বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"ঘর"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X ফুলশয্যায় শুয়েই বালিশের পাশ থেকে মোবাইলের ভাইব্রেশন টের পেলাম। মোমের মৃদু আলোয় আঁধারি এক নীরবতায় এতক্ষণ শুধু আমাদের দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল। সে সাথে আমাকে মত্ত করে দেয়া ওর চুলের ঘ্রাণ এবং সেই সাথে কখনো কখনো ওর চুড়ির শব্দ। এ সকল মধুরতা কাটিয়ে তিক্ত এক ভাইব্রেশন বেজে যাচ্ছে। কে? . শ্রী? শ্রীময়ী মুখার্জী? ও ঠিক আছে? আমি ফোন হাতে নিয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালাম। ঘর থেকে দুটো উৎসুক চোখ এদিকে তাকিয়ে আছে নিশ্চয়। সে চোখ দুটো আমার বর্তমানের। তাকিয়ে থাক। কাঁদুক। জ্বলুক। পুড়ুক। যা খুশি হোক। আমার এ মুহূর্তে একা থাকতে ইচ্ছে করছে। মানুষের ধর্মই হলো বর্তমানকে অবহেলা করে প্রাক্তনকে স্মরণ করা। শ্রী কি জানে আজ আমাদের ফুলশয্যা? হয়তো জানে। শ্রী কি কষ্ট পাচ্ছে? ও কি ঠিক ততটাই কষ্ট পাচ্ছে, যতটা কষ্ট আমি পেয়েছি দু হাজার আঠারো সালের জুনের তিন তারিখে? সে বছর আমার জন্মদিন পালন করার দরকার হয়নি ওর। ও হয়তো কখনোই ওর বিয়ের তারিখ ভুলতে পারবে না কিংবা আমার জন্মদিন। ওর জন্য উপহারের শাড়ি গয়নার ফাঁকে এক জোড়া পেতলের চুড়ি রেখে এসেছিলাম। ওর ফুলশয্যায় কি সে পেতলের চুড়ির শব্দ ওর বর পেয়েছে? অত দামি গয়নার ভীড়ে পুরোনো সেই পেতলের চুড়ি ওর পরার কথাও না। পঞ্চমবারে কল ধরেছি। ওপাশ থেকে শীতল কণ্ঠ। . - গুছিয়ে নিলে তবে? - নিলাম। আটা রুটি বেলবো কাল সকাল থেকে দুজন মিলে। - ঘরের দেয়ালে এঁকে সাজাতে পারবে তোমার বউ? - ওর ইচ্ছে মেঝেতে হবে সবুজ কার্পেট, ছাদ হবে মহাশূন্যের ত্রিমাত্রিক চিত্রকল্প। তাতে জ্বলজ্বল করবে রেডিয়াম ফোটা। হাত ধরে আকাশ দেখে প্রেমের কবিতা বুনবো, ও বুনবে ক্যামিস্ট্রির কেমিকেল রিয়েকশন সহজে মনে রাখার চুটকি কবিতা। - ছবির মানুষকে ভুলে ক্যামিস্ট্রি টিচার মানাবে? - ছবির ঠিকানা তো মস্ত দেয়াল। সযত্নে নিজের তৈরি ঘরের দেয়াল ক্যামিস্ট্রি টিচার নিজের মতো করেই না হয় সাজাক। হোক না ওর সাজানো ঘরটা এলোমেলো। আমি মানিয়ে নিবো ক্ষণ। - আমায় ভুলে আর কারো সাথে বাঁচতে পারবে শুভ? বলো? - খুব পারবো শ্রী! আট আনার জীবনে সোয়া সাত আনা অপেক্ষায় কাটিয়েছি। তারপর কিছুটা বিরহে। আমার অনেক সুখ পাওনা। আমার সুখের দায়িত্বও যার পাওনা, সে নিয়েছে। - আমি যে তোমায় এখনো ভালোবাসি! শুভ। - বরকে ভালোবাসো। আমার জন্মদিনে তোমার বরের দেয়া ম্যারেজ ডে গিফটের চেয়ে সস্তা দরের মানুষকে ভালোবাসলে তোমার সেবারে আঁকা অষ্টাদশি দেবতার ছবিও হঠাৎ হাসবে। - তবে কি জানো তো?, মনে হতো, কেউ একজন অপেক্ষা করে বসে আছে আমার জন্য। ভালো লাগতো। - ভালো লাগানোর হলে আজ আমার মিষ্টি ঘরটায় তুমি থাকতে শ্রী। জানো, ওর চুলের ঘ্রাণ কত আদুরে? . - রাখছি। শহর কি ঘুমোয় না? এত এত ঘরে আলো জ্বলে কেন? দিনের ব্যস্ততা ওদের ক্লান্ত করে না? আমার ঘরে ক্লান্ত দু চোখ কি এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে? ঘরে এলাম। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে অপরিচিতা, অথচ আমার সহধর্মিনী আমায় প্রশ্ন করলো, 'আপনি জীবনটা নতুন করে শুরু করতে পারেন? জীবন তো সমতাবিধান করা প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া না, যে উদ্দেশ্যমতো সব মিলে যাবে! ঠিক না? আমি মৃদু হাসলাম। আদূ আলোতে সে হাসির প্রকাশ্যতা পেল না। হেসে বললাম, 'কফি খাবেন?' 'উহু, ঘরে তো কফি শেষ। টিব্যাগ আছে। চা খাবেন?' 'খাওয়া যায়।' 'ও হ্যাঁ, চিনিও নেই।' 'কাল একটা লিস্ট করে দিয়েন তো..' 'আপনার মা যেভাবে আপনার বাবাকে লিস্ট ধরিয়ে বাজারে পাঠাতো? যে লিস্টের শেষে লেখা থাকতো- ফেরার সময় রিক্সায় ফিরবে, হেঁটে আসা বারণ।' 'আপনি কি করে জানলেন?' 'আপনার কবিতা পড়ে জেনেছি।' সে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, 'আমার কবিতাও পড়েছেন?' ’আমি আবারো মৃদু হাসলাম। ও রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে রান্নাঘরে যেতে যেতে বলল, কাল থেকে ঘর টা সাজাতে হবে।'সংসারটা তো আমার। সব গুছাতে হবে না?' লেখক: অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now