বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যর্থতার এক যুগ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X ক্লাস তখন থ্রিতে। একটি মেয়েকে পছন্দ হলো। বন্ধু হওয়ার জন্য প্রপোজ করলাম। - তুমি কি আমার বন্ধু হবে? - কেন? আমার বয়েই গেছে। -চলো আমরা বন্ধু হই। এর কিছু দিন পরের ঘটনা। আমি স্কুল মাঠে খেলছিলাম। নূর নাহার মানে যাকে বন্ধু হিসেবে চেয়েছিলাম, ও আমার কাছে এল। বলল- -আনিছুর একটু এদিকে আসো তো! কথা আছে। আমি তো মহাখুশি। দৈ দৈ করে নাচতে ওর সাথে আসলাম। কিন্তু যেটা ভাবছিলাম তার উল্টো হয়ে গেল। ওর বড় ভাই ক্লাস ফাইভে পড়ত। ও আমাকে ধরে আচ্ছা পেটালো। কিন্তু আমি যদি মারপিট করতাম তাহলে ওর ভাই হাসপাতালে থাকত। কিন্তু নূর নাহারের সামনে চুপ করে ছিলাম। তখন আমি বুঝলাম ও বিষয়টি খারাপ ভাবে নিয়েছিল। পরের বছর এসে ক্ষমা চাইল। আর কাঁদতে ছিল। আমিও কিছু জানতাম না। পরে জানতে পারলাম ও আরেক এক স্কুলে ভর্তি হয়েছে। মাথাটা ঘুরে গেল। আমারও কান্না পেল। আমিও কেঁদেছি। ক্লাস ফোরে ভালবাসা কি জিনিস আমি জানতাম না। তবুও মনটা ভেঙে গেল। কারো সাথে কথা বলতাম না।খেলতাম না। শুধু নূর নাহারের কথা মনে পড়ত। আমার এটা মনে হলো আমার কারণেই বুঝি ও চলে যাচ্ছে। নিজেকে বড় অপরাধী মনে হলো। কেন যে বন্ধু বানাতে চাইলাম? এ কারণে চলে গেল আমায় ফেলে। যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি তখন ভাবি ও আমার অতীত। যাই হোক, তখন আরেক জন্যকে পছন্দ করি। ভাবি কথা টা জানাব। কারণ আমার প্রতি ও দূর্বলও ছিল। আমি জানাতে জানাতে অনেক দেরী করে ফেললাম। যখন ওকে বললাম। ও আমাকে একটা সজোরে গালে চড় কষিয়ে বলল- "তোমাকে আমি প্রচুর ভালবাসতাম। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তুমি বোঝেও না বোঝার ভান করেছো। আমি খুব কষ্ট পেতাম তোমার আচারণে। এখন পরিস্থিতি হাতের নাগালে, এখন আমার প্রতি ভালবাসা উগরে উঠল। সরি।" এ বলে কাঁদতে শুরু করল। আমিও আবার আরেক জনকে কাঁদালাম। নিজেও কাঁদলাম। কলেজে ভর্তি হলাম। বয়সের একটা পরিপূর্ণতা পেলাম। ভালবাসার মানে বুঝলাম। একটি মেয়েকেই প্রপোজ করলাম। কিন্তু সাড়া পেলাম না। ৮ টি বছর ওর পিছনে ঘুরেছি। তাও সাড়া নেই। এক সময় ও বলল- -"আনিছ আমি তো রাসেল কে ভালবাসি। তবে তোমার প্রতি আমিও দূর্বল হয়ে গেছি। কারণ রাসেল যতটুকু আমাকে নিয়ে ভাবছে, তুমি তার চেয়েও বেশি আমাকে নিয়ে ভাবছো। আমি জানি এসব শুনে হয়ত তুমি অনেক কষ্ট পাবে। আশা করি তুমি আমার চেয়ে গুণবতী কাউকে পাবে। আমাকে ভুলে যাও। আর আমাকে আর জ্বালিও না। তোমার আমার দূর্বলতা বেড়ে গেলে কোন দূর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। আমার ভাল জন্য আমাকে