বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২০৭৫ সাল। আজ পৃথিবীর বুকে উন্নত দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি আমেরিকা রাশিয়ার মতো পরাশক্তির লড়াইয়েও অংশ নিয়েছে দেশটি। আজ আর গুলিস্তানের ফুটপাতে ছোট ছোট দোকান দেখা যায় না, রাস্তায় ভিক্ষুক নেই, নেই তেমনি ময়লা আবর্জনার স্তূপ । দেশের যুবসমাজ আর হন্যে হয়ে চাকরির সন্ধান যেমন করে না তেমনি রেমিটেন্স এর আশায় পরিজন ছেড়ে বিদেশে ও পাড়ি জমায় না। রাস্তায় যানজট নেই , বেশ অনেক আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে বিশাল বিশাল ফ্লাইওভার , মেট্রোরেল । আজকাল বিজ্ঞানীরা ও স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে।
বিশ্বের কাছে দেশের এই অর্জন তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০ শে মার্চ আয়োজন করা হচ্ছে এক বিশাল কনভোকেশন সভার। বিশ্বের প্রায় ১৭৪টি দেশের জনপ্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করতে আসবেন। তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন হচ্ছে , দেশের বিজ্ঞানীরা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভিনগ্রহের কিছু এলিয়েনকে, আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তারাও আসবেন বলে জানা গেছে।
সমস্ত আয়োজনের দেখাশোনা করার জন্য গঠন করা হয়েছে কমিটি ফ্র্যাঙ্ক ৭৫। কানাডা , ফ্রান্স, জার্মানি থেকে এসেছে আয়োজক দল । কমিটি ফ্র্যাঙ্ক এর তত্ত্বাবধানে দিন-রাত কাজ করছে আয়োজক দলগুলো। চারিদিকে সিসিটিভির ছড়াছড়ি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত ২০ শে মার্চ। শাহজালাল আন্তর্জতিক বিমানবন্দরের বিশাল বিশাল রানওয়ে গুলোতে বিমানের ভীর। পার্কিং স্পটে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার গাড়ি। যথাসময়ে এসে উপস্থিত হলো ভিনগ্রহের মহাকাশযানটিও।ধীরে ধীরে নেমে এলেন তিনজন এলিয়েন, দেখতে হুবহু মানুষের মতই ,তবে গায়ের রং নীল, গলায় সিলভার রঙের একটি লকেট ঝুলানো যেটি আসলে মূলত ইন্টারপ্রেটারের কাজ করে। তাদেরকে অভ্যর্থনা জানতে ছুটে আসলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম সরাসরি এলিয়েন পৃথিবীর বুকে পা রাখলো ,দেশ বিদেশ থেকে লাখো লাখো মানুষ জড়ো হয়েছে শুধু একনজর এলিয়েন দেখার জন্যে।
নানবিধ কার্যক্রম এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো অনুষ্ঠান , একে একে উপস্থিত সকল দেশের জনপ্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য প্রদান করলেন । তারপর এলিয়েন তিনজন তাদের মতামত ব্যক্ত করলো ,গলায় থাকা যন্ত্রটি এলিয়েনদের ভাষাকে মানুষের ভাষায় ইন্টারপ্রেট করে দিলো,তাই সবারই এলিয়েনদের কথা বুঝতে কষ্ট হলো না। সবশেষে এলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তিনি অনুষ্ঠানের যুক্ত থাকা সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে , জয় বাংলা বলে অনুষ্ঠানের ইতি টানলেন।
এবার বিদায়ের পালা। এলিয়েন তিনজন ফের মহাকাশযানের সামনে উপস্থিত । কিন্তু একি সর্বনাশ, একজন এলিয়েনের গলার লকেটটি নেই যেটি ছাড়া সে নিজ গ্রহে যেতে পারবে না। চারিদিকে খোঁজাখোঁজি শুরু হয়ে গেছে। সরকার দলীয় নেতারা বলাবলি করছে,এটা নিশ্য়ই বিরোধী দলের চক্রান্ত, জনসম্মুখে সরকারের বদনাম করার অপচেষ্টা।
উপস্থিত পুলিশ , গোয়েন্দা সংস্থা , সোয়াট টিম , খোজাখোজি শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই, চরম উত্তেজনাপূর্ণ এক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে । অবশেষে সোয়াট টিম ও গোয়েন্দা বিভাগ খুঁজে বের করলো সেই লকেট চোরকে যে কিনা নিজেও ফ্র্যাঙ্ক কমিটির একজন তত্ত্বাবধায়ক। তার কাছে চুরির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন , আপনারা আমাকে ভুল বুঝতেছেন , আসলে আমি দেখছিলাম যন্ত্রটি সত্যিই কাজ করে কিনা.??????????
একথা শুনে তৎক্ষণাৎ অন্য দুইজন এলিয়েন অজ্ঞান হয়ে পরলো , শুরু হলো হৈচৈ।
[ বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভাবে স্বভাব নষ্ট । প্রচলিত এই প্রবাদটি ক্ষেত্রবিশেষে সত্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বভাবের ফলেই মানুষ অভাবী হয়ে ওঠে যেমন সম্প্রতি অভাবী হয়ে ওঠেছে ক্ষমতাশালী চাল চোরগোষ্ঠী।। এই দুর্যোগের সময়েও যারা গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রান চুরি করতে দ্বিধাবোধ করে না , আর যাই হোক তাদেরকে মানুষ বলতে পারি না]
এর জন্যই বোধ হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,
সাত কোটি সন্তানেরে ,হে মুগ্ধ জননী
রেখেছো বাঙ্গালী করে , মানুষ করো নি।।
তাই আজও আক্ষেপের সাথে বলতে হয়,
সাত কোটি আজ ১৬ কোটি হয়েছি,
আজও বাঙ্গালী আছি , মানুষ হই নি।
#লেখা: Taufiq Rahman
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now