বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রজেক্ট প্যালিড্রম-০৩

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এটা তো খেলা--খেলার জন্য গাঁটের পয়সা খরচ করছেন? দেখুন সাইদুল এটা আমাদের একান্ত ধর্মীয় বিশ্বাস। সবাই কিন্তু বিশ্বাসকেই পুঁজি করেই জীবনপাত করছে। আমরাও তাই। তবে ধর্মের বিশ্বাসের কারণে হিংসা হানাহানি একদম পছন্দ করি না আমরা। যা হোক আপনার সাথে কথা বলে ভাল লাগলো। রিসিপশনে আপনার জন্য একটা অ্যাপয়নমেন্ট লেটার রেখেছি। যাবার সময় নিয়ে যাবেন। টার্ম এন্ড কন্ডিশনস সব লেখা আছে। আমরা একটু কনজারভেটিভ বলে কিছু বিধি নিষেধ ধাকবে। আপনি রাজি হলে আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেন। তবে সিদ্ধান্ত দ্রুত জানাবেন আশা করি। কারণ আপনাকে না পেলে আমরা দ্বিতীয় আরেকজনকে নেব। ওকে? পথে বেরিয়ে সাইদুল কিছুটা বিভ্রান্ত। আসলে ও কী করবে? যোগ দেবে এই পাগলামির সাথে নাকি না করে দেবে? আবার টাকার অংকটাও অবজ্ঞা করার মতো নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখেই মুগ্ধ হলো ও। পেশাদারিত্বের ছাপ সর্বত্র। টাকার অংকটা ফাঁকা। সাইদুলকে যেকোনো সংখ্যা লিখে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিন মাসের অগ্রীম ওরা ওর অ্যাকাউন্টে আগেই নাকি পাঠিয়ে দেবে! মজা করতেই যেন শূণ্য ঘরে ২০০০০০ অংকটা লিখে ও অ্যাকসেপটেন্স লেটার পাঠিয়ে দিল। চার দিনের মাথায় নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিশাল অংকের অর্থ জমা হবার খবর জেনে বেশ দমেই গেল সাইদুল। লোকটা পাগলামি করছে না তাহলে? পুরো সিরিয়াস? কিন্তু ছোট্ট একটা কাজের জন্য এত টাকা? নাকি কাজটা মোটেই ছোট্ট কাজ নয়! একটা বড় প্রজেক্ট-প্রজেক্ট প্যালিন্ড্রম। শেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সাইদুল -- কাজটা নেবে। আর কিছু না হোক অ্যাডভেঞ্চার তো হবে। এরপর একটা সপ্তাহ যেন কালবোশেখীর ঝড়ে উড়ে গেল। মেস ছেড়ে দিয়ে কদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গেল। ব্যক্তিগত কিছু কাজ সারল। কিছু ধার দেনা ছিল তাও মেটালো। কারণ চুক্তির শর্তানুসারে ও আগামী দুবছর চাইলেই ছুটি পাচ্ছে না। দুবছর পর কন্ট্রাক্ট বাড়তেও পারে নাও পারে। একদিন ব্রাদারহুড অফিস থেকে জানানো হলো তিন দিনের বেসিক ফাউন্ডেশন ট্রেনিং নিতে ওকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যেতে হবে। ওখানে একটি টট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের। সেখানেই ট্রেনিং নিতে হবে। অন্যান্য নতুন কলিগদের সাথেও পরিচয় হবে সেদিন। রেস্ট হাউজে পৌঁছে সাইদুল দেখল অন্যরা কেউ তখনো আসেনি। ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে দুপুরের খাবার খেয়েই শুয়ে পড়ল ও। একটু জিরিয়ে নেবে। কিন্তু এরপর আর কিছু মনে নেই ওর। কত ঘন্টা ঘুমিয়েছে বলতে পারবে না। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখন মধুপুরের লাল রুক্ষ্ণ পরিবেশের বদলে সবুজ শান্ত একটা পরিবেশে নিজেকে আবিষ্কার করল সাইদুল। ও শুয়ে আছে ধবধবে শাদা একটি বিছানায়। ছিমছাম পরিপাটি ভাবে সাজানো একটি ঘর। লাগোয়া বাথরুমও আছে একটা। জানালার গ্রিল দিয়ে সামান্য দূরে বিশাল এক প্যাগোডার মতো স্থাপনা চোখে পড়ল ওর। তাহলে রেস্ট হাউজে খাবারের সাথে ঘুমের বড়ি মেশানো ছিল। তারপর ঘুমন্ত সাইদুলকে কোনো গাড়িতে চাপিয়ে এখানে এনে রাখা হয়েছে। জায়গাটা পাহাড়ের মধ্যে। পার্বত্য অঞ্চলের কোথাও সন্দেহ নেই। তবুও বেশ ভয়ই পেয়ে গেল সাইদুল। আদম পাচারকারীদের হাতে পড়েনিতো ও? উঠে ফ্রেশ হতেই প্যাগোডার মতো স্থাপনায় নিয়ে যাওযা হলো ওকে। কয়েকজন আদিবাসি তাকে এসকর্ট করে নিয়ে গেল। তারা দুর্বোধ্য কোনো ভাষায় নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিল। সেখানে গিয়ে ধর্মাত্মা ত্রয়োদশকে দেখে প্রাণে একটু পানি পেলো সাইদুল। একমাত্র পরিচিত জন!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now