বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৬ সুড়ঙ্গের মুখ থেকে পঁয়ষট্টি এবং প্রায় পঁয়তাল্লিস ডিগ্রি কৌণিক পথে সিঁড়ি দিয়ে নামার পর সমতল সুড়ঙ্গ পেয়ে গেল আহমদ মুসা। হেঁটে চলার মতো যথেষ্ট বড় আয়তনের সুড়ঙ্গটি। ওপরে-নিচে পাশে সব দিকেই পাথরের দেয়াল। নিকশ অন্ধকার।এক সময় হয়তো আলোর বন্দোবস্ত ছিল। এখন নেই। সুড়ঙ্গের সমতলে এসে আহমদ মুসা থমকে দাঁড়িয়েছে। সামনে পা ফেলার আগে তার মনে হলো, শত্রুরা শুধুই চলে যায়নি, তাদের যাতে কেউ ফলো করতে না পারে সেজন্যে তারা অবশ্যই কিছু করেছে বা করবে। কি করতে পারে? বিস্ফোরক পাততে পারে। গ্যাস ছাড়তে পারে। বাইলেনগুলোতে চোরাগুপ্তা হামলার জন্যে পাহারা বসাতে পারে। আহমদ মুসা গ্যাস-মাস্ক পরে আছে। সুতরাং গ্যাস তার জন্যে কোন সমস্যা নয়। মাল্টি ডিটেক্টর তার হাতে আছে। এ ডিটেক্টর বিস্ফোরক যে কোন অবস্থায় থাক ডিটেক্ট করতে পারে। হিউম্যান বডি-ওয়েভ সেঞ্জিং মনিটরটি আহমদ মুসা জুড়ে দিয়েছে বিস্ফোরক ডিটেক্টরের সাথে। এর ফলে দু’টি বিষয়কে এক সাথে মনিটর করা যাবে। আহমদ মুসা চলতে শুরু করল। তার দৃষ্টি বিস্ফোরক ডিটেক্টর ও হিউম্যান বডি ওয়েভ সেঞ্জিং মনিটরের দিকে। দ্রুত এগোচ্ছে আহমদ মুসা। ওরা কি সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পেরেছে? মনে হয় না। প্রেসিডেন্টকে কিডন্যাপ করার পর তারা এ পর্যন্ত যে সময় পেয়েছে, তাতে তারা সুড়ঙ্গের অর্ধেক পথ পার হতে পারে। সুতরাং তারা যখন সুড়ঙ্গের প্রান্তে পৌঁছবে তখন নিশ্চয় উদ্ধার অভিযানের জন্যে সেনা সদস্য ও পুলিশ মোতায়েন হয় যাবে। সুতরাং প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তাদের সরে পড়া অবশ্যই সম্ভব হবে না। তখন তারা কি পদক্ষেপ নেবে সেটাই চিন্তার বিষয়। কারণ এর সাথে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত আছে। সুড়ঙ্গের অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছে আহমদ মুসা। কতটা পথ বলা মুস্কিল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো অর্ধেকটা পথ সে অবশ্যই পার হয়েছে। সংগে সংগেই চমকে উঠল আহমদ মুসা। তার মানে ওরা সুড়ঙ্গের বাইরের প্রান্তে পৌছে গেছে। যে কোন ঘটনার সময় তাহলে আসন্ন। আহমদ মুসা তাকাল হিউম্যান সেঞ্জিং মনিটরের দিকে। কিন্তু স্ক্রিনটা অন্ধকার। তার মানে কোন হিউম্যান বডি তার রেঞ্জের মধ্যে আসেনি। যতটা সম্ভব একই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে আহমদ মুসা। হঠাৎ সংগে সংগে কয়েকটা ধাতব সংঘর্ষের শব্দ কানে এলো আহমদ মুসার। শব্দগুলো কানে পৌঁছতেই আহমদ মুসা ডান দিকে কাত হয়ে পড়ে গেল সুড়ঙ্গের দেয়ালে। কিন্তু দেরী করে ফেলেছিল আহমদ মুসা। খেসারত দিতে হলো বাম বাহুকে। কাঁধের সন্ধিস্থলের বাহু-মাস্‌লের একটা অংশ উড়ে গেল। হাত থেকে পড়ে গেল স্টিকটা। অবিরাম গুলী আসছে। আহমদ মুসা শুয়ে পড়েছিল সুড়ঙ্গের ফ্লোরের একপাশে। গুলীগুলোর সবই সুড়ঙ্গের ফ্লোরের এক-দেড় ফুট ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। আহমদ মুসা শুয়ে থেকেই স্টিকটা টেনে তার মাথায় সেট করা হউম্যান বডি সেঞ্জিং মনিটরের দিকে তাকাল। দেখল ১০০ মিটার সংখ্যাটি ফ্লাশ করছে। তার মানে ওরা একশ’ মিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। নিশ্চয় ওরাও তাদের সেঞ্জিং মনিটরে আহমদ মুসার অবস্থান চিহ্নিত করেছে। তার অবস্থান টের পেয়েই তারা গুলী ছুঁড়ছে। আহমদ মুসা শুয়ে থেকেই ব্যাগ থেকে ব্যান্ডেজ-কটনের একটা বড় টুকরা বের করে বাম বাহুটা বেঁধে নিল। ইতিমধ্যে গুলীবর্ষণ কমে এসেছিল। আহমদ মুসা ক্রলিং করে এগোবার সিদ্ধান্ত নিল। গুলী যেহেতু ফ্লোরের এক-দেড় ফুট ওপর দিয়ে যাচ্ছে, তাই ক্রলিং করে সে এগোতে পারে। বাড়তি সতর্কতা হিসাবে আহমদ মুসা ব্যাগ থেকে বুলেট-প্রুফ হেড কভার বের করে মাথায় পরে নিল। মুখে গ্যাস-মাস্ক থাকায় হেড কভারটা সেট করতে একটু অসুবিধা হলেও মোটামুটি সেট হয়ে গেল। ক্রলিং করে এগোতে লাগল আহমদ মুসা। আট-দশ ফুট এগোতেই আবার গুলী বৃষ্টি বেড়ে গেল। আহমদ মুসা কিন্তু থামল না। এগোতেই লাগল। আহমদ মুসা পাল্টা গুলী করতে পারছিল না। কারণ ওদের সাথে প্রেসিডেন্ট আছেন। কোনক্রমেই তার নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। আরও বিশ বাইশ মিটার চলার পর আহমদ মুসার মোবাইল বেজে উঠল। থমকে দাঁড়াল আহমদ মুসা। মোবাইল বের করে কল অন করতেই ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফার উদ্বিগ্ন কন্ঠ শুনতে পেল আহমদ মুসা। বলছিল সে, ‘মি. খালেদ খাকান, আপনি ঠিক আছেন? কোন্‌ অবস্থানে আপনি?’ ‘আমি ভালো আছি। আমি সুড়ঙ্গে ওদের থেকে ৭০ মিটার দূরে, গুলী বৃষ্টির মধ্যে ক্রলিং করে এগোচ্ছি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘খুব সাবধান, মি. খালেদ খাকান। আপনার নিরাপত্তা কিন্তু আমাদের কাছে খুব বড় বিষয়। এদিকে কিন্তু মহাসংকট! আমরা সুড়ঙ্গ এলাকাসহ গোটা বসফরাস অঞ্চল বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা সম্ভবত সুড়ঙ্গের মুখের কাছাকাছি কোথাও অবস্থান করছে। পাঁচ মিনিট আগে ওরা দু’ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে একটা হেলিকপ্টারে বিজ্ঞানী ড. আমির আব্দুল্লাহ আন্দালুসি ও খালিদ খাকানকে নিয়ে সুড়ঙ্গ গেটে পৌঁছাতে হবে। হেলিকপ্টারে করে যাবার পথে তারা কোন নিরাপদ স্থানে পৌঁছে প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দেবে। তারা কোন নিরাপদ স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত আকাশে কোন বিমান হেলিকপ্টার উড়লে, তাদের ফলো করলে তারা প্রেসিডেন্টসহ হেলিকপ্টার ক্রাশ করবে। আর দু’ঘন্টার মধ্যে হেলিকপ্টার সুড়ঙ্গ মুখে না পৌঁছলে তারা প্রেসিডেন্টকে সেখানেই হত্যা করবে, এবং সেই সাথে ‘নিরব ধ্বংসের দৈত্য’ নামের মারণাস্ত্র ঝাঁপিয়ে পড়বে ইস্তাম্বুলের ওপর। এসব আপনি আরও ভালো বুঝবেন। এখন আমরা উভয় সংকটে! প্রেসিডেন্টের জীবনকে কোনভাবেই আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। এখন বলুন, আপনার পরামর্শ কি?’ জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল। ‘ওরা যা বলেছে তাই করবে। চিনি আমি ওদের। আপনারা তাদের দাবি মেনে নিন। বলুন যে, খালেদ খাকানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত সুড়ঙ্গে ঢুকেছে। তাকে লোকেট করার আমরা চেষ্টা করছি। তাকে পেলেই আমরা তাকেসহ বিজ্ঞানীকে হেলিকপ্টারে করে সুড়ঙ্গে মুখে পৌঁছাব।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ওদের দাবি আমরা মেনে নেব? আপনিই এটা বলছেন? আর কোন পথ নেই?’ বলল জেনারেল মোস্তফা ভাঙা গলায়। তার কন্ঠে কান্নার সুর। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘আল্লাহর উপর ভরসা হারানো আমাদের ঠিক নয়। এখনও এক ঘন্টা পঞ্চান্ন মিনিট আমদের হাতে আছে। এ সময়ে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।’ ‘স্যরি। আল্লাহর উপর আমাদের ভরসা আমাদের আছে। বরাবরের মতো আপনার কাছেও আমাদের অনেক আশা। এই ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট সময়ের জন্যে আপনি কি ভাবছেন? আমদের কি করণীয় বলে আপনি মনে করেন?’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘প্রেসিডেন্ট ওদের হাতে থাকায় পরিস্থিতির উপর কমান্ড ওদের হাতে। প্রেসিডেন্টকে উদ্ধার করার যে কোন অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ দু’দিক থেকেই। ওরা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে পারে, আবার আমাদের আক্রমণেও প্রেসিডেন্টের ক্ষতি হতে পারে। প্রেসিডেন্টকে উদ্ধারের জন্যে এমন একটা পদ্ধতি দরকার যাতে প্রেসিডেন্টের কোন ক্ষতি হবে না, আবার ওরাও প্রেসিডেন্টের ক্ষতি করার কোন সুযোগ পাবে না।’ বলল আহমদ মুসা। ‘এমন পদ্ধতিটা কি? গ্যাস-বোম, গ্যাস-বুলেট, গ্যাস-স্প্রে এই ধরনের অস্ত্র এক্ষেত্রে নিরাপদ। কিন্তু ওদের গ্যাস-মাস্ক আছে এটা নিশ্চিত। সুতরাং এ ধরনের কোন অস্ত্র কাজে আসবে না। আপনি কি অন্য কোন রকম কোন অস্ত্রের কথা চিন্তা করছেন?’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘নার্ভ গ্যাসের তিনটি প্রকার খুব বেশি পরিচিত। সেগুলো হলো এনজি-১, এনজি-২ ও এনজি-৩। এই তিনটি নার্ভ গ্যাসই ভয়ংকর। প্রথমটি মানুষের মৃত্যু ঘটায়, দ্বিতীয়টি মানুষকে পঙ্গু করে দেয় এবং তৃতীয়টি মানুষের চিন্তা ও চলচ্ছক্তি বহুদিনের জন্যে অচল করে দেয়। কিন্তু আরেকটা নার্ভ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে, যাকে এনজি-৪ বলা হচ্ছে। এই গ্যাস-অস্ত্র ওগুলোর মতো ক্ষতিকর নয়। মানুষের মস্তিষ্কের ওপর এর কোন ক্রিয়া নেই। এই নার্ভ গ্যাসের ব্যবহারে মানুষের চলচ্ছক্তি, কাজ করার শক্তি কয়েক ঘন্টার জন্যে রহিত হয়ে যায়। এই সময় তার হাত-পা একেবারেই অকার্যকর থাকে। কিন্তু চিন্তা-চেতনা পরিষ্কার থাকে। কথাও স্বাভাবিকভাবে সে বলতে পারে। আমি এ অস্ত্রের কথাই চিন্তা করছি। এই অস্ত্রের বড় গুণ হলো, গ্যাস-মাস্ক এক্ষেত্রে অকার্যকর। এই গ্যাস মানুষের যে কোন ধরনের পোশাক ভেদ করে লোমকূপ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে।’ আহমদ মুসা থামল। ‘আলহামদুলিল্লাহ! ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান, আপনি সুন্দর একটা সন্ধান দিয়েছেন। এই নার্ভ উইপন আমাদের ডিপার্টমেন্টে নেই। সেনাবাহিনীর আছে কি না তা বলতে পারছি না। আমি এখনি খোঁজ নিচ্ছি। আমি আপনাকে এখনি জানাচ্ছি মি. খালেদ খাকান।’ বলে সালাম দিয়েই কল অফ করে দিল জেনারেল মোস্তফা। আহমদ মুসাও কল অফ করে দিয়ে আগের মতোই ক্রলিং করে সামনে এগোতে লাগল। ওদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার আগেই ওদের থেকে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে তাকে পৌঁছতে হবে। মিনিট পাঁচেক পরেই আবার আহমদ মুসার মোবাইল পকেটে নাচা-নাচি শুরু করে দিল। আহমদ মুসা নিয়ে কল অন করে সালাম দিতেই ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফার গলা পেল। সালামের উত্তর দিয়েই সে বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মি. খালেদ খাকান। এনজি-৪ নার্ভ গ্যাস মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে ‘স্যাম্পল’ হিসেবে সেনাবাহিনীর হাতে এসেছে। তারা মাত্র দু’বার এর টেস্ট করেছে। কিন্তু তারা বলেছে, এ নার্ভ গ্যাস দূর থেকে স্প্রে করা যায় না। এর বুলেট কিংবা বোমাও তৈরী হয়নি। এর পাইপ গানের রেঞ্জ মাত্র কয়েক মিটার। এখন...।’ ‘হ্যাঁ, জেনারেল মোস্তফা, সর্বোচ্চ ২৫ মিটার দূর থেকে এটা ছোঁড়া যায়।’ জেনারেল মোস্তফার কথার মাঝখানেই বলে উঠল আহমদ মুসা। ‘আপনি এত ডিটেইল জানেন? ওরা তো বলল, আবিষ্কারের পর মাত্র মাস দুয়েক হলো এর সফল টেস্ট হয়েছে। দুনিয়ার অধিকাংশ সেনাবাহিনী নাকি এর এখনও খোঁজই জানে না! আপনি কি করে জানলেন ওরা বিস্ময় প্রকাশ করেছে!’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘থাক, ওসব কথা জেনারেল মোস্তফা। এখন জেনারেল মোস্তফা, এ ব্যাপারে আপনাদের চিন্তা বলুন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘হ্যাঁ, ওদের সাথেও আমার আলাপ হয়েছে মি. খালেদ খাকান। ওরা আপনার সাথে একমত যে, প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্যে এই নার্ভ গ্যাসের ব্যবহারই একমাত্র পথ। কিন্তু গুহামুখের যে অবস্থান, তাতে ওদের নজর এড়িয়ে ওদের অতটা কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। আরেকটা হতে পারে ওদের দাবি মেনে নিয়ে ওদেরকে হেলিকপ্টার সরবরাহের ছলে ওখানে নেমে এই নার্ভ গ্যাসের ব্যবহার করা। কিন্তু হেলিকপ্টারকে যেখানে ল্যান্ড করতে হবে, সেখানে থেকে সুড়ঙ্গ মুখের দূরত্ব এতটা যে, হেলিকপ্টারে বসে এ অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। হেলিকপ্টার থেকে বের হয়ে সামনে এগিয়ে সে অস্ত্রের ব্যবহার করতে গেলে কিডন্যাপকারীদের নজরে পড়তে হবে এবং তাতে প্রেসিডেন্টের জীবন বিপন্ন হতে পারে। এই অবস্থায় সবার মত হল, কিছু করা আপনার পক্ষেই শুধু সম্ভব। অবশ্য সুড়ঙ্গের স্বল্প পরিসর জায়গায় গুলী বৃষ্টির মধ্যে সামনে এগোনো যে বিপজ্জনক, সেটা আমরা ভেবেছি। তবু...।’ জেনারেল মোস্তফার কথার মাঝখানেই আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘আমি এগোবার চেষ্টা করছি এবং এগোচ্ছি। কিন্তু এনজি-৪ পাইপগান এখানে আমার কাছে পৌঁছার ব্যাপারে কি চিন্তা করেছেন?’ ‘এনজি-৪ পাইপগান নিয়ে দু’জন কমান্ডো যাবে, আমরা চিন্তা করেছি।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘কিন্তু তারা যদি গুলী খেয়ে মারা যায়? সুড়ঙ্গের শেষ বাঁক থেকে সুড়ঙ্গ মুখ পর্যন্ত একশ’ পচিশ মিটার জায়গাটা খুবই বিপজ্জনক। সুড়ঙ্গ এখানে একেবারে সোজা। তার ওপর বাঁকের পরের কিছুটা জায়গা উঁচু, মানে সামনের দিকে গড়ানো। এখানে এসে বেশ কয়েকটা ফ্লোরকে হিট করেছে। ভাগফল, বিপজ্জনক ঐ এলাকার একেবারে শেষ প্রান্তে এলে তারা আমার সন্ধান পায় হিউম্যান বডি সেঞ্জিং মনিটরের মাধ্যমে। তবু আমাকে গুলী খেতে হয়েছে। আহত হওয়ার মাধ্যমে আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু এখন ঐ বিপজ্জনক এলাকা অতিক্রম করা তাদের জন্যে কঠিন হবে। এই অনিশ্চয়তার ওপর আমাদের উদ্ধার মিশন তো নির্ভর করতে পারে না!’ থামল আহমদ মুসা। ‘স্যরি, মি. খালেদ খাকান, আপনি যে গুলীবিদ্ধ আপনি সেটা আমাদের জানান নি। আমরা...।’ আহমদ মুসা জেনারেল মোস্তফার কথায় বাধা দিয়ে বলল, ‘এই বিষয় এখন আমাদের আলোচ্য নয়। আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন, এটাই বড় কথা।’ এখন বলুন, জেনারেল মোস্তফা, ডল রোবট আপনারা পাঠাতে পারবেন কি না। ওগুলো তো দূর নিয়ন্ত্রিত, বাঁকা পথেও তাকে চালানো যায়।’ ‘ইউরেকা, ইউরেকা, পেয়েছি, পাওয়া গেছে পথ! ধন্যবাদ আপনাকে মি. খালেদ খাকান। কয়েক কিলোমিটার দূরে পাঠনো যায় দূর নিয়ন্ত্রিত এমন রোবট যন্ত্র আমাদের আছে। এখনই ব্যাবস্থা করছি। কয়েকটা রোবটকে আমরা পাঠাব।’ বলল জেনারেল মোস্তফা উচ্ছ্বসিত কন্ঠে। ‘ধন্যবাদ, জেনারেল মোস্তফা। এখন কয়েকটা কথা শুনুন। প্রথম কথা হলো, এখনই আপনারা এনজি-৪ পাইপগানসহ কয়েকটা রোবট যন্ত্র পাঠিয়ে দেবেন। দুই. সুড়ঙ্গ মুখ অর্থাৎ তাদের অবস্থান পর্যন্ত এখনও আমার সামনে ৫০ মিটার পথ। ওদেরকে এনজি-৪ পাইপগানের রেঞ্জে আনতে হলে আমাকে আরও ২৫ মিটার এগোতে হবে। আমি এই পঁচিশ মিটার পথ এগোবার পর এবং এনজি-৪ পাইপগান হাতে পাওয়ার পর আপনারা ওদের দাবি মানার ঘোষণা দেবেন। দাবি মানার ঘোষণা আগে এলে আমার সামনে এগোনোটা চুক্তির খেলাফ হবে। ওদের দাবি মানার পর আমি আর সামনে এগোবো না। তাহলে ওরা নিশ্চিত হবে সব দিক থেকেই আমরা অফেনসিভ কাজ বন্ধ করেছি। ওরা নিশ্চিত হবার ফলে অসতর্কও হবে। এর দশ মিনিট পর এনজি-৪ ব্যবহার করব। তৃতীয়ত. আমি এনজি-৪ ব্যবহার করার দশ মিনিট পর আপনারা হেলিকপ্টার নিয়ে সুড়ঙ্গ মুখে ল্যান্ড করবেন। চতুর্থত. ওদের দাবি মেনে নিলে ওরা নিশ্চয় শর্ত দেবে যে, ওদের একজন বা দু’জন হেলিকপ্টারের ভেতরের অবস্থা দেখার এবং আমাকে ও বিজ্ঞানীকে বেঁধে নিষ্ক্রিয় করে রাখার জন্যে। হেলিকপ্টার ল্যান্ড করলে ঐ রকম শর্ত যদি না দেয় অথবা কেউ যদি হেলিকপ্টারে না যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে এনজি-৪ তার মিশন সম্পূর্ন করেছে। তখন...।’ আহমদ মুসাকে বাধা দিয়ে জেনারেল মোস্তফা বলে উঠল, ‘কিন্তু খোদা না খাস্তা, যদি এনজি-৪ কার্যকরী না হয়, তাহলে কি হবে?’ ‘আমি এক দিকের বিকল্প বলেছি। খোদা না করুক, আমার দিক থেকে যদি কোন সাড়া না পান, তাহলে এটাই হবে আপনাদের কাজ। অন্যদিকে আগে ঘটেছে, কি করতে হবে আমিই সেটা আপনাদের জানাব।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আল্লাহ সে ধরনের পরিস্থিতি আনবেন না। আমরা আপনার কলের অপেক্ষা করব।’ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘ওকে, আসসালামু আলাইকুম।’ ওপার থেকে, ‘খোদা হাফেজ, ওয়া আলাইকুম সালাম।’ শুনতে পেল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা কল অফ করে মোবাইল পকেটে রেখে কিছুক্ষণ চোখ বুজে রেস্ট নিল। তারপর শুরু করল আবার ক্রলিং। এবার গতি দ্রুত করল আহমদ মুসা। আবারও গুলী বর্ষণ শুরু হলো। গুলী বৃষ্টি চলতে লাগল এবার অঝোর ধারায়। আহমদ মুসার ভাগ্য ভালো এ জায়গাটা একটু উচু হয়ে সামনের দিকে গেছে। ফলে গুলীগুলো আরও একটু নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। সামনে কোথাও যদি এর বিপরীত হয় মানে ফ্লোরটা নিচু হয়, তাহলেই বিপদ ঘটতে পারে। এরকম কিছু ঘটলো না। আহমদ মুসা সামনে এগিয়েই চলল। আহমদ মুসার মোবাইল নড়েচড়ে উঠল। কল এসেছে। উদ্বিগ্ন হলো আহমদ মুসা, জেনারেল মোস্তফার কল কেন আবার! দেহের ভারটা ডান পাশে নিয়ে সামনে এগোনো অব্যাহত রেখেই আহমদ মুসা কষ্ট করে আহত বাম হাত দিয়েই মোবাইল বের করে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়েই থমকে গেল। জোসেফাইনের টেলিফোন। টেলিফোন মুখের কাছে নিয়ে সালাম দিয়ে আহমদ মুসা জোসেফাইনকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বলল, ‘আমি ভালো আছি, ডার্লিং জোসেফাইন! এক ঘণ্টা পর ইনশাআল্লাহ তোমার সাথে কথা বলল। দোয়া করো। ভালো থেকো।’ আহুমদ মুসার কথা শেষ হতেই ওপার থেকে জোসেফাইন বলল, ‘আল্লাহ হাফেজ! আসসালামু আলাইকুম।’ জোসেফাইনের কন্ঠ ভারী। ভারী কন্ঠ কাঁপছিল তার। ‘ওয়া আলাইকুম সালাম!’ বলে আহমদ মুসা কল অফ করে দিল। মনটা খারাপ হয়ে গেল আহমদ মুসার। জোসেফাইনের কম্পিত ভারী কন্ঠ তার সমগ্র চেতনায় একটা যন্ত্রনার সৃষ্টি করেছে। মূহুর্তের জন্যে চোখ বন্ধ করল। মনে মনে বলল, ‘সব অবস্থায় একমাত্র মহান আল্লাহরই সব প্রশংসা।’ আহমদ মুসা তার এগোনোর গতি আরও দ্রুত করল। আবৃত হাতটাকেও পুরোপুরি কাজে লাগাল। একে তো ভ্যাপসা গরম। তার ওপর পরিশ্রম ও আহত বাহুর ওপর বাড়তি চাপ- সব মিলিয়ে ঘামে গোসল হয়ে গেছে আহমদ মুসার। এক জায়গায় এসে আবার থমকে গেল আহমদ মুসা। হঠাৎ এখানে এসে সুড়ঙ্গের ফ্লোর উঠের পিটের মতো ফুলে উঠেছে। গুলীগুলো প্রায় তার গা ছুঁয়েই বেরিয়ে আসছে। গুলী চলা অবস্থায় আর এক ইঞ্চিও সামনে এগোনো সম্ভব নয়। হতাশ হয়ে আহমদ মুসা গা এলিয়ে দিল সুড়ঙ্গের ফ্লোরের ওপর। হতাশ হলেও আশার আলো একটা রয়েছে। সে থেমে গেলে গুলীও থেমে যাবে, অন্তত কমে যাবে। তার সুযোগ সে নিতে পারবে। মন কিছুটা প্রসন্ন হলো। আর কত দূরে সে ২৫ মিটার রেঞ্জ থেকে? হিউম্যান বডি সেঞ্জিং মনিটরটা সে টেনে নিল। তার স্ক্রিনের ওপর চোখ পড়তেই আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার চোখ। ২৫ মিটারের বেশি জায়গা সে অতিক্রম করে এসেছে। সামনে আর মাত্র ২৪ মিটার বাঁকি। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল আহমদ মুসা, ঠিক জায়গায় আল্লাহ থামিয়ে দিয়েছেন তাকে। এবার আহমদ মুসার দৃষ্টি প্রসারিত হলো পেছনের নিকশ কালো অন্ধকারের দিকে। এখন তার ডল-রোবট আসার অপেক্ষা। সময়ের পরিমাপ করল আহমদ মুসা। প্রায় ১ ঘন্টার মতো সময় হাতে আছে। রোবটের যে গতি, তাতে এই পথটা পাড়ি দিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি লাগবে না। এর অর্থ রোবটের জন্যে আরও কমপক্ষে আধা ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। গুলী বৃষ্টি কমে এসেছে। আরও আধা ঘন্টা পার হলো। রোবট এলো না। পকেটের মোবাইল আবার সাড়া দিয়ে উঠল আহমদ মুসার। আহমদ মুসা মোবাইলের রিং টোন বন্ধ করে ভাইব্রেশন এলার্ট অন করেছে। এখন শত্রুরা এতই কাছে যে, নিচু স্বরে কথা বলাও ঝুকিপূর্ণ। আহমদ মুসা পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখল, জেনারেল মোস্তফার টেলিফোন। কল অন করে আহমদ মুসা মোবাইল ফ্লোরে রেখে মোবাইলে মুখ ঠেকিয়ে ফিস ফিসে কন্ঠে বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা আমি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে গেছি। এখন রোবটের অপেক্ষা।’ ‘প্রস্তুতিতে একটু সময় লেগেছে। প্রায় ১৫ মিনিট আগে চারটা রোবট তাদের যাত্রা শুরু করেছে। মনিটরিং-এ থাকা সেনা অফিসার আমাকে কিছুক্ষণ আগে জানালেন, ১০ মিনিট পর্যন্ত পথ ভালোভাবেই চলেছে, ইনশাআল্লাহ ঠিকঠাক তা লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। রোবট হাতে পাওয়ার পর আমি একটা মিস কল দিব, তারপর আপনারা দাবি মানার ঘোষনা দিবেন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওদের সাথে আবার আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, দাবি মানার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। শীঘ্রই আমরা জানাচ্ছি। তারা দাবির সাথে আরও কিছু কথা যোগ করেছে। তারা বলেছে, সুড়ঙ্গ পথে যারা তাদের পিছু নিয়েছে, তাদের পিছু নেয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং দাবি মানার সংগে সংগে তাদের পিছু হটে সরে যেতে হবে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘আমি অগ্রসর হওয়া বন্ধ করে দিয়েছি এবং আপনারা দাবি মানার পর আমি অবশ্যই অন্তত পাঁচ মিটার পেছনে সরে যাব।