বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব- ০৩
বিয়ের দু'দিন পর রিহান আজ শ্বশুড় বাড়ী যাবে! সকাল থেকে লিজা ব্যাগ টেগ গুচ্ছাচে! কিন্তু রিহানের খবর নেই ফোন দিয়েই যাচ্ছে লিজা কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না! হঠাৎ রিহান ফিরল বাসায়। রিহান আসতেই লিজা জিজ্ঞাসা করল,
- এই এতক্ষন কোথায় ছিলে?
- একটা ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছে তাই কথা বলতে বলতে লেইট হয়ে গেছে!
- আচ্ছা মোবাইল কোথায়?
-মোবাইল তো প্যান্টের পকেটে!
-মোবাইলটা একটু বের কর তো!
- কেন?
- বলছি বের করতে বের করো বেশি কথা বলো কেন?
রিহান পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে প্রায় ২০টা ফোন! চেক করে দেখে লিজা ফোন দিয়েছে!
- সরি লিজা আমি দেখিনি!
- এই তুমি আমার সাথে কথা বলবা না প্লিজ!
- কেন?
- কোন কথা নয় একদম চুপ!
- হয়েছে কি সেটা একলিস্ট বলো!
- বলছি চুপ থাকতে কান দিয়ে যাচ্ছেনা?
রিহান চুপচাপ রুম থেকে বের হতে যাচ্ছে তখন লিজা বলল,
- এই আমি কি রুম থেকে যেতে বলেছি?
- তাহলে কি করব এখানে আমি!
লিজা হেসে বলল,
-গাধা একটা!
রিহান সাহস পায়নি কিছু বলার তাই আর কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইল সোফায়! রিহান চুপচাপ দেখে লিজা বলল,
- এই তুমি বোবা নাকি?
- মানে কি?
- কথা না বলে চুপচাপ বসে আছ কেন?
- কি কথা বলব?
- আচ্ছা কথা বলতে হবেনা তুমি আমার কাপড় গুলো একটু ধুয়ে দাও তো!
- মানে আমি কাপড় ধুতে পারিনা সরি!
- না পারলেও দিতে হবে কারন আমি বলেছি! শুধু তাই নয় সারা রুম ভিজা কাপড় দিয়ে মুছবে!
বেচারা রিহান আর কি করবে যদি কথা না শুনে তাহলে কপালে দুঃখ আছে তাই বউয়ের কথায় কাজে লেগে গেল! মনে মনে বলল,
- আমি আর বাসায় থাকব না আমাকে একাই যেতে হবে ঢাকায়। এই ডাইনিকে যদি নিয়ে যাই তাহলে আমার বারো'টা বাজিয়ে দিবে!
মোবাইল হাতে নিয়ে রুহিকে ফোন দিল, রুহি তখন বাসায় ছিল! রুহি ফোন রিসিভ করে বলল,
- কিরে দোস্ত কি খবর?
কেঁদে কেঁদে রিহান বলল,
- দোস্ত আমি শেষ আমি সুইসাইড করব।
- কেন দোস্ত কি হয়েছে তোর?
- আর বলিস না আমার বউ আমাকে যে পেইন দিচ্ছে আমি আর মেনে দিতে পারছিনা!
- দু'দিন হলো বিয়ে হয়েছে তার মধ্যে এত পেইন আল্লাহ তাহলে তো তোর কপালে খুব দুঃখ আছে!
- হ্যাঁ আমাকে আর পাবেনা আমি শেষ!
বিয়ের ৭দিন শেষ শ্বশুড় বাড়ি থেকে ও চলে আসছে, এই দিকে আর ৩দিন পর ছুটি শেষ তাই চলে যেতে হবে রিহানকে! রিহান ওর মা ফাতেমা বেগমকে ডেকে বলল,
- আমাকে আগামীকাল ঢাকায় যেতে হবে!
- কেন তোর যে আরো দু'দিন ছুটি বাকি আছে?
- মা আজ সকালে অফিস থেকে ফোন দিয়েছে জরুরী মিটিং আছে যেতেই হবে!
