বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অর্কর জন্মদিন । অন্য সব বন্ধু বান্ধবীদের মতো ওর জন্মদিনেও একটা সারপ্রাইজ অ্যারেন্জ করা হয়েছে । ও ক্যাম্পাসে আসার পর কেক কাটা হলো, আমরা ছাড়াও অনেক পরিচিত মুখ ওকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো, সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে আমাদের ট্রিট দিলো এবং সবশেষে ব্যাগ ভর্তি গিফ্টস নিয়ে বাসায় গেল ।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে অর্ক নিরিবিলি সব গিফ্ট খুলতে বসলো। ব্যাগ থেকে সব গিফ্টস বের করার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করলো সবার নিচে হলুদ রঙের খামের মতো কিছু একটা। খামটা বের করলো , উপরে নাম ঠিকানা কিছুই নাই , ভিতরে কি আছে এই ভেবে খাম খুলতেই বেরিয়ে এলো একটা কাগজ সেখানে পেন্সিল আঁকা তারই একটা সুন্দর স্কেচ! স্কেচটার বিশেষত্ব হলো এটা তার কোনো ছবি দেখে আকা হয় নি , আস্ত তাকে দেখেই আঁকা হয়েছে ! কারন এভাবে সে বই সামনে নিয়ে লাইব্রেরিতে বসে ছিলো গত পরশুদিন । পড়ার ইচ্ছে তার ছিলো না কিন্তু গতকালের পরীক্ষার জন্য বইয়ে একটু চোখ বুলাতে হয়েছিল ঠিক সেই সময়ে স্কেচ টা আঁকা হয়। অর্ক মনে করার চেষ্টা করলো ওইদিন আশেপাশে কে ছিলো কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলো না । স্কেচটা তার অত্যাধিক মাত্রায় পছন্দ হয় যার কারণে বেড সাইডের ছবির ফ্রেম থেকে ছবি টা খুলে ফ্রেমে স্কেচ টা রাখলো । স্কেচটা কে দিয়েছে এ ব্যাপারে রাতে সে আমাদের জিজ্ঞাসা করলো কিন্তু আমরা তো জানি না ! ও হ্যাঁ আমি অর্কর বান্ধবী তিশা । যাইহোক স্কেচটা আমাদের মধ্যে থেকেই কেউ দিয়েছে, ফাজলামি করে হয়তো বলছে না এটা ভেবেই সে নিশ্চিন্তে ঘুমালো। পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে অর্ক স্কেচের ব্যাপারে কোনোরকম উৎসাহ দেখালো না, না দেখালেই হয়তো যে দিয়েছে সে নিজে থেকেই এসে বলবে । কিন্তু এই ধারণায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে ঠিক দুই দিন পর ভার্সিটি শেষে বাসায় ফিরে অর্ক আরো একটা হলুদ খাম তার ব্যাগে আবিষ্কার করলো । আগেরটার মতো এটাতেও নাম নেই । খাম খুলতেই বেরিয়ে এলো আরো একটা স্কেচ ! ভার্সিটির ক্যাফেতে সে খাচ্ছে । এরকম কোনো ছবি তার ফেসবুক ওয়ালে নাই , রিসেন্ট কয়েকদিন সে ক্যাফেতেও যায় নি মানে স্কেচ টা অনেক আগে আঁকা হয়েছে! এরপর থেকে শুরু হয়... একদিন অথবা দুইদিন পর পর ব্যাগে সে আবিষ্কার করে সেই বেনামি হলুদ খাম সাথে তার স্কেচ! ব্যাগটা অনেক চোখে চোখে রাখে, নজরও রাখে চারিদিকে কিন্তু কে যে দেয় সেটা ধরতে পারে না। কিছুদিন পর অর্ক পিছনে ব্যাগ না ঝুলিয়ে সামনে নেওয়া শুরু করলো , এতেও থামা থামি নাই । ক্যান্টিনে খেতে গেলে ক্যান্টিনের দিদি তাকে ডেকে