বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সোহান এসএসসি পাস করে নতুন কলেজে উঠেছে।নতুন পরিবেশ নতুন জায়গা প্রথমদিন কলেজে একটু ভীতির মধ্যে থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই সে পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়।এর মধ্যে তার কিছু নতুন বন্ধুও হয়ে যায়।।এভাবেই তার দিন ভালই চলছিল।আরো কিছুদিন পর তার দুইটা বান্ধবীও হয়ে যায়।বান্ধবীর মধ্যে একজন আবার একটু ছোট।দেখে মনে হয় ক্লাস ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে এই মেয়ে।যাই হোক কথা বলতে বলতে সে মেয়েটার নাম জেনে যায় ছোট করে দেখতে মেয়েটার নাম নীলা আর তার সাথ আরেকটা মেয়ে ছিল তার নাম মেঘা।তো সোহান তার একটা বন্ধু অনিক আর নিলা ও মেঘা খুব গল্প করলো সেইদিন এবং তারা একে অপরের কাছে মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান করল।পরেরদিন ও সোহান,অনিক ও তাদের আরো একটা বন্ধু নিলয় ও তিন বান্ধবী নিলা,মেঘা এবং নিলা মেঘার সাথে পরিচয় হওয়ার আগেও সোহানের আরেকটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল তার নাম হচ্ছে রিমা।তো তারা সবাই গল্প করল আড্ডা দিল।এভাবে ভালই চলছিল সোহানের দিনকাল।সোহান নিলার সাথে ফোনে এসএমএস এর মাধ্যেমেও কথা বলতো।তো সোহানের বাসার কাছে তখন মেলা হচ্ছিল।সোহান বিকেলের দিকে মেলায় গিয়ে নিলা কে ফোন দেয় যে তার জন্য কি কিছু কিনবে।নিলা বলে একটা বেলুন কিনতে তার জন্য।সোহান হেসে ফেলে নিলার বাচ্চাদের মত আবদার শুনে।তারপর সোহান নিলার জন্য একটা বেলুন ও একটা ছোট পুতুল ও তার আরো দুই বান্ধবী রিমা ও মেঘার জন্য ছোট খাট কিছু গিফট কিনে বাসায় চলে আসে।পরের দিন কলেজে গিয়ে নিলার গিফটগুলো তাকে দেয়।নিলা গিফটগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়।তারপর সোহান মেঘা রিমাকেও তাদের গিফটগুলা দিয়ে দেয়।এভাবে তাদের দুষ্টি মিষ্টি বন্ধুত্বগুলো চলছিল।কলেজ শেষে সোহান,অনিক ও নিলা তারা হেটে হেটে কিছটা পথ যেত তারপর সেখান থেকে যে যার বাসায় চলে যেত।তাদের বন্ধুত্বের স্মৃতি হিসেবে সোহান,অনিক নিলয় ও নিলা একদিন সেলফিও তুলেছিল।কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ করেই তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে ফাটল ধরা শুরু হল।একদিন নিলা ও রিমা অন্য একটা ছেলের সাথে বসে গল্প করছিল সোহানের সামনেই অথচ সোহানের সাথে কথা বলতে বিরক্ত বোধ করতেছিল।এটা দেখে সোহান রাগ করে তাদের সামনে থেকে উঠে চলে যায়।সে কলেজের কোনো এক জায়গায় গিয়ে মন খারাপ করে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকে।তারপর তার একটা ক্লাস ছিল সেটা করে সে বাসায় চলে আসে ওইদিন আর সে নিলার সাথে কথা বলে নি।অবশ্যে সেইদিন রাতে নিলা সোহানকে ম্যাসেজ দিয়েছিল কিন্তু সোহান ম্যাসেজের রিপ্লে করে নি।পরেরদিন কলেজে সোহান ও অনিক বসেছিল তারপর নিলা এসে বলে সোহান তোমার কি হয়েছে আমার সাথে এমন করছো কেন সোহান কিছু বলে না চুপ করে থাকে।তারপর নিলার ক্লাস ছিল সে ক্লাসে চলে যায়।ক্লাসে গিয়েও ক্ষমা চেয়ে দুইটা ম্যাসেজ দেয় সে সোহানকে তাও সোহান কিছুই বলে না।তার পরেরদিন সোহানের অনেক খারাপ লাগে সে ক্লাসের মধ্যেই নিলার ফোনে একটা ম্যাসেজ দেয় এবং তার কাছে ক্ষমা চায় এবং তার সাথে কথা বলতে চায়।এরপর তাদের মান অভিমান মিটে গেল।