বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ ঘুমটা একটু সকাল সকালই ভেঙ্গে গেল।গতরাতে অনেক কৌতুহলের কারণে ঘুমটাও ভালভাবে হয় নি।শুধু ভাবছিলাম এই প্রথম কোনো রহস্য উদঘাটন করতে যাচ্ছি।জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকবো কি যে থাকবে এসব ভেবে ভেবে ঘুমটাই ভাল হলো না।যাই হোক বিছানা ছেড়ে উঠে বিছানা গুছিয়ে,হাতমুখ ধুয়ে মোবাইল থেকে সময় দেখি যে সকাল ৭টা বাজে।তাই বাইরে গিয়ে বাসার সামনের বাগানটাতে হাটাহাটি করতে গেলাম।এত সকালে কেউ উঠে নি বাসার।যাই হোক আধ ঘন্টার মত হাটাহাটি করে বাসায় গিয়ে দেখি উঠছে সবাই।তারপর সবাই সকালের নাস্তা করতে খাবার টেবিল এ বসলাম।নাস্তা খেতে খেতে মামা মামি বললেন তোমাদের এখানে কেমন লাগছে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?
সজিব:-নাহ মামা কি যে বলো কিসের আবার অসুবিধা হবে আমরা ভালই আছি।
আমি বললাম:-জি মামা সজিব ঠিকই বলেছে। ভালই আছি আমরা এখানে সবাই।
তারপর খাওয়াদাওয়া শেষ করে নিলাম।আজকের দিন কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়ে যখন বিকেল হলো তখন সবাই মামা,মামি কে ঘুরার কথা বলে বের হলাম।এটাও বলে রাখলাম যে আমাদের আসতে একটু দেরি হবে।বাইরে এসে সবাইকে বাসার সামনে বাগানটায় থামতে বলে আমি বাজার থেকে পাঁচটা টর্চ লাইট কিনে আনলাম।টর্চ লাইট কিনে আসার পর
সজিব:-কিরে লাইট কিনে আনছিস কেন?
রায়হান:-আরেহ বোকা জমিদার বাড়ির ভিতরে ঢুকবো আমরা ভিতরে কি আলো থাকবে।লাইট তো লাগবেই অন্ধকারে গিয়ে কি আর দেখবো।
সজিব:-মোবাইল ফোন আছে তো।মোবাইল ফোনের আলোতে হবে না?
আমি বললাম:-মোবাইল এর আলোতে ভাল বুঝা যাবে না।ভিতরে অনেক অন্ধকার।আর মোবাইলের চার্জও তো শেষ হয়ে যেতে পারে।তাই ভাল দেখে টর্চ লাইট কিনছি।
সুমি:-আরো একবার ভেবে দেখ তোরা নাহ গেলে হয় না।কিহ দরকার যাওয়ার অনেক দেখার সুন্দর জায়গা আছে তো এখানে কেন এমন ভৌতিক জায়গায় যাওয়া লাগবে।
সজিব:-সুমিতো ঠিকই বলছে আবির।
আমি বললাম:-আরেহ এত ভয় পাচ্ছিস কেনো তোরা।তোদের তো একা যাওয়া লাগছে না।আমি আছি,রায়হান আছে,রোদেলা আছে।
রোদেলা:-এভাবে এত কথা বললে এবার কিন্তু দেরি হয়ে যাবে।চল যাত্রা করি এবার।
আমি বললাম:- দাড়া সন্ধ্যা হওয়ার একটু আগে যাবো যাতে কেউ জানতে না পারে।
কিছুক্ষণ পর আসলো সেই সময়।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে আমরা রওনা দিলাম।আম বাগান পেড়িয়ে জমিদার বাসার কাছে আসলাম।সবাই একসাথে দরজার কাছে এসে চাবি বের করে তালাটা খুললাম আমি।তারপর ভিতরে ঢুকলাম।সবাইকে বললাম তোদের যার যার টর্চ লাইট জ্বালিয়ে নে।লাইট জালিয়ে দরজা আবার ভিরিয়ে দিয়ে তাকিয়ে দেখি ভিতরে সব খালি আর আছে শুধু মাকড়সার জাল।কত বছর যে এর ভিতর কেউ ঢুকে নি বুঝাই যাচ্ছে।সজিব তোহ ভয়ে আমাক জরিয়ে ধরলো।আর সুমি ও প্রথম থেকে রোদেলার হাত ধরে আছে।আমি বললাম:-আরেহ সজিব,সুমি ভয় পাস না কিছু হবে না।তারপর আরো ভাল করে দেখি বাড়ির ভিতর কিছুই নাই।আগের জমিদার বাড়ির সকল ডিজাইন চোখে পড়লো বাড়িটার মধ্যে।যা আজকে পুরো যেন ধ্বংশ হওয়ার পথে।জমিদার বাড়িটি দোতালা।সীড়ি দিয়ে উপরের ঘর দেখতে উঠলাম সবাই।ডান দিকে একবারে কোনার ঘরের কাছে গিয়ে সবাই অবাক হলাম।দেখি সেই ঘর থেকে আলো আসছে।অন্য কোন ঘর থেকে তো কোনো আলো আসছে না।আমি সবাইকে বললাম বন্ধুরা চলতো দেখি ঘরটার মধ্যে কি আছে।রোদেলা আর রায়হান রাজি হলেও সজিব আর সুমি যেতে রাজি হচ্ছিল না।তারা বললো চল এখন যাই অনেক তো দেখলাম আমাদের ভয় করছে অনেক।আমি বললাম আরেহ চলতো এই ঘর দেখেই চলে যাব।তারপর তাদের দুজনকে নিয়ে জোর করেই সবাই ঘরটির ভিতরে ঢুকলাম।অন্য ঘরে তালা মারা থাকলেও এই ঘরে যেন কোন তালা ছিল না।তাই সহজেই ঢুকে গেলাম।ঢুকে তো আরো অবাক হলো।অনেকটাই বড় ঘর।এই ঘরে সুন্দর লাইটের ব্যাবস্থ আছে।আগেকার ঝাড়বাতি থেকে আসছে আলো।আর সব জিনিষপত্র এত সুন্দর আর একেবারে নতুন নতুন লাগছে।এত পুরাতন জমিদার বাড়ির একটা ঘর এত সুন্দর।
রায়হান:-আবির এই ঘর এমন কেন।সবকিছু নতুন নতুন এর কারণ কি হতে পারে?