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক আছে, পিছু হটা শুরু হলেই চলবে। আর শুনুন, ম্যাডাম টেলিফোন করেছিলেন। উনি খুব উদ্বিগ্ন। বিষয়টা দেখলাম উনি জানেন। আমি তাঁকে বলেছি, কোন ভয় নেই, জনাব খালেদ খাকান পরিকল্পনা মোতাবেক এগোচ্ছেন। অবশ্য আপনার আহত হওয়ার কথা আমি তাকে জানাইনি।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘ধন্যবাদ জেনারেল, প্রেসিডেন্ট কিডন্যাপ হওয়ার কথা ম্যাডাম কি করে জানলেন? আপনারা তো কয়েকজন ছাড়া আর কারো কাছেই এটা প্রকাশ করেননি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘উনি তার বান্ধবীর কাছ থেকে জেনেছেন। আমি এ বিষয়ে তাঁকে আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘ঠিক আছে। আমি বুঝেছি। তাহলে এখানেই কথা শেষ। আসসালামু আলাইকুম।’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম। ‘আল্লাহ হাফেজ!’ ওপার থেকে বলল জেনারেল মোস্তফার কন্ঠ। আহমদ মুসা মোবাইলের কল অফ করতে করতে ভাবল জোসেফাইনের বান্ধবীর কথা। নিশ্চয়ই সে শিক্ষিকার কাছ থেকেই খবরটা জেনেছে। জোসেফাইনের এই বান্ধবী মহিলা আসলে কে? নিজে গরজ করে কেন এত তথ্য সংগ্রহ করে? বলতে গেলে আহমদ মুসার সাফল্য অনেকখানিই তার সাহায্যের ফল। কেন এত উপকারী সে? কেন সে সরাসরি কথা বলে না? এবার এ ব্যাপারে কিছু খোঁজ-খবর নিতেই হবে। আহমদ মুসা কল অফ করে মোবাইল পকেটে পুরে পেছনে তাকাতেই দেখতে পেল আবছা এক নীল ডট। নীল ডটটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। খুশি হলো আহমদ মুসা। রোবট এসে গেছে! মিনিট খানেকের মধ্যে দু’টি রোবট তার হাতে এসে পৌছল। পেছনে আর কোন ডট চিহ্ন দেখলো না। তার মানে চারটা রোবটের মধ্যে দু’টি শেষ পর্যায়ে এসে ওদের গুলীতে ধ্বংস হয়েছে কিংবা অন্যকিছু ঘটেছে। দু’টি যে ঠিকঠাক পৌছতে পেরেছে এজন্যে আহমদ মুসা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। দুই রোবটের সাথে বেঁধে দেয়া এনজি-৪ এর দু’টি পাইপগান খুলে নিয়ে রোবটকে নিষ্ক্রিয় করে পাশে রেখে দিল। পেন্সিল টর্চ জ্বেলে আহমদ মুসা পাইপ গান দু’টোকে পরীক্ষা করল। দেখল, দু’টিই ঠিকঠাকভাবে লোডেড। ফায়ারিং ডিস্ট্যান্স সর্বোচ্চ ২৫ মিটার, সেটাও পরিষ্কার লেখা আছে পাইপগানের গায়ে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেল পাইপগানের গায়ের লেখা থেকে। সেটা হলো, পাইপগান ফায়ার করার ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যাস টিউব সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছে নিরবে বিকিরণ শুরু করবে। দূরত্ব কম হলে আরও কম সময় লাগবে। বিকিরন কেন্দ্রের ৫ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে এনজি-৪ গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে। গন্ধহীন অদৃশ্য এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ৫ মিনিটের মধ্যে এর এ্যাকশন পূর্ণভাবে প্রকাশ পাবে। এক সময়ের জন্যে দু’টি গ্যাস টিউব সর্বোচ্চ ডোজ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৩
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now