এর মধ্যে আবার সোহানের দুই বন্ধু অনিক ও নিলয় নিলার সাথে আর মিশত না। তারা আগেই বুঝে গেছিল নিলার চরিত্র সম্পর্কে।সেটা বুঝতে সোহানের আরো কিছুদিন সময় লেগেছিল।যাই হোক মান অভিমান মেটার পর তাদের বন্ধুত্ব ভালই চলছিল।কিন্তু কিছুদিন পর নিলাও পরিবর্তন হতে লাগলো।কোনো কারণ ছাড়াই সোহানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে লাগল।তার সাথে তেমনভাবে মিশত না।একদিন সোহান মজা করে একটা কথা বলে নিলা কে।কিন্তু নিলা সেই কথাটাকেই ধরে নিয়ে সোহানের সাথে আর কথা বলে না সোহান ক্ষমা চাইলেও কিছু বলে না আরো উলটে অন্য ছেলেদের সাথে আড্ডা দিতে থাকে।এতে সোহান খুব মানসিক আঘাত পায় সে কলেজ থেকে বের হয় যায়।বাসার দিকে যাওয়ার সময় তার চোখ দিয়ে দু এক ফোটা চোঁখের জল ও গড়িয়ে পরে।এরপর টানা চার দিন সোহান নিলার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখে নি।কলেজে গেছে ক্লাস করে চলে বাসায় চলে আসছে।নিলাও কোনো যোগাযোগ করেনি বরং অন্য ছেলেদের নিয়া গল্প করে ভালই দিন কাটাচ্ছিল সে।এভাবে চারটা দিন অতিবাহিত হওয়ার পর চতুর্থ দিন রাতে সোহান নিলাকে খুব মিস করতে লাগল সে নিলাকে ম্যাসেজ করল।নিলাও রিপ্লে করে বলল যে সে অনেক খারাপ এভাবে কেউ রাগ করে থাকে নাকি। এভাবে কিছুক্ষণ তাদের ম্যাসেজে কথা হল।পরেরদিন কলেজে গিয় আবার সোহান তাদের মান অভিমানের অবসান ঘটাল।আবার তারা গল্প করা আড্ডা দেওয়া শুরু করল।কিন্তু এর কিছুদিন পর আবার নিলা অপমান করা শুরু করল সোহান কে।নিলা সোহানকে তার সাথে কথা বলতে মানা করে দিল।কিন্তু অন্য ছেলের সাথে ভালই আড্ডা দিতে থাকল সে।নিলা যখন অন্য ছেলেদের সাথে আড্ডা দিত তখন যদি সোহান এসে পড়ে তাইলে সে আড্ডা থামিয়ে দিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুড়াত।এভাবে নিলা অবহেলা করতে লাগল সোহানকে।তাও নির্লজ্জর মত সোহান নিলার সাথে কথা বলতে চাইত।সোহানের বন্ধুরা নিলার সাথে তাকে মিশতে মানা করত তাও সোহান তার বন্ধুদের কথা অমান্য করে নিলার সাথে মিশতে যেত আর তার কপালে খালি অপমানটাই জুটত।সোহান নিলা কে তার খুব ভাল একটা বন্ধু ভাবত তাই সে অপমানিত হলেও সে বন্ধুত্বটা তার নিজের চোখের সামনে শেষ হয়ে যাক সে এটা চাইত না।সোহানের দুই বন্ধু নিলয় ও অনিক অনেক আগেই নিলার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল আর নিলা এমন হয়ে গেছিল যে সে তার বান্ধবী মেঘার সাথেও ভাল করে কথা বলত না।শুধু সে রিমার সাথে কথা বলতো তার সাথেই থাকত সবসময়।এমনকি একদিন ক্লাসে সবার সামনেও অপমান করে বসে নিলা সোহানকে।এতে সোহান অনেক কষ্ট পেলেও সে হাসিখুশির থাকার চেষ্টা করে।অবশেষে অনেক অপমান সহ্য করার পর তার ধোর্যর বাধ ভেঙে যায়।সে নিলার কাছে থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।আর তার সাথে কথা বলতে যায় না।নিলাকে নিলার মত থাকতে দেয়।অন্যদিকে নিলার নতুন নতুন ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে তাদের নিয়েই সে থাকে।সোহানের কথা হয়ত তার একবার ও মনে পড়ে না।সোহান সবকিছুই দেখে আর মনে মনে কষ্ট পায়।সোহান এখনও মনে মনে আশা করে নিলা কোনদিন নিজে থেকে এসে বলবে 'সোহান কেমন আছো আমাকে মাফ করে দাও আর কখনো তোমায় অবহেলা করব না আর আমরা আবার বন্ধু হয়ে থাকব সবসময়'।এখন একমাত্র ভবিষৎই বলে দিবে কি হয় সোহান ও নিলার শেষ পরিণীতি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now