বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোয়েন্দা নাবিন ববি (২)

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হেলাল নিরব (০ পয়েন্ট)

X আধশোয়া হয়ে বই পড়ছিলেন গোয়েন্দা নাবিন ববি। ফোনটা ঘোঁতঘোঁত করে বেজে চলছে। ইন্সপেক্টর রফিক আহমেদ। নাবিনের বন্ধু। ‘কতক্ষণ ট্রাই করছি!’ ‘ফোন সাইলেন্ট করা ছিল। সমস্যা কী বলো।’ ‘তাড়াতাড়ি তৈরি হও। ঠিকানা দিচ্ছি। মার্ডার কেস।’ উত্তজনাপূর্ণ উপন্যাসটা আর পড়া হলো না। গায়ে জামা জড়াতে জড়াতে গোয়েন্দা ববি ভাবল, এরপর বই পড়ার সময় ফোনটা অফ করেই রাখবে। রাজধানীর নিকুঞ্জের বাড়িটা খুঁজে পেতে সমস্যা হলো না। ডুপ্লেক্স বাড়ি। লোকজনের জটলা নেই। ‘বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজমান খুন হয়েছেন। পাকা ক্রাইম। কোনো ক্লু নেই। দক্ষ ভাড়াটে খুনির কাজ।’ বন্ধুর কথায় নাবিন ববির চোখ ছোট হলো। তার মতে, ক্রাইম কখনো নিখুঁত হতে পারে না। ‘ওকে, সার্চ করে দেখো কিছু পাও কি না।’ বলে যে রুমে খুন হয়েছে সেদিকে পা বাড়াল ইন্সপেক্টর। নাবিন খুঁটিয়ে দেখল সব। দামি আসবাবপত্রে ঠাসা বেডরুম। কিছুই চুরি যায়নি। এক কোণে আলমারির সামনে চিত হয়ে পড়ে আছে ডেডবডি। পরনে নাইট ড্রেস। বিছানা পরিপাটি। পশ্চিম দিকের জানালা খোলা। মেঝেতে লাল কার্পেট। লাশের পাশে এক নারী কেঁদে চোখ ফুলিয়ে আছেন। এখন ফোঁপাচ্ছেন। ‘মিসেস আজমান?’ ‘কে করল বলুন এ সর্বনাশ!’ বলেই আবার হাউমাউ করতে শুরু করলেন তিনি। লাশের কাছে গিয়ে ববি দেখল, রক্ত জমে আছে খানিকটা দূরে। ‘লাশটা সরিয়েছে কে?’ ইন্সপেক্টরের কাছে জানতে চাইল ববি। ‘আমি। কেন? কী হয়েছে?’ জবাব দিল না গোয়েন্দা। প্রশ্ন করল, ‘লাশটা চিত হয়ে ছিল, না উপুড় হয়ে?’ ‘উপুড় হয়ে। কোনো ক্লু পেলে?’ ভালো করে দেখল নাবিন ববি। গুলি লেগেছে পিঠে। কার্পেটের রক্ত প্রায় শুকিয়ে গেছে। গুলি বুকের বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়েছে। দুই পাশেই ফুটো। লাল রক্ত জমাট হয়ে গেছে পরনের সাদা শার্টেও। পাশেই গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে গেটম্যান আর বাড়ির একমাত্র গৃহকর্মী। গৃহকর্মীর দিকে তাকাতেই বলল, ‘আ-আ-মি কিছু জানি না স্যার। আমি আসছি সকাল ৮টায়। চা বানায়া সাহেবেরে ডাকতে গেছি। দেহি দরজা খোলা। তারপর দেখি স্যার মইরা গেছে। ম্যাডামকে না পাইয়া পুলিশে খবর দিছি।’ গেটম্যানের দিকে তাকাল ববি। ‘কেউ এসেছিল?’ ‘না, স্যার। ম্যাডাম বাইর হইলো সকাল সকাল। পরে আবার ফিরা আইল।’ মিসেস আজমানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল ববি, ‘কোথায় গিয়েছিলেন?’ মিসেস আজমান হকচকিয়ে গেলেন। ইতস্তত করে বললেন, ‘বাজারে গিয়েছিলাম মাছ আর সবজি কিনতে। এসে দেখতে পেলাম পুলিশ এসেছে। তারপর তো সব শেষ।’ গেটম্যানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল, ‘ম্যাডামের হাতে বাজারের ব্যাগ দেখেছিলে?’ হকচকিয়ে উঠল গেটম্যান। বলল, ‘ছিল স্যার।’ মিসেস আজমান খেপে উঠলেন, ‘ছি! আপনি আমাকে সন্দেহ করছেন!’ গোয়েন্দা ববি চুপ। আচমকা প্রশ্ন করল, ‘তবে আপনি কাউকে সন্দেহ করেন?’ ধাতস্থ হলেন মিসেস আজমান। ‘হ্যাঁ! আমার দেবর আমজাদ। গতকাল এসেছিল। জমিজমা নিয়ে তর্ক হয়েছিল। আমার স্বামীকে মারার হুমকিও দিয়েছিল। আমি নিশ্চিত, শয়তানটা খুন করেছে। ওর মতো কাপুরুষের পক্ষেই পেছন থেকে গুলি করে মারা সম্ভব। সমস্ত সম্পত্তি নিজের কবজায় নিতে চায় ও।’ ইন্সপেক্টর বন্ধুকে আড়ালে নিয়ে গেল নাবিন। ‘তুমি লাশটা সরিয়েছিলে? তখন কারা ছিল?’ ইন্সপেক্টর বললেন, ‘লাশের নিচে পিস্তলটা আছে কি না সেটা দেখলাম। তা ছাড়া চেহারা না দেখে শনাক্ত করব কী করে। আমি ঢোকার আধাঘণ্টা পর মিসেস আজমান আসেন। এরপর আমার সঙ্গে তাঁর একটা কথাও হয়নি। হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন।’ ভাবল নাবিন। শব্দ করে বলল, ‘মিসেস আজমান খুনটা করেছেন। আপাতত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়। বাড়িটা সার্চ করলে পিস্তলটা পাওয়া যাবে। তাতে ফিঙ্গারপ্রিন্টও পাব আশা করি।’ মিসেস আজমান কিছু বলতে যাচ্ছিল; কিন্তু গোয়েন্দা ববির চোখে চোখ পড়তেই সিঁটিয়ে গেল। গোয়েন্দা ববি কিভাবে বুঝল মিসেস আজমান খুনি?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now