বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি ঘড়ির আত্নকথা।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)

X অ আমি একটি ঘড়ি। আমি পৃথিবীর মানুষের কাছে এক অপরিহার্য বস্তু। না আমার রূপের জন্য নয় আমি গুরুত্বপূর্ণ আমি যা দেখাই তার জন্য। আমি দেখাই সময়। আমাকে ছাড়া সময়নিস্ঠ মানুষের চলবে না। আমাকে ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান অচল। আমার উপর চোখ রেখে কারও মাথায় হাত পড়ে কারও বা হয় আনন্দ। কেউ বা হয় অস্থির। সবটাই পরিক্ষার হলের ক্ষেত্রে প্রোযোজ্য। আমার অবস্থান অনেক বিচিত্র। আমি থাকি ঘরের দেওয়ালে কিংবা মানুষের হাতে। আমি থাকি বোমের শরীরেও। আমার সময় দেখানোর ধরণ দুই রকম। আমি কাটায় সময় দেখাই। আবার সংখ্যায়ও[ডিজিটাল ঘড়ি] দেখাই। আমার অনেক কাজ। আমি মানুষকে ডেকে তুলি ঘুম থেকে। কখনও বা সময়মতো কাজের বার্তা দেই। কিন্ত দুঃখ একটাই আমি যা দেখাই তার কার্যকারিতা নষ্ট হলেই আমাকে করা হয় অবহেলা। ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তায় বা ডাস্টবিনে। খুব কম লোকই আমাকে সাজিয়ে রাখে। যাই হোক এ তো বললাম আমার জাতির ইতিহাস ও পরিণতির কথা। এখন আমি বলব আমার জিবনের কথা। একটি ঘড়ির আত্তকথা। আমি ছিলাম একটা দোকানে। আমার মতো আরও অনেককের সাথে। একটা কাচের ঢাকনার ভিতর। একদিন এক ভদ্রলোক এলেন। তিনি বেশ কিছু ঘড়ি দেখলেন। একসময় আমাকে দেখলেন। এবং তুলে নিলেন। আমি মোটামুটি আকর্ষণীয় ছিলাম। ও হ্যা আমি ছিলাম একটা কাটাঘড়ি এবং হাতঘড়ি। লোকটি বাড়ি ফেরার পর আমাকে একটা ছেলের হাতে দিলেন এবং বললেন: শুভ এটা তোমার ঘড়ি। কালকে পরিক্ষা দিতে যাওয়ার সময় এটা হাতে পড়ে পরিক্ষা দিবে। শুভ আমাকে পেয়ে খুব খুশি হল। পরিক্ষার দিন শুভ আমাকে হাতে পড়ে পরিক্ষা দিতে গেল । পরিক্ষার সময় ও বেশ অনেকবার আমার দিকে তাকালো। ওকে বেশ চিন্তিত দেখা গেল। কিন্তু পরিক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার দিকে তাকিয়ে বেশ খুশি হল। এই ভাবে শুভ সব পরিক্ষা শেষ করল। পরিক্ষার রেজাল্ট শুভর ভালো হওয়ায় সবাই ওর প্রশংসা করল। ওর বড় বোনতো বলেই ফেলল শুভ এটা তোর লাকি ঘড়ির কির্তী। এই ভাবে প্রায় তিন বছর পার হয়ে যায়। এর ভিতর শুভর কয়েকবার জ্বর হয়েছিল। তখন আমাকে অলস বসে থাকতে হয়েছিল। এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার সময়ও আমি শুভর হাতে ছিলাম। ওর পরিক্ষাও খুব ভালো হয়েছিল। পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর একদিন শুভর দুই বছরের ছোট বোন আমাকে ধরে খেলারবশত একটা আছাড় দিল। ব্যাস আমি ভেঙে চুড়মাড়। এটা দেখে শুভর চোখে জল চলে আসল। এখন আমি শুভর বাড়ির ডাস্টবিনে। তাও আমার জিবন সার্থক যে কেউ আমার জন্য চোখের জল ফেলেছে। আর আমি পেয়েছি লাকি ঘড়ি হওয়ার মর্যাদা। [সমাপ্ত]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now