বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব: ০২
রাতে খাবার টেবিলে আধার গেল।
মায়ের মুখ গম্ভীর। ফ্যাকাসেও লাগছে খানিকটা। আর আলো রান্নাঘরে খাবার বাড়ছে। আড়চোখে আধারের দিকেও তাকাচ্ছে। আলো, খাবার এনে আধারের প্লেটে দিতে গেলে আধার মুখটা কালো করে নেয়। আলো বিষয়টা বুঝতে পেয়ে চুপ মেরে রইল।
আধার আর তার মা চুপচাপ খাবার খাচ্ছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। আলো তার মামুনির পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
নীরবতা ভেঙে মা বলে উঠল,
- তোমাকে আমি সকালে যা বলেছিলাম, তা কি মনে আছে? নাকি মাথা থেকে বেড়িয়ে গেছে?
-.....
- আধার আমি তোমাকে কিছু বলছি? আমার কথা শুনতে পাচ্ছো তুমি?
- মা প্লিজ। খাবার টা তো শেষ করতে দিবে নাকি?
- আমি যা বলেছি তার কিন্তু নড়চড় হবে না।
- মা তুমি যা বলবে তাই হবে।
কথাটা শেষ করে আধার বসা থেকে উঠে পড়ল। আর কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেল।
অন্যদিকে তার মা খুশিতে মেতে উঠল। আলোর কাছে গিয়ে বলল,,
- দেখিস, আলো আমার ছেলে তোকে খুব সুখে রাখবে। হয়তো এখন এমন করছে ঠিকি কিন্তু দেখিস, পরে সব টা ঠিক হয়ে যাবে। সব গুছিয়ে তুই খেয়ে ঘুমিয়ে পরবি কিন্তু।
আধারের মা চলে গেল। আর আলো মনে মনে ভাবতে লাগল,
- মামুনি আমি তোমাকে কি ভাবে বুঝাবো, তোমার ছেলে আমাকে সহ্যই করতে পারে না। তুমি হয়তো ভাবছো, বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমার তো তা মনেই হয় না। শুধু তোমার জন্যে এই বিয়েটা করতে উনি রাজি হয়েছে। কারণে উনি তোমাকে খুব ভালোবাসে মামুনি।
সকালে,, বাড়ির চেঁচামেচি শুনে আধার ঘুম থেকে উঠে পরল। বাহিয়ে কি হচ্ছে, চিন্তা করতে করতে নিচে নামল। এই রকম অবস্থা দেখে আধার কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। বাড়িতে অনেক লোক। তাই তো এই রকম, শব্দ হচ্ছে। বাড়িতে মনে হয় বিয়ের আয়োজন শুরু হচ্ছে।
- আধার তুই ঘুম থেকে উঠে পড়েছিস বাবা?
- মা এই সব কি?
- আধার আমি খুব খুশি হয়েছি, যে তুই আমার কথা রেখেছিস। তুই বিয়েতে রাজি হয়েছিস। তাতে আমি সত্যি অনেক খুশি বাবা।
- আমি কিছু বুঝতে পারছি না মা..
- আজ তো মঙ্গলবার। এই শুক্রবার তোর আর আলোর বিয়ে। হাতে তো মাত্র তিন দিন সময়। ছোট করে তো আর কিছু করতে পারি না কম সময় বলে। তাই সব কাজ শুরু করে দিলাম।
- মা, আমি বিয়ে করতে রাজি হয়েছি তোমার কথায়। তাই বলে এতো তাড়াতাড়ি?
- আমি এত কিছু শুনতে চাই না। ৩ দিন পরই তোদের বিয়ে। আর কিছু জানি না আমি।
রাগে আধার কিছু না বলে চলে গেল।
আলো ভয়ে ভয়ে কফিটা নিয়ে আধারের রুমে গেল। আধার তখন ব্যালকুনিতে ছিল।
কফি রেখে আলো চলে যাচ্ছিল। এমন সময়, আধার আলো কে দেখে নেয়।
- তুই এখানে?
- আসলে,,,,
আধার ততক্ষণে রুমের ভিতর চলে এসেছে।
- আসলে,, আমি শুধু কফিটা দিতে এসেছিলাম।
- তোকে না আমি বলেছি আমার রুমে তুই আসবি না।
- সরি, আমি এখনি চলে যাচ্ছি।
- দাঁড়া।
- কিছু বলবেন?
