বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
{ঝগড়াটে নম্বর ওয়ান}
আজকের দিনটা কেমন জানি মনে হচ্ছে। আমার মন বলছে আজ কিছু একটা হতে চলেছে। তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করছি মনকে সান্তনা দেওয়ার জন্য কিন্তু পারছি না। একটু পর মনে হলো, এবার বুঝি শুরু হতে চলেছে।আমি ভয়ে ভয়ে জিজেতে ঢুকলাম।ঢুকেই দেখি রামিশা আপু আড্ডা দিচ্ছে। সাথে আছে জিজের সকলে।
আমি সেই আড্ডাখানায় ঢুকে নীচে থেকে পড়তে শুরু করলাম। নীচে দেখলাম সবাই ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করেছে।আমি আস্তে আস্তে উপরে scroll দিয়ে দেখি রামিশা আপু হঠাৎ করে উদয় হয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিঁয়ে দিয়েছে। সবাই বেশ ভেবে-চিন্তে কমেন্ট করছে। আর রামিশা আপুকে ঝগড়া থেকে কিভাবে বের করা যায় তাই ভাবছে।
আমি উপরে উঠে যখনই কমেন্ট করবো, তখনই রামিশা আপু বললো, হা হা হা সামির কেমন আছিস, জিজেতে কম আসিস কেনো?? কি করিস বাড়িতে(সাথে আবার এই ইমুজি দিয়েছে) আমিতো ভয় পেয়ে গেলাম। আমাকে কিভাবে বুঝলো রামিশা আপু যে, আমি জিজেতে আছি আর জিজেতে আসার সাথে সাথে একবারে তিনটা প্রশ্ন আমার কাছে ছুড়ে দিলো।
আমি এবার বুঝলাম, আমার মন এইজন্যই হয়তো বারবার সতর্ক করছিলো। যাইহোক আমাকে যখন রামিশা আপু বুঝে ফেলেছে সেহেতু আমার সাথে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যই করবে। আমি একটু গলা ঝাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিলাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে প্রতিহত করার জন্য। আমি কমেন্টে লিখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি & আপনি কেমন আছেন??
রামিশা আপুঃ হুম ভালো আছি, তা আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিলি
আর বাকি দুইটার উত্তর দিবি না??
আমিঃ জিজেতে আসার সময় কম পায় আর বাড়িতে মানুষ যা করে আমিও তাই করি।
রামিশ আপুঃ সে যাইহোক তা তুই বাড়ির ব্যাপারটা ভালো করে বুঝিয়ে বল??
আমিঃ বাড়িতে মানুষ আবার কি করে। সেটা নিজে বুঝে নিতে হয়।
রামিশা আপুঃ বুঝে নিতে হবে ক্যান, তুই বল সামিরা আপু।
আমিঃ (এবার আমার রাগ হয়ে গেলো একেতো তুই করে বলছিলো আর এখন সামিরা বলা শুরু করছে, তবুও রাগটা চেপে বললাম) আচ্ছা আপু শুনেন বাড়িতে মেয়েদের কাজ হলো কাপড়-চোপড় কেঁচে দেওয়া, থালা-বাসন মেঁজে দেওয়া, রান্না করা এছাড়াও বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা।
রামিশা আপুঃ এই সামিরার জামাই তুই মেয়েদের কাজ বলছিস কেনো??
আমিঃ (আমার মেজাজটা বেড়ে ২০ থেকে ৭০ এ চলে গেলো, এই মেয়েটা কই কি আমারে আমি নাকি সামিরার জামাই)আপনি কি আমাকে বলেছেন যে, ছেলেদের কাজ না মেয়েদের কাজ।
রামিশা আপুঃ ঐ আমি তোর কাছে জিজ্ঞাসা করেছি তুই বাড়ি কি করিস?? তুই কি ছেলে না মেয়ে??
আমিঃ আমিতো ছেলে ছিলাম কিন্তু আপনি বললেন সামিরা আপু তাই মেয়েদের কাজ বলছিলাম
রামিশা আপুঃ ঐ চালাক ছেলে তুই কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মোড় ঘুরাচ্ছিস।আর যদি একবার জিহবা বের করেছিস তো টেনে ছিড়ে ফেলবো।
আমিঃ (এতো দেখছি যুদ্ধটা আরো বড় হচ্ছে, তাই আমি আমার নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে বললাম) আমি বাড়িতে পড়া-লেখা করি।
রামিশা আপুঃ ঐ তুই মেয়েদের বিষয়ে এতো কিছু বললি আর তোর বিষয়ে মাত্র একটা বললি........
আমিঃ তা আপনার সমস্যাটা কোথায়??
রামিশা আপুঃ আমার সমস্যা নাই, তুই বলবি তাই জানি??
আমিঃ আচ্ছা বলছি, প্রতিদিন ৩০ টা তেলাপোকা ধরি আর একটা বক্সে সংগ্রহ করি।(একটু চিন্তা করে বললাম কারণ রামিশা আপুর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থামানোর এইটা সবচেয়ে ভালো কৌশল)
রামিশা আপুঃ ইয়াক থু, তুই এইসব ধরে কি করিস??
আমিঃ কি আর করবো আপু, এই তেলাপোকাগুলোকে কেউ নিতে চাই না তাই ভাবছি আপনাকে একদিন আমার বাড়িতে দাওয়াত দেবো আর তেলাপোকাগুলো আপনাকে সারপ্রাইজ হিসাবে দিয়ে দিবো।(যাক রামিশা আপু এইবার ঠিকই মোড় ঘুরিয়েছে, হাহাহা)
রামিশা আপুঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমি তোদের বাড়িতেও আসবো না আর তোর ঐ সারপ্রাইজ রেখে দে আমি নেব না।
আমিঃ কেন নিবেন না, আমি খুব যত্ন করে ধরেছি।
রামিশা আপুঃ রাখ তোর তেলাপোকা আমি নিবো না, আমি গেলাম, বাই বাই জিজেবাসী✋✋✋
আমিঃ হা হা হা বেচারা পালিয়েছে।
রামিশা আপু চলে গেলো আর জিজেতে আবার শান্তি বিরাজ করতে লাগলো। যাইহোক আমি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিহত করলাম। আমার মন আবার প্রশান্তিতে ভরপুর হয়ে গেলো।জিজের সবাই আবার আড্ডা দিতে থাকলো। [[[আমি রামিশ আপুকে একটা নাম উপাধি দিতে চাই সেই নামটা হলো ঝগড়াটে নম্বর ওয়ান]]] আমিতো ভাবছি রামিশা ভাই এই গল্পটা পড়লে কি বলবে আল্লাহয় ভালো জানেন আমি তার চেয়ে বাই বাই✋✋✋
(বিঃদ্রঃ শুধু লিখলাম আপনাদেরকে উপভোগ করতে দেওয়ার জন্য।কেউ সিরিয়াস ভাবে নিবেন না আর কেউ আজে-বাজে মন্তব্য করবেন না)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now