বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একতলা বাড়িতে লোকজনের গাদাগাদি। ভিড় ঠেলে ঘরে ঢুকল গোয়েন্দা নাবিন ববি। সারা বাড়িতে শুধু চাপা কান্নার আওয়াজ। এত লোক থাকা সত্ত্বেও, বাড়িটা কেমন ফাঁকা আর ভূতুড়ে।
দূরে ইন্সপেক্টর রফিক একটি অল্প বয়সের যুবককে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। গোয়েন্দা ও বন্ধু ববিকে দেখামাত্রই ছুটে এলেন। তার চোখেমুখেও কষ্টের ছাপ।
চারজন পুলিশ দুটি লাশ গাড়িতে ওঠাল। ‘টাকার জন্য মানুষ কত নিচে নামতে পারে’—দীর্ঘশ্বাস রফিকের গলায়। পুরো ঘর সার্চ করেছি। কোথাও কিছু পাইনি। এলোমেলোও ছিল না কিছু। শুধু আলমারি খুলে সোনার গয়না সব নিয়েছে। ব্যাংক থেকে ওঠানো দুই লাখ টাকাও নেই। কিন্তু খুুন দুটি না করলেও পারত। ছেলেটা একেবারে দুম করে এতিম হয়ে গেল।’
‘তার মানে খুনির চেহারা চিনে ফেলেছিল এই দম্পতি। আর না হয় পরিচিত কেউ হবে। যার এ বাসায় আসা-যাওয়া আছে। টাকার ব্যাপারটাও জানে। তাদের ছেলেটা তখন কোথায় ছিল? বাসায় তখন কেউ কি ছিল না?’
‘ছেলেটা ভার্সিটিতে ছিল। কাজের মেয়েটা আর গেটম্যান আছে। দুপুর দেড়টার দিকে ফোন পাই।’
ভয়ে জবুথবু হয়ে বসা গৃহকর্মী মেয়েটার দিকে তাকাল ববি। ভয় কাটেনি এখনো তার। তাই কোনো কথাই বলছে না।
‘তুমি কোথায় ছিলে? কারো চেহারা দেখেছ?’ গোয়েন্দা ববির কোমল গলার প্রশ্ন শুনে কিছুটা আশ্বাস পেল যেন। বিড়বিড় করে বলল, ‘বাজারে গেছিলাম। তরকারি কিনতে। আইসা দেখি রক্ত আর রক্ত...। আমি ঢোকার একটু আগেই দেখি তিনটা গুণ্ডামতো লোক বাইর হইতাছে। মাথায় ক্যাপ পরা ছিল, চেহারা দেখেছি অল্পবিস্তর।’
কান্নায় ভেঙে পড়ল আবার। পাশে গেটম্যান বসা। ‘ডাকাতদের তো তুমিই গেট খুলে দিয়েছিলে?’ গেটম্যান হড়বড় করে বলল, ‘ওগো হাতে বন্দুক ছিল, স্যার। আমারে বাইন্দা রাখছিল। আমি চিনি না ওদের! সবাই ক্যাপ পরা ছিল। খুনাখুনি হইব জানলে দরকার হয় নিজের জান দিয়া দিতাম।’
‘কয়জন ছিল! দেখতে কেমন ছিল তারা?’
‘স্যার, তিনজন ছিল। দুইজনের হাতে ছুরি, আর সর্দারের হাতে পিস্তল। সর্দারের গলার আওয়াজ ভারী। মুখে খোঁচা দাড়ি। গলায় কাটা দাগ। মাথার চুল কোঁকড়া। দেখলেই ডর করে।’
‘তোমাকে তো ওরা বেঁধে রেখেছিল। ছাড়া পেলে কিভাবে? বেঁধে রাখার দড়িটাই বা কোথায়?’ থতমত খেয়ে গেল গেটম্যান। ভয়ে যেন মুখ শুকিয়ে পানসে। কয়েকবার আমতা আমতা করল। তার আগেই কলার চেপে তাকে তুলে ধরলেন রফিক। ‘থানায় চল, বাকি গল্প সেখানে শোনা যাবে!’
‘বিশ্বাস করেন, স্যার। ওরা আমারে বাঁধার পর সব দড়ি নিয়া গেছে।’
মৃদু হেসে ববি বলল, ‘মনগড়া কাহিনি চাইলেই বানানো যায় না। ফাঁকফোকর থেকেই যায়। আমি নিশ্চিত, তুমি এ ঘটনায় জড়িত।’
পাঠকের কাছে প্রশ্ন, গোয়েন্দা ববি কী করে নিশ্চিত হলেন?
[#পাঠকের কাছ থেকে উত্তর আশা করছি...(ধারাবাহিক)]
(গল্পটি ‘ঘটনায় জড়িত’ শিরোনামে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now