বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাঝরাতের দিকে রানুর ঘুম ভেঙে গেল।
৩ার মনে হলাে ছাদে কে যেন হটছে। সাধারণ মানুষের হাটা নয়, পা টেনে টেনে হাঁটা।
সে ভয়ার্ত গলার ডাকল, এই, এই।
' আনিসের ঘুম ভাঙল না। বাইরে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। অল্প-অল্প বাতাস।
বাতাসে জামগাছের পাতায় অদ্ভুত এক নামের শপ উঠছে।
রানু আবার ডাকল, 'এই, একটু ওঠ না। এই।'
কী হয়েছে?' “কে যেন ছাদে হাঁটছে।' “কী যে বল! কে আবার ছাদে হাঁটবে? ঘুমাও তাে।
“প্লীজ, একটু উঠে বস। আমার বড় ভয় লাগছে।'
আনিস উঠে বসল। প্রবল বর্ষণ শুরু হলাে এই সময়।
ঝমঝম করে বৃষ্টি। জানালার পর্দা বাতাসে পতপত করে উড়তে লাগল।
রানু হঠাৎ দেখল, জানালার শিক ধরে খালিগায়ে একটি রোগামতাে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
মানুষটির দুটি হাতই অসম্ভব লম্বা। রানু ফিসফিস করে বলল, ওখানে কে?"
কোথায় কে?" “ঐ যে জানালায়।' “আহ, কী যে ঝামেলা কর!
নারকেল গাছের ছায়া পড়েছে। "একটু বাতিটা জ্বালাও না।”
“রানু, তুমি ঘুমােও তাে।'
আনিস শুবার উপক্রম করতেই ছাদে বেশ কয়েক বার থপথপ শব্দ হলো।
যেন কেউ-এক জন ছাদে লাফাচ্ছে।
রানু চমকে উঠে বলল, 'কিসের শব্দ হচ্ছে?"
‘বানা। এ জায়গারা বানর আছে। কালই তাে দেখলে ছাদে লাগলাফি করছিল।'
‘আমার বড় ভা করছে। একটু উঠে গিয়ে বাতি জ্বালাও না। পায়ে পড়ি তোমার।'
আনিস বাতি জ্বালাল। ঘড়িতে বাজে দেড়টা। ছাদে আর কোনাে শব্দ শােনা যাচ্ছে না।
শুধু রানুর ভয় কমল না। সে কেপে-কেপে উঠতে লাগল। আমি
বিরক্ত স্বরে বলল, 'এ রকম করছ কেন?”
"কেন জানি অন্য রকম লাগছে আমার। একটা খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।'
কী স্বপ্ন?" “দেখলাম আমি যেন...'
কথার মাঝখানে হঠাৎ রানু থেমে গেল। কে যেন হাসছে। ভারি গলায়। হাসছে।
রানু কাপা স্বরে বলল, “হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছ? কে যেন হাসছে।
“কে আবার হাসবে! বানরের শব্দ। কিংবা কেউ হয়তাে জেগে উঠেছে দোতলায়।'
আনিস লক্ষ্য করল, রানু খুব ঘামছে। চোখ-মুখ রক্তশূন্য।
বালিশের নিচ থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করল।
দেশলাই জ্বালাতে জ্বালাতে বলল, কী স্বপ্ন দেখছিলে?'
দিনের বেলা বলব।' “কী যে সব কুসংস্কার তােমাদের! এখনাে ভয় লাগছে?"
‘ভয়টা কিসের? চোর-ডাকাতের, না ভূতের?" বুঝতে পারছি না।'
'ঠিক আছে, বাতি জ্বালানােই থাক। বাতি জ্বালিয়েই ঘুমাৰ আজকে।
এখন বল দেখি, কী স্বপ্ন দেখলে?”
দিনের বেলা বলব।' “আহ বল না! বললেই ভয় কেটে যাবে।'
রানু আনিসের বাঁ হাত শক্ত করে চেপে ধরল।
থেমে-থেমে বলল, 'দেখলাম, একটা ঘরে আমি শুয়ে আছি।
একটা বেঁটে লােক এসে ঢুকল। তারপর দেখলাম, সে আমার শাড়ি টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করছে।”
আনিস শব্দ করে হাসল। রানু বলল, “হাসছ কেন?" 'হাসব না?
এটা কি একটা ভয় পাওয়ার স্বপ্ন?" “তুমি তাে সবটা শােন নি।
‘সবটা শুনতে হবে না। পরে কী হবে তা আমার জানা।
তুমি যা দেখেছ তা হচ্ছে একটা সেঞ্জুয়াল ফ্যন্টিাসি। যুবক-যুবতীরা এ রকম স্বপ্ন প্রায়ই দেখ।'
“আমি দেখি না। 'তুমিও দেখ। মনে থাকে না তােমার। ‘আমি স্বপ্ন খুব কম দেখি।
যা দেখি তা সব সময় সত্যি হয়। তোমাকে তাে বলেছি অনেক বার।
আনিস চুপ করে রইল। রানু এই কথাটি প্রায়ই বলে।
বিয়ের রাতে প্রথম বার বলেছিল। আনিস সেবারও হেসেছে।
রানু অবাক হয়ে বলেছে, 'আপনি আমার কথা বিশ্বাস করলেন না, না?"
“নাহ।' “আমি আপনার গা ছুঁয়ে বলছি, বিশ্বাস করুন আমার কথা।'
রানু এমনভাবে বলল, যেন আনিসের বিশ্বাসের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
চলবে,..................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now