আমি বললাম:-মনে হয় এই ঘর স্পেশাল কারো ঘর তাই এখনো সকল আসবাবপত্র এত নতুন।কেউ মনে হয় এখানে প্রবেশ করে আর পরিষ্কার করে এই ঘর।
ঘরটাতে সবচেয়ে অবাক করা একটা জিনিষ দেখলাম তাহ হলো ঘরটায় একটা সুন্দর আয়না আছে।এত সুন্দর আয়না আমি জীবনে কখনো দেখি নাই।মনে হচ্ছে কোনো জমিদার কন্যার ঘর এটা।আবার একটা সুন্দর দোলনাও আছে ঘরে মধ্যেই।দোলনা তে বসে আমি একটু দুল খেলাম।সজিব কেউ বসালাম আমার পাশে।ওহ আসতে চাচ্ছিল না তাও জোর করে বসিয়ে দিয়েছি।ওদিকে রায়হান ঘরটির বিছানা তে বসে জিড়িয়ে নিচ্ছিল।আর আয়নাতে সুমি আর রোদেলা নিজেদের মুখ দেখতে লাগলো।তারপর আমিও গেলাম আয়নাটা দেখতে ভাল করে।রায়হান,সজিব ও আসলো।আয়নাটাতে অনেক আগের বছরের শিল্প শৈলি ছিল।আয়নাটা মাঝামাঝি আকারের বড় ছিল।সুন্দর প্রাচীন ডিজাইন করে আয়নাটি বানানো হয়েছে মনে হচ্ছে।আয়নার পাশে ছিল একটা আগের আমলের চিড়ুনি।তারপর আমি ঘড়িতে দেখি ৯ টা বেজে গেছে।আমি সবাইকে বললাম আরেহ অনেক দেরি হয়ে গেছে।আমি ভাবছিলাম ৮ টার দিকে চলে যাব।চল সবাই যাই এখন।আর ওদিকে রোদেলা তো আয়না ছেড়ে উঠতেই চাচ্ছে না।সে চিড়ুনি দিয়ে তার চুল আছড়াচ্ছে।
আমি বললাম:-রোদেলা এবার আয়না ছেড়ে উঠ।এমনিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।মামা মামি চিন্তা করবে নি।
রোদেলা:-আসলে আয়নাটার মধ্যে কি যে আছে উঠতেই মনে চাচ্ছে না।যাই হোক চল এবার যাই।তারপর সবাই জমিদার বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আবার তালা মেরে দিলাম বাসার তারপর বাসার দিকে রওনা দিলাম।বাসায় যেতে যেতে সজিব আর সুমিকে বললাম কিরে খুব তো ভয় পাচ্ছিলি এখন দেখলি তো ভিতরে ভয়ের কিছু নাই।ওরা কোনো উত্তর দিল না।মনে হলো ওদেরও যেন ভয় দূর হয়ে গেছে অনেকটাই।যাই হোক বাসায় পৌছাতে পৌছাতে রাত প্রায় সাড়ে নয়টা বেজে গেছে।মামা মামি দেখি খাবার টেবিল এ বসে আছে।আমরা আসতেই এগিয়ে এলো আর বললো আরেহ তোমরা কই গেছিলে এত দেরি হলো।আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল।নতুন জায়গা তোমরা ভালভাবে কিছু চিন না।এত রাত বাহিরে থাকলে হয়।আমাদের চিন্তা হয় বুঝো না।
আমি বললাম:-মামা এমনিতে বাইরে ঘুরতে ঘুরে কখন যে এত দেরি হয়ে গেল বুঝতে পারি নি।আর কখনো এত দেরি হবে না মামা।তারপর
মামি বললেন যাই হোক তোমরা যাও হাত মুখ ধুয়ে আস।রাতার খাবার খেয়ে নাও।
তারপর সবাই হাতমুখ ধুয়ে এসে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম।
তারপর কি হলো?
একটা আয়না আবির ও তার বন্ধুদের কিভাবে এক ভয়ংকর এক পরিণতি বয়ে আনলো জানতে পরবর্তী পর্ব৫ এর জন্য অপেক্ষা করুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now