বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
খারাপ মৃত্যুর বাস্তব উদাহরণ(শেষ অংশ)
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Samir♥ (০ পয়েন্ট)
X
পরের অংশ...............
১০.মিসরের সাবেক আইনমন্ত্রী ফারূক মাহমুদ এক সাক্ষাতকারে বলেনঃএক ব্যক্তি এক মুসলমান ও এক খৃস্টান থেকে একটি উট এবং অন্য আরেকটি জিনিস খরিদ করে।তারা তার কাছে মূল্য দাবী করলে সে উভয়কে কুড়ালের আঘাতে হত্যা করে।তারপর উভয়ের লাশ বস্তায় বেধে উটের পিঠে করে দূরে নিক্ষেপের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় এক পুলিশ দেখে যে, উটের শরীর রক্তাক্ত।পুলিশ লোকটিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে তার মৃত্যুদন্ড ঘোষিত হয়।মৃত্যুদন্ডের আগে তাকে কালেমা পড়তে বললে সে উত্তর দেয়ঃ 'আমি মযলুম।' যতবারই তাকে কালেমা পড়তে বলে, ততবারই সে বলে, 'আমি মযলুম'।তারপর কালেমা পড়া ছাড়াই তার ফাঁসী কার্যকর হয়।
১১.ইমাম আবু হামেদ আল গাযালী (র) উল্লেখ করেছেন, এক দর্জিকে মৃত্যুর সময় কালেমা পড়তে বলায় সে নিজ পেশার অংক উল্লেখ করে বলেঃ ৫,৬,৭।
১২.রাসূলুল্লাহ (স) নিজ চাচা আবু তালেবকে মৃত্যুর সময় কালেমা পড়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সে তা পড়েনি।পড়লে নবী করিম (স)কে আজীবন সাহায্যের বিনিময় হিসেবে উত্তম বিনিময় জান্নাত লাভ করতে পারত।অথচ, সে শিরকের উপরই মৃত্যুবরণ করলো।
১৩.এক মুসলমান পাপ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ সফরে গিয়ে এক কাফের মহিলাকে নিয়ে হোটেলে ঘুমায়।হঠাৎ করে হোটেলে আগুন লেগে গেলে সে মারা যায়।পরে লাশের বাক্সে করে দেশে তার লাশ ফেরত পাঠানো হয়।
১৪.হাকেম উল্লেখ করেছেন, আগের যুগের এক আবেদ ও বুযুর্গ ব্যক্তি এক মহিলার সাথে কথা এবং পরে তার দিকে নজর করার ফেতনায় পড়ে যায়।তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে গায়রুল্লাহকে(আল্লাহ ব্যতিত কোনো কিছু সিজদা করা) সিজদা করে বহু বছরের ইবাদত ও সাধনাকে ধ্বংশ করে দিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
১৫.আফ্রিকার এক খৃষ্টান পাদ্রী মুসলমান হয়।তারপর আবার মুরতাদ হয়ে যায়।এক জায়গায় বক্তৃতায় ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে বহু কথা বলে।এরপর বলেঃ হে আল্লাহ, ইসলাম যদি সঠিক হয়, তাহলে আমাকে মৃত্যু দিন।বক্তৃতার মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এক গভীর গর্তে পড়ে সে মারা যায়।
১৬.শেখুল ইসলাম ইউসুফ বিন আইউব একজন বড় আলেম ও ফেকাহবিদ ছিলেন।তার কাছে ইবনুস সাকা নামক এক ব্যক্তি এসে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করে।শেখ লোকটির মধ্যে গর্ব-অহংকার ও আত্মপ্রকাশের ভাব লক্ষ্য করেন।শেখ বলেনঃ আমি তোমার কথাবার্তায় কুফরীর ঘ্রাণ পাচ্ছি।হতে পারে তুমি কুফরীর উপর মৃত্যুবরণ করবে।এরপর ইবনুস সাকা রোমের শাসকের দূতের(বার্তাবাহক,সংবাদদাতা) সাথে কনস্টান্টিনোপলে(তুরস্কের ইস্তাম্বুলে) মিলিত হয় ও খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে।সে ভালো কারী(সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী) ছিল এবং হাফেযে কুরআন ছিল।সেখানে মৃত্যুশয্যায় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো, এখন কুরআন কি তোমার মুখস্থ আছে? সে উত্তর দিল, শুধুমাত্র নিম্নোক্ত আয়াতটি মুখস্থ আছেঃ
অর্থঃ "কোনো সময় কাফেররা আকাঙ্কা করবে যে, যদি তারা মুসলমান হতো।" -সূরা আল হিজরঃ ২
আল্লাহর বাণী কি চরম সত্য!
