গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

শত্রুদেশীয় চিকিৎসা

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (০ পয়েন্ট)



"জখমীদের জন্য শত্রুদেশীয় চিকিৎসা আমরা পছন্দ করি না।" - সুলতান নুরুদ্দীন জেংকী রহিমাহুল্লাহ্ রোম থেকে এক যুবক সুলতান নুরুদ্দীন জেংকীর কাছে এসে তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলো। এরপর মুসলিম ভূখন্ডে থাকার অনুমতি চাইলো। নুরুদ্দীন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার পেশা কী?" যুবকটি বললো: "আমি ডাক্তারী করি এবং আহতদের চিকিৎসা করি।" নুরুদ্দীন বললেন: "তুমি কি আমাদের বাহিনীর আহতদের চিকিৎসা দেবে?" সে বললো: "আল্লাহর শপথ! আমি এই জন্য আসিনি জাঁহাপনা। কাফির বাহিনী দ্বারা আমি আমার অপরাধসমূহের এবং কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই‌।" তিনি তাকে বললেন: "হে ছেলে! ইসলাম তার পূর্ববর্তী বিষয়কে মিটিয়ে দেয় এবং তাওবা তার আগের অপরাধ বাতিল করে।" নুরুদ্দীন বললেন: "তুমি কোথা থেকে তোমার প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং চিকিৎসার উপকরণ আনো?" সে বললো: "রোম দেশ ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না জাঁহাপনা।" নুরুদ্দীন বললেন: "আল্লাহর শপথ! আমাদের জখমীদের চিকিৎসা আমাদের শত্রুদেশ থেকে হবে, এটা আমরা পছন্দ করবো না।" তাকে বললেন: "সেনাবাহিনী থেকে কয়েকজন সেনাকে বেসামরিক পোশাকে তোমার সাথে নাও এবং রোম দেশে যাও। আমাদের জন্য সকল লতাগুল্ম এবং উপকরণ নিয়ে এসো যাতে আমরা এখানে ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের মতো ঔষধ তৈরি করতে পারি। যুবকটি গেলো এবং কিছুদিন পর ফিরে এলো। আর তার নেতা বীর মুজাহিদ যা চেয়েছেন তা সাথে করে নিয়ে আসলো। তখন নুরুদ্দীন তাকে কিছু স্বর্ণের বার, এক খন্ড জমি এবং কয়েকজন সাহায্যকারী দিলেন। আর তাকে বললেন: " তোমার সাথে যা এনেছো, সব লতাগুল্ম এখানে চাষ করো। যখন ফলন হবে তখন তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো। আর এক টুকরো জমি তৈরি করে তাতে যা তুমি খাবে তা নিজের জন্য চাষ করো।" যুবকটি তাই করলো এবং কিছুদিন পর ঔষধি লতাগুল্ম যা চাষ করেছে তা নিয়ে এলো। তখন নুরুদ্দীন তাকে ঔষধ তৈরি করার জন্য একটি জায়গা দিলেন। আর তাকে নির্দেশ দিলেন শত্রুদের নিকট প্রয়োজনীয় যা আছে তার পরিবর্তে তিনি যা ইসলামী রাষ্ট্র থেকে চেয়েছিলেন তা উপস্থাপন করতে।" অতঃপর তিনি যুবকদের একটি দলকে এই ডাক্তারের হাতে শিখতে নির্দেশ দিলেন যাতে তার (ডাক্তারের) যদি কিছু হয়, তাহলে কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং সেনাবাহিনী তাদের স্বজাতি ব্যতীত কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী না হয়। কিছুকাল পর যুবকটি নুরুদ্দীনের কাছে আসলো এবং তাঁকে বললো: "মহামান্য সুলতান! আমি যুবকদের আমার কাজ শিখিয়েছি। আজকের পর এখানে আমাকে আর প্রয়োজন হবে না। তাই আমাকে আমার অস্ত্র বহন করতে এবং আল্লাহর দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অনুমতি দিন। যেমনটি আমি পূর্বে আপনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। এখন আমি আল্লাহর সাথে শহীদ হিসেবে সাক্ষাৎ করতে চাই।" নুরুদ্দীন তাকে বললেন: "তাহলে তোমার উপদেশ লিপিবদ্ধ করো এবং নিজের অর্থ দিয়ে তোমার জন্য অস্ত্র কিনে নাও। কারণ, আমি তোমাকে অস্ত্র দেবো না।" যুবকটি অবাক হয়ে গেলো এবং বললো যে, সে শুনেছে এবং মেনে নিয়েছে। নুরুদ্দীন সংশোধন করে বললেন: "যদি তোমার সম্পদ ও পরিবার থাকে তাহলে তোমার অসিয়ত লিপিবদ্ধ করো।" সে তাই করলো। যুবকটি মুসলিম বাহিনীতে যোগ দিলো এবং প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করলো। এমনকি রোমান সৈন্যরা শত্রুর উপর তার আক্রমণের তীব্রতা দেখে তার সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল এবং বলছিলো "শয়তান...! শয়তান....! মুসলিম বাহিনীর সাথে সাথে জ্বীনও যুদ্ধ করছে!" যুদ্ধ শেষে নুরুদ্দীন যুবকটির খোঁজ করলেন। কিন্তু তাকে জীবিতদের মাঝেও পাওয়া গেলো না এবং আহতদের মাঝেও পাওয়া গেলো না। তখন তিনি নিজেই গেলেন। শহীদদের মাঝে তাকে পাওয়া গেলো। নুরুদ্দীন তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং অনেক কাঁদলেন। এমনকি তাঁর বিলাপের আওয়াজ জোরে হলো। নুরুদ্দীন যখন তাকে জড়িয়ে ধরলেন, তার বুক পকেটে একটি চিরকুট পেলেন। তিনি তা বের করলেন। তাতে লেখা ছিলো: "জাঁহাপনা! আমি আমার সম্পদের অর্ধেক আমার পরিবারের জন্য অসিয়ত করছি। আর বাকী অর্ধেক দিয়ে আমার মৃত্যুর পর সাদাক্বাহ হিসেবে সৈন্যদের সজ্জিত করা হবে। আমার মহামান্য নুরুদ্দীন! আমি বুঝেছি আপনি আমার থেকে কী চেয়েছিলেন। আপনি আমাকে জমি দিয়েছিলেন যাতে মুসলিম সৈন্য নিজের হাতের কর্ম থেকে খায়। আমাকে একটি অস্ত্র দিতে চাননি যাতে প্রথম অস্ত্র আমার নিজের অর্থ থেকে হয়। আর আমার জন্য ইসলামী ভূখণ্ড থেকে লতাগুল্ম এবং ঔষধ এনেছেন। আমাকে বলেছিলেন যা আমি করেছি যে: "মুসলিমদের পতাকা কখনও উঁচু হবে না যে পর্যন্ত না তাদের খাবার তাদের নিজেদের হাতের কর্ম থেকে হবে, তাদের ঔষধ এবং অস্ত্রশস্ত্র তাদের নিজেদের হাতের তৈরি হবে।" আল্লাহ আপনাকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন। আর আল্লাহর কাছে দু'আ করি, আপনি যেন জান্নাতে আমার সাথী হন।" আর আমরাও আল্লাহর কাছে দু'আ করি, যেন আমরা সবাই জান্নাতে তাঁদের দু'জনের সাথী হতে পারি। ইবনুল আসীর এর সূত্রে- আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি ফালতুচিকিৎসার কাহিনি।
→ আজরাঈল এর চিকিৎসা
→ চিকিৎসা
→ আজব রোগী, আজব চিকিৎসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...