সেই হলুদ খাম ধরিয়ে দিলো, টং এ গিয়েছে চা খেতে টং এর মামাও হাস্যোজ্জল চেহারায় অর্কর দিকে হলুদ খামটা বাড়িয়ে দিলো, অনেক জিজ্ঞাসা করার পরও ক্যান্টিনের দিদি আর টং এর মামার কাছ থেকে কিছুই জানা গেল না । আড্ডায় এখন হাসি তামাশার টপিক হলো অর্কর স্কেচ। স্কেচটা এখন রীতিমতো টর্চার, অবশ্য সুইট টর্চার ! স্কেচের ব্যাপারটা যে অর্কর ভালোই লাগে সেটা ওর হাব-ভাবে দেখলেই বোঝা যায়। সেদিন বাসায় যাওয়ার পর অর্কর আম্মা মানে আন্টি নাকি ওর রুমে এসে হলুদ খাম টা দিয়ে গিয়েছে । কি সর্বনাশ এই জিনিস বাসা পর্যন্ত চলে এসেছে! কে দিয়েছে সেটা নাকি আন্টিও জানে না। দুপুর বেলা কলিং বেল বাজলে দরজা খুলে আন্টি দেখলেন নিচে এই খাম পড়ে আছে, উপরে অর্কর নাম লেখা তাই সরাসরি অর্কর হাতেই খাম টা দিলেন । খামের ভিতরের জিনিস দেখে আন্টি আরো মুগ্ধ ।
ব্যাগ সামনে ঝুলিয়ে তেমন একটা লাভ হলো না কারন কয়েকদিন ধরে খামটা বাসায় আসছে। আন্টিও ব্যাপারটাতে বেশ মজা পাচ্ছে । প্রেরক যেই হোক না কেন ছেলের এত সুন্দর সুন্দর ছবি যে একে পাঠাচ্ছে তাকে দেখার সুপ্ত বাসনা আন্টির মনেও জন্মালো!
আর অর্ক ? বেচারা বাসায়ও কোনঠাসা, খেতে বসলে আন্টির সাথে আঙ্কেলও বিদ্রুপে শামিল হন, শেষে দুজনে স্কেচের ব্যাপারটা নিয়ে একযোগে হাসেন । সেদিন অর্ক ক্লাসে বসে ঘুমাচ্ছিল , ঘুম ভাঙার পর চোখে পড়লো ডেস্কে সেই হলুদ খাম ! খামের ভিতর এবার আর কোনো স্কেচ নেই তার বদলে কাগজে একটা ঠিকানা , তারিখ, সময় দেয়া আর নিচে ছোট্ট করে লেখা
"কিঞ্চিত নাটকীয়তার জন্য দুঃখিত
কারণটা না হয় সামনাসামনিই বলি"
অর্ক গিয়েছিল সেখানে, অনেকক্ষণ অপেক্ষাও করেছিলো কিন্তু প্রেরিকা আসে নি। এরপর অদ্ভুতভাবে সেই হলুদ খাম, স্কেচ এসব আসাও বন্ধ হয়ে গেল ! অনেকদিন অপেক্ষা করেও অর্ক কোনো খাম/স্কেচ পেল না। সপ্তাহখানেক পর প্রেরিকার জন্য সেই অনুভূতিগুলোকে স্কেচগুলোর সাথে সাথে কার্টনবন্দি করে ফেলল। এ পর্যায়ে 'Field Report' এর একটা গানের লাইন মনে পড়লো "I am not waiting anymore" কারন এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অর্ক মৌমিতার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গেল, এরপর তিন বছর প্রেম ! ভালো একটা জায়গায় অর্কর চাকরি হওয়ার পর শেষে ওদের সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় ।
•
বছর তিনেক আগে ক্যাম্পাসের সবাই জানতো অর্ক মৌমিতাকে পছন্দ করে , মৌমিতারও অর্ককে অল্প স্বল্প ভালো লাগতো তাই ওদের সম্পর্কটা শুরু হওয়ার আগে একবার মনস্থির করেছিলাম অর্ক কথাটা বলবো, বলি নি, আসলে বলতে পারি নি, কেন যেন ওইদিন সাহস হয় নি !
আজ অর্কর বিয়ে আর আমি এয়ারপোর্টে। লস এন্জেলসের একটা পেইন্টিং এক্সিবিশনে অ্যাটেন্ড করতে হবে ।
# স্কেচ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now