বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেস্টফ্রেন্ড যখন বস

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sahedul (০ পয়েন্ট)

X পর্ব:১- ইন্টারভিউ দিচ্ছি। সামনে তিনজন বসে আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে পরিচিত হচ্ছে সিমি। আমার বেস্টফ্রেন্ড। বেস্টফ্রেন্ড বললে ভুল হবে।কারন এখন তার সাথে আমার বন্ধুত্ব নেয়। সে নিজেই কোন কারন ছাড়াই আমার সাথে রাগারাগি করে বন্ধুত্বটা নষ্ট করেছিল। ভার্সিটি লাইফে সেরা বন্ধুত্ব ছিল ৩য় বর্ষ পর্যন্ত। বন্ধুত্ব নষ্ট হবার দু বছর পর আবার দেখা পেলাম তার। . মনে মনে তাকে ভালোও বাসতাম। বলব বলবো করে বলা হয়নি। . সিমিঃকি হলো মি. আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়েছে।উত্তর দিলে দিন নাহলে অযথা আমার সময় নষ্ট করবেন না। . আমিঃসরি। . ----- ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় এসে শুয়ে আছি। চাকরিটা খুব দরকার। বাবা-মা আত্মিয়স্বজন কেউ নেই যে আমাকে বসে বসে খাওয়াবে। . বাড়িওয়ালা আংকেলটা খুব ভালো। তাই বাসায় থাকতে দিয়েছে। নাহলে ঢাকা শহরে ব্যাচেলারদের বাসা ভাড়া পাওয়া মানে মরুভূমিতে বৃষ্টি দেখা। . সন্ধ্যার সময় উনার ছোটমেয়েকে পড়ায়। আংকেলের দুই মেয়ে। ইতি আর ইরা । ইতি আমার সমবয়সী। ইরা সেভেনে পড়ে। আন্টি অনেক আগেই গত হয়েছেন। . ফ্রি থাকি এখানে। ডিনার মালিকের বাসায় করি।সকালটা এক কাপ চা আর টোস্ট বিস্কিটএ খেয়ে পার করি। লাঞ্চ করা লাগেনা আমাদের মত মানুষদের। . বাকি পরিচয় পরে . দরজায় ঠক ঠক শব্দ হচ্ছে। হয়তো কেউ নক করছে। . দরজা খুলে দেখি ইতি দাঁড়িয়ে আছে। হাতে খাবার ভর্তি থালা। . ইতিঃশুয়ে ছিলেন? . আমিঃজ্বি। কিছু বলবেন? . ইতিঃএই নিন আপনার খাবার। নিশ্চই লাঞ্চ করেন নি। . আমিঃনা মানে করেছি। . ইতিঃআমি কিন্তু মিথ্যে কথা একদম পছন্দ করিনা। আপনাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে কিছু খাননি। নিন আর খাবেন কিন্তু। নাহলে খবর আছে। . আমিঃধন্যবাদ। . ইতিঃআমি ধন্যবাদ দিতে বলেছি? . আমিঃনা।উপকার করলেন বদলে ধন্যবাদ দেওয়া কি খারাপ দেখায়? . ইতিঃঅবশ্যই খারাপ দেখায়। আমরা সমবয়সী। মানে বন্ধু। আর বন্ধুকে কেউ ধন্যবাদ দেয়? . আমিঃনা। . ইতিঃআচ্ছা খেয়ে নাও। আমি গেলাম। . ইতি চলে গেল। আমি মেয়েটাকে এতদিনেও বুঝতে পারলামনা। কখনো তুমি কখনো আপনি। তবে মেয়েটা সত্যিই অনেক ভালো। বড়লোকের মেয়েরা সাধারনত অহংকারি রাগি বদমেজাজি হয়ে থাকে। তবে ইতি একদম সাধারন। দেখতে মাশআল্লাহ। . যাইহোক আমি খেয়ে নিলাম বিরিয়ারি। রান্নার হাত অনেক সুন্দর মানতে হবে। . প্লেট পরিষ্কার করে রাখলাম । ইরাকে পড়াতে গেলে দিয়ে দিব। . ------- আমিঃইরা কি হয়েছে? পড়ছোনা কেন? মনযোগ কোথাই? . ইরাঃস্যার একটা কথা বলবো? . আমিঃপড়ার ব্যাপার হলে বলো নাহলে থাক। . ইরাঃভালবাসা কি বয়স