বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হাসপাতালের মর্গ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bishal Dev (০ পয়েন্ট)



X আজ আমি ময়মনসিংহ বিভাগের একটি হাসপাতালের ঘটনা শেয়ার করছি।ঘটনার সময়কাল ১৯৯৮ সাল।ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো এক জেলার হাসপাতালে মর্গের দায়িত্বে ছিলেন নারায়ণ পারহি নামের এক লোক।কিন্ত তিনি ডোম ছিলেন না।শুধু কয়টা লাশ এলো কয়টা বেওয়ারিশ লাশ আসলো এসব হিসাব রাখতেন।হঠাৎ একবার তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পরেন।তার হয়ে কেও যে তার ডিউটি করে দেবে এমন কেও নেই।কারন তখন ছিল রোজা ঈদ।একপ্রকার নিরুপায় হয়ে তিনি তার ছেলে নিতাই পারহি কে একটি রাত ডিউটি করতে বলে।তার ছেলে রাজি হয়।দিনটা ছিল রোজা ঈদের পরের দিন।সেদিন সন্ধ্যায় একটি লাশ হাসপাতালে আসে।লাশটি রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিল।রাত ৮টার সময় নিতাই হাসপাতালে আসে।সে দেখলো হাসপাতালে বেশি কোনো মানুষ নেই।রাত যখন একটা বা দেড়টা বাজে তখন নিতাই হঠাৎ মর্গের ভেতর থেকে ধপাস করে ভারি কিছু পরে যাওয়ার শব্দ শুনতে পায়।সে মর্গের দরজার সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে যে সে দরজা খলবে নাকি খুলবে না।সে সিদ্ধান্ত নিলো দরজা খুলবে।সে দরজা খুলে লাইট জালালো।সে দেখলো একটা ভারি মোটা ধরনের লাশ স্ট্রেচার থেকে ফ্লোরে পরে গেছে।সে ভাবলো খুব ভারি বলে স্ট্রেচারের এক দিকে হয়তো ভার বেশি পরায় লাশটি পরে গেছে।আবার ভাবলো লাশটির হয়তো কোনো প্রব্লেম আছে তাই লাশটি মাটিতেই রাখা হয়েছে।এইসব ভেবে সে লাইট বন্ধ করে দরজা লক করে চলে যায়।ঘন্টাখানেক পর নিতাইয়ের একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে।ঠিক তখনি সে মর্গের ভেতর থেকে আবার একটি আওয়াজ পায়।আওয়াজটি ছিল এইরকম যেমন কেও যদি পানিওয়ালা ফ্লোরে হাটলে যেরকম আওয়াজ হয় ঠিক সেই রকম একটি আওয়াজ।তার বাবা তাকে বলেছিল মর্গের পাশে একটি গাছ আছে।সেই গাছের ডাল বেয়ে অনেক সময় ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বড় বড় কিছু বিড়াল ঢুকে মর্গের জিনিসপত্র তছনছ করে।নিতাই ভাবলো হয়তো বিড়াল ঢুকেছে।কিন্ত আওয়াজটা তার কাছে সন্দেহজনক লাগছিল।তাই সে আবারো মর্গের দরজা খুলে এবং লাইট জালিয়ে দেখে সব আগের মতো ঠিকঠাক।তবুও সে কয়েকটা মর্গের লাইট জেলে দেখতে লাগলো আসলেই কোনো বিড়াল আছে কিনা।সে খুঁজতে খুঁজতে সত্যিই একটা বিড়াল আবিষ্কার করলো।তবে সেটা ছিল মৃত এবং মনে হচ্ছিল কেও এর মাথাটা টেনে ছিরে ফেলেছে।সে দেখলো বিড়ালটার বডি থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে পরে আছে।রক্তে ফ্লোরের একটা পাশ ভেসে যাচ্ছে।সে ভাবলো কে বিড়ালটাকে এত নির্মম ভাবে মারলো।সে তখন একটু অসস্তি ফিল করলো এবং ভাবলো এখানে আর থাকা যাবেনা।এই ভেবে সে যেইনা পেছনে ঘুরলো সে যা দেখলো তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তত ছিল না।সে দেখলো ফ্লোরে পরে থাকা লাশটি দাড়িয়ে আছে এবং রক্ত লাল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।সে এবার মারাত্মক ভয় পেয়ে ধিরে ধিরে দরজার দিকে এগোতে লাগলো।কিন্তু সে তার আগেই সেন্সলেস হয়ে ফ্লোরে পরে গেল।সকালে অন্যান্য লোকজন এসে দেখে মর্গের দরজা খোলা এবং ভেতরে নিতাই অজ্ঞান হয়ে পরে আছে।তার জ্ঞান ফেরানো হয় এবং সে সবাইকে ঘটনাটা খুলে বলে।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে সবাই লাশটিকে স্ট্রেচারে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়।পরে তারা সত্যিই একটি বিড়াল দেখতে পায় যার গলা বডি থেকে আলাদা ছিল।পরবর্তীতে নিতাই এক সপ্তাহ ভীষণ জ্বরের পর সুস্থ হয়ে ওঠে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...