বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

~ আমার আম্মুর কাছ থেকে!

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম(হিমু ও মিসির আলি) (০ পয়েন্ট)

X আমার বাচ্চাটা যেদিন প্রথম স্কুলে অংক টিচারের বকা শুনেছিলো, সেদিন বাসায় এসেই আমার গলাটা জড়িয়ে ধরে শুধু বলেছিলো "আম্মু,,তোমার মন খারাপ হলে,যে নামাজটা পড়ো ওটা আমাকেও একটু শিখিয়ে দিবা?" আমি সেদিন ওর কথায় অতিমাত্রায় বিস্মিত না হয়ে পারিনি। পরে একদিন স্কুলে গিয়ে জানতে পারি ওর টিচার অংক ভূলের কারনে খুব বকেছিলো সেদিন। . এর কিছুদিন পরের ঘটনা.... সেদিন আমি বাসায় ছিলামনা।কোনো এক কারনে বাবার বাসায় গিয়েছিলাম।বাসায় শুধু মা (শাশুড়ী)ছিলেন।ও স্কুল ছুটি শেষে বাসায় ফিরে জানতে পারে আমি ওর নানুর বাসায়।আমার ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বাসায় ফিরে দেখি আমার ছেলে আর ওর দাদুন বসে মাগরিবের নামাজ পড়ছে। আমি রাতের খাবারের জন্য যখন রান্না করতে চাইলাম তখন মা বললেন তিনিই রান্না করে রেখেছেন।আর সেই রান্নায় নাকি হাতে হাতে সাহায্য করেছে আমার ছেলেটা। . এইতো গত শুক্রবারে...... ওর বাবা আর দাদাই যখন তৈরি হচ্ছিলো মসজিদের উদ্দেশ্যে। ততোক্ষণে আমার ছেলে একাই গোসল সেরে ফেলে। পায়জামা পাঞ্জাবিটা ওর দাদুনের সাহায্যে পরে এসে, আতরের কৌটা টা নিয়ে আমায় লাগিয়ে দিতে বললো।আমি ওর পাঞ্জাবিতে আতরটা লাগিয়ে দেওয়ার পর কৌটা-টা আমার হাত থেকে নিয়ে এক দৌঁড়ে ওর বাবা, দাদাই কে লাগিয়ে দিতে চলে যায়। প্রতি সপ্তাহের খাবারের টাকাটা জমিয়ে রাখতো ওর পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে।আমি টেবিল গোছানোর সময় সব বই খাতা সমেত টাকাগুলোও দেখতাম। শুধু কোনো প্রশ্ন করতামনা কখনো।শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেই টাকাগুলো ওখানেই থাকতো। আমি রোজ একবার করে দেখে আসতাম। কিন্তু জুমুআর নামাজের পর আর টাকাগুলো দেখতে পেতামনা।বুঝতে আর বাকি রইলোনা আমার ছেলে টাকাগুলো কোন পথে দিয়ে আসে। . এখন আসি চলমান সময়ে..... গতকাল ইফতারের সময় যখন আমরা সবে মাত্র খেজুর মুখে নিয়ে ইফতার শুরু করেছি, তখনি একজন মধ্যবয়সী ভদ্র মহিলা বাসায় আসেন। আমার ছেলেটা দৌঁড়ে গিয়ে দড়জাটা খুলে ভেতরে নিয়ে এসে ইফতার করতে দেয় ওনাকে। উনি ইফতারটা শেষে একটু ভাত খেতে চাইলেন। আমি দ্রুত খাবারটা খেতে দিয়েই মাগরিবের নামাজে চলে গেলাম। নামাজ শেষে এসে দেখি আমার ছেলেটা ওনাকে কিছু ইফতারি প্যাকেটে করে ভরে দিচ্ছেন। ভদ্র মহিলা যাবার সময় আমার ছেলেকে অনেক দোয়া করে গেলেন। রাত্রে ওর বাবার সাথে তারাবীতে যাবার সময় ওকে মাথায় টুপিটা পড়িয়ে দিয়ে কপালে একটা চুমু খেয়ে প্রশ্ন করলাম। বাবাই সোনা,,এতোগুলো ভালো কাজ তুমি কোথায় থেকে শিখলা? আমার ছেলেটা প্রতিত্তোরে হাসিমুখে জবাব দিলো, "আমার আম্মুর কাছ থেকে" . . . (প্রতিটা সন্তানের প্রথম শিক্ষক তার মা। তারপর তার পরিবার।আপনারা বাচ্চাদের সামনে যা করবেন ওরা তাই শিখবে। সেটা নেগেটিভ বা পজিটিভ যাইহোকনা কেন। বিশেষ করে নেগেটিভ ব্যপারগুলো বাচ্চাদের উপর প্রভাব ফেলে খুবই দ্রুত।তাই ওদের সামনে সকল মন্দ কাজগুলো এড়িয়ে চলুন।আর ভালো কিছুর শুরুটা করুন ছোট থেকেই। কেননা আজ যা শেখাবেন কাল ওরা তাই প্রকাশ করবে। তাহলে ভালো কিছু দিয়েই শুরুটা নয় কেন।) #সোনিয়া_শেখ#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now