- ওহ আচ্ছা! একা যাবে নাকি বউ'মা কেও নিয়ে যাবি?
- না আমি একাই যাবো!
- তুই যে বললে বউ নিয়ে যাবে?
- নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেখানে যে লিজা একা হয়ে যাবে কথা বলার মতো কাউকে পাবেনা!
- কেন পাশের বাসায় অন্য মানুষ আছে তাদের সাথে কথা বলবে!
- মা ব্যাপারটা বুঝতে পারতেছ না নতুন অবস্থায় কি লিজা অন্যদের সাথে কথা বলবে?
- আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে যাবে!
- আচ্ছা কিছু দিন যাক তারপর অবস্থা বুঝে নেব!
রুম থেকে লিজা সব কথা শুনছে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়নি !রিহান মায়ের সাথে কথা শেষ করে রুমে ঢুকার পর লিজা রিহানকে উদ্দেশ্য করে বলল,
- তুমি ঢাকা যাবে কবে?
- আগামীকাল যাবো কেন?
- তাহলে কাপড়-চোপড় গুছিয়ে রেডি থাকতে হবে!
- হ্যাঁ ভাল কথা আমার সব কাপড়-চোপড় রেডি করে রেখ!
- তোমার মানে? আর আমার কাপড় কি গুছাবনা?
- তোমাকে এখন নেওয়া যাবেনা প্রবলেম আছে!
- কি প্রবলেম? আমায় বলো।
- বলা যাবেনা!
- তাই বলা যাবেনা! আচ্ছা কিভাবে বলা যায় সেই উপায় বের করছি!
এই বলে লিজা দরজার কাছে গিয়ে দরজা লাগিয়ে হাতে ফল কাটার ছুরি নিয়ে কাছে এসে বলল,
- এখন বলো কি প্রবলেম তা না হলে.....
লিজার কথা থামিয়ে রিহান বলল,
- কোন সমস্যা নেই!আমি তোমায় নিয়েই যাবো মজা করছিলাম এতক্ষন!
- এই তো আমার লক্ষি জামাই।
- এই তুমি এত জল্লাদ কেন?
- কি বললে? আবার বলো.!
- না মানে তুমি খুব ভাল।
- কথা ঘুরাচ্ছ কেন? আমি খুব জল্লাদ তাইনা।
- একদম নয়।
- তাহলে বুঝবে জল্লাদ কত প্রকার এবং কি কি."
- রাগ কর কেন আমি একটু ভালবেসে বলেছি।
- লাগবেনা আমার ভালবাসা।
এই বলে রুম থেকে বের হয়ে গেল লিজা। রাত্রিবেলা ডিনার এর সময় সবাই মিলে ডিনার করছে! লিজা সবাইকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে, ফাতেমা বেগম বললেন,
- বউ'মা তুমি খেতে বসো আমাদের এগিয়ে দিতে হবেনা।
এমন সময় রিহান বলল,
- আজকের খাবার দারুন হয়েছে। কে রান্না করেছে?
পাশের চেয়ার থেকে মিলি বলল,
- ভাইয়া আজকে আম্মু রান্না করছে!
- মায়ের হাতের রান্না সত্যিই অসাধারণ। গতকাল খাবার টা তেমন ভাল হয়নি কে রান্না করেছিল?
পাশ থেকে ফাতেমা বেগম বললেন,
- লিজা রান্না করেছে।
এই কথা শুনতেই মাথায় বিন উঠে গেল রিহানের,লিজার দিকে তাকিয়ে দেখে লিজা রেগে লাল হয়ে আছে। মনে মনে ভালল,
- আজ আমার খবর আছে।
লিজার রাগ দেখে বলল,
- গতকাল এর নয় সেদিন আমার এক ফ্রেন্ডের বাসায় খেয়েছিলাম মনে পড়ছে খুব একটা ভাল ছিলনা রান্না। গতকালের রান্নাও ভাল ছিল।
পাশের চেয়ার থেকে মিলি হাসছে। মিলির হাসি দেখে মিলির বাবা বললেন,
- এই খাবারের সময় এত হাসি কিসের?
চলবে____
"ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now