ভুলে যাও। তুমি না আমাকে ভালবাসো। প্লিজ চলে যাও আমার জীবন থেকে।" আমিও ছুটে চলেছি। কোথায় যাব। যা হবার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। একটা মেয়ে হঠাৎ করেই আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের আসনে পতিত হলো। চারটি বছর সময় কাটছে। একে অন্যের দুষ্টুমীতে। কোন ভাবলাম ও মনে হয় আমাকে ভালবাসে। কারণ এমন কিছু সময় ও বলত- - তোকে ছাড়া আমি বাঁচব না। তুই আমাকে বিয়ে করে ফেল। - এত ইতরামী করিস না তো। ওকে আমিও ভালবাসতাম পাগলের মতো। আর বাকি গুলো ছিল অতীত হয়ে। আমি মনে মনে ভাবলাম সুদিন এসেছে। ওকে আমার কথা বলব। তাই সুন্দর দেখে রজনীগন্ধার ফুলের তোড়া কিনলাম। ও দেয়া গিফ্ট পাঞ্জাবী কুর্তি পরলাম। কিন্তু ওকে বারবার ফোন করে পেলাম না। ও রাতে এল। গায়ে বিয়ের শাড়ি। বলল- -চল বিয়ে করে ফেলি। - কি বলিস? -আমরা তো বিয়ে করে ফেলেছি। তোকে সারপ্রাইজ দিবো ভাবছি। সমস্ত ভালবাসা সবাই কেড়ে নিয়ে চলে গেল। আমি কিছুই করতে পারলাম না। মনে মনে নিজেকেই মারতে থাকলাম। - তোর প্রিয় রজনীগন্ধা! তোদের দাম্পত্য জীবন সুখে কাটুক। - তোকে সারপ্রাইজ দিব ভাবছি। আর তুই আমাকে অবাক করে দিলি। তুই কি করে জানলি? - বেস্ট ফ্রেন্ড বলে। এ বলে চলে এলাম। কোন কথা হয় না। তারপর ও জানতে পারে আমিও ওকে ভালবাসতাম। একটা ফোন এল। অপরিচিত নম্বর। রিসিভ করলাম। -এই হারামজাদা, কুত্তা, ফোন রিসিভ করিস না কেন? - জুঁই - কেমন আছিস? - আগে বল বিয়ে করছিস? -না রে? - তুই আমারে আর কত জ্বালাবি? - তুই তো সুখেই আছিস। - আনিছ, একটা কথা সত্যি করে বলত- তুই কি আমারে কোনদিন ভালবাসিস নি? - কি? এসব জানতে চাস এখন? ছুটে চলে আসবি, আয়। আমার বুকে আয়। - ফাজলামু করিস না, আমি সব জেনে গেছি। - কি জেনেছিস? - তোর ডায়েরিটা পড়ে। - এজন্যই বলি, তুই চুরি করেছিলি? চুন্নি কোথাকার? -এখন, আমাকে বলতে দে। " আর কত নিজেরে লুকোবি, সারাটি জীবন অন্যের ভালবাসাকে পরিপূর্ণতা দিলি, অথচ নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়ে। আমি কি তাই চেয়েছিলাম? যে আমার বিয়ের পোশাক পড়েছিলাম শুধু তোর জন্যই অথচ তুই চেয়ে দেখলি না। আমরা তো বিয়ের অভিনয় করেছিলাম। এর পর তোর কোন সংবাদ পাই নি। বাবার কথা ভেবে কাউসারকে বিয়ে করে ফেলি। অভিনয়টা বাস্তব হয়ে গেল রে! আমি হেরে গেলাম তোর কাছে। তুই জিতে গেলি। সারা জীবন ভালবাসাকে বিসর্জন দিয়ে। তুই বলেছিলি আমার জন্য সব কিছু করতে পারিস। তুই তাই করলি রে! এরপর কাউকে ভালবাসি নি। যদি আমার কারণে কেউ কষ্ট পায়।ব্যর্থতার এক যুগ পেরিয়ে গেছে। আমি শুধু অতীত স্মৃতির প্রহর গুনছি। -মোঃ আনিছুর রহমান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now