুলি। ওর ফোন থেকে কল দেয় জলিল চাচার ফোনে। কিন্তু কেউ রিসিভ করে না। প্রায় সারারাত ই আমি কল দিতে থাকি আর কান্না করতে থাকি, তিসা আমায় চুপ করতে বললেও আমি থামতে পারিনি। শেষ রাত্রের দিকে জলিল চাচা ফোন রিসিভ করলে, হ্যালো চাচা, বাবা কেমন আছে??(আমি) ওপাশ থেকে চাচার কোন কথা না পেয়ে আমি ভয় পেয়ে যায়। এবার জোরে চাচাকে ডাকলে চাচা বলে, মনু, তোর বাবাই আর নাইরে। আমার কানে শুধু কথা টা বাজছিলো, তিসা আমাকে বার বার ঠেলা দিচ্ছে, কিরে কি বলে চাচা?? তোর বাবা ঠিক আছে?? আমি কোন কথা বলতে পারি নি। তিসাকে জড়ায় ধরে কেঁদে দেয়। তিসা আমার কান্না দেখে বুঝে ফেলে খারাপ কিছু হয়েছে। বাবাকে যখন খাটের উপর শেষ দেখা দেখি, আমার শুধু ওইদিন বলা বাবার কথাটা মনে পড়ছিলো, মা'রে, এই কয়টা টাকা ছাড়া আর ত আমার কাছে নাই...। খাটের উপরে গিয়ে বাবাকে জড়ায় ধরে পাগলের মতো কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম, বাবা, তোমার থেকে আমি আর কিছু চাইবো না। শুধু তুমি ফিরে আসো বাবা। আমি নিজে কাজ করবো তবুও তোমায় আর কাজ করতে দিবো না বাবা। ফিরে আসো বাবা, ফিরে আসো। অভাবের পরিসমাপ্তি থাকলেও অভাবের কারনে হারিয়ে ফেলা মানুষ গুলোকে ভুলে যাওয়া কি এতটাই সহজ??


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পুরুষরা লজ্জাশীল!
→ লজ্জাবতীকে ছুঁয়ে দিলাম
→ পিরিয়ড লজ্জার নয়,নারীর অহংকার
→ মুসলীমদের কাছে নাইট উপাদি সম্মান নয় লজ্জার হওয়া উচিৎ।
→ লজ্জাবতী বউ
→ লজ্জা
→ "লজ্জাবতী বউ"
→ গল্প : #কোন_লজ্জা_সরম_নাই !!!
→ লজ্জা করে
→ গণতন্ত্রও লজ্জা পাবে
→ লজ্জাবতী বউ
→ ট্যারা চোখে তাকাবেন না,আমার লজ্জা করে
→ মহিলাদের চেয়ে পুরুষের লজ্জা বেশী" ==============================
→ পাশে বসতে লজ্জা পেল "ইসরাত জাহান"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...