বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ-আমি তাকে হারাতে চাইনা
ছোট গল্প পর্বঃ-১
লেখাঃ-সানিয়াত আহম্মেদ
রাত একটা বাজে, মুষল ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। কোনরকম অ্যাম্বুল্যান্স ফোন করে বাসার নিচে আনলাম। তারপর ঝটপট হসপিটালে রওনা হলাম। হসপিটালে আসা মাত্রই পেশেন্টের কন্ডিশন দেখে ডক্টর অটিতে মুভ করলেন। চরম বিশ্বাসের একটা হাত স্টেচার থেকে আমার ডান হাতটি ধরে রেখেছে। ভয় হচ্ছে খুব। হারানোর একটা আতঙ্ক। আমি তাকে হারাতে চাইনা।
ডক্টরকে রিকোয়েস্ট করে অটি ড্রেস পরে আমিও ভেতরে ঢুকি। হাতটাতে পরম মমতায় আমি ধরে রেখেছি। পেশেন্ট আমার বউ। মায়াবী চেহারাটার দিকে তাকিয়ে আছি। মনে পরে যাচ্ছে এক বছর আগের স্মৃতিগুলো
নীরা আমার লাইফ থেকে চলে যাওয়ার পর আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছিলাম অনেক। শত চেষ্টাতেও ওকে আমার করে নিতে পারিনি। পৃথিবীতে একটা মানুষের এতো এতো চাহিদা থাকতে পারে কিংবা থাকা দরকার তা আমি নীরাকে ভালবেসে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। ও যা বুঝতো সেটাই ওর মতে সঠিক। ও যা চাইতো সেটাই হওয়া উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি পারিনি ওর মতো করে সবকিছু মেনে নিতে। আমি ভালবাসতাম যতটুকু সামর্থ্য তার সমস্তটা দিয়েই। আমি চাইতাম কাউকে গড়ি আমার মতো করে, সেটা পারিনি। তারপর চেয়েছিলাম তার মতো নাহয় নিজেকে গড়ি, সেটাও পারিনি। হাজারো চাহিদা, চাওয়া পাওয়া হিসেব নিকেশের পর চরম অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিলাম নীরার কাছে।
অতঃপর বিয়ে করে কানাডায় চলে যায় সে। তারপর থেকেই অনেকদিন আর নিজেকে ঘোচাতে পারিনি। ভেবেছিলাম ভালবাসা বলতে আমি যা বুঝি তা আসলে না। ভালবাসায় অর্থ, চেহারা, ক্লাস, আধুনিকতা নানান কিছুর প্রয়োজন আছে। একটা মন থাকলেই সেখানে ভালবাসা উৎপন্ন হয়না। হইলেও তা বিলাসবহুল অহেতুক চিন্তা ভাবনা। তারো অনেকদিন পর একদিন ভাগ্য বদলের সময় এসেছিল। সেদিন আম্মার চিল্লানিতে সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙে যায়।
রবিন! তর কি কাণ্ডজ্ঞান খোয়াই নদীতে জলাঞ্জলি দিলি?
আমিঃ আম্মা কাহিনী না প্যাচিয়ে বলো কি হইছে? সকাল সকাল চিল্লানি ভাল্লাগছে না।
আম্মা- এগারোটা বাজে এখনো সকাল! এই রকম দামড়া পোলা কয়টা ঘরে পালতেছে মানুষ বলতো? তকে এক সপ্তাহ ধরে বলতেছি আমার মামাতো বোনের বাড়ি যাবো ওর বড় মেয়ের বিয়ে। আমাকে পায়ে ধরার বাকি ছিল। কোনদিন যাই নাই, তদের সংসারের গ্লানি'ই টানলাম আজীবন। নিজের আপনদের আর দেখা হল না। কথা দিছিলাম ওর মেয়ের বিয়েতে যাবো। যাওয়া হইছে। আর শখ নাই ঘুমা তুই। খাওয়া আর ঘুম ছাড়া আর কি আছে তর? আমরাও কেউ না।
আমি-উফফ! আম্মার প্রতিদিনের নানান এপিসোডের এই ইমোশনাল অত্যাচারে অতিষ্ঠ আমি। এটা উনার একটা অস্ত্র।
উঠলাম। বিয়ে শাদি হাঙি ভাঙি এসব একদম নিতে পারিনা আমি। তাও গ্রামের বিয়ে আর তারউপর ভাটি অঞ্চলের মানুষ এবং সবচেয়ে বড় কথা এটা বর্ষার মৌসুম। কল্পনা করতে পারছেন? তাও আম্মা জেদ করেছে মানে নিয়ে যেতেই হবে।
