বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দেবী-হুমায়ূন আহমেদ*( পর্ব 1 )

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আমি কে..... (০ পয়েন্ট)

X আনিস শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে বলল, "ঠিক আছে বিশ্বাস করলাম, এখন দয়া করে আপনি-আপনি করবে না।' রানু ফিসফিস করে বলল, আপনার সঙ্গে যে আমার বিয়ে হবে, সেটাও আমি জানতাম।” | ‘এটাও স্বপ্নে দেখেছিলে?" | ‘হু। দেখলাম, একটি লােক খালিগায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পেটের কাছে একটা মস্ত কাটা দাগ। লােকটিকে দেখেই মনে হলাে, এর সঙ্গে আমার বিয়ে হবে। আমি তাকে বললাম, কেটেছে কীভাবে? আপনি বললেন, 'সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। আনিস সে রাতে দীর্ঘক্ষণ কোনাে কথা বলতে পারে নি। তার পেটে একটা কাটা দাগ সত্যি-সত্যি আছে, এই মেয়েটির সেটা জানার কথা নয়। তবে সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে কাটে নি। জামগাছ থেকে পিছলে পড়ে কেটেছে। ব্যাপারটা কাকতালীয়, বলাই বাহুল্য। মাঝে-মাঝে এমন দুই-একটা জিনিস খুব মিলে যায়। তবুও কোথায় যেন একটা ক্ষীণ অস্বস্তি থাকে। বাইরে বৃষ্টি খুব বাড়ছে। ঝড় হবে বােধহয়। শোঁ-শোঁ আওয়াজ হচ্ছে জানালায়। একটি কাচ ভাঙা। প্রচুর পানি আসছে তা জানালা দিয়ে, শীত-শীত রানু, চল ঘুমিয়ে পড়ি। ‘সিগারেট শেষ হয়েছে?" “হ্যা।' বিছানায় ওঠামাত্র প্রবল শব্দে বিদ্যুৎ চমকাল। ৰাতি চলে গেল সঙ্গে-সঙ্গে। শুধু এ অঞ্চল নয়, সমস্ত ঢাকাই বােধ করি অন্ধকার হয়ে গেল। আনিস বলল, ‘ভয় লাগছে রানু?” ‘হ্যা।' “আচ্ছা, হাসির গল্পট কর। এতে ভয় কমে যায়। বল একটা গল্প। ‘তুমি বল। আনিস দীর্ঘ সময় নিয়ে এক জন পাদ্রী ও তিনটি ইহুদি ও তিনটি মেয়ের গল্প বলল। গল্পের এক পর্যায়ে শ্রোতাকে জিজ্ঞেস করতে হয়—পাদ্রী তথন কী বলল? এর উত্তরটি হচ্ছে পাঞ্চ লাইন, কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করল না বানু। সে কি শুনছে ? আনিস ডাকল, 'এই রানু, এই! রানু কথা বলল না। বাতাসের ঝাপটায় সশব্দে জানালার একটি পাল্লা খুলে গেল। আনিস বন্ধ করবার জন্যে উঠে দাঁড়াতেই রানু তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় বলল, 'তুমি যেও না। খবরদার, যেও না!" কী আশ্চর্য, কেন?" ‘একটা-কিছু জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। “কী যে বল!" “প্লীজ, প্লীজ। রানু কেঁদে ফেলল। ফেঁপাতে-ফোঁপাতে বলল, “তুমি গন্ধ পাচ্ছ না?” কিসের গন্ধ?" 'কপূরের গন্ধের মতাে গন্ধ। এটা কি মনের ভুল? সূক্ষ্ম একটা গন্ধ যেন পাওয়া যাচ্ছে ঘরে। ঝন্‌ঝন্‌ করে। আরেকটা কাচ ভাঙল। রানু বলল, 'ঐ জিনিসটা হাসছে। শুনতে পাচ্ছ না?" বৃষ্টির শব্দ ছাড়া আনিস কিছু শুনতে পেল না। তুমি বস তাে। আমি হারিকেন জ্বালাচ্ছি।' “না, তুমি আমাকে ধরে বসে থাক।' আনিস অস্বস্তির সঙ্গে বলল, 'তুমি ঐ জানালাটার দিকে আর তাকিও না তাে!' আনিস লক্ষ্য করল, রানু থরথর করে কাপছে, ওর গায়ের উত্তাপও বাড়ছে। রানুকে সাহস দেবার জন্যে সে বলল, 'কোনাে দেয়া-টোয়া পড়লে লাভ হবে? আয়াতুল কুর্সি জানি আমি। আয়াতুল কুর্সি পড়ব?" বানু জবাব দিল না। তার চোখ বড়-বড় হয়ে উঠেছে। মুখ দিয়ে ফেনা ভাঙছে নাকি? শ্বাস ফেলছে টেনে-টেনে। এই রানু, এই।' কোনােই সাড়া নেই। আনিস হারিকেন জ্বালাল। রান্নাঘর থেকে খুটখুট শব্দ আসছে। ইদুর, এতে সন্দেহ নেই। তবু কেন জানি ভালাে লাগছে না। আনিস বারান্দায় এসে ডাকল, রহমান সাহেব, ও রহমান সাহেব।' রহমান সাহেব। বােধহয় জেগেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বেরুলেন। কী ব্যাপার?" আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চলবে ..................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now