বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গরিবের ঈদ

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mujakkir Islam (০ পয়েন্ট)

X **গরিবের ঈদ** Written By:-Jonaki Alo : : : -মা ও মা দুইডা ভাত দিবা? অনেক খিদা লাগছে পেডে।দাও না কয়ডা ভাত। -তোর বাপে কি জমিদার হইয়া গেছে নাকি যে তোর লাইগা ভাত রানমু।ওই রোজার দিনে এতো ভাত ভাত করছ কেন? রোজা রাখতে পারোস না।যা দূরে সর সামনের থেইকা নাইলে এহন পিডান খাবি আমার হাতে। . ছোট মেয়েটি চলে যায় মার ভয়ে কোথাও দূরে। আর মা মেয়েকে বকে চোখের জল লুকিয়ে শাড়ির আচল দিয়ে মুচে। . এছাড়া আর কিইবা করার আছে তার।স্বামী রিক্সা চালায়।পেট ভরে দু'মুঠো ভাতও খেতে পারে না ঠিক মতো।না খেয়ে স্বামী চলে যায় কাজে।আর না খেয়েই রোজা রাখতে হয় তাকে।গরীবের কপালে সুখ বলে যে কিছুই নেই তাদের। . ঠিক মতো ইফতারিতো দূরে থাক।শুধু মাত্র এক গ্লাস পানি খেয়েই ইফতারি করতে হয়।আর যদি ভাজ্ঞে জুটে তাহলে আগের বাসি পচা পান্তা ভাত শুকনো মরিচ দিয়ে আর নাহয় লবণ মেখেই খেতে হয়। ছোট মেয়েটাকে ভাত দিলেও সে ভাতে তো আর পেট ভরে না।তবুও কোনো মতে খেয়ে নেয় মেয়েটি।কিন্তু মাঝে মাঝে খুদা সহ্য করতে না পারলে চলে আসে মায়ের কাছে।যদি মায়ের কাছে কিছু থাকে তাহলে দেয় আর নাহয় এভাবে বকে দূরে সরিয়ে রাখে।নাহলে কিভাবে বলবে যে এই গরীবের ঘরে এক বেলার চেয়ে বেশী খাবার যে থাকে না। . মেয়েটি মাঝে মাঝে বাবার কাছে বায়না ধরে তার ছোট পুতুল লাগবে।আশে-পাশের বাচ্চারা কি সুন্দর পুতুল দিয়ে খেলা।তারও যে খেলতে ইচ্ছে হয়।কিন্তু গরীব বলে তাকে কেউ খেলায় নেয় না।তখন তার খুব খারাপ লাগে।তাই তারও একটি পুতুল চাই।তখন বাবা শুধু অসহায়ের মতো মেয়ের কথায় মাথা নাড়ায়। . নাহয় আর কি বলবে মেয়েকে যে সংসারে দু'মুঠো ভাত খেতে দিতে পারে না।আর পুতুল কিনবে কোথা থেকে সে।সে যে অনেক অসহায়।তার যে দেওয়ার মতো নেই কিছু।তবুও মেয়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য দিন-রাত খেটে যাচ্ছে সে।নিজের কষ্টের কথা না ভেবে শুধু মাত্র মেয়ের মুখের হাসিটা দেখতে চায়।এতেই যে তার সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। . -মা,মা জানো পাশে না এক মাইয়ার বাপে ওর লাইগা কি সুন্দর একটা লাল জামা আনছে।ও মা আব্বারেও কও না আমার লাইগাও এইবার ঈদে একটা লাল জামা কিন্না দিতে। -ইইহহ কত্ত ঢং দেহো না।ভাত খাইতে ভাত পায় না আবার হের লাল জামা লাগবো।তোর লাইগা কি টাকার গাছ লাগাইছে নাকি? যা এইখান থেইকা।আর কোনো দিন ওই বাড়িতে যাবি না বুজছোস। . এরপর মেয়েটি চলে যায় আবার সেই লাল জামা দেখার জন্য।এবার আর মাকে বলবে না লাল জামার কথা।সে শুধু চুপিচুপি দেখবে সেই লাল জামাটাকে।আর কখনই মাকে কোনো কিছুর কথা বলবে না সে। আর মায়ের মন শুধু চায় মেয়েটির জন্য যেভাবেই হোক একটা লাল জামা কিনে দিবে।দরকার হয় না খেয়ে থাকবে তবুও মেয়েকে তার শখের লাল জামা এনে দিবে।মেয়েটি একটি ছিড়া জামা পড়ে থাকে।কিইবা চায় মেয়েটি কিছুইতো দিতে পারি না মেয়েটিকে।এবার নাহয় একটি লাল জামাই দিবো। এসব ভাবে আর চোখের জলে শাড়ির আচল ভিজায়।এটাই যে তাদের নিয়তি। . ঈদ কি শুধুই বড়লোকদের জন্য,গরীবের জন্য না?? ঈদতো সবার জন্যই।তাহলে বড়লোকরা কেন ২-৩ টা করে নতুন জামা কিনতে পারে ,গরীবরা কেন একটিও পায় না?? গরিবের ঈদ কি শুধুই মনের আনন্দে কাটাতে হয়।তাদের কি কোনো কিছুরই পাবার ইচ্ছে জাগে না? মনে ইচ্ছে জাগে না যে ওরাও নতুন জামা পড়বে,সবার সাথে ঘুড়ে বেড়াবে,সুন্দর ভাবে ঈদ উদযাপন করবে? এগুলোর ইচ্ছে কি শুধু মাত্রই বড়লোক মানুষদের মনের জাগে?? আসলে ঈদ সবার জন্যই কিন্তু কেউ ঈদে নতুন নতুন জামা পড়ে ঈদ উদযাপন করে।আর কেউবা অল্প কিছুতেই মনের আনন্দে ঈদ উদযাপন করে।বড়লোকদের চেয়ে ঈদের আনন্দ গরীবরাই বেশী উপভোগ করে।কারণ বড়লোকরা শুধু মাত্রই নিজেদের মাঝেই ঈদ উদযাপন করে।কিন্তু গরীবরা সব মানুষদের সাথে ঈদ উদযাপন করে। ------------------ Copied


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উৎসবের ফুল ও গরিবের গণতন্ত্র
→ গরিবের ঈদ
→ গরিবের চাপা কান্না
→ গরিবের মেয়ে আর বড়লোকের ছেলের প্রেমের গল্প
→ মৃত্যু ধনী-গরিবের পার্থক্য বোঝে না
→ গরিবের ঈদ
→ গরিবের কস্ট
→ গরিবের সন্তান
→ গরিবের ভালোবাসা.......
→ গরিবের ছেলে এখন শিক্ষক....
→ গরিবের বেচে থাকাই আনন্দের
→ গরিবের ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now