উঠে ব্রাশ করে গোসল করে ফ্রেশ হলাম। নাস্তা হিসেবে দুপুরের খাবার সেরে রেডি হয়ে রওনা হয়েছি। আকাশের অবস্থা খুব একটা জুতসই না। যেকোন সময় বৃষ্টি নামতে পারে। আমি চেষ্টা করবো কোনরকম আম্মাকে উনার বোনের বাড়ি রেখে চলে আসতে। বিয়ে মিটে গেলে আবার গিয়ে নিয়ে আসবো।
সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ বেশি একটা দূরে না। দুই ঘন্টা লাগবে। তারপর নৌকা দিয়ে মিনিট বিশেক। আশা করছি ব্যাক করা যাবে। বাসে উঠলাম, আম্মা বকবক করতেছে কি গিফট করবে, আব্বু একটা কিপটে মানুষ, টাকা পয়সা খুব একটা দেয় নাই, এই লোকটার সাথে সংসার উনি বলেই করছেন।এখনের পরের অংশ আমার মুখস্থ।
থেমে থেমে ঝির ঝির বৃষ্টি হচ্ছে। কানে হ্যাডফোন গুজে রবীন্দ্র সঙ্গীত
"আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখরো বাদল দিনে" ছেড়ে বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি বাইরে। শীতল বাতাস বইছে। খুব একটা খারাপ লাগছে না।
কিন্তু বিয়ের ব্যপারটা মাথায় আসতেই অশান্তি অনুভূত হচ্ছে। আম্মাকে রেখে এনিহাউ চলে আসা লাগবে।
সুনামগঞ্জ পৌছে গেলাম। বৃষ্টিটা নাই আপাতত। এখন ঘাটে আসলাম রিকশা নিয়ে। নৌকায় অল্প অল্প করে মানুষ নিয়ে পার করছে। বাতাসের বেগ বেশি হওয়ায় হাওরের পানি খুব ঢেউ খেলছে। বেশি মানুষ একসাথে তুললে বিপদ হতে পারে। মাত্র দুটো নৌকা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটা নৌকা এপারে ভিরলো। জুতা খুলে হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি নৌকায় উঠে জায়গা দখল করলাম। আম্মাকে কোন রকম টেনে তুললাম। নৌকার গতিবেগ আর দিনের গতিবেগ চিন্তা করে বুঝতে পারছি আজকে ব্যাক করা সম্ভব না। যাইহোক, অবশেষে খাঁ বাড়ি এসে পৌছালাম। নৌকা থেকেই দেখা যাচ্ছে বিশাল বাড়িটা, বলতে গেলে হাওরের মধ্যখানে অনেক জায়গা নিয়ে বানানো। চারপাশে নারিকেল গাছ আর সুপারি গাছে ভরপুর। বাতাসে গাছের সবুজ পাতাগুলো দুলছে আর চারপাশে বিশাল হাওরের সাদা দিগন্ত। অস্থির লাগছে একদম। আমি এই এলাকায় কখনো আসিনি। এটা শহরের পেছন মুখ। এখানে দরকার ছাড়া আসে না আমাদের ওদিকের লোকজন। মনটা ভরে গেলো প্রকৃতির এই রুপ দেখে।
নামা মাত্রই আম্মার বোন খবর পেয়ে দৌড়ে এসে আমাদেরকে এগিয়ে নিতে এসেছেন। বাড়ির ভেতরে সবাই উঠোনে কাদা রঙ মিশিয়ে ইচ্ছে মতো গড়াগড়ি খেলছে। গ্রামের বিয়ের আগের দিন বর/কনে গোসল করানো হয় আর তারপর কাদা রঙ মাখামাখি খেলা হয়। এটা একটা ঐতিহ্য। ঘরে গিয়ে ব্যাগ ট্যাগ রেখে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম।
হঠাৎ কাদা মাখা একটা মহিলা এসে আমাকে বলতেছে আপনি কে? আমি বললাম আমি কাজল...আর কিছু বলার আগেই মহিলা চিল্লায়া বলে উঠল
এই দেখ আইসা এটা কাজলা বুবুর ছেলে!
সবাই হুমড়ি খেয়ে এসে আমাকে কাদা রঙ ইচ্ছে মতো মাখালো। আমি কিচ্ছু বলিনি। মেজাজ আসমানে উইঠা আছে।
আমি এজন্যই আসতে চাইনি। আম্মার উপর কি পরিমান রাগ উঠতেছে। ইচ্ছা করতেছে এক্ষুনি উনাকে নিয়ে চলে যাই।
আরেকটা মহিলা বলে উঠছে দেখ দেখ কাজলা বুর ছেলেকে একদম হনুমান বানিয়ে দিছি, বলেই আকাশ পাতাল শব্দ করা হাসি।
হঠাৎ বারান্দায় তাকিয়ে দেখি
চলবে....?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now