১৭.এক ব্যক্তি এক অমুসলিম দেশে তার এক অমুসলিম বান্ধবীর কাছে সফরে গিয়েছে।বান্ধবী তাকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।কিন্তু আসতে দেরী হওয়ায় সে আধ-পাগলের মতো অবস্থা।হঠাৎ করে সে বান্ধবীকে দেখে খুশীতে তার পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়লো।একই সময় তার মৃত্যুও উপস্থিত হলো।কিভাবে খারাপ মৃত্যু হয় এটা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।
১৮.এক ব্যক্তি গাড়ী দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সম্মুখীন।ট্রাফিক পুলিশ তাকে কালেমা পড়তে বলায় সে জবাব দেয়ঃ "আমি সাকারে বা দোযখে।"
সম্ভবতঃ এটা আল্লাহর এ বাণীর সার্থক রুপায়ন।আল্লাহ বলেনঃ
অর্থঃ "তোমাদেরকে কোন জিনিস আগুনে ঠেলে দিয়েছে? তার বলবে, আমরা নামাযী ছিলাম না।"
১৯.এক ধূমপায়ীর মৃত্যু উপস্থিত হলে লোকেরা তাকে কালেমা পড়তে বলায় সে উত্তর দেয়, আমাকে সিগারেট দাও।লোকেরা পেরেশান হয়ে সিগারেটের মতো কাগজ ভাজ করে তার হাতে দেয়।সে তা দু' আঙুল দিয়ে ধরে মুখে পুরে মৃত্যুবরণ করে।
২০.আরেক যুবককে মৃত্যুর সময় কালেমা পড়তে বলায় সে বলেঃ "তুমি আমাকে ভুললেও আমি কিন্তু তোমাকে ভুলবো না।"
সম্ভবতঃ এটা প্রেমিকার প্রতি তার সম্বোধন।
হাফেয ইবনে কাসীর বলেছেন, মৃত্যুর সময় গুনাহ ও দুনিয়ার কামনা-বাসনা ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করে।শয়তানও লাঞ্ছিত হয়।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ
অর্থঃ "শয়তান মানুষের জন্য লাঞ্ছিত হয়।" -সূরা ফুরকানঃ ২৯
অত্যন্ত দ্বীনদার সাহাবী আলকামা, মৃত্যুর সময় কালেমা উচ্চারণ করতে পারছিলেন না।রাসূলুল্লাহ (স)-এর পক্ষ থেকে প্রেরিত আম্মার, সোহাইব ও বেলাল সাহাবীত্রয় চেষ্টা করেও কালেমা পড়াতে ব্যর্থ হন।তখন তার মা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলেন, সে প্রচুর পরিমাণে নামায ও রোযা আদায় করতো এবং সদকা দিত।কিন্তু সে আমার উপর তার স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দিত এবং আমার আদেশ অমান্য করতো।সেজন্য আমি তার উপর অসন্তুষ্ট।রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তার কালেমা উচ্চারণ না করতে পারার কারণ এটাই।তিনি আলকামাকে তার মায়ের সামনেই পুড়িয়ে ফেলার লক্ষ্যে বেলালকে পর্যাপ্ত কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেন।মা বলেন, আমার সামনেই আমার ছেলেকে জীবন্ত পোড়াবেন, আমি এটা সহ্য করতে পারবো না।নবী (স) বলেন, আল্লাহর শাস্তি তো আরো কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী।তাহলে, আপনি তাকে মাফ করে দিয়ে তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।মা তৎক্ষণাৎ মাফ করে দেন।পরে আলকামা মুখে কালেমা উচ্চারণ করতে সক্ষম হন।
নবী (স) বলেন, যে ব্যক্তি মায়ের উপর স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও মানুষের লা'নত।-আহমাদ, তাবরানী থেকে সংক্ষেপিত।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে খারাপ মৃত্যু থেকে বাচাঁর জন্য সঠিক তাওবার তাওফিক দিন। (আমীন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now