বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(উ)
গভীর রাত, মানসিক হাসপাতাল, নুসরাত ফারিহার রুমের
সামনে পাহারায় থাকা দুজন পুলিশই হেলান দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়েছে। নকল চাবি দিয়ে দরজা খুলে
ফেললো নিঃশব্দে,বেরিয়ে এলো হাতে
পাসপোর্ট,ভিসা আর দুঘন্টা পরই আমেরিকার দিকে
উড়াল দেয়া প্লেনের টিকেট। ছয়মাস কেটে
গেছে এর মাঝে। মানসিক চিকিত্সা চলছিল ফারিহার।
আজকের পালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে
ইকবাল ভাই, আমেরিকায় ফেরার ব্যাবস্থাও। আইনের
লোক হয়েও বেআইনীভাবে তাকে সাহায্য
করার অর্থ এখনো খুঁজে পায়নি ফারিহা। কী
উদ্দেশ্য তার ? এয়ারপোর্টের দিকে ছুটে চলা
ট্যাক্সিতে বসে ভাবে ফারিহা।
(ঊ)
ইকবাল সারোয়ার তৃষ্ণার্ত।ছয়মাসের রক্ত তৃষ্ণা।কাল
সকালে খবরের ছড়াবে,ফারিহা পালিয়েছে। সাথে
আরো আসবে বৃদ্ধাঙ্গুল কাটা অষ্টম সাংবাদিকের
লাশ পাওয়ার খবর। সবকিছু প্ল্যান মাফিকই করতে
সক্ষম হয়েছেন ইকবাল সাহেব। প্রথমে
ফারিহাকে বাসায় ডেকে এনে সুকৌশলে নাস্তার
টেবিলে আগে থেকে রাখা ছুরিতে হাতের ছাপ
নেয়া, সাঈদ সাহেবকে খুন করে ডেডবডির
পাশে সেই ছুরিটাই রেখে আসা, ফারিহার
গ্রেফতারের পর সাইকোলজিস্টকে টাকা খাইয়ে
ভুল রিপোর্ট তৈরী করে ফারিহাকে মানসিক
রোগী প্রমাণও তার চিকিত্সার বন্দোবস্ত,
সবশেষে তার পালানোর ব্যাবস্থা করে দেয়া।
নিজের ওপর থেকে সন্দেহ সরাতে, তদন্ত
সংস্থার চোখ ওদিকেই ব্যাস্ত রাখতে ফারিহার মত
একটা গিনিপিগ দরকার ছিল খুব ইকবাল সাহেবের।
দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাবেন গোয়েন্দারা,শুধু
ইকবাল সারোয়ার জানবেন,দুইয়ে দুইয়ে চার
নয়,বাইশ মেলানোর খবর।বাইশ বছরের যন্ত্রনার
অনুভূতির মতই,আর কেউ জানবে না।কেউ না।
ইকবাল সাহেব ব্যাগে ছুরিটা ভরলেন, সাথে একটা
ছোট কাঁচের বাক্স, ভেতরে সাতটি বৃদ্ধাঙ্গুল,
মানুষের। ইকবাল সাহেব বেরুলেন,সাত আঙ্গুলের
অষ্টম সঙ্গীর খোঁজে। লেখা হবে আজ
গোপন ডায়েরীতে আরো একটা কেস
হিস্ট্রি,গল্পের মত করে,সত্যিকারের গল্প।
***
যে খবর প্রকাশিত হয়েছিলঃ
পতিতাবৃত্তি দমনে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে
আকস্মিক অভিযান।
(ছবিতে, গ্রেফতার হওয়া পতিতাদের একাংশ)
যে খবর প্রকাশিত হয়নিঃ
গ্রেফতার হওয়া পতিতাদের সবাই পতিতা ছিল না।কেউ
কেউ প্রয়োজনেই উঠেছিল হোটেলে।
পত্রিকার ছবি তোলার সময় যে মেয়েটা
অনভিজ্ঞতার কারণে মুখ ঢাকতে ভুলে গিয়েছিল,
সে এসেছিল গ্রাজুয়েট শেষে চাকরীর
ইন্টারভিউ দিতে, ঢাকায় কোন থাকার জায়গা না থাকায়
উঠেছিল হোটেলে। চোখে তার স্বপ্ন ছিল,
বাবাকে এবার দুদন্ড অবসর খুঁজে দেয়ার, মায়ের
কাজ কমাতে বুয়া রাখার, আর ছোট্ট ভাইটার
সাইকেল, চাকরী পেলেই। চাকরী
হয়েছিলও,পরদিন সকালেই ছেড়ে দিয়েছিল থানা
থেকে,ইন্টারভিউও ভালো দিয়েছিল, তারপর
ফিরেছিল নিজ বাসভূমে, ঢাকা ছেড়ে। কিন্তু তার
আগেই পৌছেছিল ছবি ছাপা হওয়া পত্রিকাটা।মফস্ব
লের চায়ের দোকানে থাকা পত্রিকার খবর ছড়িয়ে
গিয়েছিল এলাকা জুড়ে। সাতদিনেই অতিষ্ট হয়ে
উঠলো মেয়েটির পরিবার। বাবা বাজারে যেতে
পারেন না, সান্তনার সুরে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা
দেয় প্রতিবেশীরা মাকে।ভাইটা পারে না স্কুলে
যেতে কিংবা বিকেলে খেলার মাঠে। বাঁকা কথা
আর প্রশ্নবাণে নরক যন্ত্রণায় একসময় এলাকা
ছাড়ে তারা।তাতেও হয় না শেষ রক্ষা।মেয়েটা
আত্মহত্যা করে।সহ্য করতে না পেরে বাবার হার্ট
স্ট্রোক,আরো একটা মৃত্যু।পাগলপ্রায় মা হয়তো
বেঁচে থাকেন ছেলেটাকে মানুষ করার জন্যই।
একসময় বিসিএস দিয়ে পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চে
যোগ দিলেও ভেতরে ভেতরে জমে থাকা
সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ-ঘৃণা তাকে করে
তোলে একজন ছদ্মবেশী সিরিয়াল কিলার ইকবাল
সারোয়ার।
[আংশিক সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে রচিত]
সংযুক্তিঃ
*পটাশিয়াম সায়ানাইডঃএকটি বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান।
*মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারঃমোটামুটি ভয়ংকর
একটা সমস্যা কেননা এক্ষত্রে পেশেন্ট একই
অনেকগুলো চরিত্রে থাকতে পারে।
*লাই ডিটেক্টরঃ হার্টবিট,নার্ভ প্রভৃতির গতি প্রকৃতির
সাহায্যে মিথ্যা বলছে কিনা তা নিরুপণে ব্যবহার করা
হয়।যদিও তেমন কার্যকর পদ্ধতি না।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now