দেখে হয়? . পানি খাচ্ছিলাম। ইরার কথা শুনে গলায় পানি আটকে গেল। খক খক করে কাশি দিতে থাকলাম। ইতি এসে কোনরকম সামলালো। . ইতিঃকি করছো? দেখে পানি খাও। ব্যাথা করছে? . আমিঃনা ঠিক আছে। . ইতিঃকি এমন হয়েছে যে পানি আটকালে? . আমিঃ----। . ইতিঃইরা তুই বল। কি হয়েছে। . ইরাঃআসলে আপু স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম ভালোবাসা বয়স দেখে হয় কিনা? তখনি স্যারের গলায় পানি আটকে গেল।আমি কি ভুল কিছু বলেছি? . ইতিঃসাট আপ। বেয়াদব কোথাকার। তোর সাহস হয় কি করে ওকে এসব বলার। . ইরাঃবলেছি বেশ করেছি। আমার স্যার। যা খুশি বলবো। তোমার কি? . ইতিঃচুপ করবি নাকি দিব কানের নিচে। . আমিঃআপনি যান। আমি বুঝাচ্ছি ব্যাপারটা। . ইতিঃহুম। . আমিঃবুঝছো ইরা ভালবাসা বয়স দেখে হয়না। তবে প্রত্যেকটা জিনিসের একটা সিমা আছে। আমাদের সেই সিমাটা অতিক্রম করা উচিত নয়। তুমি এখনো পিচ্চি। এসব নিয়ে না ভেবে পড়াশুনাই মন দাও। . ইরাঃসবাই শুধু জ্ঞান দেয় হুহ। . ইরাকে পড়িয়ে সবার সাথে ডিনার করে রুমে এলাম। আংকেলই ডিনার করার জন্য রেখে দেয়। তাছাড়া ইতি ছাড়েনা। . রুমে এসে শুয়ে আছি তখন ম্যাসেজ টোন বেজে উঠলো। . ম্যাসেজে বলা হয়েছে টাকরিটা কনফার্ম। সিমি আমাকে চাকরি দিল আশ্চর্য!!!! যেরকম ব্যাবহার করেছে চাকরির আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। . ১ তারিখ জয়েনিং। ----- অফিস বেরব তখন একবার আংকেলের সাথে দেখা করলাম। বের হয়ে আসছিলাম তখন ইতিঃ এই নিন। . আমিঃকি আছে এতে? . ইতিঃটিফিন। . আমিঃকিন্তু। ,। ইতিঃকিছু বলবেননা। নিন। . আমিঃধন্যবাদ। . ইতি চোখ গরম করে তাকাল। . আমিঃসরি। ভুলে বলে ফেলেছি। . ইতিঃহুমম ওকে। সাবধানে যান। ------; অফিসে বসে আছি। কোন কাজ পায়নি এখনো। ম্যাডামের রুমে মানে সিমি যখন ডাকবে তখন যেতে হবে। . পিয়নঃস্যার ম্যাডাম ডেকেছে আপনাকে। . আমিঃআপনি আমার বড়।এমনকি বাবার বয়সি। আমাকে স্যার আর আপনি বলে ডাকার দরকার নেই।ছেলে ভেবে কথা বলবেন। . আমার কথা শুনে ওনার চোখ ছলছল করতে লাগলো। হয়তো নিচু পোস্টে চাকরি করার কারনে কেউ সন্মান দেয়না এনাদের। . আমিঃআসতে পারি? . সিমিঃহুম। . আমিঃএখনো রাগ করে আছিস আমার ওপর? . সিমিঃবাবার অফিস পেয়েছেন? তুই কি? আমি আপনার মালিক আপনি আমার সামান্য কর্মচারী। যেরকম সম্পর্ক সেরকম কথা বলবেন। বুঝেছেন। . সিমির কথা শুনে মন ধক করে উঠলো।চোখ প্রায় জ্বালা করছে।হয়তো পানি জমেগেছে। . আমিঃসরি ম্যাম। আর হবেনা। . ফাইল নিয়ে নিলাম।আর বেতন অগ্রিম দিল। । . বের হয়ে আসছিলাম তখন একটা ছেলের সাথে ধাক্কা লাগে। ছেলেটাঃঠাসস। ছোটলোক। দেখে চলতে পারিস না। কোর্টের দাম জানিস? ফকন্নি। যা বের ছেলেটাঃঠাসস। ছোটলোক। দেখে চলতে পারিস না। কোর্টের দাম জানিস? ফকন্নি। যা বের হ। । প্রায় কেঁদে দিব অবস্খা। চলবে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now