- আমাকে বিয়ে করার খুব ইচ্ছে না তোর?
কথাটা শুনে আলো বুঝে গেল, এটা উনার কোনো স্বাভাবিক কথা নয়। তাই আলো চলে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াল।
আধার আলোর হাত টা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরতেই, আলো আহহ করে চিৎকার করে উঠল। আধার কিছুটা ঘাবড়ে গেল।
- কি হয়েছে?
- কিকিছু নাআ।
আলোর হাতটা নিয়ে আধার যা দেখল, তাতে তার নিজের শরীরটাই শিউরে উঠল। হাতটা পুড়ে কেমন যেন এখটা নরম নরম হয়ে আছে জায়গাটা। মনে হচ্ছে যেন কেউ হাতটা কে একদম থেঁতলে দিয়েছে।
- এটা কিভাবে, হলো তোর হাতে?
আলোর দিকে তাকাতেই আধার দেখতে পেল, আলোর চোখ দিয়ে টলটলিয়ে পানি পড়ছে। আধারের মনটা যেন মুচড় দিয়ে উঠল। আলোর সাথে সে যাই করুক। কিন্তু সেই ছোট থেকেই আলো কান্না করলে আধারের ভালো লাগে না। আজও তার ভালো লাগছে না।
আধারের মনে পড়ে গেল, কাল সে নিজেই আলোর হাতের এই অবস্থার কারণ। গরম কফিটা হাতে পড়েই এই রকম হয়েছে।
- এদিকে আয়।
- লাগবে।
- তোকে আমি এদিকে বসতে বললাম। চুপ করে বোস।
- কেন?
- আলো রাগ তুলবি না বলে দিলাম।
- আমাকে দেখলেই তো আপনার রাগ উঠে।
- একদম চুপ।
আধারের ধমকে আলো ভয় পেয়ে চুপ করে বিছানায় বসে পরল। আধার গিয়ে ঔষধের বক্সটা নিয়ে এলো।
- হাতটা দে।
-......
- কিরে, দিতে বললাম না?
আধারের কথা শুনে আলে হাতটা এগিয়ে দিল। আধার আস্তে করে আলোর হাতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে। আর আলো পলকহীন ভাবে আধার কে দেখছে আর ভাবছে, একটা মানুষের কত রকম রূপ হয়?
- আলো?
-....
- কি দেখছিস তুই?
- ককই?
- এই মলমটা নে। হাতটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই মলমটা ব্যবহার করবি।
আলো হুম বলেই চলে এসেছে।
আজ যে আলো খুব খুশি। মনটা যেন খুশিতে পাগলপারা। অনেক ভালো লাগছে। দিনটা আজ অন্যরকম। হাসতে হাসতে, আলো নিচে নেমে এলো।
আলোর হাতে মলম দেখে আধারের মা ছুটে এলো তার কাছে।
- কিরে আলো তোর হাতে কি হয়েছে? আধার কিছু করেছে? তুই তো মনে হয় আধারের রুম থেকে এলি। তার মানে নিশ্চয় আধার কিছু করেছে। কি করেছে বল আমাকে। কিরে বলছিস না কেন আলো।
- মামুনি, আমাকে তো তুমি কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে নিজেই বলতে লাগলে।
- কি হয়েছে বল।
- আরে হাতে একটু গরম কফি পরে গিয়েছিল। তাই উনি আমার হাতে মলম লাগিয়ে দিয়েছে।
- কি?
- হুম।
- আমার ছেলে তোর হাতে নিজে মলম লাগিয়ে দিয়েছে? কথাটা সত্যি? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।
-.....
- দেখলি তো আমার ছেলে বিয়ের আগেই তোর যত্ন নেওয়া শুরু করেছে। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।
কথা গুলি বলে আধারের মা, চলে গেল।
আর আলো একা একাই বলতে লাগল,
- জানি না মামুনি সব টা ঠিক হবে কি না। উনি আসলে কি চায় সেটা আজ অবধি আমি বুঝে উঠতে পারলাম না। আর পারবো কি না সেটাও অজানা।
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now