বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(ই)
দুদিন পর।
কেস হিস্ট্রি লিখছেন ইকবাল সারোয়ার,তার
ব্যাক্তিগত ডায়েরীতে। গল্পের মত কেস
হিস্ট্রি, যা কেউ দেখে না। তবুও গল্পের মত
সাজিয়ে লেখেন ইকবাল সাহেব। গল্পগুলোতে
হয়তো মিশে থাকে থাকে কিছু প্রতিহিংসার
আগুনের লেলিহান দীর্ঘশ্বাস। গতরাতে হওয়া
সপ্তম খুনের বর্নণা এক বিচিত্র ঘোরের ভেতর
বসে লিখতে থাকেন ইকবাল সারোয়ার।
কেস স্টাডি-৭
প্রায় ভোর রাত,নির্জন রাস্তায় ছুটে চলেছে
একটা ক্রীম কালারের মারুতি সুজুকি।গাড়ির মালিক
নিজেই ড্রাইভিং সীটে। তরুণ সাংবাদিক হিসেবে
সাঈদ সাহেবের বেশ নামডাক। অল্প কদিনেই
হইচই ফেলে দেয়া বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর
পলিটিক্যাল রিপোর্ট লিখে প্রিয়পাত্র হয়ে
উঠেছেন সম্পাদকের। কাল পত্রিকার লেখা সাবমিট
করে বাসায় ফিরছিলেন সাঈদ সাহেব। পুরো রাস্তায়
শুধু একবার থামেন তিনি,প্রেমিকা কিংবা হবু স্ত্রী
মুনার বাসার সামনে। মুনা প্রতিদিন এ সময়টায় বারান্দায়
অপেক্ষা করে সাঈদ সাহেবের জন্য। এক
পলকের একটু দেখা হয়তো দুজনার মনকেই
শীতল করে দেয় বাকি রাত প্রশান্তিতে ঘুমানোর
জন্য। সাঈদ সাহেবের গাড়ি এসে মুনাদের বাসার
সামনে দাড়াতেই নীচে নামার জন্য পা বাড়ালেন
মুনা। গাড়ির পাশে দাড়িয়ে সিগারেট ধরালেন সাঈদ
সাহেব। মুনা নীচে এসেই প্রেমিকাসুলভ কিছু
জ্ঞান বিতরণ করবে সিগারেটের জন্য,শুনতে
মন্দ লাগে না।রাস্তার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে
আসা আইসক্রিমওয়ালাকে হঠাত করেই চোখে
পড়লো সাঈদ সাহেবের। অবাক হলেন,এই
শীতের রাতে আইসক্রিম কে খায়?তাও আবার
এতো রাতে?
এগিয়ে গেলেন।সাংবাদিক মানেই অনুসন্ধানী মন।
আইসক্রিমওয়ালা মুখ মাফলারে পেচানো, চোখ
ছাড়া শরীরের একটা লোমও উন্মুক্ত নেই।
ভালো প্রস্তুতি শীত মোকাবেলার। আইসক্রিম
চাইলেন একটা।কোন নেই,তাই চকবারই নিতে
হলো। মুনার সাথে হালকা রোমান্সের দুষ্টমিপূর্ণ
চিন্তা করতে করতেই কামড় বসালেন
আইসক্রিমের কোণায়। কী করে একজন
মানুষের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা যায় দ্রুততম সময়ে, তা
বেশ ভালোই জানেন সাঈদ সাহেব, সাংবাদিক হতে
গেলে এ গুণ অর্জন করতেই হয়।
আইসক্রিমওয়ালার সাথে খাতির করে নেয়ার
উদ্দেশ্যেই আইসক্রিম চাওয়া,নইলে এই
শীতের রাতে ঠান্ডা খেয়ে গলায় টনসিল
বাঁধানোর কোন ইচ্ছেই ছিল না তার। মাথায় দারুণ
একটা ফিচার লেখার আইডিয়া উঁকি দিচ্ছে,আইসক্রিম
ওয়ালাকে নিয়ে,কি বলে শুরু করবেন, তাই
ভাবছিলেন সাঈদ সাহেব। সাঈদ সাহেব ভাবার অবকাশ
পেলেন না, রোমাঞ্চ দূরের কথা, আর কখনো
দেখাই হবে না মুনার সাথে,হবে না‘আজব
মালাইওয়ালা’ নামে খানিক আগেই ভাবা ফিচারটা লেখাও।
মুনা এসে দেখলো রাস্তায় পড়ে আছে সাঈদ
সাহেব, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ। সটকে পড়েছে
আইসক্রিমওয়ালা, পটাশিয়াম সায়ানাইডের দুটো ছোট্ট
টুকরো অতি সুক্ষভাবে আইসক্রিমের দু কোণায়
ঢুকিয়ে বানানো বিশেষ আইসক্রিমটার অবশিস্ট অংশ
নিয়ে। সায়ানাইডে মৃত্যু সাধারণ ডাক্তারী পরীক্ষায়
নিরুপণ করা সম্ভব হয় না। তাই এবারও হয়তো
স্বাভাবিক হার্ট আ্যাটাকই ধরে নিত সবাই,ডানহাতের
বৃদ্ধাঙ্গুল কাটা না থাকলেই।
খুনীর কাছে অবশ্য নিশ্চয়তা ছিল না সাঈদ সাহেব
সত্যিই আইসক্রিম চাইবেন কিনা, বরং প্ল্যান ছিল অন্য।
সাঈদ সাহেবের প্রেমিকা নেমে এলে তার
সামনে গিয়ে খুব করুণ স্বরে বলার ইচ্ছে
ছিল,‘স্যার, সারাদিন বেচতে পারি নাই, ঠান্ডার মইধ্যে
ঠান্ডা খায় না মানুষ।কিন্তু আমগো পেট তো ঠান্ডায়
বন্ধ থাকে না।খাইবেন আইসক্রিম একটা ?’
মেয়েদের মন নরম হয়, ভীষণ সিমপ্যাথি দেখায়
এসব ক্ষেত্রে। সাঈদ সাহেবকে আইসক্রিম
কিনতেই হতো। এতেও কাজ না হলে প্ল্যান বি,
প্ল্যান সি-ও মাথায় ছিল। কিন্তু প্রয়োজন হলো না,
সাঈদ সাহেব নিজেই ফাঁদে পা দিলেন যেচে।
তবে যাওয়ার আগে খুনী ফেলে গেলো তার
আঙ্গুল কাটার ছুরিটা। ভুলে নাকি সেচ্ছায়?
***
লেখা শেষ করে উঠলেন ইকবাল সাহেব।
ফোন করে নির্দেশ দিলেন নুসরাত ফারিহাকে
গ্রেফতার করার।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now