বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ওড়নার আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নার ভান করে বললাম,"ভাইয়া এটা আপনি কি করলেন?এটার সাথে কত মায়া ছিল।আর ভেঙে দিলেন।"
আসলে কাঁদছি না কান্নার ভান করছি।হৃদয় ভাইয়া বলল,"সরি ইভা আমি বুঝিনি।আমি তোমাকে আরেকটা ঝাড়ু কিনে দিবো।"
আমি মুখ থেকে ওড়না সরিয়ে বললাম,"ঠিক আছে কিনে দিবেন।"
আমি নদীর ঘটে গেলাম।একা একা গাছের নিচে বসে আছি।সাঈদ আমার পাশে এসে বসে বলল," তুমি নাকি কালকে পাগলী গারদে ছিলে?"
"হ্যা ছিলাম।"
"কেমন লাগলো?"
"কেমন আর লাগবে ভালো মানুষ পাগলীদের মধ্যে কেমন লাগে।তোমাকে একদিন পাগলা গারদে একলা রেখে আসবো।তারপর দেখো কেমন লাগে।"
"হুমম শুনলাম অজ্ঞান হয়ে গেসিলে বিয়ের কথা শুনে।"
"হুমম ।মফু ইস্কান্দার আর ফারহান বানিয়ে বলেছে আমাকে।ভাবলাম এ বয়সে ভাইয়া আমার জন্য ছেলে ঠিক করবে বিয়ে হবে এ বয়সে।এসব ভাবতে ভাবতেই চারদিক অন্ধকার দেখলাম আর অজ্ঞান হয়ে গেলাম।"
"হিহিহিহি বিয়ের কথা শুনে অজ্ঞান হাহাহা হিহিহিহি।"
"এই ছেলে হাসছো কেন?"
"না এমনি।শুনলাম তুমি নাকি মেয়ে ডাকাতি করা শুরু করেছ।এভাবে ডাকাতি করলে বকুল কিন্তু তোমার জন্য সত্যিই একটা ছেলে ঠিক করে তোমার বিয়ের ব্যাবস্থা করবে।"
"বাহ সাঈদ তুমি তো সব খোঁজ খবরই নিয়েছ।আর ডাকাতি করিনি।একটা মেয়ে হিন্দু ভেবে ধরে নিয়ে এসেছিলাম।তা মেয়েটা হিন্দু না।এটা ডাকাতি করা না।"
"হুমম এভাবে মেয়ে ধরে নিয়ে বকুল তোমাকে হোম করায়েন্টিরে রাখবে।"
আমি এতক্ষন পানির দিকে তাকিয়ে ছিলাম।সাঈদের দিকে তাকিয়ে বললাম,"কি বলছো এসব মাথা খারাপ নাকি তোমার?ভাইয়া হোমে রাখবে!"
"হ্যা যেহেতু এ বয়সে তোমাকে বিয়ে দেওয়া ঠিক না সেহেতু তাই করবে।"
"আমাকে ভয় দেখানোর জন্য এসব বলছো তাই না?"
"শুধু তাই নয় বকুল তোমাকে মারবে।"
"ভাইয়া কি খুব রেগে আছে আমার ওপর?"
"জানি না তবে রেগে আছে।"
"ভাইয়া আমার ওপর রাগ করে আমাকে ধমক দিলে আমার ভয় করে।কিন্তু মেয়ে পেলে ঠিকই ধরে নিয়ে আসবো।আমি এখন যাবো।"
রাতে ফোন টিপছি।ইশিকা,তাসনোভা,তামিম,যারিন আর রামিশার সাথে এসএমএস করছি।এরই মধ্যে কে যেন চুলের মুঠি ধরলো।তাকিয়ে দেখি বকুল ভাইয়া।
"কিরে পড়া বাদ দিয়ে ফোন টিপছিস!!"
"ভাইয়া একটু টিপি।"
"পড়তে হবে পড়।"
"ভাইয়াআআআ।"
"খালি ফোন।চোখের কি অবস্থা সেটা দেখেছিস?চোখের কথাও ভাবিস না।চশমা ছাড়া একবিন্দু চলতে পারবি না।"
"ঠিক আছে ভাইয়া খালি সবাইকে বিদায় দেই।"
সবাইকে বিদায় দিলাম।ভাইয়া ফোন তার নিজের রুমে নিয়ে যাচ্ছিল।
"ভাইয়া এই ভাইয়া।"
ভাইয়া আমার দিকে তাকালো।
"ভাইয়া আমার ফোন অন্যজনের কাছে থাকলে আমার পড়া হয় না।"
ভাইয়া তবুও ফোন নিয়ে গেল।তারপর দেখলাম ভাইয়া তার বই নিয়ে আসলো।আমার পাশে বসে বলল"তোর ফোন ছাড়া আমারও পড়া হচ্ছে নারে বোন।"
"ভাইয়া তুই খুব ভালোওওওওও।"
এই বলে দুই হাত দুইদিকে দিলাম।ডান হাত ভাইয়ার গালে লাগলো।
"তুই আমাকে থাপ্পড় মারলি কেন?"
"আমি থাপ্পড় মারিনি ভাইয়া।"
এই বলে আবার হাত দুইদিকে দিলাম।ভাইয়ার গালে লাগলো।
"থাপ্পড় মেরে বলিস মারিসনি।"
"সরি ভাইয়া।রাগ করিস না।"
"হুমম এখন পড়।"
পরদিন
তাসনোভাকে কল দিলাম।
"এই নোভা আমি একটা ডান্স পার্টির আয়োজন করবো।তুই বাড়ির সবাইকে নিয়ে আসিছ।"
"ঠিক আছে ইসরাত।"
"আর শোন দুই বুড়ানিকেও নিয়ে আসিছ।ওরা দুইজন আমাদের পার্টির প্রধান অতিথি।আর শোন ওই দুইজনকে শাড়ি পড়ে নিয়ে আসবি।না পরতে চাইলে সবাই মিলে চেপে ধরবি।"
"ঠিক আছে ইসরাত।"
বারান্দায় বসে আছি।কিছুক্ষন পর দেখলাম তারা আসছে।কি সুন্দর সুন্দর জামা পরেছে ডান্স করার জন্য।মিম আপু আর রেহনু যাওয়া শাড়ি পরেছে।তারা হলো প্রধান অতিথি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now